চারু মান্নানের কবিতা ট্যাগের সব লেখা
আজ বোশেখের শেষ দিন
অনেক তো হল দিন ফুড়ালো,
আজ বোশেখের শেষ দিন, যেন চুইয়ে চুইয়ে পরা ঝরনার জল
শেওলার আদলে সাঁঝ ঘনাল, একটু আগেই কাল বৈশাখী মারিয়ে গেল,
উঠানে ডাল ভেঙ্গেছে সজনে গাছটার।
ক্ষেতের পাকা ইরি ধান শোয়ানো,
শিলা বৃষ্টি ঝরেছে সামান্য, আমতলায় থেঁতলে যাওয়া
শুধু চোখের কোণে অবশূন্য বির্মষ জল প্রিয়তা
এই তো সেদিন ঈশান কোণে,
ধূসর কালো মেঘের পাহাড়, গড় গড় সর সর গর্জন
আকাশ জুড়ে কড়াৎ কড়াৎ, সরাৎ সরাৎ চমকিত,
আলো ঝলশানো বিদ্যুত খেলে যায়।
উত্থলিত মেঘ আকাশ বেয়ে,
উদ্ধ মুখী ছুটে চলার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা, পিছে পিছে ছিটকে পরে
মেঘের
যে অভিমান একদিন ধ্বংসের অমৃত ছিল
মাঝে মাঝে থমকে যায় অভিমান,
আলিশান বিষণ্নতা জেঁকে বসে, আঁধারে পথের বাঁক ভুল হয়
পূণির্মার চাঁদের জন্য অপেক্ষা, ভুতুরে আকাশ মেঘে ঢাকা,
কখন ফিকে আলোয় ভেসে উঠবে মুখটি?
এমন ভাবনায় রাতের প্রথম প্রহর,
অভিমানে ক্ষয়ে যাওয়া স্বপ্ন, এখন যুগলবন্দি জোনাক সবুজ
আর পুড়বে না আঁধার উল্লাসে জোনাক খুনসুঁটি
নেড়ি কুত্তার মত কুঁই কুঁই আওয়াজ করে,
আর বাঁচব না, এবার অধিকারে বজ্রমুষ্টি অঙ্গিকার
যেখানে তোষামোদে অধিকার হারা, সেখানেই প্রতিবাদ,
কাজের খাতিরে শ্রমের মূল্য চাই সুষম।
না হলে বন্ধ করে দাও কাজ!
কাজের জন্য অধিকার আদাই, না হলে শ্রেণী বৈষম্যের
ক্ষয়িঞ্চু শ্রেণী বৈষম্যে হারিয়ে যায়
থেঁতলে যাওয়া শরীর,
রক্ত গড়িয়ে ইট সুরকির মেঝে থকথকে, আত্মা কখন বেড়িয়েছে?
টের পাইনি পাইনি দেহ, ক্ষুধার দুঃস্বপ্নগুলো গলে গলে,
আঁধার চাঁপায় নতজানু মৃত্যু অহঙ্কার।
এই শরীরটার বড়ই স্বাদ ছিল,
অনেক দিন ধরে সুখে বাঁচবার, যে ভাবনা আমৃত্যু সাথে রয়
নিরবে নিভৃতে,
আমরা তো বাঁচার জন্যই বাঁচতে চেয়েছি?
শত মৃত্যুর লাশে,
আকাশে বাতাসে ক্রন্দনের রোল, শোকে মুহ্যমান আমরা আজ
আমরা আর কত লাশ দেখব? কত লাশে প্রিয় মুখ খুঁজব?
বার বার কেন বুকে এই বাঁধ ভাঙ্গা কান্না রোল উঠে?
প্রকৃতির এ কেমন খেলা?
