সারি করা নত সব নিয়ন বাতি কুয়াশার শ্লোগান
টুপ টাপ টুপ টাপ অন্ধকারে হাঁটছে মিছিল ,
টোকা দিয়ে যায় ঘুমের পাড়ায় ; ‘ জাগুন ’ ‘ জাগুন ‘ … ।
হাঁটু ভাঙা এভ্যুনিউ হোঁচট খাওয়া আইল্যান্ড
ঘুমোয় মাতাল , নীশাচরীর চোখে আস্ত শহর ;
শেষ সূতোটাও হারানো উলঙ্গ উন্মাদ
বেতাল নাচছে আর ধুমছে বিড়ি ফুঁকেছে
কে জানে ! সামনে ইলেকশানে সেও হয়তো মন্ত্রী হবে ।
‘ জাগুন ‘ ‘ জাগুন ‘ … কেন পাড়ায় আগুন ?
না আমি সুভাষ কিংবা সুকান্ত নই
আমি শুধুই পুড়ে ক্লান্ত ; পুড়েছি গত জন্মেও
ধূত ছাই হয়েই জন্মেছি এইজন্মে
এই ছাইয়ের পোড়ার আর কিছু বাঁকি নেই ,
শ্লোগানগুলোও সুরেলা ঘুম পাড়ানী গান
আমি ঘুমবো দাসত্বকে জড়িয়ে
আমার রাত্রির কোন সত্য মিথ্যে নেই
টিক বা ক্রস দেয়ার কিছু নেই
হ্যাঁ অথবা না , না কিছুই বুঝি না
…
রাত্রি সে তো এক বিস্ময় বোধক চিহ্ন !
এক ফোঁটা অশ্রুর উপর দাঁড়িয়ে থাকা
আমার প্রিয়তমা প্রতিমা …
[হ্যালো কমরেড - ২ / শৈবাল ]
[কবিতার লেজ / প্রলাপ....
সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের দুটো লাইন ঘুর ঘুর করছিল ,
" জাগুন জাগুন পাড়ায় আগুন
বাড়ে হুহু
মগজে প্রভূত দম্ভ তবু তো
আহা উহু ।
মনের মহল দিচ্ছে টহল
মিঠে কুহু
এখনো জাগুন পাড়ায় আগুন
বাড়ে হু হু । " [ কাব্যজিজ্ঞাসা /সু মুখোপাধ্যায় ]
কলেজে থাকতে খুব প্রিয় ছিলো কবিতাটা । অনেকটা মজা করেই আবৃত্তি করতাম …
কী অর্থপূর্ণ যা বলতে চাইছে কানে আসার আগেই যেন রক্তে পৌঁছে যায় ।
কিন্তু আমাদের আমার কবিতা কথা সিদ্ধান্ত বোধ সবটাতেই দুটানা এপাশ ওপাশ ধরতে ধরতে ধরতে না পারা আমাদের অভ্যেস এই দ্বৈরথটা আধুনিক কাব্যের মতো আমিও সংক্রামিত অস্বীকার করি না অন্তত এইটুকোই বুঝতে পারছি । আনর্স্ট ফিশার একেই বলেন ” The tumult and confusion of the imagination wrought havoc with the rules of classicism ”
বেশ কয়েকদিন থেকেই মাসখানেক ই হবে একটা চিহ্ন খুব জ্বালাছে , বিস্ময়বোধ চিহ্নটা ,” ! “একটা ফোঁটা তার উপর খাঁড়া একটা দাগ , কাল এর একটা মানে খুঁজে ফেলাম একফোঁটা অশ্রু তার উপর দাঁড়ানো এক মূর্তি ! হা হা … আমাদের চিন্তার মতো কোন অর্থ নেই হা বা না বা কোন প্রশ্নও নেই . শুধুই বিস্ময় ।
একটা গান শুনুন ভোর হয়নি
*শৈলীতে প্র্রকাশিত



প্লাস এবং শুভেচ্ছা।
কৃতজ্ঞতা জানাই
গুড জব!
