অচিরেই খুলে যাচ্ছে সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা রহস্যর জট ! শুধু জট নয়, খুনিদের গ্রেফতারের মত ঘটনাও ঘটতে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন করে র্যাব পরিচালক তা জনসমুঙ্খে তুলে ধরবেন। প্রয়োজনে খুনিদের প্রেসকনফারেন্সেও হাজির করা হতে পারে।
আশা করা যাচ্ছে আদালতে ১৬৪ ধারায় খুনিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা জানতে পারবেন আলোচিত সাংবাদিক দম্পত্তি হত্যামামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন দুই পরিবার, সাংবাদিক সমাজসহ গোটা দেশবাসি।
আজ ১৫ সেপ্টম্বর প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে সাংবাদিক দম্পত্তি হত্যা মামলা নিয়ে একটি ফলোআপ রিপোর্ট।সেখানে অবশ্য স্পষ্ঠ করে বলা হয়নি যে চোর চক্রের হাতে খুন হয়েছেন সাংবাদিক দম্পত্তি। তবে অপরাধ বিষয়ে সাংবাদিকতার পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে আমার কাছে প্রতিয়মান হচ্ছে যে, আলোচিত এ হত্যামামলার মোটিভ উদঘাটিত হয়ে যাচ্ছে অচিরেই এবং সেটি প্রমানিত হবে খুনিদের স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে।
মামলাটির তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে যত আলোচনাই হোক না কেনো, বাস্তবতা হলো এটি ছিল একটি দূর্ঘটনা ! হত্যার উদ্দেশ্যে হত্যা নয় বা হত্যাকান্ডটি পূর্ব পরিকল্পিতি নয়। স্রেফ চুরি করতে গিয়ে একটি চোর চক্র খুন করে ফেলে স্বনামধন্য সাংবাদিক দম্পত্তিকে। এ লেখাটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার পূর্বে ব্লগার বন্ধুদের উদ্দেশ্যে প্রথম আলোয় প্রকাশিত সংবাদটির উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরা হলো:
সংবাদটির শিরোনাম : সাংবাদিক দম্পতি হত্যা
এবার চার ‘চোরের’ ডিএনএ পরীক্ষা
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এবার অভিযুক্ত চার পেশাদার চোরের ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাদের শরীর থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোজানতে চাইলে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক ক্যাপ্টেন এম সোহায়েল বলেন, এই চোরের দল এর আগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাবের হাতে ধরা পড়েছিল। তাদের ডিএনএ নমুনা পাঠানো হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশের সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা এদের নিয়ে সাগর-রুনির বাসায় যান। চোর পাইপ বেয়ে পাঁচতলায় উঠতে পারে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, চোরদের একজন রান্নাঘরের গ্যাসের পাইপ বেয়ে মাত্র ১৫ মিনিটে ঘরের ভেতরে ঢুকে আবার বের হয়ে আসে। গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা এটি ভিডিওতে ধারণ করেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার ও ডিএমপি কমিশনারের মুখপাত্র মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলা তদন্তকালে গ্রিল ভাঙা চোর মাহফিজুর, এনামুল, ফজলুল, হালিম ও আবু হানিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁরা গ্রিল ভাঙতে পারদর্শী। বিভিন্ন থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে। ডিবি প্রথমে ধারণা করেছিল, গ্রিল ভেঙে তাঁরাই সাগর-রুনিকে খুন করেছে। এ জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করতে পেশাদার ওই চার চোরের সঙ্গে আরও দুজনের মুখের লালা ও হাতের ছাপ নেওয়া হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি চুরি করতে গিয়ে হত্যা হিসেবে চালানোর একটি পায়তারা হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের সন্দেহ হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তাছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আমাদের আস্থার জায়গাটা অতিতে কখনও ছিলনা, এখনও নেই। কেননা পুলিশ সবসময় সঠিক ভাবে অনুসন্ধান করারা সুযোগও পায়না, তাদেরকে করতেও দেয়া হয়না। কখনও বা তারা নিজেরা গুরুত্ব দেননা। তবে আলোচিত মামলাগুলোর ক্ষেত্রে তাদেরকে চলতে হয় ওপর মহলের রাজিখুশি অনুযায়ি।
