সুমনের কবিতা ট্যাগের সব লেখা
তুমিতো কিছুই নিলেনা-
পদ্মকোষ, কবিতামঞ্জরী কিছুই নয়।
শুধু সন্ধ্যে নামার আগে খুলে দিলে
লতানো চুলের ঢেউ।
দুপুরের রোদের থেকে বাঁচিয়ে রাখা
সঙ্গোপন সারসযুগল
দ্বিধাহীন দল মেলে দিলো বিকেলের স্রোতে।
অকষ্মাৎ কী জানি কী বলে গেলো
আঙ্গুলের চাঁপাকলিরা তোমার;
ঝুরঝুর মেঘ নেমে এলো কোলের কাছে।
আজকের এই সীমানাবিহীন সন্ধ্যেবেলায়
কিছুই নিলেনা তুমি।
আঁচেপোড়া
কবিতা
|
সুমনের কবিতা
|
|
| ৫২ শব্দ
এ বছর বৈশাখে যদি তোমার শহরে যাই
মুঠোভরে নিয়ে যাবো বসন্তের জমানো পরাগ।
রোদেপোড়া রাজপথে বিছিয়ে দিয়ে আসবো
আমাদের প্রণয়ের মতন সজীব দূর্বাঘাস।
দাপুটে ঝড়ের জৈষ্ঠ্য মাসটা তুমি মনে হয়
বাইরে কাটাবে। দূরের কোনো শান্ত শহরে।
যদিও সারাটি বছর এই পাহাড়ি নদীর কাছে
পাথুরে সিঁড়ি
কবিতা
|
সুমনের কবিতা
|
|
| ১০৩ শব্দ
হঠাৎ একদিন তুমি বললে ‘হও’
অমনি টুপ করে পায়রা হয়ে গেলাম আমি।
তোমার উর্বশী হাতের তালু থেকে
খুঁটে খেতে লাগলাম সুবর্ণরঙ শস্যদানা।
এক অলৌকিক ক্ষমতাবলে রচিত হলো
আমাদের এক লক্ষ রাতের প্রেমার্ত ঘুম।
তারপর কতইনা উড়িয়েছো তুমি আমাকে
পার্কে, সমুদ্রতীরে, মায়াবনের আঁচল ছুঁয়ে
বিকেলের অবসন্ন রোদ কেটে কেটে
উড়ে গেছে তোমার
কবিতা
|
সুমনের কবিতা
|
|
| ৭৭ শব্দ
মাত্র এক পেয়ালা শরাবের বিনিময়ে লোকটা
চোখ বুঁজে তিন ক্রোশ ফলন্ত জমি লিখে দিতো।
একটি শায়েরীর জন্যে শায়েরের পায়ের কাছে
অনায়াসে ছুঁড়ে দিতো তামাম গুলিস্তাঁ।
এ এক এমনই বেহেড মাতাল, কী করে বোঝাই।
একবার হয়েছে কী শুনুন, ভরা মজলিসের সাঁঝে
শেহেরজাদীর গুলাবী ঠোঁটের তা’রিফে
লোকটা আজাদী লিখে দিলো একশ’
কবিতা
|
সুমনের কবিতা
|
|
| ৭৬ শব্দ
আকাশটাকে একলা পেয়েই লুফে নিলাম অবলীলায়
তারপর ফালি ফালি করে কেটেছি প্রশ্রয়ের মেঘ।
আমার একটা নৌকো বানাবার ভীষন দরকার ছিলো।
ওটা হয়ে গেছে। এক ভোরে নৌকোটা ঝুলিয়ে দিলাম
আধভাঙ্গা শেলফের তৃতীয় তাকে। কাজ শুরু হলো।
আমার শর্তহীন পায়রাগুলো রুদ্ধশ্বাস উড়ে বেড়ালো
পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে;
কবিতা
|
সুমনের কবিতা
|
|
| ৭২ শব্দ
তুমি বললেই উত্তর আর দক্ষিণ
দুই মেরু রেখে দেবো পাশাপাশি।
শেষরাতের দ্বিতীয় ক্লান্তির কিনারায়
আড়াআড়ি এঁকে দেবো বরফ এবং রোদ।
মেঘভর্তি জল ফেলে অঘোর শ্রাবণেও
ঠোঁটে তুলে নেবো গনগনে সূর্য।
তুমি ইশারা দিলেই
প্রেমসংক্রান্ত যাবতীয় ইচ্ছেগুলোর মুখে
ছিপি এঁটে ফেলে দেবো কপোতাক্ষের জলে।
অথচ তুমি বলছোনা কিছুই।
দীর্ঘ শীত
কবিতা
|
সুমনের কবিতা
|
|
| ৬৭ শব্দ
আমি লিখতে বসলে
তুমি আর ওভাবে পেছনে এসে দাঁড়িয়োনা।
নিঃসঙ্গ পিঠের ওপর
ছড়িয়ে দিওনা সান্নিধ্যের কাঙ্ক্ষিত মায়ারোদ।
এই আঁচটুকু পেলেই
ইচ্ছে হয় খাতা ফেলে দিয়ে ক্যানভাস খুঁজি।
তোমার পাঁপড়ির গায়ে
সন্তর্পন আঁচড়ে এঁকে দেই গোলাপের লাল।
দুপুরের নির্জন ঘরের
ওপাশে থরেথরে ফুটে আছে বিলাসী বাগান।
চোখ না তুলেই
টের পাই চন্দনসুগন্ধী বুকের
কবিতা
|
সুমনের কবিতা
|
|
| ৬৩ শব্দ
শেষমেষ পূর্ণিমার আলোতেও
যুবকের মালাবদল হলো আঁধারকন্যার সাথে।
ওদিকে খোঁপার বেলী খসে পড়লো
বাসর ঘরের মোমবালিশের কিনারায়;
