রাষ্ট্রপতি জামাইবাবু, সীমান্ত হত্যা বন্দ করুন

সীমান্ত হত্যা বন্দ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোনমোহনের প্রতিশ্রুতির কথা বেশ পুরানো। ২০১০ এ আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে মৌখিক ভাবে মোনমোহন বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে আশ্বস্ত করেছিলেন। তখন দেশে ফিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি উচ্চকন্ঠে বলেছিলেন, সীমান্তে আর নীরিহ মানুষের ওপর গুলি চালাবে না বিএসএফ। জামাইবাবু প্রণব

মজার ব্যাপার হচ্ছে, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সেই বৈঠকের পর দেয়া যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সীমান্ত হত্যা বন্দ নিয়ে লিখিত কোন বক্তব্য ছিলনা। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ ছিলনা।
প্রেসবিজ্ঞপ্তির ১৭, থেকে ২০ অনুচ্ছেদের পুরোটা জুড়ে ছিল দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো। ব্লগার বন্ধুদের জন্য সেই প্রেসবিজ্ঞপ্তির চারটি অনুচ্ছেদ নিম্মে তুলে ধরা হলো:

17. Both Prime Ministers condemned terrorism in all its forms and manifestations. They noted that security remained a priority for both countries, as terrorists, insurgents and criminals respect no boundaries. They underscored the need for both countries to actively cooperate on security issues. Both leaders reiterated the assurance that the territory of either would not be allowed for activities inimical to the other and resolved not to allow their respective territory to be used for training, sanctuary and other operations by domestic or foreign terrorist/militant and insurgent organizations and their operatives.

18. Welcoming the Home Secretary level talks held in New Delhi in December 2009, the two Prime Ministers directed their respective Ministries and agencies to cooperate closely and implement all decisions taken during the talks. While recognizing the need to check cross border crimes, both Prime Ministers agreed that the respective border guarding forces exercise restraint and underscored the importance of regular meetings between the border guarding forces to curtail illegal cross border activities and prevent loss of lives.

19. The Prime Minister of Bangladesh thanked the Prime Minister of India for facilitating the provision of electricity in Dahagram-Angarpota and invited India to construct a flyover across Tin Bigha Corridor for exclusive Indian use, as agreed earlier.

20. Both Prime Ministers agreed to comprehensively address all outstanding land boundary issues keeping in view the spirit of the 1974 Land Boundary Agreement. In this context, agreed to convene the Joint Boundary Working Group to take this process forward.

আজ পহেলা সেপ্টম্বর ভোরে ঠাকুরগা সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন আজিরুল নামে ত্রিশ বছরের এক যুবক। সংবাদটাতে চোখ যেতেই মনে হলো, আসলেই কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোনমোহন কখনও কোন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আমাদের কে?

এ সংক্রান্ত কোন অডিও বা ভিডিও আছে কি?

একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার সন্দেহ হয়। ভারতের মত বিশাল এ রাষ্ট্রের প্রধানতো আর আমাদের দেশের পাড়া-মহল্লার পাতি নেতাদের মত নন, যে কেবল মুখেমুখে নানা প্রতিশ্রুতির কথা শোনাবে। তাও আবার একজন রাষ্ট্রনায়ক হয়ে।

সীমান্হতে হত্যাকান্ড নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ মহল তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা তুলে ধরেছে বিএসএফ এর অমানবিকতা। সরকারি ভাবে আমাদের সীমান্তরক্ষি বাহিনী পতাকা বৈঠক করে এসবের প্রতিবাদ জানান। কিন্তু সবকিছু যেন সীমাবদ্ধ থেকে যায় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে। কোন প্রতিকার হয় না।

এ লেখাটা শুরু করার সময় আমার মনে হচ্ছিল, সত্য হোক, মিথ্যে হোক, ভারতের প্রধানমন্ত্রীতো আমাদেরকে মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবেশি এ দেশের রাষ্ট্রপতির কাছ থেকেতে কোন প্রতিশ্রুতি এখনও পাওয়া যায় না।

