প্রসঙ্গ বাংলাদেশ: হতে পারে একটি আর্দশ ইসলামী রাষ্ট্র পর্ব ০২

প্রথম পর্ব এখানে

জিহাদের সংগা মূলতঃ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে বদলাতে থাকে। জিহাদ সর্ম্পকে সঠিক ধারণা পেতে হলে আপনাকে পড়তে হবে পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদীসের বাণীগুলো। সূরা আনকাবুতের ৬নং আয়াতে আছে-

“আর যে ব্যক্তি জিহাদ করে সে তো নিজের জন্যেই জিহাদ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’য়ালা বিশ্ববাসীর কারো নিকট মুখাপেক্ষী নন।”

তার মানে আপনি যদি চেষ্টা করেন আল্লাহ তা’য়ালার পথে, তাহলে আপনি চেষ্টা করছেন নিজের জন্যেই। কারণ আল্লাহ তা’য়ালার কোন অভাব নেই। পবিত্র হাদীস শরীফে আছে-

> হযরত আয়েশা (রাঃ) {তিনি হযরত মুহাম্মদ (ছাঃ) এর স্ত্রী}তিনি হযরত মুহাম্মদ (ছাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের কি জিহাদে যাওয়া উচিত না? হযরত মুহাম্মদ (ছাঃ) বললেন, তোমার জন্যে সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ হলো একটি নির্ভুল হজ্জ্ব। {সহীহ বুখারী, ৪র্থ খন্ড; হাদীস নং-২৭৮৪}

> সহীহ বুখারীর ৫৭৯২নং হাদীসে আছে- একজন লোক মহানবী (ছাঃ) এর কাছে আসলো, এবং বললো যে আমার কি জিহাদে যাওয়া উচিত? আর এখানে জিহাদ, সংগ্রাম করা, বলতে বোঝানো হচ্ছে খারাপ লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। তো লোকটা জিজ্ঞেস করলো, আমার কি জিহাদে যাওয়া উচিত, খারাপ লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে? হযরত মুহাম্মদ (ছাঃ) জিজ্ঞেস করলেন যে, তোমার কি বাবা-মা আছে? লোকটি বললো, আছে। হযরত মুহাম্মদ (ছাঃ) বললোন, তোমার জন্যে সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ হলো তোমার বাবা-মায়ের সেবা করা।

> অন্য আরেকটি যায়গায়, যেটি আছে সুনানে নাসাঈতে, হাদীস নং ৪২০৯- এক লোক মহানবী (ছাঃ) কে জিজ্ঞেস করলো, কোন জিহাদটি সর্বশ্রেষ্ঠ? মহানবী (ছাঃ) বললেন, শ্রেষ্ঠ জিহাদ হচ্ছে সেই জিহাদ, সব সময় সত্য কথা বলতে হবে অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে। তাহলে এখানে দেখা যাচ্ছে যে, পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে সর্বশ্রেষ্ঠ সংগ্রাম, সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ বদলাচ্ছে। জিহাদ মানে বোমা মেরে লোক হত্যা নয়, এটি সর্ম্পূন পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। যেমন যদি কোন ইসলামী রাষ্ট্রে শত্রু কর্তৃক আক্রমন হয়, যখন বিকল্প কোন উপায় থাকে না, তখন প্রত্যেক সবল নাগরিকের উচিত যুদ্ধে অংশগ্রহন করা, এটিও জিহাদ; তবে অবস্থার উপর নির্ভরশীল। ইসলাম সর্বাবস্থায় শান্তির কথা বলে।

ইসলামের কিছু সমালোচক, উদাহরন হিসেবে ভারতের বিখ্যাত সমালোচক “অরুন শুরী” একটি বই লিখছেন- “দ্য ওয়ার্ল্ড অভ ফতোয়া”। তার বইতে তিনি পবিত্র আল-কোরআনের সূরা তওবার ৯ নাম্বার পারার ৫নং আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন যে; তার মতে কোরআন বলছে, যদি কোন কাফেরের সাথে দেখা হয়, ব্রাকেটের ভিতর হিন্দু, (হিন্দু শব্দটি তার নিজের সংযোজন) তাকে মেরে ফেল, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রাখো। হিন্দু শব্দটি পবিত্র কোরআনের কোথাও নেই এবং এটি প্রসঙ্গ ছাড়া উদ্ধৃতি। এখন ভেবে দেখেন যদি কোন হিন্দু তার বই পড়ে তাহলে সে ভাববে, কোরআন বলছে হিন্দুদের মেরে ফেল। আর কোন মুসলিম যদি তার এই প্রসঙ্গ ছাড়া উদ্ধৃতি ও নিজের সংযোজনকৃত উদ্ধৃতি পড়ে, তাহলে সে মনে করবে তার দায়িত্ব হলো- যদি কোন হিন্দুর সাথে দেখা হয়, তবে তাকে মেরে ফেলা। প্রকৃত সমস্যা হচ্ছে এধরনের কিছু লোক সারা বিশ্বে এবং আমাদের দেশেও বিদ্যমান, এর মাধ্যমে তারা নিজেদের উদ্দেশ্য পূরন করতে চাচ্ছে। আবার কিছু সমালোচক প্রথমে সূরা তওবার ৯ নম্বর পারার ৫নং আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে লাফ দিয়ে ৭নং আয়াতে চলে যায়। একজন বুদ্ধিমান লোক সহজেই বুঝতে পারবে কেন এটা করা হয়েছে। কারন ৬নং আয়াতেই রয়েছে সব অভিযোগের উত্তর।