এদিকে শেরওয়ানীর ভেতর জমে উঠলো মেঘ।
রাত বুঝি শুধুই প্রণয়ের! তা তো নয়
হিমকুয়াশা এসে পেগের উচ্চতা মেপে যায়।
টুংটাং গ্লাসে লাগাতার বিরহ ঢালে কেউ
বেলী কখনো বালিশের হাহাকার শোনেনা।
আজকের জোছনাতাড়িত অন্ধকার শুধু জানে
বিচ্ছেদ বলে
কবিতা
|
সুমনের কবিতা
|
|
| ৬২ শব্দ
ওভাবেই চোখ বুঁজে থাকো
পাঁপড়ির ভাঁজে বেঁধে রাখো মৌনগল্পের ঝাঁপি।
গালের যুগলতিলের পাশে মগ্ন সানাই হয়ে
বেজে উঠুক কবিতাপ্রহর।
তোমার উপমায় লেখা যেতো দীঘল নদী
লেখা যেতো ভোরের সুবর্ণরঙ।
জানি এইসব বিশুদ্ধ আবেগের নাম দিতে নেই
বিষ্ময়ভরা শিলালিপির মতন এরা অযোগ্যপাঠ।
পৌষরাতের চিবুক ছুঁয়ে ছুঁয়ে আজকাল
নিঝুম ঘুমের মাঝেও জেগে
কবিতা
|
সুমনের কবিতা
|
|
| ৬৩ শব্দ
একদিন অঘোর শ্রাবণের রাতে
তোমার উঠোনে গিয়ে দাঁড়াবো।
অনেক চেয়েও না-পাওয়া স্পর্শের দাবিতে
বেজে উঠবে শীতার্ত সানাই।
একদিন পৃথিবীর দেয়ালে দেয়ালে
আঁকবো তোমার চোখের ছায়া, চুলের ঘ্রাণ।
দরোজার ওপাশে তোমার নিঃশ্বাসের মৌতাত;
এপাশে অথৈ অন্ধকারের ভিজে ভিজে
একদিন মারদাঙ্গা প্রেমিক হয়ে যাবো।
কবিতা
|
সুমনের কবিতা
|
|
| ৪১ শব্দ
আমি বললাম, এটা ভূগোল; তুমি বললে, ‘না, এটা জ্যামিতি’
আমার মনে হলো এটা শিল্পকলা; তুমি বললে ‘এটা গণিত’
আমি তখন আঙ্গুলে পাহাড় আঁকলাম
একটান নীচে এসে আঁকলাম ঢেউ, ঢেউয়ের দু’পাশে ঢাল।
আঁকতে আঁকতে পুরো পৃথিবীটাই এঁকে দেখালাম
তুমি হার মানবে বলে সবে মুখ খুলেছো
তখন আমি নিজের ভুলে
কবিতা
|
সুমনের কবিতা
|
|
| ৫৮ শব্দ
গন্তব্য ভুলে শুঁড়িখানায় শুয়ে আছি,
কিছুই মনে করতে পারছিনা আর।
না ঘর, না বাহির, না সূচনা না শেষ।
জুতোর তলায় মাখা বিরান গোলাপের ভূমি।
যে নগর পেরিয়ে এখানে এলাম
ওরা কি তবে ছিলো গোলাপের কারবারী?
ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলেছে কি ওরা
এনা হার্কনেসের প্রসিদ্ধ সৌরভ ও পরিচয়?
কেউ কি আছো এই ঝিমধরা পানশালায়?
আমার বাম
কবিতা
|
সুমনের কবিতা
|
|
| ৭৪ শব্দ
দু’টো বালিশ;
জানালার কাচ গলে আসা রোদে
সুখী মানুষের দু’টি ছায়া।
ছেলেটির ডাকাতিয়া বুকে খেলা করে দ্বাদশীর চাঁদ;
তারপর প্রজাপতি প্রজাপতি ওড়াউড়ি ঘোরাঘুরি।
মেয়েটির ঘুম লেগে থাকে ছেলেটির বুকে।
রিনঝিন হাসে ওরা, সুখে সুখে মরে যায়,
বেঁচে ওঠে অনন্ত অসুখে।
মেয়েটির পিঠে লেগে থাকে শরতের ওম।
ঠোঁটে ঠোঁটে কথা বলে
কবিতা
|
সুমনের কবিতা
|
|
| ৭৪ শব্দ
ইদানিং তৃষ্ণা মেটাবার জন্যে আমাকে
কোনো জলপ্রপাতের কাছে হাত পাততে হয়না।
নিজের কাছেই আমি সঞ্চিত লাভার এক
উত্তাল আগ্নেয়গিরি।
আঁজলা ভরে পান করি আকন্ঠ আগুন।
আর কোনো জীবনোন্মুখ মানুষের শুভকামনা নয়।
রোদে পুড়ে ক্লান্ত হোক সমস্ত ক্যামেলিয়া। ক্ষতি নেই।
সলতের শেষ শিখাটির হাত ধরে
কবিতা
|
সুমনের কবিতা
|
|
| ৭০ শব্দ
এমন একজনকে দরকার, যাকে
শুকিয়ে যাওয়া কদম ফুলটির গল্প বলা যাবে।
বানভাসি নক্ষত্রপুঞ্জের নীচে
প্রিয়তম জোনাকির আলোয় লেখা
ব্যাকরণহীন চিঠিখানি পড়ে শোনালে
যার চোখেমুখে জেগে উঠবে অসংখ্য স্নিগ্ধ দুপুর।
তৃষ্ণা আর পতঙ্গের পরও কিছু কথা থেকে যায়,
যে কথা দোলনচাঁপার এবং বটবৃক্ষের।
এসব কথা