বাংলা সন ফসলী সন। কৃষি ও কৃষক পর্যায়ে বাংলা সনের হিসেবকে মিলাতে পারা যায়। বাংলা সন বাঙালির আপন সন। প্রকৃতির রূপ-রস চিনতে আমরা বাংলা সন-তারিখের আশ্রয় নিই। আমাদের ঋতু বৈচিত্রও ভিন্ন। এই বৈচিত্রে আমাদের প্রকৃতির আলাদা আলাদা রূপ। ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন ফুল-ফল-ফসলের দেখা মেলে। এই ফুল-ফল-ফসলের ক্ষেত্রটা কৃষি। আর এই ক্ষেতে বসে যে নিমার্ণে মগ্ন, সৃজনে নিবিষ্ট হয়ে আছে, সে কৃষক। ছয়টি ঋতুর রূপ-রস-রঙকে পরম মমত্বে আমাদের প্রকৃতির বিশাল ভূমিতে বসে ছবি এঁকে চলেছেন আমাদের চিত্রকরেরা। পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষের উৎসব আমাদের বাঙালির আত্মার রঙ। নববর্ষের উৎসবটা আমাদের গ্রামীণ জীবনের নব প্রকৃতির অভিবাদন। যেখানে গ্রামীন নৈসর্গিক জীবনের যোগ নেই, সেখানে বাঙালি উৎসবের এত রঙ কেনো? নগর জীবন প্রকৃতি-নির্মাণ করে গড়া ফসলী জীবন নয়। নগর জীবন ব্যাবসায়িক, প্রকৃতির অপর পিঠে দাঁড়িয়ে প্রকৃতিকে হটিয়ে প্রকৃতিকে ঠকানোর জাল ছড়িয়ে যাওয়া নিরন্তর। আমাদের কল-কারখানাগুলো আমাদের জীবন-যাপনের মৌলিক তাগিদগুলো প্রকৃতির উপাদান থেকে আহরণ করে উপযোগী করে তুলছে, কিন্তু সেগুলো শুধুই নগর জীবনের মুনাফার ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে। এই অবস্থানগুলো আমাদের চিত্রকরদের মতো মানবিক নয়। সৃজনশীল-মননশীল নয়, শুধুই বাণিজ্যিক।
একটি দিনকে একটি বিশেষ দিন করে তুলতে পারাটা একটা ব্যাবসায়িক ফায়দার জায়গা। এক ঘেয়ে একটা জীবনকে একটু আলাদা করে বের করে দেখার চেষ্টার একটা দিন। বাহ্যিক জীবনটাকে নানান রঙে সাজিয়ে চিত্তে ও দেহে আলাদা স্বাদ গ্রহনের একটা তাগিদ ছড়িয়ে দেবার কাজটা করতে পারলেই বিশেষ বাণিজ্যিক ফায়দা তুলে নেবার একটা নতুন ক্ষেত্র তৈরী করা যায়।
একটা দিনকে কতই-না রঙিন করে তোলা যায়, একটা উৎসবের শরীর থেকে কত কত রঙ ছিনিয়ে নেয়া যায়! একটা উৎসবের দিন যত মোহময়, ততোধিক সংখ্যায় মানুষ মোহগ্রস্থ। মানুষকে যত মোহগ্রস্থ করা যাবে, ততোই মুনাফা। নাগরিক জীবনের জয়ধ্বনি দিতে দিতে আমরা ঢুকে যাবো সর্বগ্রাসী ক্ষুধার্ত মুনাফার জালের ভেতর। আমাদের উৎসবকে হাতিয়ার বানিয়ে আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতির ভেতরে কত সহজে ঢুকে যেতে পারছে বাণিজ্যিক রোমশ হাতগুলো। নগরে নগরে এত যে উৎসবের রং, সবই বাণিজ্যের আলোয় ছড়ানো। আমাদের বিজয়ের গানগুলো দখল করে নিতে পারছে বাতাস বিক্রেতা কোম্পানি। আমাদের খাদ্যাভ্যাস পাল্টিয়ে দিতে পারছে লুটেরা-পরগাছা সংস্কৃতি। আমাদের জীবনাচরণ আমূল বদলিয়ে দিতে পারছে ফ্যাশন আমদানীকারক ভেল্কিবাজরা। আমরা আকন্ঠ ডুবে যাচ্ছি যাদুকরের জমাট কাদায়।
আমাদের প্রকৃতি নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে। আমাদের জল, আমাদের নদী, আমাদের বনভূমি, আমাদের ফসলী জমিন, আমাদের শস্যের বীজ, আমাদের শিক্ষা, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের খনিজ সম্পদ, আমাদের রাজনীতি, আমাদের সাধারণ সার্বজনিন জীবন যাপন, জীবন জীবীকা, আমাদের নারীর অধিকার, আমাদের শ্রমিকের অধিকার, প্রকৃতিক বিপর্যয় হতে সতর্ক হতে পারাটা, আমাদের মুক্ত বাতাস, শিশুর তরে ও মুক্তমানুষের তরে একটু খোলা প্রান্তর, আর আমাদের আইনী অধিকারটা কতটুকু নিরাপদ? আমি কি আমার প্রাণের উৎসবকে আমার মতো করে স্নিগ্ধ, মায়াবী আর উদার আনন্দের ভেতরে বসে উপভোগ করতে পারছি? হায় নববর্ষ, আমাকে এক মুঠো নির্মল আনন্দ উপভোগের একটু সুযোগ দাও! নতুন সনে আমরা কি আমাদের নিরাপত্তার দিকটা নতুন অর্থে ভাবতে চাইবো না? শুভ হোক তোমার জন্মদিন হে ১৪১৮ সন!
