কোয়ান্টাম মেথড: একটি শয়তানী ফাঁদ

মানুষকে আল্লাহর ইবাদত থেকে ফিরিয়ে কথিত অন্তর্গুরুর ইবাদতে লিপ্ত করার অভিনব প্রতারণার নাম হ’ল কোয়ান্টাম মেথড। হাযার বছর পূর্বে ফেলে আসা হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান পাদ্রী ও যোগী-সন্ন্যাসীদের যোগ-সাধনার আধুনিক কলা-কৌশলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেডিটেশন’। হতাশাগ্রস্ত মানুষকে সাময়িক প্রশান্তির সাগরে ভাসিয়ে এক কল্পিত দেহভ্রমণের নাম দেওয়া হয়েছে Science of Living বা জীবন-যাপনের বিজ্ঞান। আকর্ষণীয় কথার ফুলঝুরিতে ভুলে টাকাওয়ালা সাধারণ শিক্ষিত মানুষেরা এদের প্রতারণার ফাঁদে নিজেদেরকে সঁপে দিচ্ছেন অবলীলাক্রমে। ব্যয় করছেন কথিত ধ্যানের পিছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ঢেলে দিচ্ছেন হাযার হাযার টাকা। অথচ একটা রঙিন স্বপ্ন ছাড়া তাদের ভাগ্যে কিছুই জুটছে না। অন্যদিকে মুসলমান যারা এদের দলে ভিড়ছে, তারা শিরকের মহাপাতকে লিপ্ত হয়ে দুনিয়া ও আখেরাত দু’টিই হারাচ্ছে। নিম্নে আমরা এদের আক্বীদা-বিশ্বাস ও কর্মনীতি যাচাই করব।-

কোয়ান্টামের পঞ্চসূত্র হ’ল, প্রশান্তি, সুস্বাস্থ্য, প্রাচুর্য, সুখী পরিবার ও ধ্যান। বলা হয়েছে, কোয়ান্টাম প্রত্যেকের ধর্মবিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করে। সুখী মানুষের সবটুকু প্রয়োজন পূরণের প্রক্রিয়াই রয়েছে কোয়ান্টামে। তাই কোয়ান্টামই হচ্ছে নতুন সহস্রাব্দে আধুনিক মানুষের জীবন যাপনের বিজ্ঞান’। অন্যান্য ডিগ্রীর ন্যায় এখানকার ধ্যান সাধনায় যারা উত্তীর্ণ হয়, তাদেরকে ‘কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট’ বলে শ্রুতিমধুর একটা ডিগ্রী দেওয়া হয়। তাদের প্রচার অনুযায়ী বাংলাদেশে ফলিত মনোবিজ্ঞানের পথিকৃৎ এবং আত্মউন্নয়নে ধ্যান পদ্ধতির প্রবর্তক প্রফেসর এম.ইউ. আহমাদ নাকি ক্লিনিক্যালি ডেড হওয়ার পরেও পুনরায় জীবন লাভ করেন শুধু ‘তাঁকে বাঁচতে হবে, তিনি ছাড়া দেশে নির্ভরযোগ্য মনোচিকিৎসক নেই’ তাঁর এই দৃঢ় বিশ্বাসের জোরে’ (মহাজাতক, কোয়ান্টাম টেক্সট বুক, জানু. ২০০০, পৃঃ ২২-২৪)। অর্থাৎ হায়াত-মউতের মালিক তিনি নিজেই।

প্রথমে বলে রাখি, মানবরচিত প্রত্যেক ধর্মেই স্ব স্ব নিয়মে ধ্যান পদ্ধতি আছে। হিন্দু-বৌদ্ধ যোগী-সন্ন্যাসীদের সাধন-ভজন সম্বন্ধে আমরা কিছুটা জানি। আল্লাহ প্রেরিত ঈসায়ী ধর্মে সর্বপ্রথম সন্ন্যাসবাদের উদ্ভব হয়। যে বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘আর সন্ন্যাসবাদ, সেটাতো তারা নিজেরাই প্রবর্তন করেছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে। আমরা তাদেরকে এ বিধান দেইনি। অথচ এটাও তারা যথাযথভাবে পালন করেনি। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল, তাদেরকে আমরা পুরস্কার দিয়েছিলাম। আর তাদের অধিকাংশ ছিল পাপাচারী’ {হাদীদ ৫৭/২৭}।

এখানে আল্লাহ তাদেরকে দুইভাবে নিন্দা করেছেন। ১. তারা আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে বিদ‘আত অর্থাৎ নতুন রীতির উদ্ভাবন করেছিল। ২. তারা নিজেরা যেটাকে আল্লাহর নৈকট্য মনে করে আবিষ্কার করেছিল, সেটার উপরেও তারা টিকে থাকতে পারেনি। ইসলামের স্বর্ণযুগের পরে ভ্রষ্টতার যুগে মা‘রেফতের নামে বিদ‘আতী পীর-ফকীররা নানাবিধ ধ্যান পদ্ধতি আবিষ্কার করে। অতঃপর কথিত ইশক্বের উচ্চ মার্গে পৌঁছে হুয়া হু করতে করতে যখন চক্ষু ছানাবড়া হয়ে ‘কাশফ’ বা ‘হাল’ হয়, তখন নাকি তাদের আত্মা পরমাত্মার মধ্যে লীন হয়ে যায়। একে তাদের পরিভাষায় ফানা ফিল্লাহ বা বাক্বা বিল্লাহ বলে। এরাই ছূফী ও পীর-মাশায়েখ নামে এদেশে পরিচিত। অথচ এইসব মা‘রেফতী তরীকার কোন অনুমোদন ইসলামে নেই। ধ্যানকে কোয়ান্টামের পরিভাষায় বলা হয় ‘মেডিটেশন’ (Medetation)। যার প্রথম ধাপ হ’ল ‘শিথিলায়ন’ যা মনের মধ্যে ধ্যানাবস্থা সৃষ্টি করে। আর শেষ ধাপ হ’ল মহা চৈতন্য (Super Consciousness)। যখন তারা বস্তুগত সীমা অতিক্রম করে মহা প্রশান্তির মধ্যে লীন হয়ে যায়। যদিও এর কোন সংজ্ঞা তাদের বইতে সুস্পষ্টভাবে নেই।

এক্ষণে কোয়ান্টামের সাথে অন্যদের পার্থক্য এই যে, অন্যেরা স্ব স্ব ধর্মের মধ্যে বিদ‘আত সৃষ্টি করেছে ও স্ব স্ব ধর্মের নামেই পরিচিতি পেয়েছে। পক্ষান্তরে কোয়ান্টাম মেথড সকল ধর্ম ও বর্ণের লোকদের নতুন ধ্যানরীতিতে জমা করেছে। খানিকটা সম্রাট আকবরের দ্বীনে এলাহীর মত। তখন আবুল ফযল ও ফৈযীর মত সেকালের সেরা পন্ডিতবর্গের মাধ্যমে সেটা চালু হয়েছিল মূলতঃ রাজনৈতিক কারণে। আর এ যুগে কিছু উচ্চ শিক্ষিত সুচতুর লোকদের মাধ্যমে এটা চালু হয়েছে ইসলাম থেকে মানুষকে সরিয়ে নেবার জন্যে এবং শিক্ষিত শ্রেণীকে বিশ্বাসে ও কর্মে পুরোপুরি ধর্মনিরপেক্ষ বানাবার জন্যে। যাতে ভবিষ্যতে এদেশ তার ইসলামী পরিচিতি হারিয়ে সেক্যুলার দেশে পরিণত হয়। মুনি-ঋষিরা ধ্যান করে তাদের ঈশ্বরের নৈকট্য লাভের জন্য। পক্ষান্তরে কোয়ান্টামে ধ্যান করা হয় স্ব স্ব ‘অন্তর্গুরু’কে পাওয়ার জন্য। যেমন বলা হচ্ছে, ‘অন্তর্গুরুকে পাওয়ার আকাংখা যত তীব্র হবে, তত সহজে আপনি তার দর্শন লাভ করবেন। এ ব্যাপারে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা হয়েছে কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েটদের’ (পূর্বোক্ত, পৃঃ ২৪৭)। যেমন একটি ঘটনা বলা হয়েছে, ‘ছেলে কোলকাতায় গিয়েছে। দু’দিন কোন খবর নেই। বাবা কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট। মাগরিবের নামাজ পড়ে মেডিটেশন কমান্ড সেন্টারে গিয়ে ছেলের বর্তমান অবস্থা দেখার চেষ্টা করতেই কোলকাতার একটি সিনেমা হলের গেট ভেসে এল। ছেলে সিনেমা হলের গেটে ঢুকছে। বাবা ছেলেকে তার উদ্বেগের কথা জানালেন। বললেন শিগগীর ফোন করতে’ (পূর্বোক্ত, পৃঃ ২৪১)। এমনিতরো উদ্ভট বহু গল্প তারা প্রচার করেছেন।