বিগত জোট সরকারের আমলে যশোর শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে আতাতয়ির গুলিতে খুন হন রেজাউল ইসলাম নামে একজন ঠিকাদার।ঘটনার ৪৮ ঘন্টর মধ্যে থানা পুলিশ নিশ্চিত করে তারা খুনিদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের আন্ডার ওয়াল্ডের চরমপন্তি সংগঠন পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টি (জনযুদ্ধ)’র ক্যাডাররা তাকে খুন করেছে এবং ওই ঘটনায় জনযুদ্ধের প্রধান (পরবর্তিতে ক্রসফায়ারে নিহত) দাদা তপনের নির্দেশনা ছিল বলে প্রকাশ করা হয়। ওই সময় পুলিশ একটি ট্যাবু মটরসাইকেল উদ্ধার করে দাবি করেছিল সেটি হত্যাকান্ডে ব্যবহার করা মটরসাইকেল। পরবর্তিতে স্থানীয় একজন ক্যাডারসহ কয়েকজনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।
এতো গেলো মফস্বল এলাকার একটি খবর ও পুলিশের তদন্ত নাটক। জাতীয় পর্যায়েও এমন নাটকের কথা জানা আছে আমাদের। রাজনীতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এমন নাটকের একটি চরিত্র ছিল “জজ মিয়া”। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সভানেত্রি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনার তদন্তে জজমিয়া নামে একজনকে রাজ সাক্ষি করা হয়। পরবর্তিতে ওই ব্যক্তি বিষয়টি সাজানো ছিল বলে স্বীকার করে। অপরদিকে যশোরে ৯৯ সালের ৬ মার্চ উদিচী’র সম্মেলনে বোমা হামলার ঘটনায় পরবর্তিতে আসামি করা হয় বিএনপির কেন্দ্রিয় ভাইস চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলামকে। ওই মামলার সাক্ষিদের অনেকে ছিলেন সরাসরি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কর্মী।
এধরণের ঘটনার উদাহরণ আছে অসংখ্য। যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থেকেছে, তখন তারা তাদের পছন্দ মত প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের
নেতাকর্মীদের সাহেস্তা করেছেন নানা মামলায় জড়িয়ে। অপরদিকে পুলিশ যেসব মামলার তদন্তের সুরাহ করতে ব্যর্থ হয়, সেগুলোতে চিন্হিত সন্ত্রাসী বা চোর ডাকাতদের নাম অর্ন্তভুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।কখনও কাউকে রাজি করিয়ে বা অনেক টাকার প্রলোভন দেখিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী আদায় করাতে সক্ষম হয় পুলিশ। আবার অনেক সময় অপরাধে জড়িত প্রভাবশালী কোন ব্যক্তি বা তার আত্নীয়-স্বজনকে আড়াল করতে এধরণের নাটকের অবতরণ হয়।বাস্তবতা হলো পরবর্তিতে এসব নিয়ে কারোর কোন মাথা ব্যাথা থাকেনা। উচ্চ আদালতে আপিল করে বা আইনের ফাকফোকড় গোলে বেরিয়ে যেতে পারেন সাজানো নাটকে অংশ নেয়া লোকজন। তাছাড়া সরকার পরিবর্তন ঘটলে সবকিছু উল্টেপাল্টে দেয়া যায়।
সাগর-রুনি হত্যা মামলা নিয়ে এধরণের কোন নাটক করে র্যাব পার পেয়ে যাবে, তা যেন কোন ভাবে না হয়, সেব্যাপারে অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে সাংবাদিক সমাজসহ গোটা দেশবাসীর। আমরা যেন এই সাংবাদিক দম্পত্তির একমাত্র পুত্র সন্তান মেঘের কথা ভুলে না যায়। অন্তত এই শিশুর সাথে প্রতারণা করার আগে সরকারকে খুব গভির ভাবে তা উপলব্দি করা উচিৎ।
চোর চক্রের হাতে কি খুন হলেন সাংবাদিক দম্পত্তি!
