


চিত্রঃ ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর বর্বর গনহত্যার সাক্ষ্য
১৯৮১ সালে ইউ এন ইউনির্ভাসাল হিউম্যান রাইটসের ডিকলারেশনে বলেছে:

(সূত্র – ভার্চুয়াল বাংলাদেশ ডট কম)
মানব ইতিহাসে যত গণহত্যা হয়েছে এর মধ্যে বাংলাদেশের ১৯৭১’ এর গণহত্যায় স্বল্পতম সময়ে এই সংখ্যা সর্ববৃহৎ।গড়ে প্রতিদিন ৬,০০০ – ১২,০০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।এটি হচ্ছে গণহত্যার ইতিহাসে প্রতিদিনে সর্ব্বোচ্চ নিধনের হার।
তার মানে, পাক বাহিনী(দিনপ্রতি ৬০০০-১২০০০ বাঙালী নিধন) করছে ২৬০দিনে (একাত্তুরের ২৫-এ মার্চ থেইক্যা শুরু কৈরা ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত)
যদি আমরা “মাঝামাঝি” হিসাব করি, সংখ্যাডা দাঁড়ায়: ২৩,৪০,০০০ (তেইশ লাখ চল্লিশ হাজার)।একাত্তুরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাত কোটি পঞ্চাশ লাখ। ১ কোটি পঞ্চাশ লাখ পরিবার ছিল তখন দেশে। প্রত্যেক পরিবারে মারা গেছে: ০.১৬ জন। অর্থাৎ, একাত্তুরে গড়ে একশটা পরিবার খুঁজলে এর মধ্য ষোলডা পরিবার পাওয়া যাবে যারা পাক বাহিনীর নির্যাতনের শিকারহয়েছে । ১৬টা পরিবার-এমন আহামরি কোন বড় সংখ্যা না যে ঘটতে পারে না।একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার কোন কারন নাই অবশ্যই। ত্রিশ লাখ শহীদের ব্যাপারটা কোন অতিরঞ্জন না, কোন “অবাস্তব ফিগার” না। আসলেই ত্রিশ লাখ লোক শহীদ হয়েছিল। আর এক কোটির মত শরণার্থী ছিল তখন ভারতে ।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ১৯৭২-এর ইস্যুতে লেখা হয়েছিল বাংলাদেশে একাত্তুরে তিন মিলিয়ন (বা ত্রিশ লাখ)-এর বেশি লোক মারা হয়েছে।আরও অনেক নিরপেক্ষ ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়াতেই তখন “৩ মিলিয়ন” উল্লেখ করা য়েহছিল।যেহেতু যুদ্ধের দুই-তিন বছরের মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ায় যে তথ্য দিয়ে ছিল নিরপেক্ষভাবে ছিল ,সে তথ্য স্বাধীনতার ৩৯ বছর পরেও-রাজাকার গো “গবেষণাধর্মী” প্রোপাগান্ডার চাইতে অনেক বেশি অথেন্টিক, তা অপেক্ষা রাখে না।
জেনোসাইড (www.genocide.org) বলা হয়েছে -
একাত্তরের ২২শে ফেব্র“য়ারী তারিখে পশ্চিম পাকিস্তানের জেনারেলরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে আওয়ামী লীগ ও তার সমর্থকদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হবে। প্রথম থেকেই স্থির করা হয় যে (এদের) হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনকে নির্মূল করতে হলে সামরিক গণহত্যার অভিযান শুরু করতে হবে – ‘ওদের ত্রিশ লক্ষকে হত্যা কর’, ফেব্র“য়ারী সম্মেলনে নির্দেশ দিয়েছিলেন সদরে রিয়াসৎ ইয়াহিয়া খান, ‘এবং বাকীরা আমাদের থাবার মধ্যে থেকেই নিঃশেষ হবে।’ (রবার্ট পেইন, ম্যাসাকার, ১৯৭২, পৃ ৫০)। ২৫শে মার্চ তারিখে গণহত্যার রকেট উৎক্ষিপ্ত হল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয় আক্রান্ত হল এবং শত শত ছাত্রকে নির্মূল করা হল (পাকিস্তানী বর্বর সেনাদের হাতে)। দলে দলে এই নৃশংস হত্যাকারীরা সারা ঢাকা শহরের রাজপথ অলি গলি চষে বেড়িয়ে একই রাতে কম করেও ৭,০০০ নিরীহ মানুষকে হত্যা করল। কিন্তু এটা তো ‘শুরু’ মাত্র। এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যার অর্ধেক পালিযে বাঁচল, এবং অন্তত ৩০,০০০ মানুষ এর মধ্যে পাক বাহিনীর হতে নিহত হল। চট্টগ্রামেও জনসংখ্যার অর্ধেক নিশ্চিহ্ন হল। সারা পূর্ব পাকিস্তানে জনগণ পালিয়ে বেড়াচ্ছিল, এবং হিসাব থেকে দেখা গেছে এপ্রিলেই সারা পূর্ব পাকিস্তানে অন্তত তিন কোটি মানুষ সামরিক নর পিশাচদের হাত রক্ষা পাওয়ার জন্য গ্রাম-গ্রামান্তরে পালিয়ে বেড়িয়েছে (রবার্ট পেইন, ম্যাসাকার, পৃ ৪৮)। এক কোটিরও ওপর পূর্ব পাকিস্তানবাসী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল- যা তাদের অর্থনীতির ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে পরিণামে উদ্ভুত পরিস্থিতি ভারতকে সামরিক হস্তক্ষেপে বাধ্য করেছিল (গণহত্যার শুরুতে পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল ৭.৫ কোটি) ।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা এবং মানুষকে – বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে এই দালালরা মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।