এক্ষণে আমরা দেখব ইসলামের সাথে এর সম্পর্ক :
১. এটি তাওহীদ বিশ্বাসের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং পরিষ্কারভাবে শিরক। তাওহীদ বিশ্বাস সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ কেন্দ্রিক। ইসলামের সকল ইবাদতের লক্ষ্য হ’ল আল্লাহর দাসত্ব ও রাসূল (ছা.)-এর আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা ও পরকালে মুক্তি লাভ করা। পক্ষান্তরে কোয়ান্টামের ধ্যান সাধনার লক্ষ্য হ’ল অন্তর্গুরুকে পাওয়া। যা আল্লাহ থেকে সরিয়ে মানুষকে তার প্রবৃত্তির দাসত্বে আবদ্ধ করে। এদেরকে লক্ষ্য করেই আল্লাহ বলেন, ‘আপনি কি দেখেছেন ঐ ব্যক্তিকে, যে তার প্রবৃত্তিকে ইলাহ বানিয়েছে? আপনি কি তার যিম্মাদার হবেন’? ‘আপনি কি ভেবেছেন ওদের অধিকাংশ শুনে বা বুঝে? ওরা তো পশুর মত বা তার চাইতে পথভ্রষ্ট’ {ফুরক্বান ২৫/৪৩-৪৪}। মূলতঃ ঐ অন্তর্গুরুটা হ’ল শয়তান। সে সর্বদা তাকে রঙিন স্বপ্নের মাধ্যমে তার দিকে প্রলুব্ধ করে।

২. তারা বলেন, মনকে প্রশান্ত করার মতো নামাজ যাতে আপনি পড়তে পারেন সেজন্যই মেডিটেশন দরকার। কেননা নামাজের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হুযুরিল ক্বালব, একাগ্রচিত্ততা। এটা কিভাবে অর্জিত হয়, তা এখানে এলে শেখা যায়’ (প্রশ্নোত্তর ১৪২৭)।

জবাব : এটার জন্য সর্বোত্তম পন্থা হ’ল ছালাত। এর বাইরে কোন কিছুর অনুমোদন ইসলামে নেই। আল্লাহ বলেন, তুমি ছালাত কায়েম কর আমাকে স্মরণ করার জন্য’ {ত্বোয়াহা ১৪}। রাসূলুল্লাহ (ছা.) যখন সংকটে পড়তেন তখন ছালাতে রত হ’তেন {আবুদাঊদ হা/১৩১৯}। তিনি বলেছেন, তোমরা ছালাত আদায় কর, যেভাবে আমাকে দেখছ’ {বুখারী হা/৬৩১}। যারা খুশু-খুযুর সাথে ফরয, নফল ও তাহাজ্জুদ ছালাত নিয়মিতভাবে আদায় করে, তাদেরকেই আল্লাহ সফলকাম মুমিন বলেছেন {মুমিনূন ১-২}। আর ছালাতে ধ্যান করা হয় না। বরং একমনে বান্দা তার সৃষ্টিকর্তার সাথে একান্তে আলাপ করে {বুখারী হা/৫৩১}। সর্বোচ্চ শক্তির কাছে নিজের দুর্বলতা ও নিজের কামনা-বাসনা পেশ করে সে হৃদয়ে সর্বোচ্চ প্রশান্তি লাভ করে এবং নিশ্চিত আশাবাদী হয়। অথচ মেডিটেশনের কথিত অন্তর্গুরুর কোন ক্ষমতা নেই। তার সাধনায় নিশ্চিত আশাবাদের কোন প্রশ্নই ওঠে না। কেননা ওটা তো স্রেফ কল্পনা মাত্র। ছালাতে আল্লাহর ইবাদত করা হয়। পক্ষান্তরে মেডিটেশনে অন্তর্গুরুর ইবাদত করা হয়। একটি তাওহীদ, অপরটি শিরক। দু’টিকে এক বলা দিন ও রাতকে এক বলার সমান। যা চরম ধৃষ্টতার নামান্তর।

৩. তারা বলেন, কোয়ান্টাম মেডিটেশনের জন্য ধর্ম বিশ্বাস কোন যরূরী বিষয় নয়। ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্মের সাথে এর কোন বিরোধ নেই। তাদের কার্যাবলীতে এর প্রমাণ রয়েছে। যেমন, ‘এখন কোয়ান্টাম শিশু কাননে রয়েছে ১৫টি জাতিগোষ্ঠীর চার শতাধিক শিশু। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্রামা, খ্রিষ্টান, প্রকৃতিপূজারী সকল ধর্মের শিশুরাই যার যার ধর্ম পালন করছে। আর এক সাথে গড়ে উঠছে আলোকিত মানুষ হিসাবে’ (শিশু কানন)।

জবাব : মানুষকে সকল ধর্ম থেকে বের করে এনে কোয়ান্টামের নতুন ধর্মে দীক্ষা নেবার ও কোয়ান্টাম নেতাদের গোলাম বানানোর চমৎকার যুক্তি এগুলি। কেননা অন্তর্গুরুর ব্যাখ্যায় তারা বলেছেন, আধ্যাত্মিকতার পথে অগ্রসর হতে গেলে একজন আলোকিত গুরুর কাছে বায়াত বা দীক্ষা নেয়া প্রয়োজন। এছাড়া আধ্যাত্মিকতার সাধনা এক পিচ্ছিল পথ। যেকোন সময়ই পা পিছলে পাহাড় থেকে একেবারে গিরিখাদে পড়ে যেতে পারেন’ (টেক্সটবুক, পৃঃ ২৪৭)। অর্থাৎ এরা ‘আলোকিত মানুষ’ বানাচ্ছে না। বরং ইসলামের আলো থেকে বের করে এক অজানা অন্ধকারে বন্দী করছে। যার পরিণাম জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন তালাশ করবে, তা কবুল করা হবে না। ঐ ব্যক্তি আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ {আলে ইমরান ৮৫}। রাসূল (ছা.) বলেন, আমি তোমাদের কাছে একটি উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন দ্বীন নিয়ে এসেছি’ {আহমাদ, মিশকাত হা/১৭৭}। অতএব ইসলামের প্রকৃত অনুসারীরাই কেবল আলোকিত মানুষ। বাকী সবাই অন্ধকারের অধিবাসী।

৪. তারা বলেন, বহু আলেম আমাদের মেডিটেশন কোর্সে অংশগ্রহণ করেন এবং তারা এর সাথে ইসলামের কোন বিরোধ নেই বলেছেন।

জবাব : অল্প জ্ঞানী অথবা কপট বিশ্বাসী ও দুনিয়াপূজারী লোকেরাই চিরকাল ইসলামের ক্ষতি করেছে। আজও করছে। ওমর (রা.) বলেন, ইসলামকে ধ্বংস করে তিনটি বস্তু : (১) আলেমদের পদস্খলন (২) আল্লাহর কিতাবে মুনাফিকদের ঝগড়া এবং (৩) পথভ্রষ্ট নেতাদের শাসন’ {দারেমী}। মনে রাখা আবশ্যক যে, রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর জীবদ্দশায় ইসলাম পূর্ণতা লাভ করেছে। অতএব যা তাঁর ও তাঁর ছাহাবীগণের আমলে দ্বীন হিসাবে গৃহীত ছিল, কেবলমাত্র সেটাই দ্বীন হিসাবে গৃহীত হবে। তার বাইরে কোন কিছুই দ্বীন নয়।

