বাঙ্গালীরা সুযোগ পেলেই গাছে চড়ে! কথাটা আমার কাছে মোটামুটি স্পষ্ট ছিল। এমন বাঙ্গালী পাওয়া কঠিন যে জীবনে গাছে চড়ে নাই (আমি অবশ্য এখনকার নূতন জেনারেশনের কথা বলছি না, যারা একদম শহুরে হয়ে গেছে!) আমাদের বাবা, চাচা, খালু, ফুফারা কি করেছিল তা না জানতে পারলেও আমার মা, চাচী, ফুফু, খালাদের কাছে শুনেছি এক একজন কেমন গাছে ছড়েছিলেন।
সাত ভাই তিন বোনের সবার ছোট আমার মা! আমার মায়ের মুখের কথা, তিনি নাকি বেশ গাছ বাইতে পারতেন! তিনি তার ভাবীদের গাছের নীচে দাঁড় করিয়ে নানা/নানীর চোখ ফাঁকি দিতেন! গাছে চড়ে আগে তার নিজের খাওয়া শেষ হলে তবেই ভাবীদের দিতেন! ভাবীদের টেনশনে রেখে অনেক মজা পেতেন! এদিকে ভাবীরাও কি কম! ‘ওরে আব্বা আসছে’ বলে দে ছুট! গাছ থেকে লাফ দিয়ে পড়ে আমার মা ব্যাথা পেয়েছেন বেশ কয়েকবার। আমার মায়ের ফেবারেট গাছে চড়া ছিল উনাদের বাড়ীর তেঁতুল গাছ এবং গাব গাছ। গাছে চড়ে লবণ দিয়ে তেঁতুল খেয়ে ভাবীদের দেখাতে নাকি তিনি খুব আনন্দ পেতেন! গাব গাছে বসে পাকা গাব! ভাবতেই মুখে জল!
আমি নিজেও গাছ বাইতে পারি। আম, জাম, কাঁঠাল গাছে উঠেছি বহুবার। ফল ফলাদি গাছে উঠার অবশ্য একটা আলাদা আনন্দ আছে! আর গাছে বসে গাছের ফল খাবার আনন্দতো ভাষায় প্রকাশের নয়! আহ……। পায়ে দড়ি লাগিয়ে, জীবনে কয়েকবার নারিকেল গাছে উঠেছি। একবার নারিকেল গাছে উঠে দড়ি নীচে পড়ে যায়, নামতে গিয়ে বুকের অবস্থা কারবালা হয়ে গিয়েছিল!
যাক আমি মনে করি, বাঙ্গালী গাছে চড়তে ভালবাসে। কিছুদিন আগে পহেলা বৈশাখে রমনা পার্কের মধ্যে দিয়ে হেঁটে আসছিলাম। লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠছিল রমনা পার্ক! অনেকেই মনের আনন্দে গাছে উঠেছিল! অনেক দিন পর, বাঙ্গালীর গাছে চড়া দেখলাম। ভাল লাগল। কয়েকটা নমুনা পেশ করছি! আজকাল বেশী লেখা বা কথা বাঙ্গালী পড়ে বা শুনে না, কিন্তু ছবি দেখতে পছন্দ করে সবাই!

ছবি ১

ছবি ২

ছবি ৩

ছবি ৪

বলতে গেলে আমরা মানুষ গাছের উপর চরম নির্ভরশীল। গাছের ছায়ার মূল্যও কিন্তু কম নয়!



আপনার গাছ উঠার ছবি কই?
সেই বয়স কি আর আছে! এখন শুধু দেখি! এখন সময় আপনাদের! আমরা ফুরিয়ে গেছি! তা মেরিকায় কি গাছে চড়া যায়! নাকি গাছে উঠলে পুলিশ ধরে জরিমানা করে দেয়!

যায় না মনে হয়। আচ্ছা একদিন উঠে দেখব। পুলিশ ধরলে বলে দেব আপনি বলেছেন
হা হা হা…।
বাংলাদেশের মদন পুলিশ না তারা! কথাটা মনে থাকে যেন! যা কিছু করেন, লুকায়া, চাপায়া! বড় ভাইরা আছি পিছনে!
তাইত, আপনার ছবি না দেখলে কিভাবে বিশ্বাস করবো আপনি গাছে উঠতে পারেন
ও যে দেখেন, কি কারবার! সব অবিবাহিতরা এসে গেছে! আরে বিবাহ যখন করেছি, গাছে তো উঠেই পড়েছি! এখন খালি মই খুঁজি!
বিবাহ করলে গাছে উঠতে হয় নাকি

সাইক্লোন ভায়া,
ভাবনা ভাল ঠেকছে না! হা হা হা…
বিবাহ আর গাছে চড়া মোটামুটি এক ধরনের! যোগ সূত্র আছে বটে!
বিবাহ আর গাছে চড়া মোটামুটি এক ধরনের! বাহ! আরও একটা জরিপের বিষয় পাওয়া গেল
রাজিন ভায়া, মিলটা কিন্তু ভার্চুয়ালী! হা হা হা…
দারুণ অভিজ্ঞতা দুটোই! না গাছে উঠলে কিংবা না বিবাহ করলে…।। বুঝা যায় না!
আমিও গাছে চড়তে পারি…হিহিহি…
অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাছি। শেমুশি ব্রাদার না সিস্টার! আপনাকে দেখে মনে আনন্দ লাগল। আসেন এই দিকে আসেন! অবিবাহিতদের সাথে যাবেন না! আমাদের দলে থাকেন!
হুমম গাছে চড়ার আনন্দই আলাদা রকমের মজা। তবে আমাদের মতন মানূষদের জন্য ছোট খাটো পেয়ারা গাছেরই সর্বোচ্চ দৌড় উঠার ক্ষেত্রে
ছবি ৩ এবং ৪ বেশ ভালো লেগেছে। কাঠাল গাছে কচি কাঠাল এর ছোয়া পেতে ইচ্ছে করে।
খুব বেশি গ্রামীন পরিবেশে যদিও বড় হয়ে উঠিনি। তবুও যতটুকু পেরেছি গ্রামীন পরিবেশের সংস্পর্শে আসলেই তা থেকে সর্বোচ্চটুকু গ্রহন করার চেষ্টা করেছি সবসময়।
সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল বুড়িগঙ্গার পাড় হওয়ার চেষ্টা সাতার না জানা একটি ছেলের শুধুমাত্র গাড়ির বড় টায়ার আর বন্ধুর সহযোগিতা দ্বারা
মাঝে মাঝে তা মনে পড়লে হাসিও পায় আবার ভাবি কতটা ঝুকি ছিল সে সময়টা। এর নামই কৈশোর এর উচ্ছলতা।
বিষয় নির্বাচন ভালো লেগেছে আপনার পোষ্টটির
( নষ্টালজিক স্মৃতিকাতরতায় কিছু কথা বার্তা বলে ফেললাম এই মর্মে একখান ইমো হবে)

