খোলা চিঠি

মানবিক কারনে আমি শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর পক্ষে হোক তা ৫০০০ হাজার বা ৩০০০ হাজার। তবে শ্রমিকের পেশাগত দক্ষতা বা কর্ম নিষ্ঠার বিচারে নয়। বাংলাদেশে সে রকম কোন প্রতিষ্ঠান আজও গড়ে উঠেনি যেখান থেকে দক্ষ শ্রমিক তৈরী হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে আমাদের শিল্প কারখানা গুলিই একমাত্র সম্বল। মালিক-শ্রমিকের চাওয়া-পাওয়ার দ্বন্দ চির দিনের চির কালের তবে শ্রমিকদের প্রত্যাশা থাকবে প্রাপ্তির আরো কিছু যোগ হোক হিসেবের খাতায় আর মালিকের প্রত্যাশাও ঠিক একই। তবে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া প্রকাশের প্রক্রিয়াটি ধ্বংসাত্মক হলে যতটা না ক্ষতি হবে মালিকের তার চেয়ে বেশী ক্ষতি হবে শ্রমিকের নিজের কারন শ্রমিক তার শ্রম বিক্রির জায়গাটিকে দিচ্ছে পুড়িয়ে আর সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ। অবাক হই যখন দেখি আমার রুটি-রুজির জায়গাটি আমি নিজেই আগুনে পোড়াচ্ছি। আপনি কি পারবেন আপনার প্রতিষ্ঠানটি নিজ হাতে আগুনে পোড়াতে? পারবেন না, কারন সেটিকে আপনি নিজের ভাবেন কিন্তু আমাদের শ্রমিকরা কখনোই তার র্কম ক্ষেত্রটি নিজের ভাবেন না ভাবতে পারে না। শুরু থেকেই সে নিজেকে প্রতিপক্ষের জায়গায় দাঁড় করিয়ে রাখে মানসিক ভাবে। আমরা কেনো শুধু পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বেতন নিয়ে কান্না কাটি করি? কেনো অন্য শ্রমিকদের বেতন নিয়ে কথা বলি না? আমাদের প্রত্যেকের বাসায় শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের মানুষ কাজ করে। আমরা তাদেরকে “কাজের বুয়া” পরিচয়ের এক মেঘময় চাদরে ঢেকে রাখি। তাদের বেতন আমরা কত দেই? তাদের কি নূন্যতম বেতনের কথা কেউ বলে? কোথায় সেই সব শ্রমিক নেতা, কোথায় সেই সব গরীব দরদী, আসুন তাদেরকেও আমরা এনে দিই “কাজের বুয়া ” নামের বদলে শ্রমিকের মর্যাদা। আন্দোলন করি তাদের সর্বনিম্ন বেতনের জন্য, জ্বালাই পোড়াই আমাদের নিজেদের ঘরবাড়ি। আসলেই কি আমরা তা পরবো বা করবো । মনে হয় না। তবে কেনো এ আগুন শুধু পোশাক শিল্পে? প্রশ্নের আড়ালে অনেক প্রশ্ন এসে যায়। আমার স্ত্রী আমার মা আমার বোন যে দামী বেনারসী টি পরে নিজেকে সুশোভিত করে তার পিছনে থাকে এক শিশু শ্রমিক, সে একটি শাড়ির জন্য সর্ব সাকুল্যে পায় মাত্র ৩০০ টাকা এবং আরো পায় দু’এক বছরের মধ্যে চোখ নষ্ট হবার নিশ্চয়তা ( গভীর মনোযোগের সাথে নিখুঁত কাজ করার পুরুস্কার সরুপ) । এখানেও দেখি না সেই সব শ্রমিক নেতা, সেই সব গরীব দরদী মানুষ কে যার বেনারসী শাড়ি পিছনের শিশু শ্রমিকের নায্য মজুরী নিয়ে কথা বলতে। তাই প্রশ্নের আড়ালে অনেক প্রশ্ন এসে যায়। ঢাকা শহরের প্রতিটি মটর গ্যারেজে রোদ পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করে অসংখ্য শিশু । কেউ তো তাদের কথা বলে না, জানতে চায় না তাদের নূন্যতম বেতনের কথা বা আদোও তারা বেতন পায় কিনা। নাকি শুধু কাজ শেখার সুযোগ টুকু পেতে কাজ করে অমানুষিক দিনরাত। কোথায় সেই সব শ্রমিক নেতা, কোথায় সেই সব গরীব দরদী, আসুন তাদেরকেও আমরা এনে দিই শ্রমিকের মর্যাদা। আন্দোলন করি তাদের সর্ব নিন্ম বেতনের জন্য, জ্বালাই পোড়াই ঢাকা শহরের সব মোটর ওয়ার্ক শপ। আসলেই কি আমরা তা পরবো বা করবো? মনে হয় না । তবে কেনো এ আগুন শুধু পোশাক শিল্পে ? প্রশ্নের আড়ালে অনেক প্রশ্ন এসে যায়। কে দেবে জবাব ?

অনেক কিছুই আছে বলার এ বিষয়ে, গত ১৫ বছর হেটে যাচ্ছি এই পথে।যা এই স্বল্প পরিসরে বলা সহজ ন, আর বলতেও চাই না ব্লগে। তারপরও কিছু বলা এই শিল্পের প্রতি ভালোবাসা থেকে। মালিক বা শ্রমিক এখানে বিষয় নয় বিষয় হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা। আরো কিছু সমস্যার কথা বলি, যা কেউ বলে না। আলোচনায় সব উঠে এলেই সমাধানের পথ খুজে পাবো আমরা। আমাদের সবার উচিত একটি নিরপেক্ষ জায়গা থেকে বিষয়টি বিচার বিশ্লেষন করা। সস্তা সেন্টিমেন্টকে আগুনের শিখায় পরিনত করা আমাদের কারও নয় এবং মঙ্গল ও নয়। মালিক শ্রম কেনে ৮ ঘন্টার কিন্তু শ্রমিকরা কাজ করে ৫ ঘন্টা । ফ্লোরে বসে গল্প করা, উকুন বাছা সবই চলে working hour-এ যা তার কর্তব্য ও দায়িত্ববোধের প্রতি চরম অবহেলা এবং যার মধ্য দিয়ে প্রতারিত হচ্ছে মালিকরা। প্রতিমাসে বেতন দেবার পর ২০% শ্রমিক ৪ থেকে ৬ দিন বিনা নোটিশে অনুপস্হিত থাকে কাজে, প্রতি ঈদের নির্ধারিত ছুটির পর ৩০% শ্রমিক ৭ থেকে ১০ দিন বিনা নোটিশে অনুপস্থিত থাকে কর্ম ক্ষেত্রে ,যার জন্য production fall করে এবং shipment delay হয় ,ফলশ্রুতিতে হয় order cancel না হয় air shipment নয়তো discount . যার সব টুকু দায় ভার নিতে হয় মালিক-কে, বাড়ে ব্যাংক Liability বন্ধ হয়ে যায় পরর্বতী order -এর back to back L/C open এর সুবিধাটি। রুগ্ন হতে থাকে শিল্প। এমনি হাজারও অসুবিধা তৈরীর পেছনে থাকে আমাদের শ্রমিকরা। আমাদের শ্রমিকদের মধ্যে আজও গড়ে ওঠেনি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ। সবাই নূন্যতম বেতনের কথা বলে কিন্তু কেউ কি বলবেন আর কোন সেক্টর আছে যেখানে একজন মেট্রিক পাশ মানুষ এক লক্ষ টাকার উপরে বেতন পায় ? পোশাক শিল্পের মালিকরাই শুধু তা দেয়। আমরা যদি গভীর থেকে দেখি তাহলে বোধ হয় খুজে পাবো শ্রমিক অসন্তোষের অন্য কোন নতুন কারন।