৫. মেডিটেশন পদ্ধতি নিজের উপরে তাওয়াক্কুল করতে বলে এবং শিখানো হয় যে, ‘তুমি চাইলেই সব করতে পার’। এরা হাতে মূল্যবান ‘কোয়ান্টাম বালা’ পরে ও তার উপরে ভরসা করে।

জবাব : ইসলাম মানুষকে মহাশক্তিধর আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করতে শিখায় এবং আল্লাহ যা চান তাই হয়। এর মাধ্যমে মুমিন নিশ্চিন্ত জীবন লাভ করে ও পূর্ণ আত্মশক্তি ফিরে পায়। আর ইসলামে এ ধরনের ‘বালা’ পরা ও তাবীয ঝুলানো শিরক {ছহীহাহ হা/৪৯২}।

৬. তারা বলেন, শিথিলায়ন প্রক্রিয়ায় মানুষের মধ্যে এমন এক ক্ষমতা তৈরী হয়, যার দ্বারা সে নিজেই নিজের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করতে পারে। এজন্য একটা গল্প বর্ণনা করা হয়েছে যে, এক ইঞ্জিনিয়ার সপরিবারে আমেরিকায় বসবাস করার মনছবি দেখতে লাগল। ফলে সে ডিভি ভিসা পেয়ে গেল। তারপর সেখানে ভাল একটা চাকুরীর জন্য মনছবি দেখতে লাগল। ফলে সেখানে যাওয়ার দেড় মাসের মধ্যেই উন্নতমানের একটা চাকুরী পেয়ে গেল’ (টেক্সট বুক পৃঃ ১১৫)।

জবাব : ইসলাম মানুষকে তাকদীরে বিশ্বাস রেখে বৈধভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে বলে। অথচ কোয়ান্টাম সেখানে আল্লাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে কথিত মনছবির পূজা করতে বলে।

৭. কোয়ান্টামের মতে রোগের মূল কারণ হ’ল মানসিক। তাই সেখানে মনছবি বা ইমেজ থেরাপি ছাড়াও ‘দেহের ভিতরে ভ্রমণ’ নামক পদ্ধতির মাধ্যমে শরীরের নানা অঙ্গের মধ্য দিয়ে কাল্পনিক ভ্রমণ করতে বলা হয়। এতে সে তার সমস্যার স্বরূপ সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করে এবং নিজেই কম্যান্ড সেন্টারের মাধ্যমে সমাধান করতে পারে। যেমন, একজন ক্যান্সার রোগী তার ক্যান্সারের কোষগুলিকে সরিষার দানা রূপে কল্পনা করে। আর দেখে যে অসংখ্য ছোট ছোট পাখি ঐ সরিষাদানাগুলো খেয়ে নিচ্ছে। এভাবে আস্তে আস্তে সর্ষে দানাও শেষ, তার ক্যান্সারও শেষ’ (টেক্সট বুক পৃঃ ১৯৪)।

৮. এদের শোষণের একটি হাতিয়ার হ’ল ‘মাটির ব্যাংক’। যে নিয়তে এখানে টাকা রাখবেন, সে নিয়ত পূরণ হবে। প্রথমবারে পূরণ না হ’লে বুঝতে হবে মাটির ব্যাংক এখনো সন্তুষ্ট হয়নি। এভাবে টাকা ফেলতেই থাকবেন। কোন মানত করলে মাটির ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হবে। পূরণ না হলে অর্থের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এখানে খাঁটি সোনার চেইন বা হীরার আংটি দিতে পারেন। ইমিটেশন দিলে মানত পূরণ হবে না (প্রশ্নোত্তর)। এর জন্য একটা গল্প ফাঁদা হয়েছে। যেমন, ‘মধ্যরাতে উঠে মাটির ব্যাংকে পাঁচশত টাকা রাখার সাথে সাথে মুমূর্ষু ছেলে সুস্থ হয়ে গেল’ (দুঃসময়ের বন্ধু..)।

প্রিয় পাঠক! বুঝতে পারছেন, কত সুচতুরভাবে মানুষকে আল্লাহ থেকে সরিয়ে নিয়ে তাদের কম্যান্ড সেন্টারে আবদ্ধ করা হচ্ছে এবং সেই সাথে মাটির ব্যাংকে টাকা ও গহনা রাখার ও তা কুড়িয়ে নেবার চমৎকার ফাঁদ পাতা হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে রোগ ও তা আরোগ্য দানের মালিক আল্লাহ। আল্লাহর হুকুম আছে বলেই মুমিন ঔষধ খায়। ঔষধ আরোগ্যদাতা নয়। বরং আল্লাহ মূল আরোগ্যদাতা। এই বিশ্বাস তাকে প্রবল মানসিক শক্তিতে শক্তিমান করে তোলে। এজন্য তাকে মেডিটেশন বা কম্যান্ড সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। মাটির ব্যাংকে টাকা রাখারও দরকার হয় না। বরং গরীবকে ছাদাক্বা দিলে তার গোনাহ মাফ হয় {মিশকাত হা/২৯}।

৯. অন্যান্য বিদ‘আতীদের ন্যায় এরাও কুরআন-হাদীছের অপব্যাখ্যা করেছে মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে দলে ভিড়ানোর জন্য। যেমন-

(ক) ‘সকল ধর্মই সত্য’ তাদের এই মতবাদের পক্ষে সূরা কাফেরূনের ‘লাকুম দ্বীনুকুম ওয়া লিয়া দ্বীন’ শেষ আয়াতটি ব্যবহার করেছে। যেন আবু জাহলের দ্বীনও ঠিক, মুহাম্মাদ (ছা.)-এর দ্বীনও ঠিক। এই অপব্যাখ্যা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিকরা ও তাদের পদলেহীরা করে থাকে। কোয়ান্টামের লোকেরাও করছে। অথচ ইসলামের সারকথা একটি বাক্যেই বলা হয়েছে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আল্লাহ ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই। একথার মধ্যে সকল ধর্ম ও মতাদর্শকে অস্বীকার করা হয়েছে। কোয়ান্টামের অন্তর্গুরু নামক ইলাহটিকেও বাতিল করা হয়েছে।

(খ) তারা বলেন মেডিটেশন একটি ইবাদাত। যা রাসূল (ছা.) হেরা গুহায় করেছেন’। অথচ এটি স্রেফ তোহমত বৈ কিছু নয়। নিঃসঙ্গপ্রিয়তা আর মেডিটেশন এক নয়। তাছাড়া নবী হওয়ার পরে তিনি কখনো হেরা গুহায় যাননি। ছাহাবায়ে কেরামও কখনো এটি করেননি।

(গ) তারা সূরা জিন-এর ২৬ ও ২৭ আয়াতের অপব্যাখ্যা করে বলেছেন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা গায়েবের খবর জানাতে পারেন। অতএব যে যা জানতে চায় আল্লাহ তাকে সেই জ্ঞান দিয়ে দেন’ (প্রশ্নোত্তর ১৭৫৩)। অথচ উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাঁর মনোনীত রাসূল ছাড়া তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারু নিকট প্রকাশ করেন না। এ সময় তিনি সামনে ও পিছনে প্রহরী নিযুক্ত করেন’। অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর রাসূলের নিকট ‘অহি’ প্রেরণ করেন এবং তাকে শয়তান থেকে নিরাপদ রাখেন। এই ‘অহি’-টাই হ’ল গায়েবের খবর, যা কুরআন ও হাদীছ আকারে আমাদের কাছে মওজুদ রয়েছে। রাসূল (ছা.)-এর মৃত্যুর পর ‘অহি’-র আগমন বন্ধ হয়ে গেছে। অতএব কোয়ান্টামের গুরুরা চাইলেও গায়েবের খবর জানতে পারবেন না।

