আমি রাজনীতির কথা বলছি না। কারন আমি রাজনীতি করি না তবে নিজেকে রাজনীতি সচেতন মানুষ হিসেবে ভাবতে ভালোবাসি। রাজনীতি বোদ্ধা বিশেষণ আমার জন্য নয়। তবে যেটুকু বুঝি তা হচ্ছে- রাজনীতির গতি, পরিধি ও পরিকল্পনা দিনরাত ঘোর পাক খায় আমাদের আর্থ সামাজিক ও ধর্মীয় অনুভূতির বলয়ে। তাই তো নেতাদের ঘন ঘন কাবা শরীফ দর্শনে যেতে হয় আমাদের সহজ সরল অশিক্ষিত ধর্মভীরু মানুষের ধর্মীয় সেন্টিমেন্টে সুর সুরি দেবার জন্য। এটা দোষের না। যেমন দোষের না যদি একজন মুচি কোন সুন্দরী রমনীর মুখের দিকে না তাকিয়ে তার জুতার দিকে তাকায়। কারন তার ধ্যান জ্ঞান নেশা এবং পেশা হচ্ছে জুতা। তেমনি আমাদের রাজনীতিবিদেরা। তাই আমি তাদের দোষ খুঁজি না। সব দোষ আমার। আমি কি আমার কাছে পরিস্কার? আমি আমার নীতি বা নৈতিকতার কাছে কতোটা পরিস্কার। আমি যা ভাবি বা বলি বা বিশ্বাস করি তা কি করি? যদি তা না করি তাহলে আমার অন্যের দোষ ধরা বা খোঁজার অর্থ দাড়ায় এই যে, আমি হিপক্রেট। একটা কিছু ঘটলেই, গেল গেল রব উঠে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সেটা না বুঝে আর তাই তো আমাকে বাঙ্গালী শব্দের আগে বহন করতে হয় হুজুগে বাঙ্গালী। পলাশির প্রান্তরে ললাটে লিখেছিলাম বিশ্বাসঘাতক উপাধি আর এখন আমি হুজুগে বাঙ্গালী। এখানেই শেষ নয়। ভেতরে অনেক কথা কিন্তু আমি নিরুপায় কারন আমার কীবোর্ডে ১০৬টি কী বাটন আর ১০ আঙ্গুলের মধ্যে শুধু কথা বলে অনামিকা।
সাগর-রুনির হত্যাকান্ড। দেশে এতো অন্যায় এতো অবিচার এতো খুন, এতো অনাহার, এতো জ্যাম, এতো মূল্যবৃদ্ধি, তিস্তার পানি, টিপাইমুখ বাধ, মাদকে ধ্বংস হতে চলেছে আগামি প্রজন্ম, সমুদ্রে আমেরিকার রণতরী, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, গ্যাস নাই, পানি নাই, বিদ্যুৎ নাই, কল কারখানা বন্ধ, সোনালি আঁশ আজ অন্যের ঘরে সোনা কিন্তু আমরা মেতে আছি এক সাগর-রুনি নিয়ে। হালে যোগ হলো মাহফুজুর রহমান। খুনি কে? কেউ জানে না। কিন্তু আড়ালে আবডালে ফিসফিসানি, কান পাতলেই শোনা যায় সবাই জানে খুনি কে। এমনকি যে সব সাংবাদিক ভাইরা রাজ পথে এবং রাজপথের বাহিরে, যে সব কর্পোরেট ব্লগের কর্তা ব্লগারা আলপনা, মোমবাতি, খালি গলায় গান গেয়ে ক্লান্ত তারাও জানে খুনি কে কিন্তু কেউ মুখফুটে বলে না খুনি কে। খুনী যেন সবার ভাসুর। তার নাম মুখে আনতে নাই। যেহেতু কেউ বলছে না, বলবে না তাই আমি মাহফুজুর রহমানকে সাবাস দেই কারন তিনি প্রথা ভেঙ্গে সত্যি হোক মিথ্যা হোক ভাসুরের নাম মুখে এনেছেন। আসুন হুজুগে না মেতে একটু বাঁকা ভাবে দেখি- প্রশ্ন কি আসে না মনে? মাহফুজ কেন বা কোন সাহসে সাংবাদিক নামক একটি বিশাল শক্তিধর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এমন কথা বলতে পারলো। শুধুই কি লাইম লাইটে আসার জন্য একটা বিশাল ঝুকি নিয়ে তার এই কথা বলা? নাকি তার এই কথার মধ্যে খুন হবার কোন রহস্য সত্যি সত্যি লুকিয়ে আছে? একটু বাঁকা করে ভাবলেই কি আমার নীতি বিসর্জন হয়ে যাবে নাকি আমি খুনিদের দলে চলে যাবো ? আমরা সকল বিবেকবান মানুষ যে কোন হত্যার বিরুদ্ধে, তেমনি সাগর রুনির হত্যার বিচার আমিও চাই আর দশটি খুনের বিচারের মতো সম ভাবে। সাংবাদিকরা আজ এই