বিস্ময়কর ১৩

Pinta Island Tortoise (Chelonoidis Nigra Abingdoni)! এই কচ্ছপটি তার গোত্রের বেঁচে থাকা একমাত্র কচ্ছপ! ১লা ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের Pinta (Galapagos দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ) দ্বীপে হাঙ্গেরির জীববিজ্ঞানী József Vágvölgyi প্রথম এই কচ্ছপটি দেখতে পান। ১৯৭২ সালে কচ্ছপটিকে Ecuador-এর Santa Cruz দ্বীপস্থিত Charles Darwin research station-এ নিয়ে আসা হয়। Pinta দ্বীপ থেকে আনা Galapagos কচ্ছপের এটি সর্বশেষ নমুনা। কচ্ছপটির বয়স ৯০ থেকে ১০০ বছর এর মধ্যে। তার স্বাস্থ্য এখনও ভালো। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন এই কচ্ছপের বংশের ধারাকে ধরে রাখতে। চেষ্টা হিসেবে বিজ্ঞানীরা অন্য প্রজাতির ভিন্ন ভিন্ন ২টি Galapagos মাদী কচ্ছপের সাথে এই কচ্ছপের প্রজনন ঘটিয়েছিল। কিন্তু এরা ডিম পাড়লেও তা থেকে বাচ্চা বের হয়নি। বিজ্ঞানীরা তারপরেও থেমে নেই, ১০০০০ মার্কিন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে কেউ যদি এই কচ্ছপের জন্য মাদী Pinta Island কচ্ছপ জোগাড় করে দিতে পারে। বলতেই ভুলে গিয়েছি কচ্ছপটির ডাকনাম Lonesome George(স্প্যানিশঃ Solitario Jorge) । আমেরিকান অভিনেতা George Gobel অভিনীত বিখ্যাত চরিত্র Lonesome George-এর নামানুসারে রাখা হয়েছে এই কচ্ছপটির নাম।

Taupo Boiling Mud
১৯৫০ সালে উত্তর নিউজিল্যান্ডের Rotorua শহরে অবস্হিত Taupo লেকের বিস্তৃত অংশে হতাত করে উত্তপ্ত ও ফুটন্ত কাঁদা-মাটি দেখতে পাওয়া যায়। গবেষকদের ধারনা মতে, নদী ও লেকের পানি নির্দিষ্ট এই জায়গার উত্তপ্ত পাথরের উপরে প্রবাহিত হয় বলে এই অবস্হার সৃষ্টি হয়েছে। তাই ব্যতিক্রমধর্মী এই জায়গাটি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষন। এই Taupo Boiling Mud-এর চারিদিকে হাঁটার রাস্তা রাখাও হয়েছে যাতে পর্যটকরা প্রকৃতির এই অদ্ভুত নিদর্শন উপভোগ করতে পারে। পর্যটকদের কাছ থেকে নামমাত্র ফি নেওয়া হয় শুধুমাত্র রাস্তাটি মেরামতের জন্য। ও হ্যাঁ Taupo Boiling Mud নিউজিল্যান্ডে Craters of the Moon(চাঁদের খাদ) নামে পরিচিত।

Cappadocia (কাপ্পাডোসিয়া) পার্সিয়ান সাম্রাজ্যের এই শহরটি তুরস্কের মধ্য Anatolia-র Nevşehir প্রদেশে অবস্থিত। তুরস্কের এই স্থানটিকে মানব বসতির ১টি প্রাচীনতম উদাহরন হিসাবে ধরা হয়। ইতিহাস বলে গ্রীক দার্শনিক Herodotus-এর সমসাময়িক কালে Cappadocian-রা পুরো Taurus পর্বত খুঁড়ে তাদের আবাস গড়ে তুলেছিল। প্রাক-হেলেনেস্টিক যুগে এই স্থানে পার্সিয়ান, আসেরিয়ান, প্রাচীন গ্রীকরা Cappadocia-য় বসবাস করত। একসময় এই শহরটি গ্রীক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। মধ্যযুগে এই শহরটি তুর্কিদের করতলগত হয়। বর্তমানে তুর্কিরাই এই শহরের প্রধান বাসিন্দা। পার্সিয়ান সাম্রাজ্যের সবচেয়ে পুরোনো চোখ ধাধানো সুন্দর এই মানব বসতিটি এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত।