(ঘ) তারা সূরা বুরূজ-এর বুরূজ অর্থ করেন ‘রাশিচক্র’। যাতে আল্লাহকে বাদ দিয়ে রাশিচক্র অনুযায়ী মানুষের ভাল-মন্দ ও শুভাশুভ নির্ধারণের বিষয়টি তাদের শিষ্যদের মনে গেঁথে যায়। অথচ এটি হিন্দু ও তারকা পূজারীদের শিরকী আক্বীদা মাত্র।

(ঙ) তারা সূরা আলে ইমরানের ১৯১ আয়াতটি তাদের আবিষ্কৃত মেডিটেশনের পক্ষে প্রমাণ হিসাবে দাঁড় করিয়েছেন (প্রশ্নোত্তর ১৭৫৩)। ঐ সাথে একটি জাল হাদীছকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছেন যে, রাসূল (ছা.) বলেছেন, সৃষ্টি সম্পর্কে এক ঘণ্টার ধ্যান ৭০ বছরের নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম’ (প্রশ্নোত্তর ১৭২৪)। অথচ উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহর সৃষ্টি বিষয়ে গভীর গবেষণা তাকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রার্থনায় উদ্বুদ্ধ করে’। কোয়ান্টামের কথিত অন্তর্গুরুর কাছে যেতে বলে না। আর হাদীছটি হ’ল জাল। যা আদৌ রাসূল (ছা.)-এর বাণী নয়। কোন কোন বর্ণনায় ৬০ বছর ও ১০০০ বছর বলা হয়েছে’ {সিলসিলা যঈফাহ হা/১৭১}।

পরিশেষে বলব, কোয়ান্টাম মেথডের পূরা চিন্তাধারাটাই হ’ল তাওহীদ বিরোধী এবং শিরক প্রসূত। যা মানুষের মাথা থেকে বেরিয়ে এলেও এর মূল উদ্গাতা হ’ল শয়তান। মানুষকে জাহান্নামে নেবার জন্য মানুষের নিকট বিভিন্ন পাপকর্ম শোভনীয় করে পেশ করার ক্ষমতা আল্লাহ তাকে দিয়েছেন {হিজর ৩৯}। তবে সে আল্লাহর কোন মুখলেছ বান্দাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না {হিজর ৪০}। শয়তান নিজে অথবা কোন মানুষের মাধ্যমে প্রতারণা করে থাকে। যেমন হঠাৎ করে শোনা যায়, অমুক স্থানে অমুকের স্বপ্নে পাওয়া শিকড়ে বা তাবীযে মানুষের সব রোগ ভাল হয়ে যাচ্ছে। ফলে দু’পাঁচ মাস যাবত দৈনিক লাখো মানুষের ভিড় জমিয়ে হাযারো মুসলমানের ঈমান হরণ করে হঠাৎ একদিন ঐ অলৌকিক চিকিৎসক উধাও হয়ে যায়। এদের এই ধোঁকার জালে আবদ্ধ হয়েছিল সর্বপ্রথম নূহ (আ.)-এর কওম। যারা পরে আল্লাহর গযবে ধ্বংস হয়ে যায়। আমরাও যদি শিরকের মহাপাপ থেকে দ্রুত তওবা না করি, তাহ’লে আমরাও তাঁর গযবে ধ্বংস হয়ে যাব। অতএব হে মানুষ! সাবধান হও!!

সৌজন্যেঃ আত-তাহরীক

VN:R_U [1.9.7_1111]
রেটিং করুন:
Rating: 0.0/5 (0 votes cast)
VN:R_U [1.9.7_1111]
Rating: 0 (from 0 votes)

এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

৩৫ টি মন্তব্য (লেখকের ৯টি) | ১৩ জন মন্তব্যকারী

  1. আ,শ,ম,এরশাদ : ২৮-০৭-২০১২ | ১১:৩৫ |

    ভাই ব্লগিং কি ইসলাম সম্মত!! এটাতো সেই যুগে প্রচলন ছিল না। এই প্রশ্ন করলাম এই জন্য যে কোনদিন আবার বলে বসবেন এটাও একটা কুফরী। তাই আগে থেকে সাবধান হয়ে যাচ্ছি।

    ভাইজান আপনি পোস্ট শেয়ার করেন । আমি জানিনা লিখাটা আপনার কিনা বা আপনি লিখাটা পড়েও দেখেন কিনা? অথবা পোস্টের কন্টেন্ট সম্পর্কে আপনি সাম্যক ধারণা আছে কিনা? যেমন কোয়ান্টাম মেথড সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন বা এর সুফল কুফল বা কয়টা বই পড়েছেন!!

    একটা কথা কই সেটা হলো -ধর্ম যা বলে সে গুলা ভালো বলে, কিন্তু একই কথাকি অন্যকেউ আরো মনোগ্রাহী করে বলতে পারে না?
    যেমন একটা মামুলী বিষয়ে বলি-

    “রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন”


    হ্যাঁ রাগ সম্পর্কে ইসলাম ধর্মেও বলেছে অন্য ধর্মগুলোও বলেছে খুব খারাপ জিনিস। কিন্তু এই কথাকেই যদি আমি মানুষের অন্তর ছোঁয়া করে বলি তাহলে সমস্যা কোথায়? আমার আর ধর্মের একটাই লক্ষ্য সেটা হলো- রাগ থেকে মানুষকে দুরে রাখা।” এ বিষয়ে অনেক কথা বলার ছিল পরে এক সময় বলবো।
    তারপরেও বলে রাখি-

    ইসলামে এটা নেই ওটা নেই বলে বলে কিছু নিরিহ বিষয়কেও যদি ইসলাম বিরুদ্ধ করেন তাহলে মানুষ বিগড়ে যাবে । ইসলাম শান্তির ধর্ম, বিদ্বেষের নয়।

    • মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী : ২৯-০৭-২০১২ | ১১:১০ |

      ভাই ব্লগিং ইসলাম সম্মত যতক্ষণ না আপনি তাকে অসত্যের পক্ষে, অশ্লীলতার পক্ষে, তৌহিদের বিপক্ষে, মানুষকে ক্ষতির দিকে পরিচালনা বা উৎসাহ দেয়ার কাজে ব্যবহার না করেন।

      আমি পোস্ট শেয়ার করলেও না জেনে বা না বুঝে তা করি না। লেখা আগে পড়ে, বুঝে তারপর শেয়ার করি। কোয়ান্টাম সম্পর্কে ভালোই জানি। কোয়ান্টামের যে বিষয়গুলো ইসলামী আক্বীদার সাথে সাংঘর্ষিক তা পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে। ধন্যবাদ।

  2. জিয়া রায়হান : ২৮-০৭-২০১২ | ১১:৫৯ |

    ধর্মীয় বিষয়ে কথা বলার মত জ্ঞান আমার নাই এবং কোয়ান্টাম বিষয়েও তেমন জানি না। তাই আলোচনায় গেলাম না।
    ডাঃ দাউদ আপনার একতা মন্তব্য পেলে কিছু জানতে পারতাম।

  3. ফকির আবদুল মালেক : ২৮-০৭-২০১২ | ১৩:১০ |

    প্রথমেই বলে রাখি,
    আমি প্রায় প্রতিদিন মেডিটেশন করি এবং একে শিরিক তো দুরে থাক ধর্মের সাথে এর কোন বিরোধ আছে বলে আমার মনে হয় না।

    আমি কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এর দীক্ষা নেই নি। কোয়ান্টাম ম্যাথডের উপর একটি বই পড়ে আমি এর প্রতি আগ্রহী হই । শিথিলায়ন বা ধ্যানাবস্থা তৈরি করে আমি বেশ মানসিক প্রশান্তি পেয়েছি। জীবনে যখন হতাশা আর ব্যর্থতায় একে একে ভেঙ্গে পরছিলাম, পারিবারিক জীবনে নানাবিধ কলহের জীবন হয়ে পড়ছিলাম একেবারে হতাশাক্রান্ত, পরপর তিনটি সন্তানের গর্ভকালীন মৃত্যুতে একেবারে ভেঙ্গে পড়েছিলাম, জীবনের এমনই এক ক্রান্তিকালীন সময়ে আমি মেডিটেশন শুরু করি।