আমরা চাইবো-মালিক তার শ্রমিকের ন্যায্য মূল্য দেবে আর শ্রমিক হবে নিবেদিত তার বিক্রিত শ্রমের প্রতি। এ শিল্প যদি ধ্বংস হয় বিশেষ ষড়যন্ত্রের কাছে তবে আমরা দেখবো অমাবশ্যার চেয়েও গভীর ও গাঢ় অন্ধকার।

VN:R_U [1.9.7_1111]
রেটিং করুন:
Rating: 5.0/5 (1 vote cast)
VN:R_U [1.9.7_1111]
Rating: 0 (from 0 votes)
খোলা চিঠি, 5.0 out of 5 based on 1 rating

এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

২৯ টি মন্তব্য (লেখকের ১২টি) | ১১ জন মন্তব্যকারী

  1. আদর : ১৮-০৬-২০১২ | ১০:৪৭ |

    @@ মালিক শ্রম কেনে ৮ ঘন্টার কিন্তু শ্রমিকরা কাজ করে ৫ ঘন্টা । ফ্লোরে বসে গল্প করা, উকুন বাছা সবই চলে working hour-এ যা তার কর্তব্য ও দায়িত্ববোধের প্রতি চরম অবহেলা এবং যার মধ্য দিয়ে প্রতারিত হচ্ছে মালিকরা। প্রতিমাসে বেতন দেবার পর ২০% শ্রমিক ৪ থেকে ৬ দিন বিনা নোটিশে অনুপস্হিত থাকে কাজে, প্রতি ঈদের নির্ধারিত ছুটির পর ৩০% শ্রমিক ৭ থেকে ১০ দিন বিনা নোটিশে অনুপস্থিত থাকে কর্ম ক্ষেত্রে ,যার জন্য production fall করে এবং shipment delay হয় ,ফলশ্রুতিতে হয় order cancel না হয় air shipment নয়তো discount . যার সব টুকু দায় ভার নিতে হয় মালিক-কে, বাড়ে ব্যাংক Liability বন্ধ হয়ে যায় পরর্বতী order -এর back to back L/C open এর সুবিধাটি। রুগ্ন হতে থাকে শিল্প। এমনি হাজারও অসুবিধা তৈরীর পেছনে থাকে আমাদের শ্রমিকরা। @@

    দারুণ পোস্ট। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কত ঘন্টা হয়? এটাতো গেলো কাগজে কলমে। বাস্তবে আরো দুই ঘন্টা যোগ করুন। মাত্র পনের টাকার টিফিন দিয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত খাটিয়ে নেওয়া হয়। ভাই আমি নিজে মালিক পক্ষের নিজেদের লোক বলতে একজন। কথা না বাড়িয়ে শুধু এটুকু বলতে চাই- পোশাক শ্রমিক ও মালিক পক্ষকে নিয়ে লিখতে চাইলে এতো অল্প লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমি স্বীকার করি শ্রমিকদের কিছু দোষ আছে। কিন্তু যাঁরা মালিক তারা কি সবাই শ্রমিকদের কথা ভাবে? কাগজে কলমে সহস্র নিয়ম লিপিবদ্ধ থাকলেও মালিক পক্ষ কখনই সে নিয়মগুলো মানে না। বায়ারদের দেখানোর জন্য তারা ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে। বায়ারদের যে সেলারী সীট দেখানো হয়, তা দেখলে যে কেউ মালিকদের পক্ষে কথা বলবেন। কিন্তু বাস্তবে? ওভার টাইম নিয়েও মালিকরা শ্রমিকদের আজো ঠকাচ্ছে। নিট ও ওভেন ফ্যাক্টরীর শ্রমিকরা ওভারটাইম পায়। কিন্তু সোয়েটার ফ্যাক্টরীর শ্রমিকরা বরাবরের মতোই ওভারটাইম সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত জিয়া ভাই। আমি নিজেকে পোশাক শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কারণ আমিও আজ থেকে দুই বছর আগে একজন পোশাক শ্রমিক ছিলাম। আজ যতই উপরে উঠি না কেন, আমি শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলব। আমি স্বীকার করি- শ্রমিকরা ভুলের উর্ধে নয়, কিন্তু মালিক পক্ষের জুলুম অত্যাচার, অমানবিক ব্যবহার যখন মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পায়, ঠিক তখনই শ্রমিকরা জ্বলে উঠে। ছোট্ট একটা উদাহরণ দিই। কদিন আগে টিভি মিডিয়াতে আমাদের এমডি গলা উঁচিয়ে বললেন-”আমার ফ্যাক্টরীতে শ্রমিকরা ৪০হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পায়”। কিন্তু বাস্তবে উল্টো। আমাদের মে,১২ইং মাসের বেতন জুনের ১০ তারিখে পাওয়ার কথা থাকলেও পাইনি। হয়ত আজ ১৮ জুন পেতে পারি। তবুও বেতন পাওয়ার কোন নিশ্চয়তা নেই। ভাল থাকুন। সবসময়ের জন্য শুভকামনায়।
    অফটপিকঃ যদিও লগ ইন করার কোন ইচ্ছেই ছিল না, কিন্তু আপনার পোষ্টটির জন্য লগইণ করতে হলো। ভাল থাকুন। সুস্থ্য থাকুন। শ্রমিকদের দূর্দশার কথা লিখতে শুরু করলে সহজে শেষ হবে না।

    • জিয়া রায়হান : ১৮-০৬-২০১২ | ১২:২৪ |

      ধন্যবাদ প্রিয়। প্রতি উত্তর দেবো তবে একটু সময় চেয়ে নিচ্ছি।

    • বিষণ্ণময়ী : ১৮-০৬-২০১২ | ১৩:৫৪ |

      এটি আরেকটি পয়েন্ট শ্রমিকদের অসন্তোষের বেতন পায় অনেক দেরীতে, কিন্তু মালিকরা ভাবেন না শ্রমিকদের তাদের মতো নিজেদের বাড়ী নেই তারা ভাড়া বাড়িতে থাকে, আর বাড়ীওয়ালা এই দেরীতে ভাড়া দেয়ার কারণে কতো কটু কথা বলে, বাইরে কাজ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতনদের গালাগাল সহ্য করতে হয় আবার বাড়ীতে এসে বাড়ীওয়ালার গলাবাজি, এই মানুষগুলো কতো আর সহ্য করতে পারে।