Thumbelina নামে এই ঘোড়াটির জন্ম ১লা মে ২০০১ সালে। স্থান St. Louis-এর Goose Creek Farms-এ। জন্মের সময় ঘোড়াটির ভর ছিল সাড়ে ৮ পাউন্ড এবং লম্বায় মাত্র ১০ ইঞ্চি । Paul এবং Kay Gauseling দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে বামন প্রজাতির ঘোড়া উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা করে আসছেন। আর এ কাজে তাদের সাফল্যও অনেক। বেশ কয়েকটি ছোট প্রজাতির ঘোড়া উদ্ভাবন করেছেন তাঁরা । তাদের কাছেই জন্ম নিয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট্ট ঘোড়াটি। নাম দিয়েছেন Thumbelina। সত্যি সত্যিই কিন্তু থাম্বলিনা একটি বামন আকৃতির ঘোড়া। ১০ বছর বয়স হয়ে গেছে, তবু বেচারা ১৭ ইঞ্চির বেশি লম্বাই হতে পারেনি! এটি কিন্তু একটা মাদী ঘোড়া। শিশুদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় এই ঘোড়ার জন্য গঠন করা হয়েছে Thumbelina Charitable Foundation and The Thumbelina Children’s Tour. এখনও পর্যন্ত ১৫০ টিরও বেশি দেশে তার ভক্ত সংখ্যা ১ কোটিরও বেশী।

১১১ সংখ্যাটিকে বলা হয় Nelson Number। ধরে নেওয়া হয়, সংখ্যাটি অপয়া। নেলসন কথাটি এসেছে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর ভাইস অ্যাডমিরাল হোরাশিও নেলসনের সূত্র থেকে, যিনি যুদ্ধে একটি পা, একটি চোখ ও একটি হাত হারিয়েছিলেন। অবশ্য ভাইস অ্যাডমিরাল নেলসনের পা হারানোর কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ক্রিকেটে এটি এমন একটি স্কোর যেখানে ১১১ সংখ্যাটিকে ইংলিশরা এটাকে অপয়া সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করে। যেমন বিবেচনা করে ২২২ ও ৩৩৩ এর মত স্কোরকেও। এই সংখ্যাটিকে ক্রিকেট বিশ্বকে সবচেয়ে বেশি মনে করিয়ে দিতেন আম্পায়ার David Shepherd. যখন এই স্কোর গুলো স্কোর বোর্ডে আসত তিনি অদ্ভুত ভাবে লাফিয়ে উঠতেন ১১১ এর অপয়া ভাব দূর করার জন্য!

** ছবি ও তথ্য নেট থেকে নেয়া।

পূর্বের বিস্ময়
বিস্ময়কর পর্ব ১ থেকে ১০
বিস্ময়কর ১১
বিস্ময়কর ১২

VN:R_U [1.9.7_1111]
রেটিং করুন:
Rating: 5.0/5 (1 vote cast)
VN:R_U [1.9.7_1111]
Rating: 0 (from 0 votes)
বিস্ময়কর ১৩, 5.0 out of 5 based on 1 rating

এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

৩০ টি মন্তব্য (লেখকের ১৩টি) | ১২ জন মন্তব্যকারী

  1. অমানিশা : ১৫-০৫-২০১২ | ১৩:৩৮ |

    মজাদার ।

  2. এস. এম. কামরুল আহসান : ১৫-০৫-২০১২ | ১৩:৪৫ |

    সুন্দর পোষ্ট। অনেক কিছু জানলাম।
    অসংখ্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।
    Heart Rose Heart

    • সাইক্লোন : ১৫-০৫-২০১২ | ১৪:৩৫ |

      ধন্যবাদ কামরুল ভাই
      ভালো থাকবেন Smile

  3. সাহাদাত উদরাজী : ১৫-০৫-২০১২ | ১৩:৫৯ |

    এই সিরিজ চলুক…। অনেক কিছু জানা যাচ্ছে…। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

    • সাইক্লোন : ১৫-০৫-২০১২ | ১৪:৩৫ |

      আপনার কথামালা সিরিজ মিস করি ভাই Smile

  4. আদর : ১৫-০৫-২০১২ | ১৪:০৪ |

    আমাগো শিবলী ভাইজান সব জান্তা শমসের এর তালিকায় নিজের নাম লেখাতে যাচ্ছেন। সাথে আমাদেরও… আর কইলাম না। কিন্তু কথা হইলো এক শমসের নামে কতজন তালিকাভুক্ত হইবেক?
    দারুণ পোস্ট শিবলী ভাই। ভাল থাকুন

    • সাইক্লোন : ১৫-০৫-২০১২ | ১৪:৩৭ |

      তালিকা খুঁজার জন্য বাত্তি জালাইছি Grin

  5. দীপক সাহা : ১৫-০৫-২০১২ | ১৪:৪০ |

    বিস্ময়ের চরম শিখরে আরোহণ করলাম, এর পর কোথায় চড়ব তাই ভাবছি…!!! Yes

    • সাইক্লোন : ১৫-০৫-২০১২ | ১৫:৫৩ |

      ধন্যবাদ, সাবধানে থাকবেন। পড়ে যাইয়েন না Grin

    • দীপক সাহা : ১৬-০৫-২০১২ | ১১:১৬ |

      Grin ROTFL

  6. বিষণ্ণময়ী : ১৫-০৫-২০১২ | ১৫:৪৮ |

    Taupo Boiling Mud আমার কাছে মনে হচ্ছে এখানে চুনের খনি আছে। এখনই তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক তার পরে চলুক অনুসন্ধান। যদি খনি আবিস্কার হয় সেই খনির নাম হবে বিষণ্ন চুনের খনি। আর যদি খনি না পাওয়া যায় সেই কথাটা আমরা স্মরণ করবো”একবার না পাড়িলে দেখো শতবার” Grin