ইস্যুতে বিভক্ত। তবে কি ধরে নেবো সরিষার মধ্যে ভূত? যখন সম্মিলিত ভাবে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করে খুনের রহস্য উম্মোচন এবং খুনীর বিচার আদায় করা একমাত্র কাজ তখন এই বিভক্তি আমাকে অন্য কিছু ভাবতে বাধ্য করে। কিন্তু আমি নিজেরা কখনো ভাবি না, অন্যের ভাবনায় তাড়িত হই, এটাই আমার জাতিগত বৈশিষ্ট। আমাদের সবার চোখ আছে আমরা সবাই শুধু তাকাই, দেখি না,। দেখে হয়ত অল্প কয়েক জন । জানিনা কবে আমি দেখতে শিখবো আর কবে আমার হুজুগে বাঙালি অপবাদ ঘুচবে।
সাংবাদিকরা এখন সত্যি সত্যি প্রশ্নবিদ্ধ তা নীতির কাছে, নৈতিকতার কাছে এবং বিশ্বাসের কাছে। তারা এখন আর আমার আশ্রয় স্থল না। সাংবাদিক এখন আমার কাছে নীতি বিবর্জিত, লোভী এবং বিশ্বাস ঘাতকের প্রতিচ্ছবি। সে ক্ষেত্রে সবার আগে আসে জ.ই. মামুনের নাম। তাকার কাছে সে বিক্রি হবে এতা মোটেও বিস্ময়ের কিছু না কারন প্রবাসে গিয়ে যিনি স্ত্রী সন্তানের প্রসাধন কিনে কাউন্টারে এসে পাশের প্রবাসী অতিথিকে বিল দিতে অনুরোধ করেন কায়দা করে। তার জন্য এমন ডিগবাজি খুব স্বাভাবিক আমার কাছে। আজ যে হেতু সাংবাদিকরা প্রশ্ন বিদ্ধ তাই আমি তাদের কাছেই জানতে চাই –আপনারা বলুন সাগর-রুনির খুনী কে?
আজ আমি ব্লগার হিসেবে ভীত কারন গৃহপালিত সাংবাদিকদের দিয়ে কর্পোরেট মালিক আর এক সাংবাদিক পেটাচ্ছেন। হয়ত সামনে আর একটি দিন আসছে যখন গৃহ পালিত ব্লগার দিয়ে কর্পোরেট ব্লগ মালিকরা তাদের সার্থ বিরোধী কোন কাজের জন্য আমার আপনার মতো আম-ব্লগারকে পেটাবে যখন ইচ্ছে তখন।
তাই সাধু সাবধান।
সাগর-রুনি হত্যা, সাধু সাবধান
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।



যেমন দোষের না যদি একজন মুচি কোন সুন্দরী রমনীর মুখের দিকে না তাকিয়ে তার জুতার দিকে তাকায়। কারন তার ধ্যান জ্ঞান নেশা এবং পেশা হচ্ছে জুতা। তেমনি আমাদের রাজনীতিবিদেরা। তাই আমি তাদের দোষ খুঁজি না। সব দোষ আমার। আমি কি আমার কাছে পরিস্কার? আমি আমার নীতি বা নৈতিকতার কাছে কতোটা পরিস্কার। আমি যা ভাবি বা বলি বা বিশ্বাস করি তা কি করি? যদি তা না করি তাহলে আমার অন্যের দোষ ধরা বা খোঁজার অর্থ দাড়ায় এই যে, আমি হিপক্রেট।
আজ আমি ব্লগার হিসেবে ভীত কারন গৃহপালিত সাংবাদিকদের দিয়ে কর্পোরেট মালিক আর এক সাংবাদিক পেটাচ্ছেন। হয়ত সামনে আর একটি দিন আসছে যখন গৃহ পালিত ব্লগার দিয়ে কর্পোরেট ব্লগ মালিকরা তাদের সার্থ বিরোধী কোন কাজের জন্য আমার আপনার মতো আম-ব্লগারকে পেটাবে যখন ইচ্ছে তখন।
তাই সাধু সাবধান।
এই লাইন গুলো সত্যি বুকের মাঝে কাঁপন ধরিয়ে দিয়ে গেলো। সেই দিন হয়তো বেশী দুরে নয় আমরা আম ব্লগাররা সত্য বলায় এভাবেই মার খাব।
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
একটা সুন্দর দেশ -জাতি দেখতে চাই।
শুভ কামনা।
বুকিং
মুক্তিযুদ্ধের সময় একদল লোক মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে বলতে লাগল দেশ স্বাধিন হলেও প্রকৃত প্রস্তাবে স্বাধিনতা আসবে না। এটা মুক্তিযুদ্ধ না দুই কুকুরের কামড়া কামড়ী। উনারা যে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন তা কিন্তু না, উনার পাকিস্থানী শাষক গোষ্ঠির পক্ষের লোক ছিলেন তাও না বরং পাকিস্থানী শাসক গোষ্ঠি তাদের জন্যই সবচেয়ে বেশী নাজেহাল হত। কিন্তু গণমানুষের আকাঙ্খাকে বুঝতে না পারার ব্যর্থতায়, গনমানুষের স্রোতে গা না ভাসানোর ভূল তত্বে দেশ স্বাধিনের পর তারা কালের পরিক্রমায় ছোট হতে হতে বিন্দুতে পরিণত হয়ে গেল।