    আল্লাহর রহমতে এখন আমার দুই সন্তান, নিরিবিলি শান্ত জীবন যাপন করছি। আমি কোন গুরুর সন্ধান করিনি, তাবিজ কবজ নেই নি, কোন পীর ফকিরের সন্ধান করিনি, দরগায় যাইনি। মেডিটেশন করে আমি যা পেয়েছি তা হলো আমার মাঝে এই বিশ্বাস জন্মালো সঠিক পথে চেষ্ট করলে আর আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিকা করা যায়। আমি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা গাইনী ডাঃ এর চিকিৎসার গ্রহন করি এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই এবং প্রতিদিন মেডিটেশন করে যাই। স্ত্রী আর সন্তানদের নিয়ে পারিবারিক জীবনে এখন আমার চেয়ে সুখী আমি আমার আশেপাশে কাউকে খুজে পাই না।

    খুব ছোট বেলা থেকে আমি আহলে হাদীছ বিশ্বাসের সাথে পরিচিত। আমি জানি কি বিদায়াত, আর কি শিরিক। ছোট বেলা থেকে আমি নামাজ পড়ি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নানামূখী তত্ত্বকথা, রাজনৈতিক মতাদর্শ আমার বিশ্বাসকে নানা সময়ে নানা দিকে বিচ্ছিন্ন করেছে তবে খুব কম সময়ই আমি নামাযকে একেবারে ছেড়ে দিয়েছি। পারিবারিক জীবনে নানা মূখী সংঘাতেও আমি নামাজ থেকে এবং আমার ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে সরে যাই নি।

    আমি কোয়ন্টাম ফাউন্ডেশন থেকে প্রশিক্ষন নেই নি, আমি ব্যক্তিগতভাবে যেসকল কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করি তা কোন সওয়াবের আশা করে করি না। ঠিক যেমন ব্যায়াম করলে শরীরিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায় যার সাথে ধর্মের কোন বিরোধ নেই তেমনি মেডিটেশন হলো ব্রেনের একটি চর্চা। এই চর্চার মাধ্যমে কিছু ভাবের উদয় হয়, কিছু মনছবি ব্রেনের মাঝে তৈরি করা যায় যা দেখা যায় প্রায়ই বাস্তবতায় রূপ নেয়। তবে বলে রাখি এটা যেহেতু আমি নিজে নিজে মাত্র একটি বইয়ের সাহায্য কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন গুরুর সাহায্য ছাড়া চর্চা করি তাই একে কোন আদর্শ বা ষ্ট্যান্ডর্ট ধরা যায় না। এটা সম্পূর্ণ আমার একান্ত ব্যক্তিগত একটি চর্চা আর এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।

    পোষ্টটির শিরোনাম কোয়ান্টাম মেথড: একটি শয়তানী ফাঁদ এবং এর বিষয় এই শিরোনামকে সমর্থন করে গেছে এমনি পরিস্থিতিতে পোষ্টের প্রতিবাদ স্বরূপ আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এখানে বর্ননা করলাম।

    • মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী : ২৯-০৭-২০১২ | ১১:১৯ |

      আবদুল মালেক ভাই, আমার নিজেকে, পরিবার-পরিজনকে এবং একই সাথে আমার মুসলিম ভাই-বোনদের আগুন থেকে বাঁচাবার নিয়তে আমার এই সচেতনতামূলক পোস্ট শেয়ার করা। মেনে নেয়া বা না নেয়া যার যার ব্যাপার, আশা করি সে ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা আমাকে জিজ্ঞেস করবেন না। ধন্যবাদ।

    • সত্য সবার উপর : ২৯-০৭-২০১২ | ১৪:০৮ |

      ভাই আপনি তো কোয়ান্টামে যান নাই কিন্তু আমি গিয়েছি এবং তাদের এডভান্স লেভেলের কোর্সও করেছি। আমি কোয়ান্টামের পাশাপাশি কিছু হাদিস এবং কোরআন তাফিসির সহকারে পড়ার চেষ্টা করেছি এবং দেখেছি আমি শিরকের পথে হাঁটছি। যখনই বুঝতে পেরেছি তখনি ফিরে এসেছি আল্লাহ্‌র ইচ্ছায়।

      বিস্তারিত তাদের সম্পর্কে জানতে চাইলে দেখতে পারেন এখানে..অনেক বিষয় এক জায়গাতে আছে.

    • মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী : ৩০-০৭-২০১২ | ১২:৩১ |

      @সত্য সবার উপর
      আমি যাইনি ওদের ওখানে কথাটা ঠিক নয়, আপনার মতোই ১৯৯৭ সালে ওদের ফাঁদে আমিও পা দিয়েছিলাম, মহান আল্লাহ তা’আলাই তাঁর নিজ অনুগ্রহে আমাকে বাঁচিয়ে এনেছেন। আলহামদুলিল্লাহ!

  4. ডা. দাউদ : ২৮-০৭-২০১২ | ১৩:২১ |

    ভাই সাব পোষ্টে মন্তব্য পান না দেখে
    ভাবছেন উল্টা পাল্টা পোষ্ট দিলে দু চার টা মন্তব্য পেয়ে নিজের পোষ্টের অলঙ্কার বাড়াবেন।
    আসলে আপনারা দু টাকার মোল্লারা ঐ রকমই
    নিজের ঈমানের ঠিক নাই অন্যেরে নিয়া টানা টানি করেন। আরে উল্টা পাল্টা কথা বলে নাম কামানোর দরকার কী-

    এই যাবত ক’জন মানুষকে নামাজী করতে পেরেছেন?

    কত জন মানুষ কে সাবলম্বী করতে পেরেছেন?

    ক’জন এতিমের জীবনে আলোর পথ রচনা করতে পেরেছেন?

    এই যাবত ক’জন মানুষ কে হতাশা থেকে মুক্ত করেছেন?

    কত জন আসুস্থ মানুষ কে নিরাময়ের রাস্তা দেখাতে পেরেছেন?

    ক’টা মানুষ আপনার কথা শুনে এই রমজানে প্রবিত্র কোরানের অর্থ সহ খতম করেছেন?

    কত জন মানুষ আপনার গোঁড়ামির ধারনা নিয়ে রমজানের করনীয় বর্জনীয় আর দশজনকে বোঝাতে গিয়েছেন?

    কত জন মানুষ কে আপনি যাকাত দাতা করতে পেরেছেন?

    কত জনের দূঃখকে সুখে রূপান্তর করার রাস্তা দেখিয়েছেন?

    কত জন মানুষকে বুঝাতে পেরেছেন যে সে মানুষ! ধর্ম বর্ন গোত্র নির্বিশেষে সে একজন মানুষ। আদমের সন্তান আল্লাহর সৃষ্টি! আল্লাহই তাকে বিভিন্ন জাতে ভাগ করে দিয়েছেন!

    সবছেয়ে বড় কথা হলো এই যাবত নিজে কি কখনো নজেকে জিজ্ঞেস করেছেন
    যে আপনি কে?

    কোয়ান্টাম মেথড সেই কাজটিই করছে
    আজ পর্যন্ত কোন ব্যাক্তি কোয়ান্টাম মেথড কোর্স করে কেউ কি অভিযোগ করেছে যে সে এই কোর্সের মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছে?
    দেশের কোন আলেম (হোক সে যে কোন ধর্মের) এই যাবত কোয়ান্টাম মেথড কোর্সের কোন কথা বা টেকনিক কে ধর্মের সাথে বিরোধ আছে বলে প্রমান করতে পেরেছে?
    না কোন ডাক্তার কোন বিজ্ঞানী কোন জ্ঞানী এই কথা বলতে পারেছে যে এটী বিজ্ঞান সম্মত নয়?