নাকি বোধ ঘোচাবার? বার
নদীর কঙ্কালে শবদেহ আজ একাকার
নদীর কঙ্কালে শবদেহ আজ একাকার,
নিষিক্ত বীজের মত সতেজ চর জেগেছ, যেখানে এই বোশেখে ওড়াউড়ির
বিপন্নতায় মাতে! কত শবদেহ ধুয়ে পচে, মাটির বিনির্মাণে আত্মজা জৈব অঙ্গ
যেখানে নদী প্রাণের সজীবতা বাহনে সিদ্ধহস্ত।
তারই সজীবতা অঙ্গে মেখে,
মাঠের পর মাঠ সোনালি ধানের ক্ষেত, যেন
নৈঃশব্দে আমার কবিতার বেঁচে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টা
পচা শামুকে পা কাটলে,
বিরক্তকর যন্ত্রণা একটু বেশিই, বোশেখের আগুনে সেঁকে
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাতের বিড়ম্বনা, যখন জেঁকে বসেছে,
আর তখনই চোখের পাতা জুড়ে আশৈশব।
কেঁচোর যাবর কাটা পলিমাটির সোঁদা গন্ধ,
স্মৃতি হাতড়ে বেড়িয়ে পরে অভিসারে, ক্ষয়িঞ্চু কালের গায়ে চুম্বনে মত্ত
বিভ্রমে জেগে উঠে,
নিশুতি রাতের রাত জাগা ভোরে
আর স্বপ্নের মুখোমুখি দাঁড়াবে না,
প্রতিঙ্গা ভেঙ্গেছে অনেক বার, ঘুমটাই যত সর্বনাশের মূল
তাই রাত পাহারায় জেগে থাকে, নজর রাখে দরজায়,
জানলা, ঝুলবারান্দার সব খানে।
তবুও ঘুমিয়ে ছিল গাছটার নিচে
রাত চোরা পাখির মত রাত ভর, উদল পলিথিনের ঘরটায়
কালো রাত তাই সম্ভ্রম ঢেকেছিল, রাত
কাল পেরুলেই সন্ধির অজুহাত
কাল পেরুলেই সন্ধির অজুহাত,
তা’তে কি না পাওয়ার বিষণ্নতা ঘুচে? আমার স্বপ্ন অনেক দিন আগে
মেঘের মধ্যে ঘুরত, জলে ডুবা পান কৌড়ির মত,
মেঘের স্যাঁতস্যাঁতে আদরে স্নান করতো বৃষ্টিতে।
তাই তো বার বার মেঘ ফুরালেই,
আমার স্বপ্নও হারাতে থাকল, সেই হতে
নিত্য
তাও নিলাম নির্দ্বিধায়
তাও নিলাম নির্দ্বিধায়,
খুব সামান্যই দিবার ছিল তোমার, এমন বোশেখে
সোনালু তলায়, হলুদ বর্ণ ফুলের পাঁপড়ি ঝরে,
সদ্য সবুজ ঘাসে হলদে ছড়ানো।
ছায়া জানান দেয়,
গড়িয়ে বেলা যাচ্ছে, গায়ে নিমপাতার বাতাস মেখে
ছায়া তার নির্লিপ্ত শরীরে, পিছে পিছে হেঁটে চলা,
তোমাকে তাও মনে রেখেছে সেই
নতুনের বাদ্য বাদনে
নতুনের বাদ্য বাদনে,
ফুরায়ে গেল মলিনতার কোমলতা, তীব্র দহনে এখন পুড়বার পালা
এলোমেলো মেঘ এখন, লুকিয়ে থাকে দিগন্তে,
আকাশ নীলের উজ্জ্বলতা এখন বর্ণময়।
আকাশ যেন তার নিজস্বতায়,
আপন নীলে তার অস্তিত্ব বিলায়, ছড়িয়ে দেয় ধুঁ ধুঁ রোদের প্রতাপ
তাল গাছগুলো মাতাল বাতাসে, পাতাগুলো পাখায় হাঁপর
আমার ঘুড়িটার সেই একই মরন দশা
সেই যে যাওয়া আসার চর্চা অব্যহত আবারও বসন্ত,
শেষরাত চলে গেল, ক্ষণ আর ক্ষণের তাল তাল পাহাড়
কত যে স্বপ্ন বিভ্রম রাতভর? ঘোড়া ঘুমের মত দিনগুলোতেও,
চেতনা বেশুমার সম্ভ্রম বাঁচানোর বজ্র মুষ্ঠি।
নবীন স্বচ্ছ পাতায় কেবল ঘন সবুজের,
প্রলেপ আঁকে,
ভ্রমর গুঞ্জন বসন্ত আবাহনে বেশ লাগে,
তবু কেন জানি! আবহাওয়াটা বেশ গুমোট
অনেকটা পুরো আকাশ ঢাকলে মেঘে,
যেমনটা হয়, ভাবনায় যেন বাঁধন আঁটা।
যে ঘরটায় দিবানিশি যাপন,
প্রতিটা আসবাবপত্রসব নিত্য চেনা, হাত পায়ের অনিবার্য ছাপ আঁকে
সেই জানলা গ্রিল সদর দরজা, ধুলার আস্তরে রঙ্গিন পর্দা,
না পাওয়ার ভুলই কি এমন কর্ষিত আঁধার?
যে আঁধারে আড়ম্বর শকুন প্রেতাত্মার, এক ছত্র অভিনব উল্লাস
ভুল ছিল চাওয়ার, নাকি অধিকার বর্হিভূত?
যে অধিকারে প্রত্যয় নিবন্ধন নাই বলে প্রত্যাহত।
বিয়াল্লিশ বছর পরও আমরা অধিকার হারা,
ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মা আজ, সদা জাগ্রত কালের মহিয়ান মঞ্চে
প্রহরে প্রহরে