[শব্দনীড়ে আমি কখনো রেসিপি পোষ্ট দেই নাই, দিতেও চাই না। শব্দনীড়ে আমি আমাদের দেশ বিদেশের নানা প্রসংগ সহ কিছু কথা সাজিয়ে 'ছোট ছোট কথামালা' লিখে থাকি, যা কিছুদিন বন্ধ আছে নানান কারনে। আবশ্য শব্দনীড়ের কিছু বন্ধু জানেন আমি রেসিপি ব্লগ লিখে থাকি। আজ কেন জানি মনে হল, এখানে একটা রেসিপি পোষ্ট দেই কারন রেসিপি পোষ্ট আমাকে বাংলা ব্লগিং দুনিয়ায় যে পরিচিতি দিয়েছে তা আমার নিজের কাছেও অবিশ্বাস্য মনে হয়। বন্ধুরা, গত কাল রাতে রান্না করা একটা রেসিপি দিয়ে আজ এখানে সারারাত আড্ডা দিতে চাই। রেসিপিটা আগে আমি আমার ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে লিখে এখানে এনেছি। চলুন দেখা যাক, সাথে গল্প চলুক।]
শাক সবজি ছাড়া মানুষের ভাল খাবার আর কি আছে? প্রতিবেলায় আমাদের কিছু না কিছু শাক সবজি খেতে হয়। শাক সবজি খেলে শরীর সুস্থ্য থাকে এবং শরীরে নানা প্রকারের ভিটামিন পাওয়া যায়। শিশুরা সহ অনেক বড়রা শাক সবজির কথা শুনলে বা ঘরে রান্না হলে, না খেয়েই বেলা কাটিয়ে দিতে চায়! আর এই জন্যই আমাদের শাক সবজি রান্না করার সময় বেশী মনোযোগী এবং দেখা ও স্বাদের দিকে বেশী খেয়াল রাখতে হয়। সবজি রান্না করে টেবিলে রাখলে দেখতে পছন্দ হলে না খেয়ে পারা যাবে না… আর একটু খেয়ে স্বাদ পেলে তো কথাই নেই! পুরা বাটি সাফ করে দিবে আপনার কষ্ট করে সাফ করতে হবে না!
চলুন আজ একটা মিক্সড (কয়েক পদের মিশানো) সবজি রান্না দেখি। আমি এখনি নিশ্চিত ছবি দেখেই আপনি বলবেন, ওয়াও!

মিক্সড সবজিঃ
- চিচিংগা (প্রধান সবজি হিসাবে ধরা হয়েছে),
- গাজর,
- ক্যাপসিকাম,
- পেঁয়াজ (ফালি করে কাটা পেঁয়াজ এখানে সবজি হিসাবে ধরা হয়েছে, ছবিতে নাই)

চিচিংগা ও গাজর সবজি গুলো আড়াআড়ি করে কেটে হালকা লবণ যোগে সিদ্ব করে ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এই সিদ্বটা এজন্য যে, যেন রান্নায় সময় কম লাগে এবং সবজির রং যেন শেষেও ভাল থাকে…

ক্যাপসিকাম সিদ্ব না করাই ভাল, এর ঘ্রাণ ভাল লাগবে… আড়াআড়ি কেটে রেখে দিন।
অন্যান্ন উপকরণঃ
- হাফ কাপ চিকেন বোনলেস জুলিয়ান কাট (লম্বা কাট)
- ১ টেবিল চামচ আদা
- ১ টেবিল চামচ রসুন
- ২ চা চামচ সয়াসস
- কয়েকটা কাঁচা মরিচ
- এক চিমটা গোল মরিচ
- ১ চা চামচ চিনি
- হাফ কাপ তেল
- লবণ পরিমাণ মত

উপরের মশলা পাতি দিয়ে চিকেন গুলো মিশিয়ে ফেলুন (লবণ সহ)। কড়াইতে তেল গরম করে মশলা মাখা চিকেন গুলো তেলে ভাঁজতে থাকুন।

চিকেন পিস গুলো নরম হয়ে গেলে তাতে পেঁয়াজ কাটা গুলো দিয়ে আবারো ভাল করে কষান। (এই পর্যায়ে সামান্য হাফ কাপ পানি দিন, ঝোল বানান)

তেল উঠে গেলে কিছুক্ষণ পর সবজি গুলো দিয়ে দিন।

ভাল করে মিক্স করুন। লক্ষ্য রাখবেন যাতে সবজি গুলো না ভেংগে যায়, উপরে নীচে করে…।

হাফ কাপ পানিতে এক চামচ কর্ন ফ্লাওয়ার গুলিয়ে সবজিতে দিয়ে দিন। (বাসায় না থাকলে নাই, এটা শুধু সবজির ঝোলকে গাঢ় করার জন্য)

ভাল করে মিশিয়ে মিনিট পনর জাল দিন। এই সময় ফাইনাল লবণ দেখুন, লাগলে দিন না লাগলে ওকে বলুন।

ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।

সাথে পোলাউ এবং চিকেন ভুনা রান্না হলে তো কথাই নেই।

আপনিই বলুন এই খাবার শিশুরা খাবে নাকি বুড়োরা খাবে? আসলে আমি নিশ্চিত ছেলেমেয়ে, যুবকযুবতী, বুড়োবুড়ি ও স্বামীস্ত্রী সবাই খাবে…।

কি এবার বলুন, আমার কথা সত্যি কি না! এমন সবজি না খেয়ে থাকা যায়? চিচিংগা যারা দুই চোখে দেখতে পারে না, তারা কি বুঝতে পারবে? আর স্বাদ, আমি আবারো নিশ্চিত, খেয়ে বলবে, ওয়াও!
একবার বানিয়ে দেখুন…।। বুঝতে পারবেন আপনার পরিবারের সবাই আপনাকে কি কি বলেন…………………! সবাইকে শুভেচ্ছা…।
কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন



Thanks to share.

