
অবশেষে বহুল প্রতীক্ষার অবসানে থ্রিজি সেবা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে টেলিটক। তবে সবে নিবন্ধন পর্ব। একটানা তিনমাস গ্রাভিটি প্যাকেজের শর্ত পূরণ করলে মিলবে থ্রিজি সেবা পাওয়ার নিশ্চয়তা। সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এ মুহূর্তে টেলিটকের প্রতিটি প্রিপেইড গ্রাহক থ্রিজি সেবার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। তবে একটানা তিনমাসে তিন ধাপে ৫০০ টাকা করে নিবন্ধন ফি দিলেই এ সেবার নিবন্ধিত গ্রাহক হওয়া সম্ভব।
টেলিটকের থ্রিজি সেবাভুক্ত হতে প্রথমে মোবাইলে ৫০০ টাকা ব্যালেন্স নিশ্চিত করে (Gravity) লিখে ৬৬৬ নম্বরে এসএমএস (চার্জ প্রযোজ্য নয়) পাঠাতে হবে। এরপর নিবন্ধিত টেলিটক গ্রাহক গ্রাভিটি ক্লাবের সদস্য হবেন। তবে এখানেই শেষ নয়।
এরপর পরবর্তী আরও দুই মাসে দুই কিস্তিতে ৫০০ টাকা করে ১ হাজার টাকা নিবন্ধিত ফি দিতে হবে। সব মিলিয়ে তিনমাসে দেড় হাজার টাকার নিবন্ধন ফি দিলেই থ্রিজি সেবার জন্য গ্রাভিটি ক্লাবের সদস্যপদ বহাল থাকবে।
তবে গ্রাভিটি ক্লাবের সদস্য হলে বান্ডল অফার দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রতি সেকেন্ডে পালস সুবিধা। সর্বমোট ৬০০ মিনিট টকটাইম সুবিধা। এ প্যাকেজে ৩০০ মিনিট অননেট আর ৩০০ মিনিট অফনেট টকটাইম প্রযোজ্য।
আর বোনাস অফারে থাকছে থ্রিজি গ্রাভিটি ক্লাবের গ্রাহক হওয়ার সুযোগ। এ ক্লাবের সদস্য হিসেবে সর্বোচ্চ রিচার্জকারীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে থ্রিজি সংযোগ দেওয়া হবে। আর গ্রাভিটি নিবন্ধিত প্রতিটি সদস্যই পাবেন ১ জিবি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ। এটি ৩০ দিন পর্যন্ত উপভোগ করা যাবে।
আপাতত এ সুযোগ শুধু ঢাকা, টঙ্গী, গাজিপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট এবং কক্সবাজার শহরের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। আরও বিস্তারিত জানতে (১২৩৪) এ নম্বরে কথা বলতে পারবেন।
আসুন জেনে নেই থ্রিজি কি?
আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থা বা আইটিইউ এর সংজ্ঞানুসারে থ্রিজি প্রযুক্তি হচ্ছে এমন এক মোবাইল প্রযুক্তি যাতে জিএসএম, ইডিজিই, ইউএমটিএস এবং সিডিএমএ-২০০০ প্রযুক্তি অন্তর্ভূক্ত৷ এই প্রযুক্তির সাহায্যে ডিইসিটি এবং ওয়াইম্যাক্স সার্ভিস, ভয়েস কল, ভিডিও কল এবং ওয়্যারলেস ডাটা সবই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা যায়৷ থ্রিজি প্রযুক্তি একই সাথে ভয়েস সার্ভিস এবং উচ্চগতি সম্পন্ন ডাটা সার্ভিস (১৪ এমবিপিএস পর্যন্ত ডাউনলিংক এবং ৫.৮ এমবিপিএস পর্যন্ত আপলিংক) সাপোর্ট করে৷ থ্রিজি প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইলে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইসের মাধ্যমে এবং স্যাটেলাইটের সাহায্যে একজন ব্যবহারকারীর অবস্থান জানা সম্ভব৷ নোকিয়া, স্যামসাং, মটোরোলা, সনি এরিকসন থ্রিজি সাপোর্টেট বিভিন্ন মডেলের হ্যান্ডসেট বাজারজাত করছে৷
থ্রিজি প্রযুক্তি সুবিধা
থ্রিজি প্রযুক্তি কার্যকর থাকলে একটি সাধারণ থ্রিজি সাপোর্টেট মোবাইল হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে অনেকগুলো কাজ সম্পাদন করা যায়৷ থ্রিজি প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় সুবিধা হল, এই প্রযুক্তি কার্যকর থাকলে মোবাইল হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে ভয়েস সুবিধার পাশাপাশি ব্যবহারকারী ভৌগোলিকভাবে যে অবস্থানেই থাকুক না কেন উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে৷ গ্রামের অর্ধশিক্ষিত একজন মানুষ সবসময় সবখানে বসে