  2. চারুমান্নান : ১৮-০৬-২০১২ | ১১:০৪ |

    Yes Yes Yes Yes Yes দারুন পোষ্ট জিয়া ভাই,
    সম্প্রতিক ঘটনা, কিছু গভীরের তথ্য Rose Rose Rose Rose Heart

    • জিয়া রায়হান : ১৮-০৬-২০১২ | ১২:২৫ |

      মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ মান্নান ভাই

  3. ডা. দাউদ : ১৮-০৬-২০১২ | ১১:৪২ |

    তবে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া প্রকাশের প্রক্রিয়াটি ধ্বংসাত্মক হলে যতটা না ক্ষতি হবে মালিকের তার চেয়ে বেশী ক্ষতি হবে শ্রমিকের নিজের কারন শ্রমিক তার শ্রম বিক্রির জায়গাটিকে দিচ্ছে পুড়িয়ে আর সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ। অবাক হই যখন দেখি আমার রুটি-রুজির জায়গাটি আমি নিজেই আগুনে পোড়াচ্ছি। আপনি কি পারবেন আপনার প্রতিষ্ঠানটি নিজ হাতে আগুনে পোড়াতে? পারবেন না, কারন সেটিকে আপনি নিজের ভাবেন কিন্তু আমাদের শ্রমিকরা কখনোই তার র্কম ক্ষেত্রটি নিজের ভাবেন না ভাবতে পারে না। শুরু থেকেই সে নিজেকে প্রতিপক্ষের জায়গায় দাঁড় করিয়ে রাখে মানসিক ভাবে।

    আসসালামুয়ালিকুম জিয়া ভাই
    লিখাটি অনেক গুরুত্ব বহন করে।
    ধন্যবাদ

    • জিয়া রায়হান : ১৮-০৬-২০১২ | ১২:২৬ |

      ওলাইকুম সালাম প্রিয়। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

  4. ফকির আবদুল মালেক : ১৮-০৬-২০১২ | ১১:৪৫ |

    জিয়া ভাই আপনার কাছ থেকে এই পোষ্ট পেয়ে বিশেষ ভাল লাগছে কারন আমি জানি আপনি দীর্ঘদিন এই ব্যবসায়ের সাথে জড়িত, পাশাপাশি একজন কবি সর্বপরি একজন বিবেকমান মানুষ।

    আপনার লেখাটিতে একজন ব্যবসায়ীর প্রতিনিধির কথার ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হতে দেখা গেল। আমরা জানলাম কি ভাবছেন একজন ব্যবসায়ী বর্তমান সময়ের চলমান সমস্যা নিয়ে। তবে আপনার সকল বিষয়ের সাথে একমত হতে পারি নি আর এটাই স্বাভাবিক।

    1. কোথায় সেই সব শ্রমিক নেতা, কোথায় সেই সব গরীব দরদী, আসুন তাদেরকেও আমরা এনে দিই “কাজের বুয়া ” নামের বদলে শ্রমিকের মর্যাদা

    এই পয়েন্টে এসে থমকে দাড়ালাম। কাজের বুয়ার প্রসঙ্গটি আলাদা। এ ব্যাপারে কেউ বলছে না তা কিন্তু নয়। কিন্তু এটা আমাদের দৃষ্টি গোচর হচ্ছে না কারন এই সমস্যাটি পোষাক শিল্পের সমস্যার অনুরূপ নয়। কাজের বুয়ারা গর্মেন্টস শ্রমিকদের থেকে অনেক বেশি অসহায়। শ্রমিকরা অসহায় বটে কিন্তু তারা সংঘবদ্ধ, তারা প্রতিবাদ করতে পারে। বুয়ারা কোন ধরনের প্রতিবাদ করতে পারে না।

    পোষাক শিল্প বাংলাদেশে বিস্তার করতে পেরেছে এখানকার সস্তা শ্রমের কারনে আর সরকারী পৃষ্টপোষকতার কারনে। সরকার যে সাবসিডি দেয় আর শ্রমিকদের যে পরিমান কম বেতন (আন্তর্জাতিক শ্রম বাজার অনুযায়ী) দেয়া হয় তা দিয়েই গড়ে উঠে নব্য ধনিক শ্রেনির সম্পদের পাহাড়। আমি এমন গার্মেন্টস মালিকদের চিনি যারা ব্যাগ টু ব্যাগ ফ্যাসেলিটি নিয়ে লোকাল মার্কেটে সুতা বিক্রি করে বিশাল সম্পদশালী হয়ে উঠেছে। আর দেখেছি শ্রমিকে বেতন দিতে তাদের কত রকমের অজুহাত।

    আর কাজের বুয়ারা অনেকটা ছিল কৃতদাসের মত, তাদের থেকে শুধু শ্রমই ক্রয় করা হয় না অনেক সময় তাদের নানা ধরনের অনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হয় । গার্মেন্টস শ্রমিকদের সমস্যা আর কাজের বুয়ার সমস্যা এক নয়।

    চলমান যে কোন সমস্যায় অন্য প্রসঙ্গ আনা একটি চলমান প্রবনতা যা আমরা আমাদের নষ্ট রাজনীতিতে বহুল ব্যবহৃত হতে দেখি। যখনই আওয়ামী সরকারের কোন বিষয় নিয়ে বলা হয় তখন আওয়ামী পক্ষ পূর্বেকার বিএনপির তুলনা করতে দেখি। এক নষ্ট দেখায় অন্য নষ্টের উদাহরন।

    আপনার এই লেখটিও এই প্রবনতার বাইরে নয়। চলমান একটি সমস্যায় যখন লোকে নানাবিধ কথা বলছে তখন আপনি অন্য একটি প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান সমস্যাকে হালকা করতে চেষ্টা করেছেন বলে আমার মনে হয়েছে।

    2. আমাদের শ্রমিকদের মধ্যে আজও গড়ে ওঠেনি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ।

    আপনার এই পয়েন্টের সাথে একমত হয়েও বলতে হচ্ছে যে শ্রমিকদের দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবোধের যতটুকু ঘাটতি আছে তার চেয়ে অনেক বেশি ঘটতি দেখা যায় মালিকদের মাঝে। অবশ্য সকল মালিক যেমন এক নয় সকল শ্রমিকও এক নয়।

    আমরা চাইবো-মালিক তার শ্রমিকের ন্যায্য মূল্য দেবে আর শ্রমিক হবে নিবেদিত তার বিক্রিত শ্রমের প্রতি। এ শিল্প যদি ধ্বংস হয় বিশেষ ষড়যন্ত্রের কাছে তবে আমরা দেখবো অমাবশ্যার চেয়েও গভীর ও গাঢ় অন্ধকার।