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।



সামান্য চোরের হাতে এমন নির্মম ভাবে সাগর রুনির মতো এত বড় সাংবাদিক দম্পত্তি খুন!
ব্যপারটা কেমন জানি নাটকীয় মনে হচ্ছে
দেখা যাক কোথাকার জল কোথায় গিয়ে থামে
অন্তত এই শিশুর সাথে প্রতারণা করার আগে সরকারকে খুব গভির ভাবে তা উপলব্দি করা উচিৎ।
- আপনি এটা চমৎকার বলেছেন। বিষয়টা ছোট হলেও এটাই মুল কথা।
সাগর-রুনি হত্যা মামলা নিয়ে এধরণের কোন নাটক করে র্যাব পার পেয়ে যাবে, তা যেন কোন ভাবে না হয়, সেব্যাপারে অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে সাংবাদিক সমাজসহ গোটা দেশবাসীর। আমরা যেন এই সাংবাদিক দম্পত্তির একমাত্র পুত্র সন্তান মেঘের কথা ভুলে না যায়। অন্তত এই শিশুর সাথে প্রতারণা করার আগে সরকারকে খুব গভির ভাবে তা উপলব্দি করা উচিৎ।
ডা দাউদ ভাই, আজ এ হত্যাকান্ডের ২১৮ তম দিন। হত্যাকান্ডটি যে আকস্মিক কোন চোর চক্র ঘটিয়েছে, তা হতে পারেনা কোন ভাবে। প্রাথমিক অবস্থায় বিভিন্ন আলামত থেকে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে এটি কোন চোরের হাতে সংঘটিত হত্যাকান্ড নয়। তারপরও যেন সেদিকে মোড় নেয়ার চেষ্টা চলছে।
সাহাদত উদরাজি ও আব্দুল মালেক ভাই, একবার ভেবে দেখুন মেঘের চেহারাটা। আমার নিজেরওতো মেঘের মত শিশু সন্তান রয়েছে। কোন নিষপাপ শিশুর সাথে প্রতারণা করা হলে স্বয়ং আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন। এবং সেটি হলে তা শুধু সরকারের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনবেনা, দেশবাসির কাছে তা অভিশ্বাপ হিসেবে দেখা দেবে।
সাহারা খাতুন আর নেই , দেখা যাক ম.খা.আলমগীর কি উপহার দেন।
সাহারা খাতুন আর নেই
-আমার তো মনে হয় এইটাই সার কথা। সারা দেশ জানে, লি্মন কেস। র্যাবের মহা পরিচালকও বলেছেন যে, লিমন পরিস্থিতির শিকার, তার পরও তার দুর্দশা দূর হয় না। এই দেশে কী অসম্ভব?
কবি রনি ভাই ও রাজিন,
সাহারার চলে গেলেন, এখন দেখা যাক আলোচিত এ হত্যা মামলা নিয়ে নবাগত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি বলেন।
জুলিয়ান সিদ্দিক ভাই, ঠিকই বলেছেন, লিমন কেসটা’র কথা ভাবলে গায়ের মধ্যে আগুন ধরে যায়।কত জঘন্য, কত নিষ্ঠুর এবং বর্বর আমাদের প্রশাসন, যাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি রাজনৈতিক দল, একটি সরকার।
-এই যে আজ বলতে পারলেন, নীতিমালা হলে এই কথাগুলোই শব্দ করে উচ্চারণ করতে পারবেন না মুখ দিয়ে, কলমে হোক আর কী-বোর্ডে হোক লিখতে পারবেন না কোথাও- সরকার যে দলেরই থাকুক আর সামরিক আইন প্রশাসকই থাকুক।
বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করার প্রচেষ্টা দমনে ব্লগারদের এখনই সংগঠিত হওয়া উচিৎ।
বড় বিচিত্র এ দেশ! কি যে কেমন করে কি হয়ে যায় তা’ বুঝা বড়ই কষ্টের! নতুন জজ মিয়া তৈরি হচ্ছে কিনা তাই বা কে জানে?