সারাবিশ্বের সাথে যোগাযোগ এবং সবধরনের তথ্য অতি সহজেই আদান-প্রদান করতে পারে৷ থ্রিজি প্রযুক্তির মাধ্যমে টিভি দেখা, খেলা দেখা, ভিডিও ক্লিপস আদান-প্রদান সবই সম্ভব৷ একজন ব্যবহারকারী থ্রিজি সাপোর্টেট মোবাইল সেটের সাহায্যে ভিডিও কনফারেন্স করতে পারে৷ বিনোদনের ক্ষেত্রে এটি অদ্বিতীয় ভিডিও টেলিফোনি পাওয়ারফুল ক্যামেরা, ইমেজ এডিটিং, ব্লগিং, ভিডিও কল, মুভি ট্রান্সফার সবই সম্ভব৷ বাণিজ্যিক কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে থ্রিজি অসাধারণ৷ একজন বাণিজ্যিক কর্মকর্তা যেকোন জায়গায় বসে এমএস ওয়ার্ড, এক্সলে, পাওয়ার পয়েন্ট, পিডিএফ ফাইল এবং অন্যান্য ফরমেটের ফাইল সে পড়ে এবং সংশোধন করে আপলোড ডাউনলোডের মাধ্যমে তার ব্যবসায়িক কর্ম সম্পাদন করতে পারে৷ কাস্টামার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট (সিআরএম) মেইনটেইন করা সম্ভব থ্রিজি টেকনোলজির সাহায্যে৷ থ্রিজি প্রযুক্তি কার্যকর থাকলে চিকিত্সা ক্ষেত্রে টেলি-মেডিসিন সার্ভিস আরো সহজ ও কার্যকরভাবে প্রদান করা সম্ভব৷ এক কথায় থ্রিজি প্রযুক্তির সার্ভিস যখন আমরা ব্যবহার করতে পারব তখনই কেবল আমরা এর পূণর্াঙ্গ সুবিধা উপলব্ধি করতে পারব৷
থ্রিজি এর ইতিহাস
থ্রিজি মোবাইল প্রযুক্তি জাপানে ১ অক্টোবর ২০০১ সালে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম বাজারে নিয়ে আসে এনটিটি ডোকোমো নামক মোবাইল অপারেটর কোম্পানি৷
এসকে টেলিকম নামক অপারেটর ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে থ্রিজি প্রযুক্তি বাজারে নিয়ে আসে৷ একই দেশে দ্বিতীয় থ্রিজি নেটওয়ার্ক সাপোর্টেট অপারেটর হিসেবে কেটি কোম্পানি আত্মপ্রকাশ করে৷ এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়াতে থ্রিজি সাপোর্টেট অপারেটরদের ভেতরে প্রতিযোগিতা শুরু হয়৷
২০০১ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপে টেলিনর নামক অপারেটরটি থ্রিজি মোবাইল প্রযুক্তি বাজারে নিয়ে আসে৷ ইউএসএ’তে প্রথম এমওনেট মোবাইল নেটওয়ার্ক- থ্রিজি নিয়ে কাজ করা শুরু করলেও বাণিজ্যিকভাবে ২০০৩ সালে ভেরিজো ওয়্যারলেস নাটক অপারেটির থ্রিজি প্রযুক্তি সেবা নিয়ে বাজারে আসে৷
আফ্রিকায় ২০০৪ সালে ইএমটিএল অপারেটর থ্রিজি নিয়ে বাজারে আসে৷ আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০০৮ সালে মাহনাগার টেলিফোন নিগাম লিমিটেড (এমটিএনএল) থ্রিজি নেটওয়ার্ক সুবিধা নিয়ে বাজারে আসে৷
চীন ১ অক্টোবর ২০০৯ সালে দেশের ৬০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে থ্রিজি নেটওয়ার্ক নিয়ে তিনটি কোম্পানি (চায়না মোবাইল, চায়না ইউনিকম, এবং চায়না টেলিকম) আত্মপ্রকাশ করে৷
প্রযুক্তি যেমন আশীর্বাদ আছে তেমনি অভিশাপও আছে৷ আশীর্বাদ না অভিশাপ তা নির্ভর করে ব্যবহারের উপর৷ বর্তমানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও হয়রানির খবরাখবর আমরা পত্রপত্রিকায় দেখতে পাই৷ থ্রিজি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও কল করা সম্ভব যেখানে কলার এবং রিসিভার দুইজনই তাদের অবস্থান ও কর্মকান্ড দেখতে পাবে৷ অতএব আমাদের তরুণ সমাজকে অবশ্যই এর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে৷ সবচেয়ে বড় কথা ‘বিবেক হল মানুষের সর্বোচ্চ আদালত’৷ সুতরাং প্রযুক্তির ব্যবহার করতে গিয়ে যেন বিবেকের পতন না হয় সেটাই আমাদের সবার কাম্য৷
সুত্র ঃ বাংলা নিউজ ও নেট থেকে।




খুব ভালো একটা পোষ্ট। পড়লাম এবং অনেক কিছু জানলাম।
ভালো থাকুন সতত।
সেদিন পত্রিকায় এক বিজ্ঞাপনে দেখলাম।
আসলে আমাদের দেশে এর কোন প্রয়োজন নেই বললেই চলে তবুও আধুনিক প্রযুক্তি থেকে কেন পিছিয়ে থাকব?