    আপনার এই অনুভুতি যখন আমাদের সকল মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে সঞ্ছারিত হবে তখনই কেবল সম্ভবনাময় ও কার্যকর এই সেক্টরটি থেকে জাতি উন্নতির পথ দেখতে পাবে।

    সর্বপরি এই পোষ্টের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

    • জিয়া রায়হান : ১৮-০৬-২০১২ | ১২:২৭ |

      মালেক ভাই, ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। প্রতি উত্তর দেবো তবে একটু সময় চেয়ে নিচ্ছি।

    • আ,শ,ম,এরশাদ : ১৮-০৬-২০১২ | ১২:৪৫ |

      যখনই আওয়ামী সরকারের কোন বিষয় নিয়ে বলা হয় তখন আওয়ামী পক্ষ পূর্বেকার বিএনপির তুলনা করতে দেখি। এক নষ্ট দেখায় অন্য নষ্টের উদাহরন।

      কেন বলে এবং কেন বলবে না সেটা কি ভেবে দেখেছেন মালেক ভাই।
      যেহেতু বিএনপি একটা শক্ত পক্ষ যেটা আমাদের ভাগ্যের সাথে জড়িত এবং আগের এবং ভবিষ্যতে সরকার লিডিং করার দাবী রাখে সেহেতু তাদের ও মুল্যায়ন দরকার। যদি বিএনপি নামের দলটি কেবলই পুর্বেকার থাকত এবং বিলুপ্ত হয়ে যেত তখন পুর্বেকার কথা টানলে আপত্তি করা যেত। কিন্তু কেউ যদি ডিফেন্স করতে গিয়ে দেখিয়ে দেয় যে বিষয়টা নতুন নয় তখন আপনার উচিত হবে বিষয়টাকে সহজ ভাবে নেয়ার।

      আর এক নষ্ট দেখায় অন্য নষ্টের উদাহরণ দিলে ক্ষতিতো নাই বরং নষ্ট বিষয়ক বক্তব্যটা সমৃদ্ধ হয় নষ্টটা
      কতটা গভীরের এবং কারা কারা নষ্ট পক্ষ সেটা ভালো করে আয়নায় দেখা যায়।

      আপনার উদ্দ্যেশ্য যদি হয় উভয় পক্ষকে নষ্ট দেখানো তখন একটা নষ্ট দেখিয়ে লাভ কি উভয়টা দেখান।সেখানেই হয়ত আমরা খুঁজতে পারবো উত্তরণের পথ। উস্মা প্রকাশ করার কোন কারণ দেখি না।

  5. হরবোলা : ১৮-০৬-২০১২ | ১২:২১ |

    জিয়া ভাই, আপনার পোস্টটি আরো ডিটেইল হলে ভাল হত।

    আপনি 15বছর ধরে এই লাইনে হাটছেন বলেই আপনি বলতে পারবেন, লিখতে পারবেন এই বিষয় নিয়ে। সমস্যাটা কোথায়!!

    আমার মনে প্রশ্ন জাগে:-
    1. নব্বই পরবর্তী সময় থেকে 2012 পর্যন্ত শ্রমিক অসন্তোষ পোষাক শিল্পের সাথে অতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে কিভাবে?
    2. পোষাক শিল্পের শিক্ষানবীষদের জন্য শিক্ষানবীষ বেতন প্রযোজ্য কিন্তু দক্ষদের মূল্যায়ন হয় কিভাবে?
    3. একজন শিক্ষানবীশ শ্রমিক কতদিনে দক্ষ শ্রমিকে পরিনত হয়?
    4. মালিকপক্ষ ফ্যাক্টরী বন্ধ করে দিলে কোন ক্ষতি হয়না, আর শ্রমিক অসন্তোষের কারনে ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকলে এত কান্নকাটি কি কারণে!
    5. বাংলাদেশের পোষাক শিল্পের শ্রমিকরা যদি এতই অদক্ষ হয় এবং কাজের প্রতি মনযোগী না হয় তবে পোষাক শিল্প বাংলাদেশের প্রধানতম শিল্প হয় কিভাবে?
    6. পোষাক শিল্পের মালিক পক্ষের উল্লখযোগ্য একটা অংশ রাজনীতিকগন। গত বিশ বছরে দেখেছি যে বিএনপি বা আওয়ামী লীগ যে দলই হরতাল আহ্বান করুকনা কেন তাদের নেতাদের মালিকানাধীন গার্মেন্টসগুলো খোলা থাকে, এই হিসোক্রেসী কি জন্য?

    • জিয়া রায়হান : ১৮-০৬-২০১২ | ১২:২৮ |

      ধন্যবাদ সাইদ। প্রতি উত্তর দেবো তবে একটু সময় চেয়ে নিচ্ছি।

    • হরবোলা : ১৮-০৬-২০১২ | ১২:৪৫ |

      জিয়া ভাই, শ্রমিক অসন্তোষের পিছনে হয়তো চিরকালীন মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বর বিষয়টি থাকতে পারে। তবে আপনার সাথে আমি একমত যে, শুধুমাত্র এই দ্বন্দ্বই এমন ভয়াবহ অসন্তোষের মূল এবং একমাত্র কারণ হতে পারেনা। এখানে অন্য অনেক ভয়াবহ হিসাব নিকাশ জড়িত আছে। আর ফ্যাক্টরীগুলো কিন্তু শুধুমাত্র অসন্তোষের কারনেই ক্ষতিগ্রস্থ হয় নাই, এখানে অসন্তোষ অপেক্ষা মালিক পক্ষের প্রতি চরম ঘৃনা বিদ্যমান- এই ঘৃনার বিষয়টিই অক্ষম আমার অজ্ঞ মাথায় ঢুকে না!!

    • জিয়া রায়হান : ১৮-০৬-২০১২ | ১২:৪৯ |

      একমত। SQ গার্মেন্ট ১০০% বেতন ভাতা সহ সকল সুবিধা সময় মতো দেবার পরও ভাংচুর হয়। তাই এই প্রশ্ন তো আসতেই পারে। এর পিছনের কারন কি?

