চারু মান্নানের ছড়া ট্যাগের সব লেখা
বিল ঝিলে সোনা রোদ
আশ্বিনে যেন শিন শিন
শিউলি ঝরা ভোর,
সবুজ ঘাসে শিশির ফোটা
মনের খুলে দোর।।
সাদা মেঘের মুখটি ভার
বৃষ্টি এল ঝেঁপে,
আকাশ জুড়ে মেঘের ঝাঁক
রোদ উঠছে মেপে।।
বিল ঝিলে সোনা রোদ
ঝিকি মিকি খেলে,
শঙ্খ চিল দূর আকাশে
স্বপ্ন ডানা মেলে।।
মেঘের সাথে ভাসছে ঐ
সাদা সুতায় ঘুড়ি,
নাটাই হাতে ভুতু সোনা
সাগর দিবে পাড়ি।।
1419@8
শ্রাবণ বাদলে
ঝুমা ঝম বৃষ্টি
শ্রাবণ বাদলে,
পুব আকাশে রংধনু
উঠেছে হরষে।।
উঠানে ঐ কাকটা
জবুথবু ভেজে,
লেজ উঁচিয়ে বিড়ালটা
মিউমিউ ডাকে।।
ঝরঝর বৃষ্টির গান
ভুতুসোনা শোনে,
আন মনে গুনগুন
জলরং এ আঁকে।।
১৪১৯@৪ শ্রাবণ, বর্ষাকাল।
বৃষ্টি এল ভর দুপুরে
বৃষ্টি এল ভর দুপুরে, রোদের গা মাখছে হেসে
ভুতু সোনা রেইন কোটে, ভিজে ভিজে বাড়ী ফিরে।।
শ্রমিকের গা ঘামে ভেজা, রোদ বৃষ্টিতে বার মাস
খানিক বৃষ্টি দেয় স্বস্থি, এই আষাঢ়ে ভাসে নাও।।
ভেজা কাক বৃষ্টির গা, পাখা ঝাড়ে গাছের ডালে
চড়ুই ঝাঁক রোদে পুড়ে, ছেঁড়া
জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ দিনে
রোদে পুড়ে গ্রীষ্ম জ্বলে,
মাটি ফেটে খা
ডোবা নালার বুক ফাটা
কাকের ঠোঁট হা !!
শ্রমিক ঘামে শহর গঞ্জে
কৃষক পুড়ে ক্ষেতে
ভর দুপুরে মেঘের বৃষ্টি
গাভী ভিজে মাঠে!!
রংধনু ঐ পুব আকাশে
মেঘর জলে ভাসে
জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ দিনে
রোদ কান্নায় হাসে!!
1419@31 জ্যৈষ্ঠ, গ্রীষ্মকাল
মধুমাসে মধুফল
মেঘ উড়ে যায়
ঐ দিগন্তে, রৌদ্র উঠে তেজে।
মধুমাসে মধুফল
এমন জ্যৈষ্ঠ মাসে।
মধুমাসে মধুফল, পাকে গাছে গাছে!
কামরাঙা করমচা, সবুজ পাতার ফাঁকে!
গাছের গায়ে
লটকন ঝোপা, লিচু ডালে ঝুলে।
কাঁঠাল গাছে
কাঁঠাল ঝুলে, সবুজ টিঁয়া উড়ে।
1419@8 জ্যৈষ্ঠ,গ্রীষ্মকাল
মাঘের শীতে বাঘ কান্দে
মাঘের শীতে
বাঘ কান্দে, শুনছি বহু দিন।
উজার বনে
বাঘ নাই, মানুষ কান্দার দিন।
মাঘের শীতে
ঠোঁট কাঁপে, কাঁপে হাড্ডিসার বন।
হিম শীতল
কুয়াশার কাঁপন, বাজায় শীতের বীন।
১৪১৮@২ মাঘ,শীতকাল।
নতুন বছর
নতুন বছর, নতুন ক্লাস
নতুন জামা গায়ে,
ভুতু সোনা, স্কুলে যায়
মা মনিটার সাথে।
নতুন বই, নতুন ব্যাগ
নতুন মজা জুতা!