দেশে এতো অন্যায় এতো অবিচার এতো খুন, এতো অনাহার, এতো জ্যাম, এতো মূল্যবৃদ্ধি, তিস্তার পানি, টিপাইমুখ বাধ, মাদকে ধ্বংস হতে চলেছে আগামি প্রজন্ম, সমুদ্রে আমেরিকার রণতরী, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, গ্যাস নাই, পানি নাই, বিদ্যুৎ নাই, কল কারখানা বন্ধ, সোনালি আঁশ আজ অন্যের ঘরে সোনা ব্লগ গুলোতে কিন্তু সব কিছু নিয়েই লেখা হচ্ছে। তবে সাগর রুনী হাইলাইটেড হচ্ছে বেশী। কারন এ এমনই এক রহস্যর প্যাচ তৈরী করেছে যা থেকে উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। মাহফুজুর রহমানের কথা যদি সত্যি হয় তবে বলতে বাধ্য হচ্ছি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যে দেশে সরাসরি তদারকি করে একটা সামান্য পরকীয়ার ঘটনার সুরহা করতে পারে না তার হাতে দেশ নিরাপদ না। আপনি নিশ্চয় জানেন রাষ্ট্র কি পরিমান ক্ষমতাশালী আর এর প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সমন্ধেও নিশ্চয় আপনি ওয়াকিবহল। তার এবং তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অযোগ্যতায় এই বিষয়ে তাই জনে মনে জিজ্ঞাসা বাড়ছে, কৌতুহল বাড়ছে। হঠ্যাৎ আলোচনায় কিন্তু মাহফুজুর রহমান আসেন নি। তার সমন্ধে আগে থেকেই ফিসফিসানি ছিল বিষয়টা এখন শোরগোল এ পৌছেছে।
সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তি আজ নতুন না। পাকিস্থান আমল থেকেই হয়ে আসছে। দেশ স্বাধিনের পর তো আরও। তাই এটা দেখে আকাশ থেকে পড়ার কিছু নেই। নীতির কাছে, নৈতিকতার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ সকল সম্প্রদায় যুগে যুগেই ছিল। এ থেকে উত্তরনের পথ নেই। এর ভিতর থেকেই কাজ করে গেছে অনেকে এবং কাজ করে যাবে। আর কর্পোরেট তো আস্টেপিষ্টে ধরেছে পুরো অর্থনীতি। সেখানে ব্লগই বাদ যাবে কেন? বরং আমি আশাবাদী বাংলা ব্লগ এমন জায়গায় পৌছেছে যে প্রতিদিন খবর হচ্ছে, কর্পোরেটরাও এখানে তাদের সীমা বাড়াচ্ছেন। তারা আসবেই। যদি না রাষ্ট্রিয় কাঠামোর আমুল পরির্বতন হয়। তাই পেটানোর ভয়ে পিছপা হলে তো চলবে না এখন। বরং রণে প্রস্তুতি নিতে হবে।
শেষ কথা : পলাশী প্রান্তরে কোন বাঙালী ললাটে বিশ্বাসঘাতকের তকমা পড়ে নি। বড় বড় বিশ্বাসঘাতকরা সবাই ছিল অবাঙালী। অবশ্য নবাবও অবাঙালী। তাই এত হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বরং আমরা ক্ষুদিরাম, সূর্যসেন, বাঘা যতীন, প্রীতিলতা, সুভাষ চন্দ্র, শের এ বাংলা, ইলা মিত্র, মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু, মরনপণ মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজী রাখা অসংখ্য শহীদ মুক্তিযুদ্ধা থেকে অনুপ্রেরনা গ্রহন করতে পারি।
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হতে চাই।
শুভ কামনা প্রিয়।
ভয়ের কিছু নেই জিয়া ভাই। সবাই জ ই মামুন নয়! ১০০তে একজন হতে পারে মাত্র!