    আসলে সমস্যা কোয়ান্টাম না সমস্যা হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গির
    তথাকথিত ধর্মবাজ দের মাথায় তখনি আকাশ ভেঙ্গে পড়োলো যখন কোয়ান্টাম মেথড সাধারন মানুষের কাছে প্রবিত্র কোরান কে সহজ সরল ভাষায় তুলে ধরছে,

    তাদের মাথা খারাপ হতে লাগলো যখন তারা দেখলো দোয়া মোনাজাতের জন্য এখন লক্ষ লক্ষ মানুষ কোয়ান্টামে যায়

    এতেকাফের জন্য হাজার হাজার মানুষ কোয়ান্টামে যায়

    তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেলো যখন তারা দেখলো সঙ্গবদ্ধ যাকাতের মাধমে হাজার মানুষ দারিদ্রতা কে বিদায় জানাচ্ছে, মানুষ যাকাতের নামে লুঙ্গ শাড়ী গামছা দিচ্ছেনা।
    যখন দেখলো যে সহজ সরল ধর্মকে পুঁজি বানিয়ে আর ব্যাবসা করা যাবেনা
    কারন সাধারন মানুষ ধার্মিক হয়ে উঠছে।
    আর সাধারন মানুষ ধার্মিক হয়ে উঠলে তথা কথিত ধর্মবাজদের ধর্মবাজী বন্ধ হয়ে যাবে।
    মানুষে মানুষে হানা হানি থাকবেনা
    অভাব থাকবেনা
    হিংসা থাকবেনা
    যার যার কর্ম যার যার ধর্ম সে পালন করবে।
    কোরানে বলা আছে অন্যের দেবতা কে গালি দিওনা
    কোথাও বলা নাই তাকে হিংসা করতে হবে।

    যাক ভাই আপনার মত গোঁড়া কে এসব কথা বলতে আসতাম না
    আপনি আপনার বিশ্বাস নিয়ে বলেছেন
    আপনি সেখানেই থাকুন। আমি যেমন আমার বিশ্বাস কে সন্মান করি তেমনি
    অন্যের বিশ্বাস কেউ শ্রদ্ধা করি-

    আপনার কথার কোন জবাবই দিতাম না । প্রয়োজন ও মনে করিনা।
    কারন কোয়ান্টাম গত বিশ বছরে লাখো প্রমান লাখো উদাহারন দাড় করিয়েছে-

    শুধু মাত্র শ্রদ্বেয় জিয়া ভাইএর কথা মন্তব্য করে গেলাম।

    • ফকির আবদুল মালেক : ২৮-০৭-২০১২ | ১৪:০২ |

      ডাঃ দাউদ আপনার মন্তব্য থেকে এ কথা এখানে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে,


      দোয়া মোনাজাতের জন্য এখন লক্ষ লক্ষ মানুষ কোয়ান্টামে যায়
      এতেকাফের জন্য হাজার হাজার মানুষ কোয়ান্টামে যায়

      এই ঘটনা দুটি সত্যি হলে সত্যিই আপত্তি জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে।
      মানুষ দোয়া মোনাজাতের জন্য একমাত্র আল্লাহর কাছে যাবে এবং তা নামাজের মাধ্যমে এবং ব্যক্তিগত মোনাজাতের মাধ্যমে (হাত উঠিয়েও তা হতে পারে আবার হাত না উঠিয়েও তা হতে পারে, হতে পারে তা মনে মনে)

      এতেকাফের জন্য মসজিদ নির্দিষ্ট, হাজার হাজার মানুষ যদি এতেকাফের জন্য কোয়ান্টামে যায় তবে তা অবশ্যই অবশ্যই ধর্মের দৃষ্টিতে গর্হিত কাজ। এ ধরনের পরিস্থিতি উদ্ভব হওয়া সত্যিই আশংকাজনক। ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে যারা এতেকাফের জন্য কোয়ান্টামে যাচ্ছে তারা বিভ্রান্ত এবং অবশ্যই বিভ্রান্ত।

    • সত্য সবার উপর : ২৯-০৭-২০১২ | ১৩:৪৭ |

      বাহ খুবই উন্নত মানের ধর্ম (দ্বীন-ই-কোয়ান্টাম) কোয়ান্টাম তৈরি করেছে, মারহাবা, মারহাবা, এখন মানুষ দোয়ার জন্য কোয়ান্টামে যাবে (৪০ টাকা এক বার দোয়া করার জন্য), এতেকাফের জন্য (চিল্লা দেয়া)র জন্য কোয়ান্টামে যাবে। মসজিদের কি দরকার? কিছু জানতে হলে গুরু কে জিজ্ঞাসা করবে। হাইরে কোয়ান্টাম, স্বল্প এবং বিকৃত ইসলাম জানা মানুষদেরকে এভাবেই তারা যুগে যুগে প্রতারিত করে যাবে।

      পীরবাদের নব্য এবং ডিজিটাল সংস্করণ হচ্ছে এই কোয়ান্টাম। যারা কোরআন এবং হাদিস পড়েনা তারা অবশ্যই কোয়ান্টামের ভিতরে ইসলামের সাথে সাংঘরসিক কিছুই পাবেন না এত নিশ্চিত।

      আপনার কমেন্টের ধরন দেখেই বোঝা যায় যে আপনার প্রিয় হচ্ছে পীরবাদ এবং সূফীবাদ।

  5. সাইক্লোন : ২৮-০৭-২০১২ | ১৩:৫১ |

    সিদ্দিকি ভাই,
    আমি শুধু সহজ ভাবে জানতে চাই কোয়ান্টাম কি আল্লাহ পাকের ইবাদত করতে নিষেধ করেছে? আমরা জানি আল্লাহ পাকের ইবাদত করতে বাঁধা দেওয়াই শয়তানের প্রধান কাজ , এবং এই বাঁধা দানের জন্য শয়তান বিভিন্ন ফাঁদ পাতে। কোয়ান্টাম এর কোথায় আল্লাহ পাকের ইবাদত করতে নিষেধ বা বাঁধা দেওয়া হয়েছে? যদি দেওয়া না হয় তাহলে এটা শয়তানের ফাদ হল কিভাবে?

    ধর্মের নামে অপব্যক্ষা এবং বিভ্রান্ত ছড়ানো কখনই ঠিক নয়। আমার বিশ্বাস আপনি কোয়ান্টাম সম্পর্কে ঠিক মতো না জেনেই এই পোষ্ট শেয়ার করেছেন।

    • মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী : ২৯-০৭-২০১২ | ১১:৫০ |

      সাইক্লোন ভাই, কোয়ান্টাম সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে-বুঝেই আমি এ পোস্ট শেয়ার করেছি। আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে কথার ফুলঝুরিতে ভুলে আমিও হতে গিয়েছিলাম তথাকথিত কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট (৪ বছরের কোর্স নয়, ৪ দিনের)। চতুর্থ দিনে অন্তর্গুরুর সাক্ষাৎ আমার বিবেককে নাড়া দিয়েছিলো প্রচন্ডভাবে। বিভিন্ন স্কলারদের সাথে কথা বলে, আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে আরো ভালো করে শিক্ষা গ্রহণ করতে লাগলাম, আলহামদুলিল্লাহ অতঃপর আমি এ শির্ক-কুফুরী থেকে তাওবাহ করতে পেরেছি।

    • সত্য সবার উপর : ২৯-০৭-২০১২ | ১৩:৫৬ |

      ভাই আগে দয়া করে কোরআন অর্থ এবং তাফসীর সহ পড়ুন আর সাথে পড়ুন বুখারী, মুসলিম ইত্যাদি হাদিস গ্রন্থ। আমি আল্লাহ্‌র কসম করে বলতে পারি আল্লাহ্‌ যদি আপনার জন্য সত্য পথে লিখে রাখেন তবে আপনি সবই বুঝতে পারবেন।