  6. নাজমুল হুদা : ১৮-০৬-২০১২ | ১২:২৬ |

    কিন্তু আমাদের শ্রমিকরা কখনোই তার র্কম ক্ষেত্রটি নিজের ভাবেন না ভাবতে পারে না।

    মূল সমস্যা কিন্তু এখানে! কেন একজন শ্রমিক তার কর্মক্ষেত্রটিকে নিজের ভাবতে পারছে না, তা কখনও কেউ ভেবে দেখে না। কারখানার মালিক একাই শুধু মালিক, শ্রমিকদের রাখা হয় শ্রমিক করেই। তাদেরও নিজেকে মালিক ভাববার মত অবস্থা তৈরি হোক, এই কামনা করি।

    • জিয়া রায়হান : ১৮-০৬-২০১২ | ১২:৩৭ |

      মালিক শ্রমিকের বিভেদ আছে থাকবেই। এটা বিলোপ সম্ভব না। আমি নিজেও এই দেশে এবং পৃথিবীর অন্যান্য উন্নত এবং সভ্য দেশেও শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছি চিত্র একই। তবে এই ব্যবধান যতটা কমানো যায় সেই চেষ্টা দুপক্ষ থেকেই করা উচিত। মালিক শ্রমিকের ব্যবধান থাক এবং থাকবেই। তাহলে যোগ্যতা বলে শব্দটি তুলে দিতে হবে। আমি শ্রমিক , আমার লিমিটেশন টা আমাকে স্বীকার করতেই হবে। আমি শ্রমিক নিজেকে মালিক সমকক্ষ ভাবতে পারি না বা ভাবা তাকে আমি সঙ্গত মনে করি না। যেমন আমি এখন বাংলাদেশে গনতন্ত্র চাই না। আমি মনে করি এদেশের জন্য গনতন্ত্র কার্যকর না। হু, আপনার দ্বিমত থাকতে পারে এবং আপনার মতকে আমি সব সময় শ্রদ্ধা করি।
      ধন্যবাদ আপনাকে মতামতের জন্যে।

    • নাজমুল হুদা : ১৮-০৬-২০১২ | ১২:৫২ |

      ধন্যবাদ, জিয়া ভাই।
      এই লাইনে আমার অভিজ্ঞতা একেবারেই নেই। মালিক আর শ্রমিকদের সমকক্ষ ভাববার কথা বলিনি আমি। ব্যবধান কমাতে আর যা কিছু করার প্রয়োজন তা করতে তো হবে, তার চেয়েও বড় কথা শ্রমিকদের বুঝতে দিতে হবে যে প্রতিষ্ঠানটি আছে বলেই তারা আছে। এটা শুধু মুখে বলে নয়, এমন কিছু করতে হবে যাতে তারা তেমনটি মনে করতে পারে নির্দ্বিধায়।
      দ্বন্দ্ব থাকবে, কিন্তু তা কেন এমন ধ্বংসাত্বক হয়ে উঠবে? নিজের জিনিষের প্রতি দরদ থাকবে না কেন মানুষের?

    • জিয়া রায়হান : ১৮-০৬-২০১২ | ১৩:১৪ |

      ধন্যবাদ প্রিয়। না, আপনি বলেননি তা আমি জানি। আমি নিজে থেকে কথাটা বলেছি। এই কথার সাথে আপনার মন্তব্য জড়িত না। সত্যি বলতে কি সারা দেশের সার্বিক অস্থিরতা আমাদের মতো সাধারন মানুষকে ভীত করে তুলেছে। আমরা জানি না আমরা আসলে যাচ্ছি কোথায়।

  7. আ,শ,ম,এরশাদ : ১৮-০৬-২০১২ | ১২:৩২ |

    আসলে কি বলা দরকার বুঝতে পারছিনা।
    খবরে দেখলাম ঐ এলাকায় বাড়ি ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বছরে 3 বার।
    কিন্তু শ্রমিকরাতো সে বাড়ির কোন ক্ষতি করেনি, বাড়িওয়ালার গায়ে ঢিল ছুড়েনি।

    সবাই ঐ এক কাজই করতে পারে- রাস্তায় দাঁড়ানো গাড়ি গুলা ভাঙ্গতে আর পুলিশের দিকে ঢিল ছুড়তে অথবা রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ করতে।

    আমার একটা অনুমান হলো -বিজিএমই এর সাথে এফবিসিসি আইয়ের সভাপতির তথা হামীম গ্রুপের একটা বিরোধ কাজ করছে যার কারণে বিজিএমই ফেক্টরী বন্ধের দ্রুত ঘোষণা দিয়েছে। হামীম গ্রুপ যখন প্রকাশ্যে বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে তখনই নাকি অনেকে নাখোশ হয়েছে।

    বেতন বাড়িয়ে খুশি রাখা সম্ভব নয়, কারণ মানুষের চাহিদার শেষ নেই। ফেক্টরীগুলার ম্যানেজমেন্টে সমস্যা আছে। কারণ তারা কেন পারেনি শ্রমিকদের মোটিভেট করতে যে- ফেক্টরীটা তাদেরও। ফ্যাক্টরী গুলারওতো দায়িত্ব আছে তাদের নিজ নিজ শ্রমিকদের কন্ট্রোলে রাখা, অসন্তুষ নিরসন করা। মালিক পক্ষ গুলাও কখনো শ্রমিকদের আপন করে নেয়ার কথা ভাবতে পারেনি। শুধু বেতন বোনাস দেয়াই একমাত্র কাজ নয়, এইচ আর এর মাধ্যমে আস্থায় রাখা ও একটা গুরুত্বপুর্ণ কাজ।

    • জিয়া রায়হান : ১৮-০৬-২০১২ | ১২:৪৬ |

      সুন্দর বলেছেন। সহমত।
      বাস ভাড়া বাড়ালে বাস ভাঙ্গি না। কারখানায় বিদ্যুৎ নাই, ডিজেল দিয়ে জেনারেটর চলে। আমরা মালিকের পক্ষ নিয়ে ৫ লাখ পোশাক শ্রমিক বিদ্যুতের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করি না। সত্যি বলতে কি আমরা সবার ব্যক্তি কেন্দ্রিক হয়ে গেছে, নিজের টা আগে বুঝি। সে মালিকরাও মালিকদের চিন্তা করছে আর শ্রমিকরা শ্রমিকদের। যে, যার জায়গায় ঠিক। এই চিত্র আজ সমাজের সব জায়গায়। কিন্তু এভাবে আর কতদিন। আমরা আসলে যাচ্ছি কোথায়?

    • বিষণ্ণময়ী : ১৮-০৬-২০১২ | ১৩:৪৮ |

      জিয়া ভাই শ্রমিকরা কি করে আন্দোলনে নামবে তাদের কি মালিকরা মূল্যায়িত করে?? বা কোন মালিক কি বলেছে আজকে তোমাদের ছুটি বেতন পাবে শুধু আন্দোলনে নামো আমাদের জন্য, সরকারকে চাপ দাও বিদ্যুত দিতে, দেখুনতো ওই শ্রমিকরা মালিকদের জন্য রাস্তায় নামে কি না।