জেনে নিলাম অনেক কিছুই। ধন্যবাদ রইলো।
থ্রিজি নিয়ে তো দেখলাম টেলিটক মহা ঝামেলায় আছে।
খবরটা পড়ে দেখুন।
টেলিটকের থ্রিজি নিয়ে সংশয়
মনোয়ারুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা: ‘এ লড়াই আপনার জন্য নয়…’ শীর্ষক একটি বিজ্ঞাপন দিচ্ছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটক। বিজ্ঞাপনটি বারবার পড়েও ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই। টেলিটকের এই লড়াই আসলে কার জন্য তা নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে।
টেলিটক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি হওয়ায় প্রত্যাশা একটু বেশি। অথচ সেবার নামে দুর্বোধ্য বিজ্ঞাপন দিচ্ছে টেলিটক। বিজ্ঞাপনটি একদিকে যেমন বোঝা সহজ নয়, অন্যদিকে আকর্ষণহীন। থ্রিজি সেবা কোন ধরনের মোবাইল সেট সাপোর্ট করবে, তা বিজ্ঞাপনে বলা হয়নি। এই সংযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করতে যে চার মাস সময় লাগবে, তাও খোলাখুলি বলা হয়নি। তাই থ্রিজি সেবার নামে অস্বচ্ছ এ প্যাকেজ নিয়ে জনমনে দেখা দিচ্ছে নানা প্রশ্ন।
থ্রিজি প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চগতিতে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হওয়ায় মোবাইল ফোনেই টিভি দেখা, জিপিএসের মাধমে পথ নির্দেশনা পাওয়া, উচ্চ গতির ইন্টারনেট ব্যবহারসহ ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেওয়া সম্ভব হবে। কিন্ত টেলিটকের দুর্বল সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের এসব স্বপ্ন কতটুকু পূরণ হবে তা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন।
দেশের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে সীমিত আকারে থ্রিজি সেবা নিবন্ধন শুরু করেছে দেশিয় মোবাইল সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড। এই সেবা প্রাথমিকভাবে ঢাকা, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট এবং কক্সবাজার শহরের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। এই প্যাকেজ নিয়ে সাধারণের কোনো প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখেনি টেলিটক।
অনেকেই অভিযোগ করেছেন, টেলিটক একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর হওয়ার কারণে তারা ‘ধরাকে সরা জ্ঞান’ করে চলেছে। গ্রাহকদের ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা দেবার ব্যাপারেও তারা বিশ্বস্ত নয়। আমলাতান্ত্রিক মানসিকতারই জয়জয়কার এখানে। সেবার মানসিকতা এখনো তৈরি হয়নি। এই আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা ও অদক্ষতারই ফল এই ধরণের অস্বচ্ছ অফার। এবারের গ্রাভিটি প্যাকেজটিও সে কারণে একটি অস্বচ্ছ প্যাকেজ।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রজেক্ট অফিসের সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “নতুন একটি প্রযুক্তি দেশে আনছে। সেটা কোন ধরনের হ্যান্ডসেটে সাপোর্ট করবে তার কোনো উল্লেখ নেই। আমি টাকা খরচ করে রেজিস্ট্রেশনের চেষ্টা করলাম, তখন দেখা গেল সেট সাপোর্ট করে না। অথচ আমার টাকা কাটা হলো। এ ধরনের হলে যে টাকা ফেরত দেওয়া হবে, সেটাও আগে থেকে বলে দেওয়া হয়নি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র হোসাইন সাজ্জাদ অভিযোগ করেন টেলিটক বাংলাদেশের প্রথম থ্রিজি প্রযুক্তি সরবরাহকারী মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হতে যাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ টেলিটক থেকে অনেক কিছু আশা করে। কোনোটাই পূরণ হয় না। টেলিটকের এখন ২.