      আপনি আমাকে বলেন রাজারবাগী বা দেওয়ানবাগী এরা কি বলে যে আল্লাহ্‌র ইবাদত কর না? বলে না কিন্তু তারা আপনার শিরক শেখায়। মক্কার কাফিরেরা কি আল্লাহ্‌কে অস্বীকার করত, করত না, তারা হজ্জও করত কিন্তু তারা মূর্তিকে আল্লাহ্‌ পাবার মাধ্যম হিসাবে নিত, এখানে ঠিক কোয়ান্টাম গুরুর মাধ্যমে সেটাই করাচ্ছে। আল্লাহ্‌ যে আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করেন।

      এই পোস্টটি পড়ুন তাহলে আশা করি অনেক কিছুই জানতে পারবেন। লিঙ্ক এখানে ক্লিক করুন

  6. বিষণ্ণময়ী : ২৮-০৭-২০১২ | ১৫:১৮ |

    কোয়ান্টাম নিয়ে যতোটুকু জেনেছি বা পড়েছি কোথাও এটাকে ইসলাম বিরোধী মনে হয়নি। আমি দাউদ ভাইকে সামনা সামনি দেখেছি যে মানুষ সব সময় আল্লাহ আর ধর্মের কথা বলেন। যারা কোয়ান্টামে গিয়েছেন এমনও চেনা আছে কাউকে দেখিনি ধর্মের বাইরে যেতে।
    সিদ্দিকী ভাই আপনার অন্যান্য পোষ্ট কিন্তু আমাদের সবার সচেতনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু এই পোষ্টটি সব পোষ্টকে পিছনে ফেলে দিল । পোষ্টটা দেবার আগে আরো ভাল করে এর মূলটা পড়া উচিৎ ছিল আপনার।

    আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহি পথে চলার সুবুদ্ধি দান করুন আমিন।

    • মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী : ২৯-০৭-২০১২ | ১২:২৬ |

      বোন, কোয়ান্টামের মূল না জেনে যে আমি পোস্ট দেইনি তা সাইক্লোন ভাইকে দেয়া উত্তরটা পড়লেই আপনি জানতে পারবেন যে, এ ভয়াবহ ফাঁদে আমিও না-বুঝে পা দিয়েছিলাম। মহান আল্লাহ তা’আলাই আমাকে বাঁচিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ!

      ১৫/১৬ বছর আগে দৈনিক ইত্তেফাক পেপারে একটি বিজ্ঞাপন প্রচুর আসতো সেটার নাম ছিলো “সিলভা মেথড”। আত্মসম্মোহনে জীবন পাল্‌টে যাবার স্বপ্ন দেখাতো তারা। সে সময় হোটেল শেরাটনের প্রায়ই তাদের পরিচিতি ক্লাস হতো। আমেরিকান এক রেডিও মেকানিক হোসে সিলভা এর আবিস্কারক। তিনি হেন করেছেন, তেন করেছেন ইত্যাদি … প্রচুর লোক সমাগম হতো সে পরিচিতি ক্লাসে। কোর্সেও অংশ নিতো অনেকেই।

      মহাজাতক তখন হাত দেখেন, মানুষের হাত দেখে ভূত-ভবিষ্যত বলেন, রত্ন-পাথর দেন। যে চর্চা ইসলামে নিষিদ্ধ সেই চর্চা করে শহীদ আল বোখারীর তখন ভালোই নাম-ডাক। সিলভা মেথডের আগমনের পর উনি জ্যোতিষচর্চা ত্যাগ করে কদিন পর নতুন ব্যবসা নিয়ে হাজির হলেন যার নাম কোয়ান্টাম মেথড।

      চলতে লাগলো কোয়ান্টামের প্রচার, আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপন, কথার ফুলঝুরি। একসময় আমিও পটে গেলাম। নাম এন্ট্রি করে দিলাম, ভালোই চলছিলো, প্রবলেম হলো চতুর্থ ও শেষ দিনের কোর্সে এসে। মনের ভেতর খুঁত খুঁত অন্তর্গুরু নিয়ে। আল্লাহ ও মোহাম্মদ (ছা.) বাদে যে কাউকে কল্পনার অন্তর্গুরু বানিয়ে সমস্যার সমাধান চাওয়া যাবে!!! সেদিনই কোর্সের শেষ দিন। এরপর এটা নিয়েই আমার খোঁজ-খবরের শুরু। আল্লাহ তা’আলার কাছে দোআ করতাম যেন ভুল পথ হয়ে থাকলে বের হয়ে আসতে পারি ইত্যাদি। আলহামদুলিল্লাহ পেরেছি। আমি নিয়মিত সালাত-সিয়াম পালন করতাম, হয়তো সেজন্যেই আল্লাহর রহমত প্রাপ্ত হয়েছি। আমার সময় কিন্তু মাটির ব্যাংক নামক জিনিসটা ছিলো না, এটা আরো পরের সংযোজন।

      এই হলো সংক্ষেপে আমি ও কোয়ান্টাম। যাহোক, আমার দায়িত্ব আমি পালন করেছি। একদিন এসব কিছুই শেষ হয়ে যাবে আর আমরা প্রত্যেকে দাঁড়াবো আমাদের মহান রবের সামনে। আমার সান্তনা এতটুকু যে আমি অন্তত বলতে পারবো, আমি আপনাদের সতর্ক করেছিলাম। ধন্যবাদ।

  7. আর. এইচ. মামুন : ২৮-০৭-২০১২ | ১৬:৪৩ |

    দোয়া মোনাজাতের জন্য এখন লক্ষ লক্ষ মানুষ কোয়ান্টামে যায়

    এতেকাফের জন্য হাজার হাজার মানুষ কোয়ান্টামে যায়

    আশ্চার্য হলাম।
    মানুষ কতইনা বোকা এতেকাফের জন্য, দোয়া মোনাযাতের জন্য মসজিদ ছেড়ে কোয়ান্টামে যায়।
    আর একটা কথা আমার জানা মতে নামাজই হলো সর্বোত্তম ধ্যান। নামাজ সরাসরি প্রভুর সাথে সাক্ষাৎ করার মাধ্যম। সাহাবীদের মধ্যে এমন অনেক ঘটনা আছে যে, তারা এমন ধ্যানমগ্ন হয়ে নামাজে দাঁড়াতেন যে দুনিয়ার সবকিছু ভুলে যেতেন। যেমন হযরত আলী (রাঃ) একবার কোন এক যুদ্ধে তীরবদ্ধ হয়েছিলেন। কোন ভাবে তীর খোলা যাচ্ছে না। অবশেষে সবাই সিদ্ধান্ত নিল যে তিনি যখন নামাজে দাঁড়াবেন তখন তীর খোলা হবে। হলোও তাই। অনেক সাহাবী এমন ভাবে ধ্যানমগ্ন হয়ে নামাজ পড়তেন যে কোন কোন সময় পাখিও মরা ডাল মনে করে কাঁধের উপর বসে পড়ত।
    **
    কোয়ান্টাম ম্যাথডের উপর একটি বই পড়ে আমি এর প্রতি আগ্রহী হই । শিথিলায়ন বা ধ্যানাবস্থা তৈরি করে আমি বেশ মানসিক প্রশান্তি পেয়েছি। জীবনে যখন হতাশা আর ব্যর্থতায় একে একে ভেঙ্গে পরছিলাম, পারিবারিক জীবনে নানাবিধ কলহের জীবন হয়ে পড়ছিলাম একেবারে হতাশাক্রান্ত, পরপর তিনটি সন্তানের গর্ভকালীন মৃত্যুতে একেবারে ভেঙ্গে পড়েছিলাম, জীবনের এমনই এক ক্রান্তিকালীন সময়ে আমি মেডিটেশন শুরু করি।
    **
    আসলে কোয়ান্টাম বা অন্য কোন পদ্ধতিতে শিথিলায়ন তৈরি না করে একমাত্র নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাইলেই প্রশান্তি ও সফলতা পাওয়া যায়। হযরত জাকারিয়া (আঃ) এর খালু হযরত ইমরান যখন কোন সন্তানের বাবা হতে পারছিলেন না তখন তিনি কি করলেন? তিনি মহান আল্লাহর দরবারে মুনাযাত করে সাহায্য চাইতেন। আল্লাহ তাকে হযরত মরিয়মের মতো একজন সন্তান দিয়েছেন।