নতুন সনে কোন নতুন ভাবনা
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।



assalamualikum sir
বাংলাতে সালাম দেয়া যায় না?
ভালো থাকবেন।
আসসালামুয়ালিকুম স্যার
আর ভুল হবেনা। দূঃখিত
এটাও তো বাংলা না।
লাল সালাম মহাশয় … এটা বাংলা ধরা যেতে পারে।
সালাম বিষয়ক জটিলতা । হা হা হা
এটা কি জটিলতা বলা যায়? সঠিকতা মিলানো হচ্ছে।
ভালো থেকো তানিম। তোমার লেখা পেয়েছি।
সালামের বাংলা হল – আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হউক
ধন্যবাদ আলীম ভাই ।
মাসুম, এটাও তো আমাদানী করা। শুভ কামনা। ভালো থেকো। ভালো থাকবেন। এ রকম হতে পারে।
আচ্ছা কেউ কি বলতে পারবেন, ধর্ম সৃষ্টি হওয়ার আগে মানুষ কি বলে কুশল বিনিময় করতো?
‘আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক’ শুনতে কেমন মেকী মেকী লাগে না?
সবাই সালাম নিয়ে পড়লেন কেনো? তাহলে বোঝা যায়, কেউ আসলে লেখা পড়তে আগ্রহী নয়। সবাই না পড়েই অথবা মন্তব্য পড়ে মন্তব্য করে। পোস্টে এমন ২/১টা লাইন কি নেই, যে নিয়ে দু’কথা হতে পারে বা হতে পারতো?
আবার অনেকে বলতে পারেন, ব্লগ জ্ঞান চর্চার ক্লাব নয়। আমি বলি জ্ঞান চর্চা না হোক, ভাবনা বিনিময় হতে পারে। মনে মধ্যে অনেক খামচি দৌড়ে বেড়ায়, সেই দাগটা নিয়ে ধোপা ধোলাই হতে পারে!
আতলেমী করলাম। ভালো থাকবেন।
শুভেচ্ছা নতুন বছরের। কালকের অনুষ্ঠানের বাউল গান এখনো কানে বাজছে
ঐ পরিবেশে গানগুলো আত্মার পরশ পাইছে? তোমরা হয়তো পারছো। আমি পারি নাই।
ইস কাইল যদি আপনার চুলগুলা একবার ঝাঁকি দিতেন। জোশ হইত। এইটা মিস করছি
ভালোই মজা লও! ফেসবুকে একটা পোষ্ট দিছো দেখলাম। কথা এখানে বলাই যেতো!
বললেই কথা বাড়ে। তার চেয়ে সামনে যেন এরকম না হয় সেটাই দেখব।
আমি বলি, সম্পাদকদের লেখাটা ভালো লাগছে বলে ছাপছে। তারপরও একটা সীমাবদ্ধতা থাকে। তুমি কাগজ করো তুমিই বুঝতে পারবে। যাক বাদ দাও।
শুভ হোক তোমার জন্মদিন হে ১৪১৮ সন!
স্বাগতম।
আপনাদের সবাই প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
ভালো হোক সবার।
নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রিয় কবি।

আপনাকেও অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
ভালো থাকবেন।