দুনিয়ার সবাই ড. মাহফুজ নয় যে, প্রধানমন্ত্রীকে বাচাল বলবে!
আমি মনে করি জায়গায় দাঁড়িয়ে আমরা মাদের কাজ করে যাব, এতে যা হবার হবে! কাউকে না কাউকে তো বলতেই হবে!
বিবেক জ্রাগ্রত করে যেতেই হবে!
তবু সংশয় থেকে যায়, যাবে। আমরা আম-জনতা যে।
থলের কালো বিড়ালটা বেড় হল বলে,,,,,,,,,,,,,জিয়া ভাই,,,,,,,,,
আমিও তাই মনে করি। সময়ের ব্যপার মাত্র। আজ বা কাল।
শুভ কামনা।
প্রশ্নটা আমারো সত্যি সাগর রুনীর হত্যাকারীকে।
হু, একই প্রশ্ন আমারো।
সব হত্যা বন্ধ হোক, সব হত্যার বিচার হোক।
বেশ জোরালো ভাষায় কিছু কথা তুলে ধরেছেন।
যে কথা গুলা আমরা অনেকেই বলিনা পাছে দল ক্ষতিগ্রস্থ হয়,
পাছে পাঠক ক্ষতিগ্রস্থ হয়, পাছে কর্পোরেট আনুকল্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়,
হুজুগে মাতলে একটা সুবিধা তখন আপনার দল থাকবে ভারী।কোন তকমা আপনার গায়ে লাগবে না।
খুব ভালো বলেছেন এরশাদ ভাই।
ধন্যবাদ।
শুভ কামনা।
শুধু সাগর-রুণী নয়, বেশ কিছু ঘটনা বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের মতো রহস্যময় হয়ে আছে। আসলে কী হচ্ছে?
সত্যি বড় জানতে ইচ্ছে করে আসলে কি হচ্ছে?
শুভ কামনা।
এক সময় সব থেমে যাবে, নীরব হয়ে যাবে সব হট্টগোল! শুধু জেগে থাকবে পেটের ক্ষুধা, আর অসীম হতাশা। নতুন ঝঞ্ঝাট এসে পুরাতনকে দেবে চাপা, নতুন করে আবারও শুরু হবে সেই পুরাতন কথা। পুনরাবৃত্তি ঘটবে বারবার ইতিহাসের।
সাহসী পোস্টের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ, জিয়া ভাই।
ভালো থাকুন।
ধন্যবাদ আপনাকেও নাজমুল ভাই। আমার আমিকে যদি সৎ করতে পারি তাহলেই সব ঠিক।
শুভ কামনা।
প্রকৃতির নিয়ম হলে মূলের দিকে ফিরে যাওয়া। আমরা মানুষেরা একসময় আদিম ছিলাম। আমরা আদিমতার দিকে ফিরে যাচ্ছি ধীরে ধীরে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে কৃতিত্বের দাবী করতেই পারে কারণ আদিম সভ্যতায় আমরা এখন বর্তমান বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছি। আমাদের আদিমতার প্রমাণ দেখার জন্য প্রতিদিনকার দৈনিকের দিকে একটু চোখ দিন। আমরা মানুষ নেই। বর্তমান অস্থির সময় আমাদের পশুতে পরিণত করেছে। তাই বিবেক বুদ্ধি সব লোপ পেয়েছে আমাদের।