নতুন ক্লাসে, উঠেছে তাই
মনটা বেজায় খাসা।
১৪১৮@২৪ পৌষ,শীতকাল
ভুতু সোনার জন্মদিনে
ভুতু সোনার জন্মদিনে
মেরী খৃস্ট মাস,
হই হল্লা কেক কেটে
গেল দিন মান।
ফোটো সেসন কেক কাটা
গিবট বঙ্ক দেখে,
ভুতু সোনার একি খুশি
যেন পরির দেশে।
ক্লাস ফ্রেন্ড চাচা ভাইয়া
রনন সোনা মনি,
সেল ফোনে উইস ফুপুর
বেঁচে থাকো মামুনি।
১৪১৮@১২ পৌষ,শীতকাল
ডিজিটাল দেশে
শীতের ভাইরাস,
ডিজিটাল দেশে
ডিজিটাল চাদর, ছুযেটারে
এন্টি উম, ছড়াছে বেশ।
এন্টি ভাইরাসে,
কম্পিউটার চলে
এন্টি উম বিনে, ডিজিটাল দেশে
শিশুরা মরে, পথে ঘাটে।
ভুতু সোনার,
ডেস্ক টপে
কুয়াশা আকাশ, ছবি আঁকে
পৌষের শীত,বসেছে জেঁকে।
১৪১৮@৪ পৌষ, শীতকাল
সবুজ সোনার বাংলাদেশ
ভুতু সোনা
ছবি আঁকে,
লাল সবুজে পতাকা।
রং এর খেলা
রং এর মেলা,
সবুজ সোনার বাংলাদেশ।
শহীদ মিনার
স্মৃতি সৌধ,
দ্বাড়িয়ে মোদের অহঙ্কার।
১৪১৮@২৯ অগ্রহায়ণ,হেমন্তকাল
বাবুই পাখির বাসা ঝুলে
বাবুই পাখির বাসা ঝুলে
ঝলমলানো মিষ্টি রোদ,
পুকুর জলে গা ছুঁয়েছে
ঢেউয়ের নাচন ঝিকিমিকি।
মাছ ধিয়ানে মাছরাঙা
কঞ্চির ডালে বসে,
ডোবার জলে ঝাপ দিয়ে
পুঁটি মাছ ধরে।
ঐ দ্যাখো উড়ছে ধুয়া
রান্না ঘরের চালে,
ভাপা পুলির মিষ্টি সুবাস
হাওয়ায় ভেসে আসে।
১৪১৮@১২ অগ্রহায়ণ,হেমন্তকাল
হেমন্তের শিশির মাখবো ঠোঁটে
ভুতু সোনার বার্ষিক পরীক্ষা
ভাবনার নাই যে শেষ।
সকাল দুপুর বিকাল রাত
ভুতু সোনা টেবিলেই ক্যাত।
টেবিলেই ক্যাত স্বপ্ন ঘুমে
দাদুর সাথে বলছে কথা ফোনে।
আসছি দাদু ছুটি পেলেই
হেমন্তের শিশির মাখবো ঠোঁটে।
ঘরে উঠেছে নতুন চাল
নবান্নের গানে পিঠা পুলি ।
১৪১৮@৮ অগ্রহায়ণ,হেমন্তকাল
আকাশ হারালো সাদা মেঘ
আকাশ হারালো সাদা মেঘ
কাশফুল যায়রে উড়ে,
নীল আকাশের স্বপ্ন বুনা
ফড়িং ডানায় ভাসে।।
দোল খেলে যায় ধানের শীষ
হিমেল হাওয়া বয়,
এমন দিনে পাখির ঝাঁক
দিগন্তে উড়ে যায়।।
নদী বিলের জল শুকালো
পাখিদের কলো রব,
হেমন্ত তাই জেলে পাড়ায়
মাছ ধরার সোরগোল।।
১৪১৮@৯ কার্তিক,হেমন্তকাল!
রৌদ্র ছায়ার খেলা।
রাত পোহালে,
শিউলি সুবাস
সাদা মেঘের ভেলা।
আকাশ নীলের,
লুকোচুরি খেলা
রৌদ্র ছায়ার মেলা।
আশ্বিনে শিনশিন,
হাওয়া বয়
শিশির ঝরে ঘাসে।
যায় পালিয়ে,
সাদা মেঘ
হেমন্ত আসবে বলে।
১৪১৮@২৪ আশ্বিন,শরত্কাল
শরতের শিউলি
ঈশান কোণে, নেই কালো মেঘ
শাদা মেঘের ভেলা!!
সাদা বসন, শিউলি গাছের
সবুজ পাতার ফাঁকে!!
ভোরের আগে, কে যায়রে?
শিউলি কুড়াতে!!
আঁচল ভরা, শিউলি ফুলে
গাঁথবে মালা বসে!!
১৪১৮@১৭ আশ্বিন,শরত্কাল