চারু মান্নানের ছড়া ট্যাগের সব লেখা
আষাঢ়ে সকাল জুড়ে, চকচকে রোদের বাহার
মেঘের চাতালে বসে,
উঁকি দেয় বৃষ্টির কঙ্কাল।
কাঁঠাল পাকা গরমে, লোডশেডিংয়ের লং জাম্প
খেটে খাওয়া মানুষের,
গা বেয়ে ঝরে ঘাম।
কাকের ঠোঁট হা, কুকুরের জিহ্বায় লোল পরে
কিচির মিচির চড়ুই,
এসির জলে ঠোঁট ভিজে।
1420@ 5 আষাঢ়, বর্ষাকাল।
কদম ডাল দুল পরেছে
পাতা ফাঁকে দেয় উঁকি,
কাঠ বিড়ালী লেজ উঁচিয়ে
কদম ফুলে গন্ধ শুকে।।
ফিরে এল আষাঢ় মাস
বৃষ্টি এল না তো?
আকাশ জুড়ে মেঘের ভেলা
আঁধার নেমে এলো না তো?
ভুতু সোনার প্রশ্ন মনে
মেঘের ফাঁকে দেয় উঁকি,
নদী খালে বিলে ঝিলে
আষাঢ়
ভুতু সোনার পুষি বিড়াল
ভুতু সোনার পুষি বিড়াল
লিচু তলায় ঘোরে,
ঝম ঝমিয়ে বৃষ্টি এল
ছুটে পালায় কেরে?
জাম তলায় কাঠ বিড়ালী
জাম কুড়াতে এল,
পাকা জাম ঠোঁটে ধরে
লেজ উঁচিয়ে গেল।।
বৃষ্টি মাখা পালক ঝাড়ে
কিচিরমিচির চড়ুই ডাকে,
ঘাস ফুলের পাঁপড়ি ছুঁইয়ে
লালফড়িং ডানা মেলে।।
1420@ 16 জ্যৈষ্ঠ, গ্রীষ্মকাল
গাছে পাকা জাম জামরুল
গাছে পাকা জাম জামরুল
লিচু খায় কাঠবিড়ালি,
পাকা কাঁঠাল খায় শেয়ালে
কিচির মিচির লক্ষীপেঁচার।
হলুদ পাখি জামের ঝোঁপায়
ঠোঁট করেছে রাঙা,
কাকের ঠোকর আমের বোঁটায়
ধুলায় মেখে সারা।
বাদুর তাড়ানোর ঘন্টা বাজে
লিচু তলায় কে রে?
শেয়াল নাকি এসেছিল চুপিসারে
চাঁদ ডুবার পরে।
1420@11 জ্যৈষ্ঠ, গ্রীষ্মকাল।
সমুদ্রে আজ উথাল পাথাল
সমুদ্রে আজ উথাল পাথাল
বাতাস মাখা হাঁক,
ঝর ঝরে বৃষ্টি ঝরে
মেঘের ঘন ডাক।।
আসছে তুফান বান ডেকে
বইছে ঘূণি ঝড়,
ঘর বাড়ী সব যায়রে উড়ে
ভরছে নোনা জল।।
খোদা মোদের রক্ষা কর
চিৎকার করে কয়
প্রকৃতির খেলা ভেবে দ্যাখো!
আমরা বড়ই অসহায়।।
১৪২০@ ০২ জ্যৈষ্ঠ, গ্রীষ্মকাল।
মধু মাসে পাকা ফল
জ্যৈষ্ঠ মাসের গরম বানে
বকুল সুবাস বিলায়,
সোনালু ফুলের হলুদ আভা
প্রাণ জুড়িয়ে যায়।।
মধু মাসে পাকা ফল
গাছে গাছে ঝুলে,
পাখপাখালির কিচির মিচির
কাঠ বিড়ালী ছুটে।।
কালো জামে গাছ ভরেছে
পাখির ঠোঁট রাঙা,
পাকা আমে দিতেই ঠোকর
মাটিতে পরে সারা।।
1420@ 1 জ্যৈষ্ঠ,
হলুদ মুরগির ছানা
হলুদ ছানা দেখে মুরগির
গা ছুঁইতে চায়,
মনটা করে ইটিস পিটিস
মাকে পোষতে কয়।।
ভুতু সোনার পোষা এখন
হলুদ মুরগির ছানা,
হাই ব্রিড ফার্মের যে তাই
খায় না অন্য দানা।।
খাঁচায় থাকতে চায়না মোটেই
বাহিরে ঘুরতে চায়,
আলোর মাঝে ঘুম আসে না
টিউ টিউ ডেকে কয়।।
1420@26 বৈশাখ,গ্রীষ্মকাল।
বোশেখের রোদে বেজায় তাপ
বোশেখের রোদে বেজায় তাপ
কাক তৃঞ্চায় হা,