ধন্যবাদ মেঘ রুদ্র ভায়া। শুভেচ্ছা।
দেখতে দারুন হয়েছে রাজীভাই শুভকামনা।
ধন্যবাদ বোন, আমিও শিখছি, রান্না শেখার শেষ নেই! মাঝে মাঝে মনে হয় এটা আইটি বা ডাক্তারী বিষয়, মরার আগের দিনও শিখতে হবে!
শুভেচ্ছা আপনাকে। একদিন রান্না করে দেখুন, খুশি হব।
ধন্যবাদ
শুভেচ্ছা আকাশ ভায়া।
এতো কষ্ট কইরা বানাইতে পারুম না

দাওয়াত দিবেন কিনা বলেন
মেটেও কষ্টের কিছু নাই। ঘরে সব আছে, শুধু লেগে পড়ুন।
ভাবীর পোয়াবাড়ো!!!!


হা হা হা…।
আরে না হে চারুমান্নান ভাই, আমি এখনো শিখছি, ছাত্র মাত্র!
আমার কপাল খারাপ!! এত রিসিপি থাকতে আপনার বাসায় কোনদিন ভোজন করতে পারলাম না
অভিনন্দন। ভালো লাগলো অত্যন্ত।
দোয়েল ভায়া, আমার ছেলের বিয়েতে দাওয়াত দিবো নে!
হা হা হা…। কেমন আছেন?
একেবারে জিবে জল।

আপনি শুধু রেসিপিতে নয়, রান্রায়ও Expert মনে হচ্ছে।
খুব ভালো লাগল।
রসনাবিলাস শুভেচ্ছা রইল।
ধন্যবাদ কামরুল ভায়া, আমি শিখছি মাত্র। হা, অনেক কিছু রান্না করতে পারি… আমার হাতের রান্না খেয়ে আমার ছেলে তারিফ করে। শুনে মনে আনন্দ লাগে…
দেখেই বলছি ওয়ায়ায়ায়াও..!!! খেয়ে কি বলবো খেয়ে বলতে হবে। একবার যদি দাওয়াত দিতেন…

দীপক ভায়া, হবে একদিন। কোপালে থাকলে ঠেকাবে কে!
দেখে তো খাইতে মঞ্চায় ….
ভালো লাগলো
ধন্যবাদ খেয়ালী মন ব্রাদার।
আপনার কমেন্টে ভাল লাগল।
আপনার লেখা নানা বৈিচেত্র ভরপুর। লেখাগুলো সচিত্র হওয়ায় আরও ভালো লাগে। লেখায় বিষয়বৈিচত্রগুণ একটা ভালো দিক। আপনি সেটা করতে পারেন অবলীলায়। এ লেখাটিও ভালো লেগে গেল। জিহ্বায় রস এসে গেল। অনেক ধন্যবাদ রইল আপনার জন্য। ভালো থাকবেন।
ধন্যবাদ বরকত ভায়া, আমার ব্লগে আসার জন্য আমি আনন্দিত।
আপনার জন্য শুভেচ্ছা।
খাইতে মন্চাইছে।
ধন্যবাদ।
আরে এ যে দেখছি আমাদের ফকির ভায়া।
ভাবীকে একবার দেখিয়ে দিন, তার পর আমি নিশ্চিত আপনার টেবিলে এসে যাবে…
চাইনিজ সবজি এমনিতে বেশ হয় খেতে। ধন্যবাদ সুন্দর রেসিপির জন্য।
ধন্যবাদ বোন। আমার রেসিপি ব্লগ ঘুরে আসবেন বলে আমি অপেক্ষা করছি।
http://udrajirannaghor.wordpress.com/
প্রচুর রেসিপি জমিয়ে ফেলেছি।
jhakkass..
I like vegatable. Because vegetable is not non vegatable. non vegatable (please don’t make another meaning of non veg ) is not vegatable. I like to eat this vegatable, i love to look this vegetable on the table.
হারবোলা ভাই, আজকাল আপনার ইংরেজি বাতিক দেখে হাসছি…। হা হা হা… আই লাভ টু টুক দিস ভেজিটেবল অন দ্যা টেবিল।
ব্লগিং মনে হয় নেশা হয়ে গেছে…। হা হা হা… আমিও মোবাইল থেকে ব্লগ দেখি কিন্তু কমেন্ট করতে পারি না… সারাদিন অনলাইন…
কষ্ট করে মন্তব্য করেছেন বলে আনন্দিত। ভাল থাকুন…।
কখন খাব
দুনিয়াতে খাবার ছাড়া আর কি আছে মানব ভাই!?
আপনার ‘রান্নাঘরে’ ঢুকে চিচিংগা যে আমার অপছন্দের একটা শব্জী তা জানিয়ে বড় একটা কমেন্ট লিখেছিলাম, কিন্তু কিছুতেই তা পোস্ট করতে পারিনি।
আহ, আই মিসড ইট!
আপনাকে একদিন চিচিংগা খাওয়াতেই হবে…।
কেমন আছেন?
আচ্ছা খাবো! অনুরোধে ঢেঁকি কে না গিলে থাকে?
কপালে খাওন নাই

আছে আছে। শশুর বাড়ীতে……।