আজিম হোসেন আকাশ ট্যাগের সব লেখা
তুমি নেই
আজিম হোসেন আকাশ
তুমি নেই-
তাই শূন্যতায় ডুবে গেছে
তোলপার করা হৃদয় নদীর দু’কূল;
চেনা আকাশ হয়েছে ঢেঢ় অচেনা-
ঝরে গেছে কাননের যুথিকা-বকুল।
তুমি নেই-
তাই ব্যথার শ্রাবণে অঝরে-
ঝরেছে কত না দুঃখ-শোকের বৃষ্টি;
সুখের পরাগে, দূরে অন্তহীন আকাশে
হারিয়ে গেলে, পারিনি ফেরাতে দৃষ্টি।
তুমি নেই-
তাই কুয়াশার মেঘ ভেঙ্গে
উঠে না হৃদয়ে একটি রোদেলা
ফেলু ভাই
আজিম হোসেন আকাশ
আদর করে সবাই তাকে
ডাকে ফেলু ভাই,
পড়ার সময় হলে ফেলু
করে খাই খাই।
মেট্টিকে-তে ফেল মেরেছে
গোটা করেক বার,
শিক্ষকেরা নেয় না তাই-তো
ফেলুর দায়-ভার।
কি করবে ফেলু এখন
ভেবে পায় না কুল,
আদা-জল খেয়ে এবার
পড়া-তে মশগুল।
ফেলের সংখ্যা বেশী বলে
নাম দিয়েছে ফেলু,
আদু ভাইয়ের মত তাহার
মাথায় নাইতো ঘিলু।
–০–
জপ অনুচ্চ স্বরে
আজিম হোসেন আকাশ
জপ মনে মনে, ভবে অনুচ্চ স্বরে,
সৃজিলেন যিনি ভবে তাহারই তরে।
ভুল জাগতিক তোমার দু:খ-বেদনা,
জগতের সুখের তরে বৃথা কেঁদোনা।
অনন্ত সুখ খুঁজবে তোমায় করলে পূণ্য;
বিফলে যাবে সবি, নেকির ভাগ হলে শূন্য।
হেলায় কাটিও না তাই ক্ষণস্থায়ী জীবন;
বীভৎস আঁধার
আজিম হোসেন আকাশ
বীভৎস আঁধারের আবর্তে পৃথিবী গদ্যময়
দিকবিদিক আঁধারের জয়ধ্বনি-
আলোর বিচ্ছুরণ বার বার হয় পদাহত।
অলীক খ্যাতির কসরত চলে
বছরের পর বছর, হয় সালতামামী আয়োজন;
জাতির বিবেক মাথা ঠুকে মরে -
নিষ্প্রাণ অপসংস্কৃতির দেয়ালে,
পদে পদে ধ্রুপদী তাই আজ সভ্যতার বিবর্তন।
ক্লেশহীন প্রাপ্তিতে কতটা তসলিম নিহিত
তা কেবল মেধাহীন জ্ঞানী-গুণীর বোধগম্য,
বাহবা
সুপিয় ব্লগার ভাই ও বোনদের জন্য রইল একরাশ প্রীতি ও শুভেচ্ছা। জানি আজ আমাদের সবার মনই দু:খভারাক্রান্ত ও শোকাহত। চারিদিকে আজ শোকের বন্যা বইছে। আপনার আমার কারো না কারো মা-বোন কিংবা পরিচিত কোন মুখ সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা তাঁদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করছি।
আর
অন্তকালে অন্তশয্যা
আজিম হোসেন আকাশ
উৎসর্গ : সাভারে ঘটে যাওয়া নিহতদের প্রতি।
আমার অন্তকালে অন্তশয্যা
দিও তোমরা বিছিয়ে;
চার বেহারায় উঠব আমি
দিও আতর খুশবো ছিটিয়ে।
অন্তযাত্রায় ফেল না আর
মিছে শুধু নোনাজল;
আসব না আর ফিরে কভু
বৃথাই যাবে আঁখিজল।
অন্তসাঁজে যাবো আমি
সাদা কাফন জড়িয়ে;
অশ্র মুছে দাওগো বিদায়
অন্তর্দহন নিভিয়ে।
অন্তদর্শন দেখবে তোমরা
শোকাহত হৃদয়ে;
দেখবে
ভাল লাগে
আজিম হোসেন আকাশ
ভাললাগে শ্রাবনের বিরতিহীন
প্রবল বর্ষণে ভিজতে,
ভাললাগে প্রষ্ফুটিত রক্তিম
গোলাপের সুবাশ নিতে,
ভাললাগে পালক ঝলসানো
দুঃখে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলতে,
ভাল লাগে অবসন্ন বিকেলে
তোমারই কথা ভাবতে।
ভাললাগে রোদেলা দুপুরে
শৈশবের মাঝে হারিয়ে যেতে,
ভাললাগে শীতের কুয়াশাঘন
আকাশের কুয়াশায় ভেসে বেড়াতে,
ভাললাগে অসংখ্য বলাকার মাঝে
একাকী হারিয়ে যেতে,
ভাল লাগে পড়ন্ত বিকেলে
সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে।
ভাল লাগে
টুপুর টাপুর বৃষ্টি
আজিম হোসেন আকাশ
টুপুর টাপুর বৃষ্টি পড়ে
ঘরের চালে যখন,