      মালিকরাতো সব বড় বড় বুলি বলে তাও আবার ৫ষ্টার হোটেলে বসে ২৫০০টাকার ডিনার প্লেট সামনে নিয়ে তারা কি শ্রমিকদের মানুষ ভাবে কখনো?? তারা ইলেকশন করছে কোটি কোটি টাকা খরচ করে, তারা ফ্যাশন শো করছে কয়েককোটি টাকা খরচ করে, তাদের বউ বাচ্চাদের ঈদের শপিং হয় বাইরের দেশ থেকে, তারা পাজোরেতে ঘুরে বেড়ায়, একদিনে খরচ করে লাখ লাখ টাকা তারা কি কখনো ভাবে এই কোটি কোটি টাকার ফ্যাশন সো না করে ইলেকশনে এতো খরচ না করে তার শ্রমিকদের মূল্যায়ন করি তাদের ন্যায্যটা দেই?? এই ভাবনা টুকু ভাবার জন্য তাদের বিবেক আছে কি না সেটা দেখার বিষয়।

  8. বিষণ্ণময়ী : ১৮-০৬-২০১২ | ১৩:৪৪ |

    আসলে বলার আছে অনেক কিছু আবার অনেক কথা বলার ও নেই, তবু যা বুঝি তাই কিছুটা বলি,

    আমিও ভাবি যে কোম্পানী বা কারখানা আমার রুটিরুজির জায়গা সেইটাই যদি জ্বালিয়ে দেই তাহলে আমার সংসার চলবে কি করে, কি করে আমি আমার পারিশ্রমিক পাবো, এই বোধটা ওদের মাঝে কেনো আসে না, শুধু কি ক্রোধের কারণে?? না কি অন্য কারো ঈণ্দনের কারণে তারা এতোটা মারমুখী আচরন করে?? গত একবছরে তাদের বেতন ভাতা বাড়েনি, কিন্তু এই একবছরে বেড়েছে মৌলিক যে চাহিদা তার মূল্য, সেই বৃদ্ধি পাওয়া মূল্যে তাদের জীবন আর সংসার চালানো কোন দিনই সম্ভব নয়, যখন মন্ত্রিরাও স্বিকার করছেন যে বর্তমানের উর্ধ্বমূল্যে আমাদের নাভিশ্বাস তখন সাধারণ মানুষ কি করে জীবন চালায়।
    একটু কিছুর দাম বাড়লে হুহু করে বাড়ে বাড়ী ভাড়া, যাতায়াত খরচ, খাদ্যের দাম, কিন্তু বাড়েনা সাধারণ মানুষের আয়। যারা একটু ভাল অবস্থানে আছেন তারা কোন রকম করে হলে সংসার চালাচ্ছেন কিন্তু যারা শ্রমিক বিশেষ করে পোশাক শিল্প বা অন্য কোন শিল্পের শ্রমিক( তবে সাইটে কাজ করা নির্মাণ শ্রমিকদের কিন্তু মুজুরী এখন বেশ ভাল এটা আমার দেখা তাই জানি) তাদের তো মাসের অর্ধেক দিনেই মুজুরীর টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে, তারা কি করে চালাবে বাকী দিন গুলো।
    এ ছাড়া পোশাক শিল্পে ওভার টাইম যে ভাবে করানো হয় তাদের মুজুরী সেইভাবে দেয়া হয় না, প্রতিটি গার্মেন্টেসে কয়েকজন ইনচার্জ বা এই ধরনের কেউ থাকেন যারা এই শ্রমিকদের মুজুরী মেরে দিতে বা না দিতে উৎসাহিত করেন মালিকদের শুধু মাত্র তাদের গদি পোক্ত করার জন্য। কিন্তু একজন মালিকতো বিদ্যান তার কি উচিৎ নয় এই ব্যাপারটা সিরিয়াসলি দেখা, যে পরিশ্রম দিচ্ছে তার ন্যায্য পারিশ্রমিক কেনো দিবো না, আর একজন শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক না দেয়া কি গুনাহের কাজ নয়।
    এই ভাবে পোশাক কারখানা বন্ধ রেখে কেউ কি লাভবান হচ্ছেন?? কেউ হচ্ছেন না, মালিকদের তাদের চুক্তি অনুযায়ী মাল সাপ্লাই করতেই হবে তা না হলে ধীরে ধীরে একজন মালিক চুক্তি ভঙের কারণে আর্ন্তজাতিক বাজারে তার বিশ্বাস হারাবেন, ঠিক তেমনি একজন শ্রমিক কাজ না করলে (মালিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করেছেন যেই কয়দিন বন্ধ সেই কয়দিন পারিশ্রমিক কি তারা দিবেন শ্রমিকদের??) তার পারিশ্রমিক তো সে পাবে না।
    মালিকদের এখন সময় শ্রমিকদের বুঝার, বর্তমান পরিস্থিতিকে বুঝার, মালিকরা পারতেন প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে শ্রমিকদের কাছে সময় চেয়ে নিতে, যে এই সময়ের মধ্যে তাদের বেতন ভাতা বাড়ানো হবে। কিন্তু এই বন্ধ ঘোসণা করে মালিকরা খুব ছোট মনের পরিচয় দিয়েছেন, মালিকরা ভুলে গেছেন তারা আজকের বিত্তের মালিক কিন্তু এই শ্রমিকদের শ্রমের কারণে হয়েছেন।

    এছাড়া আপনি যে অন্য বিষয় গুলো তুলে ধরেছেন তার সাথে সহমত, আমিও চাই বাসায় যে কাজ করে বা গ্যারেজে যে কাজ করে তাকে শ্রমিক হিসাবে মূল্যায়িত করা হোক, তার পারিশ্রমিক সেই ভাবে দেয়া হোক।

    খুব খারাপ লাগে যখন দেখি বিজিএমই এর কোন বাষির্ক অনুষ্টানে বাইরে থেকে কোটি টাকা খরচ করে শিল্পি এনে অনুষ্ঠান করা হয়, যখন শুনি ওমুক গার্মেন্টেসের মালিক তার ছেলে মেয়ের বউ এর শপিং করতে বাইরে যান বছরে কয়েক বার যেখানে তার প্রতিষ্টানের কর্মচারীদের বেতন ভাতা দেয়া হয়না সময় মতো।

    আজকের এই পরিস্থিতির জন্য মালিক এবং সরকার দুজনেই সমান দায়ী, সরকার পারছেন না বাজার নিয়ন্ত্রন করতে আর মালিকরা পারছেন না তাদের মানষিকতার পরিবর্তন করতে, কিন্তু মালিকদের তাদের মানষিকতার পরিবর্তন করতে হবে, এই শ্রমিকদের শুধু শ্রমিক নয় একজন মানুষ হিসাবে মূল্যায়ন করতে হবে, যেদিন মালিকরা শ্রমিকদের মূল্যায়ন করবেন সেদিন কোন শ্রমিক আর কোন প্রতিষ্টানে আগুন দিবে না ঢিল মারবে না।