শুকনা ডোবা থকথকে কাঁদায়
ঢেকেছে মাছের গা।।
ব্যাঙ মামারা লুকায় গর্তে
রাতের বেলা ডাকে,
মেঘ ঘনালে আকাশ জুড়ে
বৃষ্টির আশায় বাঁচে।।
কৃষকের গা তামাটে রোদে
নিড়ানি দেয় ক্ষেতে,
সবুজ মাঠ দোল খেলে
আকাশে ঘুড়ি উড়ে।।
১৪২০@
তাল পাতার বাঁশি বাজে
এল বৈশাখী মেলা,
চরকি ঘুড়ে ঘর ঘরিয়ে
গ্রামের বলি খেলা।।
পোড়া মরিচে পান্তা ইলিশ
মাটির সানকিতে খাই,
বাংলা জুড়ে সুখের জোয়ার
ঢোল মাদলে গাই।।
বাংলা জুড়ে হৈ হৈ রৈ রৈ
মেলায় সামিয়ানা উড়ে,
বউ ঝিদের নাইর গুঞ্জন
হাস্য রসে ভাসে।।
1419@ 30 চৈত্র,বসন্তকাল
ডোবার জল তেঁতে উঠে
চৈত্র রোদের তাপে,
ঘোলা জলে সবুজ শেওলা
মাছে ছাতা ধরে।।
মাছ ধিয়ানে কানা বক
চুপটি করে বসে,
লাউয়ের মাচায় সাদা ফুলে
প্রজাপতিরা দুলে।।
সবুজ ধান মাঠে খেলে
বাতাস গায়ে মেখে,
কৃষক যায়রে মেঠো পথে
মাথায় মাথাল বেঁধে।।
1419@ 21 চৈত্র, বসন্তকাল।
ডোবার ধারে চৈত্র দিনে
মাছরাঙা উঠে ডাকি,
ঘোলা জলে দিচ্ছে উঁকি
পুঁটি টেংরা টাকি।
শেওলা ধরা পুকুর শানে
বৌ ঝিদের জটলা,
দোল মেলার রং লেগেছে
মাছ কাটছে কাতলা।
ডাকছে পাখি বউকথা কও
সজনে ডালে বসে,
উদাস মনে আকাশ দ্যাখে
স্মৃতির হাঁপর টানে।
1419@16 চৈত্র, বসন্তকাল।
নগর জুড়ে হরতাল ঝড়
বইছে এলোমেলো,
ভুতু সোনার স্কুল বন্ধ
ক্লাসটেস্ট এল।
রাস্তা ঘাটে গাড়ি পুড়ে
মোরে ককটেল ফুটে,
ঘরে বসে ভুতু সোনা
কার্টুন দ্যাখে মুডে।
পড়তে বসে ভুতু সোনা
মায়ের বকা খেয়ে,
বই খোলে এটা ওটা
ফড়িং ডানা মেলে।
1419@ 9 চৈত্র, বসন্তকাল
নগর যেন ভুতুরে এক
ড্রাগন মুখে আগুন,
ক্রান্তিকালের এমন ত্রাস
সবাই খুঁজে ফাগুন।
আগুন জ্বেলে ফাগুন এল
ফুলের ডালা ভরা,
আমের বোলের মৌ মৌ গন্ধ
ভ্রমর গানের গলা।
পলাশ শিমুল রাঙা গাছ
কোকিল কণ্ঠে গান,
স্বপ্নগুলো থমকে থাকে
আসছে চৈত্র মাস।
১৪১৯@ ৩০ ফাগুন, বসন্তকাল।
ভুতু সোনা স্কুল যাবে
রাত পোহালে পরে,
চোখে তার ঘুম ছাড়েনি
বেজায় রাগ মনে।
ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখে
ভাবনার আঁকি বুকি,
স্বপ্ন ঘুমে ভালই ছিলাম
রাজ্যের ছুটা ছুটি।
ঘুম ভাঙ্গতেই দেখতে হয়
লেখা পড়া কোচিং
প্রত্যহ যে একই রুটিং
কবে হব স্বাধীন?
1419@ 25 ফাল্গুন,বসন্তকাল।
নদীর ধারে ঐ যে গাঁও
সবুজ গাছে ঢাকা,
মেঠোপথে উদাস বাউল
হেঁটে যায়রে একা।
কাজলা বিলে পানকৌড়ির ঝাঁক
ঢেউয়ের তালে ডুবে,
ছেড়া পালে জেলের নৌকা
ভাসে গহীন জলে।
বিলের কাদায় পলির আস্তরে
পাখির পায়ের ছাপ,
চোখের সীমানায় দিগন্তে ঐ
ঝরা পালকের দাগ।
1419@ 23 ফাল্গুন, বসন্তকাল।