ব্যাপারটা ভাবতেই আত্নবিশ্বাসী হয়ে উঠি আমি। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একটা পথ হতে পারেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী। তিনিতো বাঙালি। তিনিতো আমাদের জামাইবাবু। নড়াইলের ভদ্রবিলা গ্রামের জামাই। এই গ্রামের মেয়ে শুভ্রাকে তিনি বিয়ে করেছেন। তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেয়ার সময় থেকে দেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয় যে এখন থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গাঢ় হবে। সীমান্ত হত্যাকান্ডসহ নানা ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে আমাদের কূটনীতির বরফ গলতে শুরু করবে। তিনি বাংলাদেশে স্বার্থের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল হবেন এটাই প্রত্যাশা অনেকের। যদিও শুভ্রা দিদি এখন আর বাংলাদেশের নাগরিক নন। কিন্তু তার শৈশবের দিনগুলোতো কেটেছে চিত্রা নদীর ধারে। তার মামাবাড়ি নড়াইল সদরের তুলারামপুর গ্রামে। তাঁর মামাতো ভাইরা এখনও ওই গাঁয়ে থাকেন।

ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার ২৩ জুলাই, ২০১২ সংখ্যায় একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করে :

সাত পাঁকে বাঁধা পড়ে এ-পার বাংলার নড়াইল ছেড়েছিলেন মাত্র ১৭ বছর বয়সে। তখন কে জানত, যাঁরা সঙ্গে বাঁধা পড়লেন, তাঁর সহধর্মিনী হয়েই এক দিন ঢুকতে হবে দিল্লির ‘রাইসিনা হিল’-এ। তিনি শুভ্রা মুখোপাধ্যায়। প্রণব মুখোপাধ্যায় ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনিই এখন ‘ফার্স্ট লেডি’।

শুভ্রাদি, তুমি ভারতবাসীর কাছে ফাস্টলেডি। কিন্তিু আমাদের কাছে “দিদি।” তুমি কি পারোনা এই নিষ্ঠুরতা থেকে পরিত্রাণ দিতে। প্লিজ, তুমি আমাদের জামাইবাবুকে বলো। আর যেন একটিও গুলি না চালায় বিএসএফ।

VN:R_U [1.9.7_1111]
রেটিং করুন:
Rating: 0.0/5 (0 votes cast)
VN:R_U [1.9.7_1111]
Rating: 0 (from 0 votes)

এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

৮ টি মন্তব্য (লেখকের ২টি) | ৫ জন মন্তব্যকারী

  1. নাজমুল হুদা : ০২-০৯-২০১২ | ৯:৫০ |

    যে যায় লঙ্কায়, সে-ই হয় রাবন! শক্তিমত্তা প্রদর্শন আর আধিপত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতেই ভারত এ পথ থেকে সরে আসবে না। কান্নাকাটি, অনুরোধ-উপরোধে কোন কাজ হবে না। শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে, না পারলে মুখ বুজে সয়ে যাওয়া ছাড়া আর গত্যন্তর নেই।
    সচেতন হতে হবে, সচেতন করতে হবে, প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে।
    এমন একটি জনগুরুপূর্ণ বিষয়ে পোস্ট দেবার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

    • সুজায়েত শামীম : ০২-০৯-২০১২ | ১৭:০৭ |

      নাজমুল হুদা ভাই,
      দু:খজনক হলো,
      আমরা ভারত ছাড়া আর কারোর সাথে বন্ধুত্ব করার কথা ভাবাছ না। আর তাই বিশ্ব প্রেক্ষাপটে আমাদের অবস্থা দিনকেদিন নাজুক হচ্ছে।

    • নাজমুল হুদা : ০২-০৯-২০১২ | ২২:০০ |

      আমি যাকে বন্ধু ভাবি, সে আমাকে ভাবে ভোগের সামগ্রী!

  2. মোঃ খালিদ উমর : ০২-০৯-২০১২ | ১০:০০ |

    শুভ্রা’দি কি করে এই অপকম্মটি করবেন বলতে পারেন? লংকায় গেলেই যে হনুমান হতে হয়!!

  3. চারুমান্নান : ০২-০৯-২০১২ | ১৫:১৮ |

    তয় আশায় বুক বাঁধুন

  4. সুজায়েত শামীম : ০২-০৯-২০১২ | ১৭:১১ |

    “আশা” শব্দটা না থাকলে, আমাদের সবারই বোধ হয় পথ চলতে কষ্ট হতো। সেটি নিজের ক্ষেত্রে এবং সামগ্রিক বিবেচনায়।

  5. সাহাদাত উদরাজী : ০৪-০৯-২০১২ | ১৭:৩২ |

    আমাদের জামাই বাবু!