    (কাপ্পাডোসিয়া)এর মতো দার্জিলিং এ ও এই ধরনের আবাস দেখা যায় যা পাহাড়ের উপরে অবস্থিত। দারুন রোমাঞ্চাকর লাগে এই বাড়ীগুলোকে।

    • সাইক্লোন : ১৫-০৫-২০১২ | ১৫:৫২ |

      ৯ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিলো…… কিন্তু তাঁরা কি কাজে সময় ব্যয় করেছে তা দেখুন

    • বিষণ্ণময়ী : ১৫-০৫-২০১২ | ১৬:০৮ |

      তাইতো বলি এবার দেশে ফলের এতো দাম কেনো্ এইভাবে সবাই গোগ্রাসে খেলে ফলের তো দাম বাড়বে। আর এই ৯সদস্যের দল এতো ফাকিবাজ কি করা যায় বলুনতো। Shoot Shoot Grin

    • সাইক্লোন : ১৫-০৫-২০১২ | ১৬:১৪ |

      তাদেরকে ডেকে আকেকজনকে ঐ পরিমান ফল খেতে বাধ্য করা যায় Razz Wink

    • বিষণ্ণময়ী : ১৫-০৫-২০১২ | ১৬:৪২ |

      আবার খাওয়া পায়তারা চলছে বুঝা যায়। Smile

    • সাইক্লোন : ১৫-০৫-২০১২ | ১৬:৪৯ |

      হ্যাঁ, মধুমাস তো এসে পড়লো…… আজ ১ লা জ্যৈষ্ঠ Grin

    • বিষণ্ণময়ী : ১৫-০৫-২০১২ | ১৬:৫৫ |

      এবার কি জামাই জৈষ্ঠ্যি খাবে না কি শিবলী??? সাথে নিয়ে যাবেন একা একো তো এতো খেতে পারবেন না। Grin

    • সাইক্লোন : ১৫-০৫-২০১২ | ১৭:০১ |

      জামাই জৈষ্ঠ্যি Shock Shock Hairpull

    • ভালবাসার দেয়াল : ১৬-০৫-২০১২ | ১:০৭ |

      Smile দিনগুলো মোর – গানটির কথা মনে পড়লো আয়োজন এর ছবি দেখে Razz

  7. খুবই ভাল লাগল , অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম

    • সাইক্লোন : ১৬-০৫-২০১২ | ১১:৫৫ |

      ধন্যবাদ ভাই
      ভালো থাকবেন Smile

  8. ছায়েদা আলী : ১৫-০৫-২০১২ | ২০:০০ |

    সালাম স্যার Smile
    পোষ্ট টি ভালো পাইছি …

    ভালো থাকুন ।

    আর কি কবিতা লিখেন নাই Razz

    • সাইক্লোন : ১৬-০৫-২০১২ | ১১:৫৬ |

      ওয়ালাইকুম আসসালাম
      Smile
      কবিতা আবার কি জিনিস Thinking খায় না মাথায় দেয় Nailbite

  9. মরুভূমির জলদস্যু : ১৫-০৫-২০১২ | ২২:৪৬ |

    আপাততো লেখাটি প্রিয়তে যোগ করা হইলো।

  10. ভালবাসার দেয়াল : ১৬-০৫-২০১২ | ১:০৬ |

    অনেক কিছুই জানা হলো। মধু মাসের কথাও মন্ত্যব্য থেকে জানতে পারলাম Smile

    • সাইক্লোন : ১৬-০৫-২০১২ | ১১:৫৭ |

      হ্যাঁ, আবার একটা মধু আয়োজন করতে হবে Grin

  11. নীলকণ্ঠ : ১৭-০৫-২০১২ | ১৫:২২ |

    আসলেই বিস্ময়কর

  12. নাজমুল হুদা : ০২-০৯-২০১২ | ১০:৫০ |

    দারুন সব মজার তথ্য!
    পোস্টের শুরুতে দেওয়া এই কচ্ছপটির নাম সঠিক ভাবে লিখলে হয় এমনঃ :Chelonoidis nigra abingdoni। এর বর্তমান অবস্থা কী? বেঁচে কি আছে? বাচ্চা-কাচ্চা হলো কি?