প্রত্যেক মানুষই এক একটি অপার সম্ভাবনার নাম। প্রত্যেকের হৃদয়ের মধ্যে আছে এক অন্তহীন দিগন্তহীন জগৎ। এই জগৎটা হল সততা, নৈতিকতা, মানবতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়নতা দায়িত্ববোধ ও সর্বোপরি দেশপ্রেমের জগৎ। দেশপ্রেমের জগতে উদ্বুদ্ধ হয়েই অকুতোভয় বাঙালি মুক্তিসেনারা ঔপনিবেশিক দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে লক্ষ্ প্রানের বিনিময়ে অর্জন করেছিল স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে পুথিবীর বুকে জন্মলাভ করে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৩৯ বছর পেরিয়ে গেলেও যাদের কারণে আমরা এই স্বাধীনতা অর্জন করলাম তারা এই স্বাধীনতার স্বাদ কতটুকু পেয়েছে বা পাচ্ছে তার খবর আমরা কেউ রাখিনা। এটা বড় লজ্জার বড় অপমানের। স্বাধীনতার মাস এলে শত শত মুক্তিযোদ্ধার জীবনের করুন কাহিনী আমাদের আহত করে, বিবেককে কটাক্ষ করে দেশের রাজনীতিবিদদের মনে করিয়ে দেয় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা রণাঙ্গনের যুদ্ধে বিজয়ী হয়েও আজ তারা জীবন যুদ্ধে পরাজিত। আজ তারা অনেকে অসহায়। অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তারা আজ কেউ ভিক্ষুক, কেউ ভ্যানচালক, কেউ ফেরিওয়ালা, কেউ শ্রমিক। তারা দেশকে স্বাধীন করার জন্য জীবনের বিনিময়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল অথচ আজ আমরা দেশবাসী তাদের সঠিক মূল্যায়ন, সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার প্রদানসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তির নিমিত্তে কিছুই করছি না। বরং এদের বিজয়ের সুফল দিয়ে রাজনীতিবিদরা তাদের সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে। এলাকাভেদে বছরে দু’বার (১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চ) দু’দিন কয়েকখানা মুক্তিযুদ্ধের গানের রেকর্ড বাজিয়ে ও ক্ষুদ্র নগণ্য কিছু খয়রাতি সাহায্য দিয়ে যেনতেনভাবে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দায়সারা সংবর্ধনা প্রদান করি, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। মুক্তিযোদ্ধারা সাহায্য চান না। তারা চান সঠিক সম্মান, মর্যাদা, মূল্যায়ন, অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি। কালের বাস্তবতায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্থান সুমহান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হোক- এটাই সকলের কাম্য হওয়া উচিত। রাষ্ট্রীয় ও সমাজ জীবনের সব ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার, মর্যাদা, সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জাতীয় কর্তব্য।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস- ঐতিহ্য ও চেতনাকে আজ আমরা হারাতে বসেছি, ভুলতে বসেছি। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিস্মৃত হতে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চিরসমুন্নত রাখা ও নতুন প্রজন্মের কাছে তাই মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সঠিক চিত্র তুলে ধরা শুধু প্রয়োজনই নয় বরং একান্ত অপরিহার্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বিজয়ের আনন্দ পৌঁছে দিতে হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। পরিতাপের বিষয় মহান মুক্তিযুদ্ধকে কতিপয় ব্যক্তিবর্গ বিদ্রূপ, পরিহাস ও কটাক্ষপূর্বক “গন্ডগোলের বছর” বলে আখ্যায়িত করে অপরিসীম ধৃষ্টতার পরিচয় দিয়ে থাকে, যা ক্ষমার অযোগ্য। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। করেওনি। কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা হল এই যে, আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি না। অথচ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল, ইতিহাসের যে কোন শিক্ষা অতিদ্রুত ইতিহাস হয়ে যায়। মিথ্যা ও ছলচাতুরী দ্বারা ইতিহাস কখনও কখনও আঘাতপ্রাপ্ত হয় কিন্তু অসত্যকে কখনও সত্য বলে চালিয়ে দেয় না। ইতিহাস বিকৃতদের ইতিহাস কখনও ক্ষমা করে না।
তাই আসুন আজ এই স্বাধীনতার মাসে আমরা নতুন করে শপথ করি আর যেন কোন মুক্তিযোদ্ধা অনাহারে, অর্ধাহারে, ভিক্ষুক হিসাবে মারা না যায়। আর যেন কোন কন্যাদায়গ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা আত্মহত্যা না করে। মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় মর্যাদায় জাতীয় পতাকায় ঢেকে দাফন করে তাকে সন্মানিত করা হয়। দেশের রাজনীতিবিদদের কাছে আমার আবেদন আপনারা এদের মৃত্যূর পর নয় মৃত্যূর আগে ন্যায্য সন্মানটুকু নিয়ে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করুন।
আমার এই আবেদন কি দেশের রাজনীতিবিদদের কানে পৌঁছবে…………?