    এই অষোন্তোষ খুব শিগ্রই দূর হোক সেই আশা করি।

    • জিয়া রায়হান : ১৮-০৬-২০১২ | ১৪:১৮ |

      লুবনা,
      কোন দুঃখে যে এই পোষ্ট দিতে গেলাম Hairpull
      এ বিষয়ে এতো কথা বলার আছে দু পক্ষ থকেই তার হিসেব নাই। কিন্তু আমি তো এতো টাইপ করতে পারবো না। এখানে অনেক আলোচনার সুযোগ আছে আমাদের ।আমাদের যার যার মতামত দেবার সুযোগ ছিলো। আমার এক আঙ্গুলে টাইপ তো আর কুলায় না। Shy
      কিন্তু চেষ্টা করবো সবার উত্তর দেবার। আমার মতমত দেবার। ভিন্নমত তো থাকবেই।

    • বিষণ্ণময়ী : ১৮-০৬-২০১২ | ১৪:২২ |

      জিয়া ভাই ইস্যুটা আসলেই সেনসেটিভ। তাই ভিন্ন অনেত মতামত আসবে। আপনি আপনার যুক্তি দেখাবেন আমি বা অন্যরা অন্যেরটা। তবে যে যে যুক্তিই দেখাক না কেনো এর একটা সুন্দর বিহিত হোক তাই চাই।
      আর ধীরে ধীরে টাইপ করে উত্তর দিন। তাড়াহুড়ার দরকার নেই। আর পোষ্টটি দেয়া অবশ্যই উচিৎ হয়েছে কারণ অনেক বিষয় আমরা আলোচনা করতে পারছি উন্মুক্তভাবে। কি করবো বলুন আমরা তো কারো জন্য কিছু করতে পারছি না শুধু আলোচনা ছাড়া।

  9. শামিম রহমান : ১৮-০৬-২০১২ | ১৪:১১ |

    প্রথম কথা, এতো অল্পতে আসলে সব বলা সম্ভব না।
    দ্বিতীয়ত, আপনার লেখাটা মালিকের দৃষ্টিভঙ্গীতে লেখা। আপনি যেহেতু মালিক হিসেবে আছেন সেখানে অন্য ভাবে না নিরপেক্ষভাবে আপনার জন্য বলা সম্ভব না।

    শুধু এতটকু বলবো, মালিক এবং শ্রমিক, এই দুটো শব্দকে আমরা প্রতিপক্ষ ভাবি। মালিক শ্রমিককে ভাবে, তারা ইনইফিসিয়েন্ট, মোর ডিমান্ডিং দ্যান দেয়ার কন্ন্ট্রিবিউশন, অবুঝদার, বেশি বাড়তে দেয়া যাবে না। শ্রমিক মালিকদের ভাবে, তারা শাসক, তারা তাদের পারিশ্রমিক পায় না, তাদের ঠকানো হচ্ছে। দুই-পক্ষের কেউ কাউকে সহায়ক ভাবে না। এবং এই ভাবনাটা ভাবানোর জন্য কেউ নেই।

    আর এই সুযোগটা যে কাজে লাগাবে না সে তো বোকা। দুনিয়ার সবাই বোকা তা তো হতে পারে না।

    • জিয়া রায়হান : ১৮-০৬-২০১২ | ১৪:১৭ |

      প্রিয়,
      কোন দুঃখে যে এই পোষ্ট দিতে গেলাম Hairpull
      এ বিষয়ে এতো কথা বলার আছে দু পক্ষ থকেই যার হিসেব নাই। কিন্তু আমি ত এতো টাইপ করতে পারবো না। এখানে অনেক আলোচনার সুযোগ আছে আমাদের ।আমাদের যার যার মতামত দেবার সুযোগ ছিলো। আমার এক আঙ্গুলে টাইপ তো আর কুলায় না। Shy
      কিন্তু চেষ্টা করবো সবার উত্তর দেবার। আমার মতমত দেবার। ভিন্নমত তো থাকবেই।

  10. সাহাদাত উদরাজী : ১৮-০৬-২০১২ | ১৯:৫৪ |

    আমার জীবনের সাড়ে আট বছর আমি গার্মেন্টস এবং টেক্টাইলে ছিলাম। আমি জানি অনেক কিছু…। কিন্তু বলে আর কি হবে? কাকে বলব? যে দেশ এখনো একজন ভাল (!) প্রধানমন্ত্রী পায় নাই, সেখানে আর কি বলার থাকে!

    চুপ থাকেই গেলাম। শুধু বলে যাই, আসলেই এখন দ্রব্য মূল্য আর আয়ের মধ্যে কোন মিলই নাই! গত দুই বছরে সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়েছে কয়েক হাজার গুন! তাই যাবার আর পথ দেখছি না!

    আমি আশুলিয়ার গার্মেন্টস আন্দোলন সমর্থন করি।

    আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের মানুষ নাকি চার বেলা খায়! কিন্তু তিনি বুঝেন না, চার বেলা খেলে কেহ আন্দোলন করে না!সেইম!

    • জিয়া রায়হান : ০১-০৭-২০১২ | ১১:২০ |

      আমিও আন্দোলন সমর্থন করি কিন্তু আন্দালনের ভাষা আর প্রক্রিয়াটাকে সমর্থন করিনা।
      শুভ কামনা।