স্বপ্নের মত লাগে সবই
আমার কাছে তখন।
জানালা খুলে সুদূর পানে
জুড়াই মোর আঁখি,
এমন দিনের স্মৃতি মনে
বন্দী করে রাখি।
বাদল দিনে ঘরে বসে
থাকতে ভাল লাগে,
সপ্ত রঙ্গের স্বপ্নগুলো
মনের মাঝে জাগে।
সূর্যটাকে
নব বৈশাখ
আজিম হোসেন আকাশ
বিপুল খুশির ঢল নেমেছে
বাংলা নব বর্ষে;
চারিদিকে জমছে মেলা
শিশু-কিশোর হর্ষে।
রং-বিরঙ্গের পোষাক যেন
ঈদ আনন্দের মত;
পান্তা-ইলিশ খাবে সবাই
হোক না খরচ যত।
বাংলা যেন নব বধূ
অতি রঙ্গে সজ্জিত;
নাচে-গানে বিভোর হয়ে
মহা সুখে রঞ্জিত।
রং লেগেছে সবার মনে
নব বৈশাখ পেয়ে;
কাটুক আঁধার চিরতরে
আসুক আলো ধেয়ে।
—০–
রচনাকাল : ০৮০৪১৩ইং
সাধ জেগেছে
আজিম হোসেন আকাশ
আমার বড় সাধ জেগেছে
দীঘির জলে ভাসতে;
জোছনা রাতে ঐ আকাশে
চাঁদের মত হাসতে।
আমার বড় সাধ জেগেছে
ঘুড়ির মত উড়তে;
হাজার রঙ্গের স্বপ্ন নিয়ে
হাওয়ার বেগে ঘুরতে।
আমার বড় সাধ জেগেছে
মেঘের ভেলায়
ছড়া ও পদ্য
|
আজিম হোসেন আকাশ
|
|
| ৬০ শব্দ ১টি ছবি
নীল চাঁদোয়া
আজিম হোসেন আকাশ
৩১ শে আগষ্ট-দু’হাজার বার
নিশীতে গগণে দর্শন-
নীল চাঁদোয়ার অনিন্দ্য আদল,
প্রতিদিন গর্জে উঠা চাঁদের বিকিরণ
প্রকৃতিকে করে যতটুকু আলোকিত;
দিকবিদিক যতদূর এই আঁখি যায়
খোলা আকাশ পানে অপলক চেয়ে থেকে
তব হৃদয় হলো রূপালী আলোয় পুলকিত।
যেন কত যুগ পর চাঁদের এরূপ দর্শন
প্রকৃতি ও মানব সভ্যতার এক
চাঁদের হাসি
আজিম হোসেন আকাশ
আমার ঘরে চাঁদের হাসি
সোনামণির মুখে;
দিবা-রাত্রি হি হি করে
হাসে মহা সুখে।
কে বলেছে সুখ নাই-রে
এই ধরাতে হায়;
অবুঝ শিশুর ঐ আদলে
দু:খ নিরুপায়।
অধিক সুখের মোহে যারা
সদাই থাকে অন্ধ;
তাদের তরে সুখ আসে না
সুখের দরজা বন্ধ।
অল্পতে খুব তুষ্ট যারা
তারাই বেশী সুখী হয়;
চাঁদের মত হাসি দিয়ে
দু:খটাকে
হৃদয়ের ক্রন্দন
আজিম হোসেন আকাশ
তোমরা আমাকে অধম ভেবে
করেছিলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য;
তবে কি আমি এতটাই অধম
যতটা আজ বলা বাহুল্য।
আমি উত্তমের তরে তোমাদের দ্বারে
করেছিলাম বৃথাই অপচেষ্টা;
অবশেষে জানলাম নিষ্ফল সবি
বিফল আমার সকল প্রচেষ্টা।
তোমরা কেবলই অর্থ আর প্রাচুর্যতার
মোহে ছিলে অনুক্ষণ অন্ধ;
হয়েছে নির্বাক আমার হৃদয়, কারণ
তোমাদের বিবেকের দ্বার বন্ধ।
কত আয়োজন কত প্রিয়জন
আমার যদি
আজিম হোসেন আকাশ
আমার যদি পাখির মত
থাকত দু’টি ডানা;
নীল আকাশে উড়তাম আমি
থাকত না আর মানা।
যেথায় খুশি সেথায় যেতাম
হরেক স্বপ্ন নিয়ে;
হরিৎ বৃক্ষের শাখায় যেতাম
ডানায় ভর দিয়ে।
আকাশটাকে করতাম আমি
এক মুহুর্তে জয়;
দেশ-বিদেশে ঘুরে তাইতো
কাটত মনের ভয়।
দিঘির পাড়ের সবুজ বৃক্ষে
গড়তাম পাতার বাসা,
রোদ-বৃষ্টি-ঝড়-বাদলেও
থাকত মনে আশা।
–০–
কিশোর অধিকার
আজিম হোসেন আকাশ
কিশোর মোরা ডানা মেলে
নীল আকাশে উড়ব,
হাজার রঙ্গের স্বপ্ন নিয়ে
জগতটাকে দেখব।
সব কিশোরের চাই অধিকার-
অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা,
দেশ-বিদেশে ভ্রমন করে-
নিব নতুন দীক্ষা।
সবার মুখে ফুঁটাব হাসি
চোখের অশ্রু মুছে,
অত্যচারীর মুখোশ খুলে
মারব চাবুক বুকে।
শিক্ষা গ্রহন করে মোরা
করবো সমাজ নিরক্ষর,
সবার ঘরে জ্ঞানের প্রদীপ
জ্বালাবো মোরা নিরন্তর।
–০–