তাই আসুন আজ এই স্বাধীনতার মাসে আমরা নতুন করে শপথ করি আর যেন কোন মুক্তিযোদ্ধা অনাহারে, অর্ধাহারে, ভিক্ষুক হিসাবে মারা না যায়। আর যেন কোন কন্যাদায়গ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা আত্মহত্যা না করে। মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় মর্যাদায় জাতীয় পতাকায় ঢেকে দাফন করে তাকে সন্মানিত করা হয়।

ধন্যবাদ সুমন ভাই। কেমন আছেন ?
সহমত
অনেক ধন্যবাদ।

দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পথ বেয়ে এসেছে স্বাধীনতা
কিন্তু এর স্বাদ আমরা ক’জন পেয়েছি।
হয়তো পেয়েছে কেউ। বেশীর ভাগই নেই।
আপা স্লামালেকুম।

আমার মনে হয় স্বাধীনতা বিরোধীরাই বেশী পেয়েছে।
ওয়ালাইকুম সালাম জামান ভাই।
ভাবী বাচ্চারা কেমন আছে ?
প্রত্যশা যেন কোন মুক্তিযুদ্ধা ও যেন আমাদের ঘৃণার পাত্র না হন, যেন দেখতে না হয় কোন লোভী যুদ্ধাকে।
সুন্দর পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
সহমত সহ ধন্যবাদ এরশাদ দা।
স্বাধীনতার ৩৯ বছর পেরিয়ে গেলেও যাদের কারনে আমরা এই স্বাধীনতা অর্জন করলাম তারা এই স্বাধীনতার স্বাদ কতটুকু পেয়েছে বা পাচ্ছে তার খবর আমরা কেউ রাখিনা। এটা বড় লজ্জার বড় অপমানের।
একমত আপনার সাথে
অনেক অনেক মোবারকবাদ দাদা ।

এত দূর্বল লেখা বিশেষ পোষ্ট হয় কিভাবে? লেখকের গলায় মনে হচ্ছে মাসীর দরদ!
এত দূর্বল লেখা বিশেষ পোষ্ট হয় কিভাবে?
এটা শব্দনীড় কতৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।
মাসির দরদ আর পিষির দরদের পার্থক্য মনে হয় আপনার বোধগম্য নয়। তাই এ ধরনের মন্তব্য করার সাহস দেখাতে পারলেন।
“নিজকে যে বড় বলে, বড় সে নয়।
লোকে যাকে বড় বলে, বড় সে হয়”।
আশা করি এটা ভুলে যাবেন না। তাছড়া ব্যবহারই বংশ পরিচয়ের মাপকাঠি।
একটা প্রতিক্রিয়াশীল লেখা কিভাবে নির্বাচিত হলো? লেখিকা তো পুরাপুরি জামাতী ঘারানার প্রতিক্রিয়াশীল।
“লেখিকা তো পুরাপুরি জামাতী ঘারানার প্রতিক্রিয়াশীল।”
এ ধরনের মন্তব্য ব্যক্তি আক্রমন যা সুস্থ্য ব্লগিং এর অন্তরায় বলে আমি মনে করি। লেখকের লেখা নিয়ে আলোচনা – সমালোচনা আমাদের সবার কাম্য ।
শুভ কামনা।
একটা বিশেষ নির্বাচিত পোষ্ট যখন এতো দুর্বল হয়। তখন পুরো ব্লগের লেখার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। লেখাটা স্পষ্ট প্রতিক্রিয়াশীল অবস্খান থেকে লেখা। এই ব্লগটা যদি জামাত-শিবিরের অবাধ ক্ষেত্র হয়. তবে কিছু বলার নেই। লেখিকার প্রতিক্রিয়াটা দেখলেন না? সেই আমাকে ব্যক্তি আক্রমন করছে। আমার মন্তব্যটা সে ধরতেই পারে নাই।
এই লেখাটা একজন রিকশাঅলা বা চায়ের দোকানীর প্রতিক্রিয়া হলেও আরো বেশি সমৃদ্ধ ও গঠনমূলক হতো। আমাদের দেশে মেয়েরা ভালো লেখক কখনই হতে পারবে না, কারণ, তারা দু পাতা লিখছেই চারপাশ থেকে এতো বাহবা দেয়া হয়, সে তখন মনে করে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ লেখাটা সে লিখেছে। তার চেষ্টাটা আর বেশি থাকে না। সে যাই লিখছে তোষামোদকারীরা তাতেই বাহবা দিচ্ছে। তার আর কি লাগে? সে তখন বড় জোর কাকের ছা বকের ছা লিখছে। আর আমরা মনে করছি, এতেই বুঝি দেশ-জাতি উদ্ধার হয়ে গেলো।
লিখছেই >>. লিখলেই* হবে।
@সরসিজ আলীম
ব্লগে আমি পাঠক সেই সাথে লেখক। তাই আমাকে অন্যের লেখাকে কটাক্ষ করার আগে ভাবতে হয় আমি কি লিখি বা যা লিখি তা আদোও গল্প বা কবিতা কি না । অন্যকে উৎসাহ বা সন্মান না দিলে নিজেও তা প্রত্যাশা করা অনুচিত। এখানে এমন কোন বিখ্যাত লেখক ব্লগিং করে না। যারা ব্লগিং করে আমার বিশ্বাস তারা একদিন না একদিন কেউ না কেউ বিখ্যাত হবেন লেখক পরিচয়ে। মেয়ে বা ছেলে লেখক বলে আমি লেখক স্বত্বাকে আলাদা করতে চাই না। লেখা নিয়ে গঠন মূলক আলোচনা করি অন্য কিছু নয়।
আমার মনে হয় ব্লগটা সবার জন্য অবাধ। তবে ব্যক্তি আক্রমন, অশালীন শব্দ ব্যবহার, কারো সামাজিক ও ধর্মীয় চেতনায় আঘাত হানে এবং বাংলাদেশ ও এর স্বাধীনতা বিরোধী কথা যারা বলে বা বলার চেষ্টা করে বা করবে ,এই ব্লগ তাদের জন্য নয়।
সরসিজ আলীম সাহেব, আপনার প্রতি সন্মান রেখেই বলছি, প্রতিক্রিয়াশীল শব্দটি দ্বারা আসলে আপনি কি বুঝাতে চেয়েছেন ?
আমার মনে হয় আপনি মাসির ভূমিকায় অভিনয় করে নিজের পান্ডিত্য জাহির করতে চাইছেন।
“আমাদের দেশে মেয়েরা ভালো লেখক কখনই হতে পারবে না, কারণ, তারা দু পাতা লিখছেই চারপাশ থেকে এতো বাহবা দেয়া হয়, সে তখন মনে করে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ লেখাটা সে লিখেছে”।
এটা আপনার ভুল ধারনা। আপনি ভুলে যাবেন না বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী একজন মেয়ে, বিরোধীদলীয় নেতাও একজন মেয়ে। তাছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বেও কিন্ত মেয়েরা। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও কিন্ত একজন লেখিকা। সর্বোপরি আপনার মা’ও একজন মেয়ে। কাজেই মেয়েদের সন্মান দিলে মা’কেই সন্মানিত করা হয় এটা ভুলে যাবেন না।
“এই ব্লগটা যদি জামাত-শিবিরের অবাধ ক্ষেত্র হয়. তবে কিছু বলার নেই”।
পর্দা করলে ধর্ম নিয়ে আলোচনা করলেই যে সবাই জামাত হয়ে যাবে এটা আপনার ভাবনায় আসল কিভাবে আমার বোধগম্য নয়। জামাত কি প্রকৃত ইসলামী দল ? জামাত তো ইসলামকে ব্যবহার করে স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। ১৯৭১ এ যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছে,হত্যা খুন,ধর্ষন, লুটতরাজ,অগ্নীসংযোগ করেছে তারা নাকি এসব করছে ধর্ম রক্ষা করার জন্য। ধর্ম রক্ষার জন্য খুন, ধর্ম রক্ষার জন্য ধর্ষণ, ধর্ম রক্ষার জন্য গ্রামকে গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া। বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নিরীহ মানুষ মারা। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ইসলাম ধংস হয়ে যাবে, আমরা সবাই অমুসলিম-হিন্দু হয়ে যাব।
প্রায় চল্লিশ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আজও সেই একই কথা বলা হচ্ছে। ১৯৭১-এ বলা হতো যে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে, পাকিস্তান ভেঙে গেলে ইসলাম বিপন্ন হবে। আমরা সবাই অমুসলিম হয়ে যাব।
বিখ্যাত আইনবিদ ডঃ শাহেদীন মালিক এর ভাষায়, টেবিলের উল্টো দিকের সেলফে বেশ কিছু আইনি বই আছে। মুসলিম আইন, ইসলামিক আইন, ইসলামিক আইনের ইতিহাস এবং আনুষঙ্গিক নামের গোটা ত্রিশেক বই আছে। অনেকগুলোর প্রথম দুই-চার পৃষ্ঠা উল্টালাম। অন্যান্য আইনের বইও আছে। ইসলামি আইন বা অন্য আইনের কোনো বইয়ের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ শব্দগুলো নেই। বুঝতে পারছি না এ মুহূর্তে করণীয় কী। ‘বিসমিল্লাহ’ নেই বলে ওই বইগুলো পড়তে গেলে কি আমি বিধর্মী হয়ে যাব?
যাদের জন্য ইসলাম বা ধর্ম ব্যক্তি স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার মাত্র, তারাই ‘বিসমিল্লাহ’ নিয়ে মাতম করে। একাত্তরের মতো এখনো বলব—সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ না থাকলে আমরা বিধর্মী হয়ে যাব, একাত্তরে যেভাবে বলা হয়েছিল যারা বাংলাদেশ চায় তারা বিধর্মী—তাদের কতল করো, তাদের সহায়-সম্পত্তি লুটপাট করো।
ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করার চেয়ে অযৌক্তিক ধ্বংসযজ্ঞে লেলিয়ে দেওয়া অনেক সহজ কাজ। হিংস্র অমানুষ মানুষ ধ্বংসযজ্ঞে পারদর্শিতা সব সময় বেশি দেখাতে ও করতে পেরেছে।
একাত্তরের যারা ঘাতক, এখন মনে হচ্ছে জামায়াত-শিবির না করেও অনেকেই সে দলের কথা বলছেন—পত্রিকায়, কলমে আর টক শোতে।
আমার মনে হয়,
একাত্তরের মতো একদল পিশাচ আবার এ দেশের সহজ-সরল-ধর্মপ্রাণ মানুষকে নৃশংসতা আর বর্বরতার দিকে ঠেলে দিতে উদ্যত হয়েছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা করে দেশে আবার রক্তগঙ্গার পাঁয়তারা চলছে। এবার একাত্তরের চেয়ে আমার আশঙ্কা বেশি। প্রথমত এখন ধর্মীয় উন্মাদনা বিশ্বব্যাপী। দ্বিতীয়ত অস্ত্রশস্ত্র, বোমা-বন্দুকের সহজপ্রাপ্যতায় যুক্তি, মানসিকতা, সহনশীলতা ও গণতন্ত্র প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে।
আর আপনি আমাকে পর্দা করার কারনেই হয়তো জামাত-শিবির ভাবছেন, পর্দা নিয়ে লিখা পাবেন অচিরেই। যার ব্যথা সেই বুঝে রে ভাই, আমি একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান। বি.এন.পি-জামাত জোট সরকারের নির্যাতন, হামলা, ৭ টি মামলা মাথায় নিয়ে আমার স্বামী তার শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। আমার ব্যথা আমিই বুঝি। আর আপনি আমাকে প্রতিক্রিয়াশীল জামাত -শিবির বানিয়ে ফেললেন। আমার শ্বশুর একজন সৎ, আদর্শবান শ্রমিক নেতা ছিলেন। ছেলে ছাত্রনেতা হওয়ার কারনে জোট সরকারের ৫ বছর নিজ বাড়ীতে ঠিক মতো ঘুমাতে পারেনি। ২৮ বছর আদমজীতে শ্রমিক রাজনীতি করে কোনদিন বাড়ীর বাইরে থাকেনি।
আমাকে জামাতী বলায় এতো কিছুর অবতারনা করলাম। আমার কোন লেখায় আপনার মনে ব্যথার কারন হলে আমাকে ক্ষমা করবেন।
কারন,
“ক্ষমাই মহত্যের লক্ষন”।
ভাল থাকবেন।
পরিশেষে ভাই জিয়া রায়হান সাহেবকে অসংখ্য ধন্যবাদ তার গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে আপনার ছোটখাট ভুল গুলি ধরিয়ে দিয়েছে।
জনাবা আমার কবিতাটা যাহির করার জন্য এখানে লেপি নাই। চেয়েছি আপনার লেখার সাথে সহমত প্রকাশ করতে আর আপনার কথাটাই হয়তো কিছু অংশ আমার এ লেখায় উঠে এসেছে, তাই এটুকু আপনার দরবারে। সত্যই আফসোস হয়, ঘৃণা হয়। বাকিটা মন্তব্যই কবিতা। ভাল থাকুন।
আজ আমাদেরই দূর্বলতায় বসন্তে দখল গ্রীর্স্মের, হিমেল শব্দটার পুরোটাই গিলে খেয়েছে খরতাপ, সবুজ জমিনে তুমি আমি কেবলি ধুলোর সংসার গড়ি, অথচ তাজমহলে বাসে এ কারা?
এ আমাদেরই সৃষ্ট বারমুডা, এ আমাদেরকেই করছে গ্রাস, লাপাত্তা
এ আমাদেরই বিসর্জন প্রাপ্তি পতাকা, রক্ত লাল নদীতে খরস্র্রোতা ঢেউ ঠেলে তীরে জাগানো আশা
অথচ আজ তা কেবলি লাশের উপর কাফনের কাজে ব্যস্ত।
যা কেবলি অর্ধনমিত হয়ে পড়ে আছে সবুজ জমিনে, এ কোন পতাকাকে আমি দেখি?
এ কোন স্বাধীনতাকে আমি দেখি?
লাশের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বপ্ন আজ লাশের বলিতে বেড়ে উঠছে
এ কোন স্বপ্নকে আমি দেখি, এ স্বপ্নই কি আমি দেখেছিলাম?
না আমি এ স্বপ্ন দেখতে চাইনি, এসব স্বপ্ন আমার পূর্বপুরুষরা দেখেনি?
“তাজমহলে বাসে এ কারা”?
এরাই প্রকৃত স্বাধীনতা ভোগকারী, এরাই আকড়ে আছে সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রে।
এ কোন স্বাধীনতাকে আমি দেখি?
পতিত নষ্ট প্রজন্মের স্বাধীনতাকে দেখি।
পূর্বপুরুষরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে কোন কিছু দাবী না করে। শৃংখল মুক্ত করেছে জাতিকে নিজেদের প্রানের বিনিময়ে।
ইতিহাস বিকৃতদের ইতিহাস কখনও ক্ষমা করে না।
তাই আসুন আজ এই স্বাধীনতার মাসে আমরা নতুন করে শপথ করি আর যেন কোন মুক্তিযোদ্ধা অনাহারে, অর্ধাহারে, ভিক্ষুক হিসাবে মারা না যায়। আর যেন কোন কন্যাদায়গ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা আত্মহত্যা না করে। মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় মর্যাদায় জাতীয় পতাকায় ঢেকে দাফন করে তাকে সন্মানিত করা হয়।
সহমত।
শুভ কামনা।
আপনার জন্যও অনেক অনেক শুভ কামনা। আমার মতো একজন ক্ষুদ্র লেখিকার লেখায় আপনার মতো একজন গুনি লেখকের মন্তব্য পেয়ে আমি সত্যি ধন্য এবং আনন্দিত। দোয়া করবেন।

সুন্দর পোস্টের জন্য ধন্যবাদ। শুভকামনা জানবেন।
আপনার জন্যও সতত শুভ কামনা।

আমরা খুব স্বার্থন্বেষী জাতি। স্বার্থ পূরণ হলেই আমরা পালিয়ে বাঁচতে চাই। এটা সত্যিই লজ্জাজনক।
এ লজ্জার হাত থেকে বাচতে আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

ধন্যবাদ আপু মন্তব্যের জন্য।
আমার এই আবেদন কি দেশের রাজনীতিবিদদের কানে পৌঁছবে…………?
রাজনীতিবিদদের কানের চাইতে প্রথমেই নিজেদের কানে পৌছানো জরুরি। আমরা নিজেদের অবস্থানে কতটুকু দেশপ্রেমিক তাঁর হিসাব নেয়ার সময় এসেছে। ধন্যবাদ, নিরাপদে থাকুন।
দোয়া করবেন যেন নিরাপদে থাকতে পারি। রাজনীতিবিদরাই এখন দেশের মা-বাপ তাই আবেদনটা তাদের কাছে রাখলাম।