    • আ,শ,ম,এরশাদ : ২৯-০৭-২০১২ | ১১:৫৩ |

      যেমন হযরত আলী (রাঃ) একবার কোন এক যুদ্ধে তীরবদ্ধ হয়েছিলেন। কোন ভাবে তীর খোলা যাচ্ছে না। অবশেষে সবাই সিদ্ধান্ত নিল যে তিনি যখন নামাজে দাঁড়াবেন তখন তীর খোলা হবে। হলোও তাই। অনেক সাহাবী এমন ভাবে ধ্যানমগ্ন হয়ে নামাজ পড়তেন যে কোন কোন সময় পাখিও মরা ডাল মনে করে কাঁধের উপর বসে পড়ত।

      আপনার এই কথার দালিলিক প্রমাণ কি আমি জানি না। তবে আমার জীবদ্দশায় এমন কাউকে দেখলাম না জানলাম না যে যিনি মশার কামড় ও টের পান নাই। একটা সহজ প্রশ্ন আপনি নিজেকে দিয়ে প্রমাণ করুন এটা সম্ভব কিনা। আরবে কি পাখি ছিল যে কাঁধে বসে যেত!! একটা রাকায়াত মানেতো কত সময় না আর নিশ্চয় খোলা জায়াগায় উনারা নামাজ পড়তেন না।আসলে এমন অলৌকিক গল্প বলে ইসলামকে অলৌকিক করার কোন দরকার নেই।
      ইসলাম খুব সাদাসিদা। আর সাহাবীরাই যে খুব ইসলামীক এবং উনাদের পক্ষেই একন নামাজ পড়া সম্ভব আমাদের পক্ষে সম্ভব না সেটা কিন্তু সঠিক নয়। সাহাবীদের চেয়ে আমাদের ইবাদতের গুরুত্ব বেশী বলে নবী নিজেও বলেছেন। সাহাবীরা নবীকে দেখে বিশ্বাস করেছেন আর আমরা না দেখেই। সো এই ধরনের গল্প গুলা বলার আগে সুত্রের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে নিবেন।

  8. কবিরনি : ২৮-০৭-২০১২ | ১৭:৩৩ |

    আসিতেছি

    • কবিরনি : ২৮-০৭-২০১২ | ১৭:৫৭ |

      আসতে চাইছিলাম কিন্তু আত-তাহরীক দেইখ্যা মত পরির্বতন কইরা ইগনোর করাই শ্রেয় মনে করলাম। আহলেহাদীছ মুসলমানদের ভিতরে নতুন গবেষনার নামে বিভক্তি ছড়াচ্ছে এই ধারনা পোক্ত হয়ে যাচ্ছে শুভাকাঙ্খীদের মনে – এইটা ক্ষতিকারক হইতে পারে। বিনা পয়সায় ফ্রি উপদেশ হিসাবে নিলে নেন না নিলে না নেন।

  9. কাহন : ২৯-০৭-২০১২ | ৫:০৯ |

    মেডিটেশনের সাথে আমি ও জড়িত কিন্তু বলব না আমি শয়তান আর আপনি ধর্ম পালন করেন বলেই সাধু ।

    আপনার এই পোস্টের কোন যুক্তি ই আমি গ্রহণ করতে পারলাম না বলে দুঃখিত ।যা উপস্থাপন করেছেন তা ভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই না ।

    ধর্মের নামে যারা ভ্রান্তি ছড়ায় তারা আর যাই হোক ধার্মিক নয় ।

    ধন্যবাদ ।
    ভালো থাকবেন ।

    • মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী : ২৯-০৭-২০১২ | ১২:২৮ |

      আমিও দুঃখিত ভাই যে আমিই আপনাকে সঠিকভাবে বুঝাতে পারিনি।

    • সত্য সবার উপর : ২৯-০৭-২০১২ | ১২:৫১ |

      যিনি যুক্তি এবং প্রমান মানেন না তিনি কোন যুক্তিই গ্রহন করবে না এটাই স্বাভাবিক। এখানে সব প্রমান তুলে ধরা হয়েছে কোরআন এবং হাদিস থেকে, আপনি এগুলি যদি মানতেন তাহলে এই রকম কথা আপনি বলতেন না।

  10. জেড এইচ সৈকত : ২৯-০৭-২০১২ | ১২:২৯ |

    পোস্ট এবং সকল মন্তব্য পড়ে নিলাম। আরো জানতে হবে এ বিষয়ে।

  11. আ,শ,ম,এরশাদ : ২৯-০৭-২০১২ | ১৩:৪৬ |

    1,কথিত অন্তর্গুরুর– অন্তর্গুরু মানে কোন জিনের বাদশা নয়, কোন পীর নয়, এটা কেবল নিজের অস্থীত্বকে বুঝানো হয়েছে তাই এখানে কোন শীরক নেই।
    2,হায়াত-মউতের মালিক-
    হায়াত মউতের মালিক আল্লাহতায়ালা সন্দেহ নেই। কিন্তু একজন ব্যক্তিরও কি কিছু করার নেই? অবশ্যই আছে না থাকলে বলা হতো না ফজিলত হিসাবে রিজিক বাড়িয়ে দেয়া হবে, হায়াত বৃদ্ধি করা হবে। বলা হয়েছে বিশ্বাসের জোরে উনি(প্রফেসর এম.ইউ. আহমাদ) বেঁচে উঠেছিলেন। এখানে বিশ্বাসের জোরটাকে উচিলা হিসাবে ভাবা গেলেইতো হয়। বায়াসড করে কেন দেখা হলো? মানসিক শক্তির জোরে অনেক ক্যান্সার রোগী বেশ হায়াত পান আবার কেউ খুব তাড়াতাড়ি মৃত্যু মুখে পতিত হন। স্টিফেন হকিংস এর বেঁচে থাকাটা যুগপতৎ আল্লাহর ইচ্ছা এবং তার অসীম মানসিক শক্তি।

    3,

    তবে সে আল্লাহর কোন মুখলেছ বান্দাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না {হিজর ৪০}

    তাহলেইতো ল্যাটা চুখে যায়, মুখলেছ বান্দারা যেহেতু নিরাপদ তাই এতো ভাবার কি দরকার ভাই, যতই শয়তানরা শয়তানি করুক।

    • সত্য সবার উপর : ২৯-০৭-২০১২ | ১৪:০০ |

      আমি বলব যে কোয়ান্টাম সম্পর্কে যারা গভীরভাবে জানে না তারাই আপনার মত কথা বলবে।

      আপনি আমাকে বলুন যে ব্যাক্তি কোরআনের আয়াতের বিকৃত ব্যাখ্যা করে নিজের স্বার্থে তাঁকে আপনি কি বলবেন? যে ব্যাক্তি জাল হাদিস তৈরি করে নিজের নামে (বোখারী) লিখে তাঁকে আপনি কি বলবেন?

      দয়া করা কোরআন এবং সহিহ হাদিস পড়ুন, কোয়ান্টাম কি জানতে পারবেন, আপনার মত আমিও এক সময় এই রকমই বলতাম তবে আল্লাহ্‌ আমাকে সেই পথে থেকে ফিরিয়ে এনেছেন। এই জন্য আমি আল্লাহ্‌র কাছে কৃতজ্ঞ নাহলে এটাই হতে পারত আমার জন্য জাহান্নামের বড় এবং উন্মুক্ত রাস্তা।

  12. আর. এইচ. মামুন : ২৯-০৭-২০১২ | ১৯:৫৪ |

    ভাই সালাম নিন। দয়া করে মাওলানা জাকারিয়া (রহ) রচিত ফাজায়েলে আমল যাহা মাওলানা ছাখাওয়াত উল্লাহ অনুবাদ করেছেন তার ১২০ থেকে ১২৬ পৃষ্টাগুলো পড়ুন।

  13. ছুরি : ০১-০১-২০১৩ | ১৭:০৯ |

    কাজের পোস্ট
    ধন্যবাদ