৫ জি প্রযুক্তি রয়েছে। তারা তো এই সেবাই সবাইকে ভালোভাবে দিতে পারছে না। আবার থ্রিজি নিয়ে জটিল বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এই বিজ্ঞাপন বুঝতে পণ্ডিত হতে হবে। সাধারণ মানুষ এত জটিল প্যাকেজ বুঝবে না। আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, তারা বিজ্ঞাপনের কিছু বুঝতে পারেনি।”
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির গ্রাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. জুনায়েদ বাংলানিউজকে বলেন, “তরুণ প্রজন্মের জন্য থ্রিজি সবচেয়ে জরুরি সেবা। কিন্তু একজন ছাত্রে জন্য প্রতিমাসে ৫০০ টাকা খরচ করা কঠিন। তাও ৩ মাস ব্যবহারের পর গ্রাহক পাবে কী না নিশ্চিত না। এই হিসেবেও গরমিল আছে, আসলে ৩ মাস নয় ৪ মাস । প্রথম একমাসে ৫০০ টাকা কেটে গ্রাভিটি ক্লাবে মেম্বার করা হবে। পরবর্তী মাসের জন্য আরও ৫০০ টাকা ব্যালেন্স থাকা নিশ্চিত করতে হবে। পরবর্তী ২ মাসের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এভাবে চারমাসে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা লাগবে। ১ মাসে টাকার সমস্যা হলে পুরো টাকাই লস। তারপরও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ রিচার্জকারী সংযোগ পাবে। স্টুডেন্টরা এত ব্যয় কিভাবে করবে। আসলে টেলিটক হিডেন শর্ত দিয়ে জিলাপির প্যাঁচ তৈরি করেছে।”
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “টেলিটকের সিম ২০০৫ সালে ভোরে লাইন ধরে ব্যাংক থেকে কিনেছি। কিন্তু আমাদের জন্য টেলিটক কি করলো? গ্রাভিটি প্যাকেজ আরো সহজ হতে পারতো। প্রয়োজনে একবারেই পুরো টাকা নিতে পারতো। দেশি কোনো সুন্দর নাম দিয়েও প্যাকেজটা হতে পারতো। আসলে টেলিটক কার স্বার্থ দেখে তা বোঝা মুশকিল।”
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি টেলিটক ব্যবহার করি আমাদের জন্য ১ মাসের জন্য সুযোগ দিতে পারতো। যারা নতুন ইউজার তাদের আর প্রথম থেকে যারা গ্রাহক তাদের সবারই একই একই সুবিধা। পুরনোদের জন্য বিশেষ অফার দেওয়া উচিত ছিলো।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আব্দুল্লাহ বলেন, “প্যাকেজ আরেকটু সহজ হলে ভালো হতো। যেহেতু এরপর ৫টি অপারেটর এই সেবা দেবে। শুরুতেই টেলিটক ঝামেলা তৈরি করেছে। বিস্তারিত জানতে যে নম্বর (১২৩৪) দেওয়া হয়েছে, সেখানে কল করেও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।”
নর্থ সাউথ বিবিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র অভিজিৎ ঘোষ বলেন, “টেলিটক বোধহয় চায় না সাধারণ মানুষ থ্রিজি ব্যবহার করুক। তারা অফারের ধাঁধায় ফেলে অন্য অপারেটরদের ব্যবসার সুযোগ করে দিচ্ছে। শুধু তাই নয় নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে এখনো টেলিটকের নেটওয়ার্ক ঠিকমতো পাওয়া যায় না।”
একটি দৈনিক পত্রিকার রিপোর্টার সরোজ মেহেদী বলেন, “আসলে টেলিটক দেখার কেউ নেই। এখানে খারাপ অফার দিয়ে বিদেশি কোম্পানির ব্যবসাকেই জনপ্রিয় করা হয়। টেলিটকের আমলারাই এসব জটিলতা তৈরি করেন। এর পিছনের কারণ বের করা উচিত।”
আইটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রংপুর সফটের কাস্টমার সাপোর্ট এক্সিকিউটিভ বলেন, “দেশের একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক নিয়ে অভিযোগের কোনো শেষ নেই। হেল্প লাইনে ফোন করলে মিনিট গুনে ‘পয়সা’ কেটে নিলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমাধান দিতে পারছে না তারা। গ্রাহকদের জন্য সুযোগ সুবিধার সব দরজা কৌশলগতভাবে বন্ধের `পণ` বোধহয় করেই রেখেছে টেলিটক। সব কিছু মিলে টেলিটক গ্রাহকের দুর্ভোগের মাত্রা সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।”
গত ১৯ জুলাই ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু রাজধানীর বারিধারায় ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস) ক্যাম্পাসে ইলেক্ট্রোফেস্ট ২০১২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, “সবার জন্য সহজ অফারের মাধ্যমে টেলিটকের থ্রিজি জনপ্রিয় করা হবে।”
কিন্ত মন্ত্রীর কথারও বাস্তবায়ন করেনি টেলিটক। তারা কোনো সহজ অফার দেয়নি।
টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি।
টেলিটকের জেনারেল ম্যানেজার হাবিবুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, “আমাদের থ্রিজির সংযোগ সবাই পেতে চাইবে। তাই আমরা ছোট তালিকা (শর্ট লিস্ট) তৈরি করবো। যারা বান্ডেল অফার ব্যবহার করবেন, তারাই ক্রমান্বয়ে থ্রিজি সুবিধা পাবেন। সবাইকে একসাথে এই সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ধীরে ধীরে সবার জন্য থ্রিজি দেওয়া হবে। আমাদের বিজ্ঞাপন জটিল নয়, বরং সহজ। কেউ না বুঝলে আমাদের কিছু করার নেই।”
বাংলাদেশ সময়: ১১২০ ঘণ্টা, আগস্ট ০২, ২০১২
এমআইআর/এনএস/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর;জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর[email protected]
তবে চালু হলে সবাইকে সর্তক থাকতে হবে কারণ আমরা বেশী মিসইউজ করি প্রযুক্তির।
গন হয়ে গেলে এমন সার্ভিস নিবো। টেলিটকে যাব না, ইস কি সার্ভিসের নমুনা! আমি আগে একটা টেলিটক ব্যবহার করেছিলাম (লটারিতে সিম পেয়েছিলাম) দেখেছি! দেশের টাকা দেশে রাখতে চেয়ে কত কি করেছিলাম!
সরকার এখানেও আবার ভুল করছে, সবাইকেই একসাথে লাইসেন্স দিয়ে দিলে পারত। এমনিতে আমরা দুনিয়া থেকে অনেক পিছিয়ে আছি…
সেইম…। তবুও চালু হউক…। ধানাই পানাই না করে এ সাথে ১৫০০ টাকা নিয়ে চালু করে দিলেইত হল! এত প্যাচাপেচি কার জন্য!
‘বিবেক হল মানুষের সর্বোচ্চ আদালত’৷ সুতরাং প্রযুক্তির ব্যবহার করতে গিয়ে যেন বিবেকের পতন না হয় সেটাই আমাদের সবার কাম্য৷
“”"একমত”"”
যাই হোক, আপনার পোষ্ট থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
সরকারই যখন বিদেশী টেলকোদের প্রাধান্য দিয়ে থাকে, তখন টেলিটকের উন্নতি আশা করা বৃথা।
টেলিটক ও বিটিসিএল কোম্পনী করা সত্যেও সেবা আমলাতন্ত্রের ন্যয়, সেটা থেকে উত্তরন সরকারেরই সদিচ্ছা নেই বলে সহজেই প্রতিয়মান হয় বা করা যায়।
সহমত
দেখি কেমন সেবা দেয়
বিস্তারিত জানিয়ে অনেক কষ্টসাধ্য পোষ্ট লিখেছেন স্যার
এখন সেবাটি কতৃপক্ষ ঠিক মত দিলেই আপনার কষ্ট সফল হয়
অভিনন্দন জানবেন
বর্তমানের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করতেই হবে। তবে আমাদের দেশে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড আমাদের পক্ষান্তরে নিরাশার দিকে ঠেলে দেয়। আমরা পিছিয়ে পড়ি ক্রমাগত। আশা করি এবারে টেলিটিকের উদ্যোগ সফল হবে।
শ্রমসাধ্য এ পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ।