সোহেল মোস্তাফিজ এর লেখা ট্যাগের সব লেখা
দূর হতে হাতছানি দিয়ে ডাকছে আগন্তুক আত্মারা
আমাদের জন্য একটু খানি সোনার বাংলা রেখ
আর এপাশে চলছে কত ধ্বংসলীলা কত হিংস্রতা
চলছে ক্ষমতার দণ্ডে বিভোর মানুষের অনিষ্টতা
চলছে গুলা বারুদ আর জ্বালাও পুড়াও নিভাও
আরও চলছে সভ্যতা নির্মূল কর্মসূচী
টকশোতে কত কথার খই ফুটে ফুটে শব্দ বোমা
খবরে খবরে
বাবার রক্তে লাল পাঞ্জাবিটা
তুলে রেখেছি আজো
বোনের ফাঁসি দেওয়ার কাপড়খানা
ভাঁজ করিনি ভাঁজও,
বিজয়ের সাজে হেসেছে সবাই
হাসিনি মায়ের মুখ
মায়ের আঙিনায় বাস করছে
নষ্ট কীট আর জোঁক।
হাসি ফুটাও মায়ের মুখে সব দলবল ভুলে
বাবার রক্তের স্রোত যেন যায়না বিফলে
হাসি ফুটাও মায়ের মুখে হাতে মশাল তুলে
বোনের নিরব আত্মহুতি যেন যায়না
জন্মের পর থেকেই জীর্ণশীর্ণ যুবক
দরিদ্রতার চরম কষাঘাতে নাজেহাল
পায়না খুঁজে সামনে চলার পথ
দিনে দিনে হয়ে পরে একেবারে জরাজীর্ণ
কত অত্যাচারের বলি হয় প্রতিনিয়ত
শরীরের হাড় ছাড়া বলার মত কিছুই নেই।
তার পরও দেহের প্রত্যেকটি অঙ্গ স্বপ্ন দেখে
স্বপ্ন দেখে একদিন ফিরে আসবে তারুণ্য
দেহে শক্তি সঞ্চিত হবে ফিরে আসবে
মা মনে আছে তুমি বলেছিলে,
ওরা একদিন মানুষের মত মানুষ হবে।
আমি যখন রাগ করে বলাতাম,
তবে এখনই মানুষ হয় না কেন, আর কবে।
তুমি কত সুন্দর করে বুঝ দিয়েছিলে আমায়,
বললে ওরা তো এখন স্বাধীন নয় পরাধীন,
ওরা একটা স্বাধীন দেশ পেলে ঠিক হয়ে যাবে।
তোমার এ কথা শুনে নিঃস্বার্থ
তোমার আমার মাঝে শক্ত প্রেমের বন্ধন ছিল
ছিল সুষ্পষ্টভাবে দুটি মনে ভাবের লেনাদেনা,
বেঁধেছিলাম ভালবাসার ঘরটি কে যত্ন করে
মজবুত করে সাজিয়েছিলাম প্রতিটি সীমানা,
এমন শক্ত ঘরটা যে কোন এক বৈশাখী ঝড়ে
উড়ে যাবে নিজে না দেখলে বিশ্বাস হত না।
তুমি ছিলে আমার দিনের সূর্য রাতের চাঁদ
অস্ত
আমি রোজ রাতে স্বপ্ন দুয়ারে দাড়িয়ে
তোমাকে একবার দেখব বলে
তুমি নিতে আসবে দুটি হাত বাড়িয়ে।
আমাকে কাছে টেনে করবে আলিঙ্গন
যত দুঃখ আছে মনের ভিতর
সব ধোয়ে নতুন করে সাজাবে মন।
পাশাপাশি বসে বলবে না বলা কথা
একটু হাসি একটু অভিমান
কিংবা থাকবে গভীর কোন নিরবতা।
তোমাকে দেব আমার প্রেমের সব চিঠি
তোমাকে
তোমার এ চলে যাওয়া আমি মানতে পারিনা
কিছু বলা নেই কওয়া নেই চলে গেলে,
গাছের পাতারা যেমন করে নিঃশব্দে ঝড়ে
তেমনি করে তুমি আমার জীবন থেকে
চলে গেলে কোথায় আমি কিছুই জানিনা
যাওয়ার আগে আমার কি ক্ষতিটা না করলে,
আমার জীবনের সব সুখ হাসি
সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটি
কি সুন্দর তার দুটি চোখ তার চাহনি
যেন চোখের ভাষাটা মায়া ভরা,
তবুও ইচ্ছা করে চোখ দুটি উপড়ে ফেলি
আমাকে পাষাণ! না আমি পাষাণ না
এই চোখ থাকলে তা দিয়ে দেখবে
অত্যাচারীদের অত্যাচার বঞ্চনা নিষ্ঠুরতা
হয়তবা সহ্য করতে পারবে না।
মুখে একটু হাসি একটু কান্না
কি যেন বলতে
এক বিন্দু রক্ত অতঃপর মাংস পিণ্ড
স্থান করল রাজমহলের ভিতরে,
চতুর্দিকে নিরাপত্তার বেষ্টিত কুণ্ড
পূর্ণরূপ নিয়ে বেড়ে উঠা ধীরে ধীরে।
স্থিতি বদলে রক্ষককে প্রহার করে
অমানুষিকতা কষ্ট যন্ত্রণা প্রচণ্ড,
সব সহ্য করে মায়ায় আগলে ধরে
বিলিয়ে দিয়ে যায় আদর খণ্ড খণ্ড।
কষ্ট দেখে আমার অন্তর জ্বলে তার
আমার জন্য রাত্রি জাগা চিন্তা ভাবনা,
মরতে
কষ্ট করিস নারে কষ্ট করে কি হবে
বাস্তবতায় ভর করছে কালো শক্তি
সব নষ্টের দখলে, শক্তির প্রভাবে
অন্তরে কালিমা নিয়ে করে সাধু উক্তি।
তবুও মাথা নিচু, করি তাদের ভক্তি
এই পশুদের জন্য শান্তি নাই ভবে
মিথ্যা জয়গান, সত্যের মিলেনা মুক্তি
একে একে সমাজটাকে চিবিয়ে খাবে।
কষ্ট করে কি আর হবে হও বিদ্রোহী
রক্ত
তোমাকে বলছি,
তুমি আমায় ছেড়ে চলে গেছ
অবশেষে মনের ভয়টা কেটে গেছে
কি ভয় মানে ?
তোমাকে হারানোর ভয়।
বন্ধুরা সব বলত, সত্য প্রেম করিস না
সত্য প্রেম বর্তমানে আর নাই
সত্য প্রেম করলে খুব কষ্ট পাবি
আর যারা প্রেম ভাঙ্গার কষ্ট পেয়েছে
তারা বলত একদিন দেখবি ভিড়বি আমাদের দলে।
শোন কি বলছি,
তখন আমি
শত কোলাহল হৈহুল্লোড় আমায় চারদিকে ঘিরে
মন ভাল লাগে না কিছু শুধু তোমাকে খুঁজে ফিরে,
চোখের স্বপ্ন গুলো বিবর্ণ সদা আন্দোলিত হয় মন
আমায় যন্ত্রনা দেয় সারাবেলা স্মৃতির বিচ্ছুরণ।
আমার আকাশ কালো মেঘে ঢাকা বিষম অন্ধকার
সবাই শুধু সঙ্গী হয় আনন্দের সঙ্গী হয়না ব্যথার,
সদ্য জন্ম নেওয়া একটি শিশু কাঁদছে
কি দেখে ?
হয়তবা নোংরা এই হেলে পরা কুঁড়ে ঘর,
কোন জানালা নেই, দরজা একটা
উপরে ছনের ছাউনি, মাটির দেয়াল
বলার মত আসবাবপত্র নাই ঘরের ভিতর।
শিশুটির কান্না আরুও বেড়ে গেল
কেন কি হল ?
হয়ত মায়ের পরনে জীর্ণশীর্ণ কাপড় দেখে,
দেখে নিজের শরীরের এই রোগাক্রান্ত অবস্থা
আর
যে সময় কাটত লেখাপড়া খেলায়
মনের ভিতর উল্লাস আনন্দ ফুর্তি,
সে সময়টা যাচ্ছে কত অবহেলায়
কত যে দুর্ভোগ আর দুর্গতিতে ভর্তি।
সদা হৃদয় কাঁদে বুঝে না কেউ আর্তি
শৈশবটা খেয়ে ফেলল কাল ছায়ায়,
নিভিয়ে দিল মনের শত আশা বর্তি
থাকতে পারিনি মা বাবার মায়ায়।
দরিদ্রতার
যুগে যুগে বাঙ্গালী কত অবহেলিত
হয়েছে অবজ্ঞা দুঃশাসনের শিকার
স্বাভাবিক জীবন মান হত ব্যাহত,
ইংরেজ শাসনের দুইশত বছর,
হল যে কত অমানবিক অত্যাচার।
পাকিস্তানের নিপীড়নে হৃদয় ক্ষত,
দুর্ভোগ দুর্গতি ছিল হাজার হাজার
সব সহ্য করিছি করিনি মাথা নত।
আজ স্বাধীন আমরা কাগজে কলমে
স্বাধীনের স্বাদ পাই নি বাস্তবতায়,
ঘরে রাস্তায় কিংবা চলাফেরা কথায়
সব চলছে