  11. কবিরনি : ১৮-০৬-২০১২ | ২২:০৯ |

    ধন্যবাদ জিয়া ভাই আপনার মালিক পক্ষের এক পেশে দৃষ্টিভঙ্গী থেকে লেখা পোষ্টটি আলোচনা করার সুযোগ করে দেবার জন্য।
    আপনার পোষ্ট এর প্রথমে “মানবিক কারনে আমি শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর পক্ষে” – কথাটির তীব্র প্রতিবাদ করছি। শ্রমিকরা ভিক্ষুক নয়। দেহ খাটিয়ে পয়সা ঘাম ভিজিয়ে পয়সা আয় করে। সেখানে তাদের ঘামের পয়সা সে চাই, নায্য মজুরী চাই। দয়া, দান, দক্ষিনা সে চাই না। এগুলো মধ্যবিত্তের চাওয়া পাওয়া। নিম্নবিত্ত শ্রমিক শ্রেনীর না।
    পরে বলেছেন দক্ষ শ্রমিকের অভাবের কথা। শ্রমিকরা যদি দক্ষই না হত তবে এই সেক্টর এত বিশাল হতে পারত না। আপনি নিশ্চয় বলবেন না শুধু দালালী করেই এই সেক্টর পৃথিবীব্যাপি মার্কেট তৈরী করেছে। আমাদের কাজের কদর অবশ্যই পৃথিবীব্যাপি আছে।
    “শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া প্রকাশের প্রক্রিয়াটি ধ্বংসাত্মক হলে যতটা না ক্ষতি হবে মালিকের তার চেয়ে বেশী ক্ষতি হবে শ্রমিকের নিজের কারন শ্রমিক তার শ্রম বিক্রির জায়গাটিকে দিচ্ছে পুড়িয়ে আর সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ।” – শ্রমিকদের ক্ষতি খুব একটা মারাত্মক হবে না। তাদের নুন পান্তা দিয়ে ভাত খাবার অভ্যাস দাদার আমল থেকেই। কিন্তু মালিকরা কি করবে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পাজেরোর তেল কেনার পয়সা তো থাকবে না। পিজ্জা হাটের পিজ্জা তো মুখে উঠবে না। বেকায়দাটা কার একটু ভাল করে ভেবে দেখবেন। “আমাদের শ্রমিকরা কখনোই তার র্কম ক্ষেত্রটি নিজের ভাবেন না ভাবতে পারে না।” – খুবই আশ্চর্য লাগল কথাটা শুনে। আমাদের শ্রমিক মালিকের জন্য জান দিতেও প্রস্তুত। এরকম অসংখ্য গল্প বলতে পারি তবে বোধহয় আপনার শুনতে ভাল লাগবে না। মালিকের কাছ থেকে একটু ভাল ব্যবহার পেলে তারা জন্মগতভাবেই প্রভুভক্ত।
    “আমরা কেনো শুধু পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বেতন নিয়ে কান্না কাটি করি?”- কারন এখানে 20 লক্ষ শ্রমিক কাজ করে। এই শ্রমিকদের বেতন এর উপর অন্যান্য শ্রমিকদের বেতন অনেকাংশেই নির্ভরশীল। আপনি যে কাজের বুয়াদের কথা বললেন এই ঢাকা শহরে আমি 300 টাকায় কাজের বুয়া রেখেছি। এখন আমাকে গুনতে হয় 3000 টাকা। শুধু মাত্র ওই গার্মেন্টস শ্রমিকদের মুজুরী বাড়ার কারনে। মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপে যেখানে 1800 টাকায় হেলপার পাওয়া যেত তা এখন 4500 টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু ওই গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বাড়ার কারনে। তাই মোটড় গাড়ির যুক্তিও ধোপে টিকবে না। তাছাড়া মোটড় গাড়ির ওয়ার্কশপে অধিকাংশই শিশু শ্রমিক। এই শিশু শ্রমিকরা গার্মেন্টস এ কাজের অনুপযুক্ত বা সরকারী/আন্তর্জাতিক বাধা নিষেধ থাকায় মোটর ওয়ার্কশপ গুলো এদের সস্তাতে শ্রম কিনতে পারছে। সরকারী উদ্দোগ্য থাকলে এটা করতে পারত না। তাছাড়া গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন বাড়লে তারাও তাদের ছেলে মেয়ে মোটর ওয়ার্কশপে কাজ করতে না পাঠিয়ে পড়ালেখা করাতেই পারত। কোন শ্রমিক পিতায় চাই না তার শিশু সন্তানটি অমানুষিক শ্রম করুক। আপনি শ্রমিকদের ইউরোপিয়ান স্টার্ন্ডাডে বেতন দিন দেখেন মোটর গাড়ি, বাসা বাড়ী কোথাও শিশু শ্রম নেই। সবাই রবিন্দ্রনাথের সোনার তরী কবিতায় পড়ছে।
    “জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা।” – র দায়টি কি মালিকের বেশি না। সে তো শিক্ষিত বেশী। তার কি উচিত না অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার আগেই সুরাহা করা।
    “মালিক শ্রম কেনে ৮ ঘন্টার কিন্তু শ্রমিকরা কাজ করে ৫ ঘন্টা ।”- আবার মালিক শ্রম কেনে 8 ঘন্টার কিন্তু কাজ করায় 18 ঘন্টা এমন উদাহরনও কিন্তু আছে। সিপমেন্টের আগে কি অমানুষিক পরিশ্রম করায় ছোট ছোট গার্মেন্টসগুলো শ্রমিকদের দিয়ে তা নিশ্চয় আপনাকে বলার অপেক্ষা রাখে না। অগ্নিকান্ডে প্রানহানির আশঙ্কা, নারী শ্রমিকদের দৈহিক নির্যাতনের আশঙ্কা সব মিলিয়েই কিন্তু শ্রমিক আছে তাদের নায্য পাওনার দাবীতে। আমরা জানি শ্রমিকের এক অনন্য বৈশিষ্ট যে সে তার মূল্য অপেক্ষা অধিক আয় করে। অর্থনীতিতে উৎপাদিত মোট উৎপন্ন দ্রব্য তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। বিষয় গুলো হচ্ছে – ক. প্রাথমিক মূলধন (যা ধ্রুব অর্থাৎ উৎপাদনে ব্যায়িত কাচাঁমাল ও যন্ত্রপাতির মূল্য, জমির মূল্য) খ. চলতি মূলধন (অর্থাৎ শ্রম-শক্তির মূল্য) গ. উদ্বৃত্তমূল্য ( অর্থাৎ শ্রমিক নিজ প্রয়োজন মেটাবার পড় অতিরিক্ত যা আয় করে)। তাই পুজিঁপতির মনুফা হার = গ/(ক+খ)। যে খানে গ, খ এর অনেক বেশী। কারন শ্রমিক যা বেতন পাই তা সে যে সময় খাটে তার পাচঁ ভাগের এক ভাগের ও কম সময়ে আয় করে। ফলে অতি অল্প সময় এর মধ্যে পুজিপতি প্রচুর পুজিঁ গড়ে তোলে। আমরা সেটিই দেখেছি 90 পরবর্তিতে। শ্রমিকদের কে ঠগিয়ে কোটিপতি মালিকে সংখ্যা বেড়েছে। আর তাদের এই শোষনের কাজে হাতিয়ার হয়েছে আপনার ওই কথিত এক লাখটাকা বেতন পাওয়া মাট্রিক পাশ পি.এম গুলো। তাদের বেতন এক লাখ মালিক তারা সৌদিআরব থেকে কাজ শিখে এসেছে বলে দেই নি। দিয়েছে শোষন করতে।
    সর্বনিম্ন মজুরীর সীমা থাকা উচিত সেটিই যাতে একজন শ্রমিক কম পক্ষে তার চার সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের সকল মৌলিক চাহিদা পূরন করে কিছু সঞ্চয় করতে পারে। সর্বনিম্ন মজুরি অবশ্যই সর্বচ্চো মজুরীর তিন ভাগের এক ভাগ হওয়া উচিৎ। না হলে যে শ্রেনীবৈশম্য সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশে তা থেকে দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ সারা জীবন ই শোষিত নিপিড়িত হতে থাকবে আর অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে থাকবে।
    পরিশেষে আপনার শেষ কথার সাথে একমত। “এ শিল্প যদি ধ্বংস হয় বিশেষ ষড়যন্ত্রের কাছে তবে আমরা দেখবো অমাবশ্যার চেয়েও গভীর ও গাঢ় অন্ধকার।” পারসোনায় মেকাপ করানো মালিকপক্ষের স্ত্রী-কণ্যার এই অন্ধকার জীবনে কত দিন বাস করতে পারবে সেই বোধদয় থেকেই শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে তাদের দাবী দাওয়া মেনে নেওয়ায় উচিত। আর সেই ব্যবস্থা অবশ্যই সরকারকেই করতে হবে।