ভালবাসা ভাই, আপনার মত আমাদেরও জীবন! কিন্তু আমাদের পিতা আমাদের ডিসেম্বর মাসে বাড়ীতে দিয়ে আসতেন! যাতে আমরা সব পরিবেশ জানতে পারি। আমার পিতা গ্রাম ভালবাসতেন তাই তিনি মারা যাবার পর তাকে গ্রামের বাড়ীতে কবর দিতে বলে যান। এখন তার কবন আমাদের গ্রামে। তাই আমার গ্রামের সাথে একটা ভাল যোগাযোগ গড়ে উঠে। আমি নিজে গ্রামে বাড়ী করে ফেলেছি। ছেলেটা বড় হয়ে উঠলে এবং আমি বৃদ্ব হলে গ্রামে যেয়েই থাকব। আমাদের গ্রামের বাড়ী বেশ সুন্দর।
আপনার মন্তব্যে এই পোষ্ট ধন্য হল।
সাঁতার না জানলে দয়া করে নৌকাতে উঠবেন না। জীবন যাবে! ছেলেকে অবশ্যই সাঁতার শিখাবেন। আমার ছেলেকে আমি গ্রামে নিয়ে যাই এবং সাঁতার শিখাই। এখন কিছুটা পারে।
একটা দুঃখের ঘটনা বলি, কয়েক মাসে আগের শুনা। আমাদের এক বন্ধুর ছোট ভাই বিবাহ করেছিল নদীর ওইপারে জিঞ্জিরায়। বেচারা সাঁতার জানত না কিন্তু প্রায়ই নদী পার হয়ে ছোট নৌকায় শশুর বাড়ী যেত। এক রাতে নদী পার হতে গিয়ে নৌকা ডুবে যায়। চার দিন পর তার লাশ পাওয়া যায়…।।
তবে এই ঘটনা আমার বন্ধুর পরিবার মানতে পারছে না। এখনো তারা বলে শশুর বাড়ীর লোকেরা জানত সে সাঁতার পারত না তাই কৌশলে তাকে নাকি দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে!
কোনটা ঠিক কে জানে? তবে সাঁতার জানলে এমন হত না!
নৌকায় তোলা আপনার ছবি বেশ রোমান্টিক লাগছে! ভালবাসা বটে।
আসলেই মজার ব্যপার মনে হয় গাছে চড়া।
গাছে চড়ার মজাই আলাদা!
আজকাল কার জেনারেশন আপনারা! আপনাদের জন্য দুঃখ লাগে! জীবনে কিছুই করলেন না!
ব্লগ বাংলা সিনেপ্লেক্স
ভালবাসা ভাই, ফেইসবুকে যেতে পারি না। অফিস ব্লক করে রেখেছে। আগামী কাল বিকালে দেখে আসব…।
আমি নিজেও গাছ বাইতে পারি। আম, জাম, কাঁঠাল গাছে উঠেছি বহুবার। …ডাহা মিথ্যা কথা , সবার সাথে আমিও প্রমান চাই যে, আপনি গাছে উঠতে পারেন …
টিপু ভায়া, গাছে উঠা কঠিন কাজ এটা আমি মানি। এখন মোটা হয়ে যাওয়াতে আর চেষ্টাই করব না কোনদিন! তবে অবিবাহিত আপনাদের চাপাচাপিটা বেশ লাগল!
প্রমান ছাড়া বিশ্বাস করে বিবাহিত রা!! আপনিও দেখি অবিবাহিতদের দলে! হা হা হা…
প্রমান ছাড়া তো বিশ্বাস করতেই হবে বিবাহিতদের …… না হলে তো
এই গাছে উইঠেন খুউউউউউউউব ভাল লাগবে!!! বিখ্যাত রাঙ্গা অশোক ফুল। আমরা চঞ্চল, আমরা……………………রাঙ্গা অশোক বনে……………………।
অনেকদিন পর আপনাকে দেখে ভাল লাগল। আমি গাছে একা উঠবো না, আপনাকে নিয়েই উঠবো!
তা মনে তো ভাল রং দেখছি দাদা!
কি বলেন সাহাদাত ভাই , কয় দিন পর ছেলে বিয়ে করাব আর আপনি বলছেন অবিবাহিত ?
আসেন কোলাকুলি করি! গাছের নীচে……
ফুল চিঁড়া নিষেধ। ফুল গাছেই ভাল লাগে…।
শুভেচ্ছা।
ফুল ছিঁড়তে তো গাছে উঠতে হয় না
শিবলী গাছে চড়তে হয় না কিন্তু ডালটা ছিড়তে হয়। ডাল ছিড়লে গাছ যে কতো কষ্ট পায় তা জানেন। (সামিয়া আগে খুব গাছের পাতা ছিড়তো আমি একদিন ওর গায়ে নখ দিয়ে আচড় দিলাম ও সাথে সাথে ওহ ব্যাথা পাইতো বলে চিৎকার করে উঠল, তখন ওকে বললাম তোমার যেমন ব্যাথা লাগে গাছের পাতা ছিড়লে গাছেরও তেমন ব্যাথা লাগে, এর পর থেকে সামিয়া আর গাছের পাতা বা ফুল কোনটাই ছিড়ে না।) আপনারে মনে হয় তেমন কইরা বুঝাইতে হইব।
এখন গাছে উঠনের সাহস পাই না। মনে হয় – এই বুঝি ডাল ভাইঙ্গা পড়ে!
হা, কথা ঠিক…। ওয়েট না বয়স! কোনটা?
ছোট বেলায় গাছে চরেছিলাম, তারপর ধপাস এবং ফলাফল…… মাথা ফেটে রক্তপাত…
গাছে চড়ার আনন্দ আসলেই আলাদা। আমি পারলে এখনো গাছে উঠার চেষ্টা করি। বেশ মজা লাগে কিন্তু গাছে উঠতে পারলে।
গাছে চড়ার মজাই আলাদা!