সানন্দে স্যার
!
বাহ সবচেয়ে যুতসই ইমো : !
আন্তরিক মোবারক রইলো প্রিয় কায়েস ।
ম্যাজিকের মতন টেনে নিয়ে যায় লিখার স্রোত …এককথায় দারুণ
সতত মঙ্গল হোক ।
কিছু টেনে নিয়ে যাওয়া , কিছু টেনে নিয়ে যায় বলেই লিখতে পারি , নিজেই
নিজের স্রোত তো টের পাই না তবে খুব সচেতন হতে চাইলেও একটা ঘোর
টেনে নিয়ে যায় প্রিয়তমার মায়ার মতো অদৃশ্য একখুঁটিতে বাঁধা নিজেরই বোধাগুলো গল্পগুলো বারবার জন্ম নেয় হয়তো কখনো বিপ্লবী কখনো প্রেমিক কখনোপূজারী …. মানুষ যে একটাই কবিতা একজনেরই
মাঝে মাঝে সুনীলের কয়েকটা লাইন পড়ে সাহস নিই
একটাই তো কবিতা , লিখে যাচ্ছি
লিখে যাবো সারা জীবন ধরে
আবার দেখা হবে , আবার দেখা হবে , আবার দেখা হবে !
[একটাই তো কবিতা / সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ]
আপনিও অনেক ভালো থাকুন , বিনীত শ্রদ্ধা জানাচ্ছি
ভাল লেগেছে। আপনার লেখা আগে পড়া হয়নি।
বিনীত শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ,এখানে এসে প্রথমদিনেই আপনার মন্তব্য পেয়েছিলাম …
তখন অন্য নিক ছিলো , সূর্য নামে শুরু করেছিলাম
‘ জাগুন ‘ ‘ জাগুন ‘ … কেন পাড়ায় আগুন ?
না আমি সুভাষ কিংবা সুকান্ত নই
আমি শুধুই পুড়ে ক্লান্ত ; পুড়েছি গত জন্মেও
ধূত ছাই হয়েই জন্মেছি এইজন্মে
এই ছাইয়ের পোড়ার আর কিছু বাঁকি নেই ,–চমৎকার লাগল লাইন কয়টি।
বেশ দারুন লেখা অন্য রকম একটা রেশ আছে লেখাটায়।
শুভ কামনা রইল।
সব সময়েই আপনাদের পাই , সৌভাগ্য আমার ।
আমি শুধুই পুড়ে ক্লান্ত ; পুড়েছি গত জন্মেও
ধূত ছাই হয়েই জন্মেছি এইজন্মে
এই ছাইয়ের পোড়ার আর কিছু বাঁকি নেই ,
এই ছাইয়ের রেশ আছে বৈ কি , হ্যালো কমরেড -২ আগেই লিখেছি হ্যালো কমরেড ;১ …
আমরা পুড়ছি জন্ম-জন্মান্তর
আমাদের পূর্বপুরুষরাও পুড়েছিলেন
ক্ষরায় , ক্ষুধায় , জরায় ,দাসত্বে
রাষ্ট্রদ্রোহে ,সাম্যবাদের শ্লোগানে
ক্ষোভে বারুদে আগুনে ,
কিন্তু আরো বেশি পুড়ছি আমরা
যৌনতায় মাদকতায় ঘেণ্নায়
সভ্যতায় ,সামাজিকতায় ,ক্ষমতায় ,
মুখে আছে কুলুপ দেওয়া , বন্দী
জিভ পুড়ছে অটোডাইজেসানে ।
আমাদের পূর্বপুরুষ মাটি পুড়ে মানুষ হন
আমরা মানুষ পুড়ে ছাই হচ্ছি ,
তবে , ছাইটাও যদি পুড়ে যায়
কমরেড !বল তবে কী উপায় ?
[হ্যালো কমরেড ;১ ...শৈবাল 1/5/10]