আপনি যদি শানে নুযূলসহ সূরা তওবা পড়েন, তাহলে দেখবেন যে, প্রথমদিকে বলা হয়েছে মুসলমান আর মুশরিকদের মধ্যকার একটি শান্তিচুক্তির কথা। আর এ শান্তিচুক্তি মক্কার মুশরিকরা ইচ্ছে করেই ভেঙ্গেছিল। আর তখন মহান আল্লাহ তা’য়ালা ৫নং আয়াতে বললেন যে, যুদ্ধের ময়দানে যখনই তোমার শত্রুকে (এখানে কাফের মানে অবিশ্বাসী শত্রু) দেখতে পাবে, তাকে যুদ্ধের ময়দানে মেরে ফেল। এরপরেই ৬নং আয়াতে বলা হয়েছে, যদি অবিশ্বাসীরা শান্তি চায়, তাহলে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাও, যেন তারা আল্লাহর বাণী সর্ম্পকে জানতে পারে। মনে করুন “ক” আর “খ” দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে, এখন “ক” দেশের আর্মি জেনারেল বললো যে, তোমরা যেখানেই “খ” দেশের লোকদের দেখবে, সেখানেই মেরে ফেল। এখানে আর্মি জেনারেল যুদ্ধকালীন অবস্থায় শত্রুপক্ষের লোকদের মারার নির্দেশ দিচ্ছেন। এখন যুদ্ধ থেমে যাওয়ার অনেক পরে আপনি যদি বলেন, যেহেতু আমার জেনারেল (ক দেশের) বলেছেন “খ” দেশের লোকদের যেখানেই দেখ, মেরে ফেল; তাই আমি তাদের যেখানেই দেখবো মেরে ফেলবো। এ কথাগুলো হাস্যকর হবে। আজকের দিনের কোন মহৎ আর্মি জেনারেল হয়তো বলবে, যদি শান্তি স্থাপন করতে চায় তবে তাদের ছেড়ে দাও। কিন্তু কোন আর্মি জেনারেল বলবে যে, তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাও? কিন্তু কোরআন এই কথাটাই বলেছে। তাই দেখা গেল যে ইসলাম র্সবাবস্থায় শান্তির কথা বলে। সুতরাং প্রসঙ্গ ছাড়া উদ্ধৃতি দেয়া হলে, তাহলে তা লোকদের বিপথগামী করবে। আর ঠিক এধরনের পন্থা অবলম্বন করেই জিহাদের ব্যখ্যা পাল্টে দেয়া হচ্ছে।

আগামী পর্বে সমাপ্য……

তথ্যসূত্র-
# Terrorism and Jihad- A lecture of Dr. Jakir Naik.
# The Merciful Quran
# Hadith- Sahih Al-Bukhari, Sunane Nasaayee.

VN:R_U [1.9.7_1111]
রেটিং করুন:
Rating: 0.0/5 (0 votes cast)
VN:R_U [1.9.7_1111]
Rating: 0 (from 0 votes)

এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

৩ টি মন্তব্য (লেখকের ০টি) | ৩ জন মন্তব্যকারী

  1. নদ্দিউ নতিম : ০৮-০৯-২০১১ | ১৮:০৩ |

    এই পোষ্টটির সহিত শতভাগ সহমত ব্যাক্ত করছি।

  2. বিষণ্ণময়ী : ০৮-০৯-২০১১ | ২১:১০ |

    আর বর্তমানে জেহাদ হল কেনো রমনায় সবাই গান গায়, কেনো হাসিনা খালেদা দেশ চালায়, কেনো তাদের নেতাদের ফাসি দেয়া হয় আরো বহু কিছু, আর এই ব্রেইন ওয়াশ এমন ভাবে করে দেয় যে তারা সুইসাইড এ্যাপাম্ট নিয়ে বোমা হামলা করে নিজেরাও মারা যায় যেখানে ধর্মে বলা আছে আত্নহত্যা মহা পাপ। আর বাবা মা র কথা যদি তারা ভাবতো তাহলে এভাবে নিরীহ মানুষদের মেরে নিজেরা মরত না। ধর্মকে তারা পুজি করে এখন চলে যেখানে ধর্মের যে মূল কথা কি সেটাই তারা ভুলে যায়।

  3. সাহেদ হোসেন : ১৩-০৯-২০১১ | ১২:২৪ |

    শুধু বাংলাদেশ না সকল দেশের কএতএ এটা প্রযোজ্য।