যে দলটি মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং নির্যাতিত নারীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা তারা হলো প্রথম দলের প্রপাগান্ডার ফলে সৃষ্ট একটা বিভ্রান্ত প্রজস্ম – যাদের জন্ম যুদ্ধের পর। ফলে তারা মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা এবং নির্মমতা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পায়নি। এদের জন্ম একটা স্বাধীন দেশে – সুতরাং তাদের জন্যে যুদ্ধটা হলো একটা ইতিহাস। আর ১৯৭৫ এরপর এই প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাস থেকে দূরে রাখার কারনেই এদের পক্ষে পাকিস্থানী সেনাবাহিনী এবং দোসর রাজাকার, আলবদর- আলশামস এবং শান্তিকমিটির নির্মম হত্যাকান্ড, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং নারী ধর্ষনের ব্যপকতা উপলদ্ধি করা সম্ভব নয়। আর পরাজিত শক্তির সহজ টার্গেট হিসাবে এরা যা জেনেছে তা হলো – মুক্তিযোদ্ধা মানেই হলো একজন ব্যর্থ মানুষ – যাকে মানুষ সন্মান করবে কিংন্তু প্রকৃত সামাজিক বা অর্থনৈতিক ক্ষমতা তাদের হাতে থাকবে না। আবারো টিভি প্রসংগে আসা যাক। ৭৫ থেকে ৯০ পর্যন্ত বিটিভিতে যত নাটক স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবসে প্রচারিত হয়েছে তার অধিকাংশতেই দেখা যাবে একজন পংগু এবং রাগী মানুষ মুক্তিযোদ্ধার ভুমিকায় অভিনয় করছে। এতে এমন অবস্থা হয়েছে যে, পংগু এবং মুক্তিযোদ্ধা সমার্থক শব্দ হয়ে “পংগু মুক্তিযুদ্ধা” হিসাবে পরিচিত হয়েছে। অন্যদিকে দেখানো হচ্ছে রাজাকাররা বেশ ভাল অবস্থানে গিয়ে পৌছেছে। আর নাটকের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃতিতো ছিল একটা স্বাভাবিক ঘটনা। ফলে এই নতুন প্রজন্মের কাছে আদমশুমারী এরং যুদ্ধের নিহত আর নির্যাতিতাদের গননা প্রায় একই রকমের সহজ কাজ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ প্রজন্মের কেউ যদি মুক্তিযুদ্ধের কথা জানতে চান অবশ্যই সময় করে দেখে নেবেন বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান নির্মাণ করেন মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ ভিডিওচিত্র নিয়ে বিশেষ তথ্যচিত্র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।২০০৮ সালে ২৮ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয় এর সিডি, ডিভিডি। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সব মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা এই প্রামাণ্যচিত্রটিতে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা থেকে শুরু করে ‘৫২-র ভাষা আন্দোলন, ‘৬৯-র গণ-অভ্যুত্থান এবং ‘৭১-র মহান মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা ছবি এবং ঘটনার বিবরণ পাওয়া যাবে।
বিশেষ তথ্যচিত্র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস -১
বিশেষ তথ্যচিত্র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস -২
বিশেষ তথ্যচিত্র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস -৩
বিশেষ তথ্যচিত্র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস – ৪
বিশেষ তথ্যচিত্র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস -৫
বিশেষ তথ্যচিত্র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস -৬
বিশেষ তথ্যচিত্র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস -৭
বিশেষ তথ্যচিত্র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস -৮
বিশেষ তথ্যচিত্র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস -৯
বিশেষ তথ্যচিত্র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস -১০
বিশেষ তথ্যচিত্র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস -১১
মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা কত? -এই প্রশ্ন অনেকেই উত্থাপন করে বেশ আনন্দ পান আবার কেহ স্বার্থ সিদ্ধির জন্যও এই প্রশ্নটি করেন। প্রশ্নের উত্তর হলো একটাই – হ্যাঁ, অবশ্য সংখ্যাটা বেশীও হতে পারে। যারা নদীর ধারে বাস করতেন – যারা পিতার লাশ সনাক্ত করার জন্যে নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া অগনিত লাশের মিছিল দেখেছে – তাদের কাছে ৩০ লক্ষ সংখ্যাটা অনেক কম মনে হতে পারে।
এই লজ্জা কোথায় রাখি,যারা বলে পাকিস্তান জিন্দাবাদ,যাদের কারণে স্বধীনতা অর্জনে সময় কত কিছু হারাতে হয়েছে।১৯৭১ সালে যারা এদেশের মানুষ হয়েও হায়েনার মত আচরন করেছে।আজ তারাই নাকি দেশের স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কথা বলে …এটা কি আমাদের জন্য লজ্জাস্কর নয়?এই কুকুরের দল কে কি করা উচিৎ?
আসুন, বিজয়ের মাসে আমাদের শপথ হোক, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় সকল বিভ্রান্তিকর প্রচারনার বিরুদ্ধে আমাদের সকল মেধা আর শক্তি দিয়ে সংগ্রামই হবে আমাদের প্রধান কাজ।

আজ দেখলাম আলোতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ করে পোস্ট দিতেছে জামাতি ব্লগার। এখানে



আলো ব্লগের পোস্ট আমি দেখেই হতোবাক।

আলোর সঞ্চালক ও সালাউদ্দিন মিয়ার উপস্হিতিতে
এই ধরনের পোস্ট কি ভাবে আসে ভাবতে অভাক লাগে।
সঞ্চালক ও সালাউদ্দিন মিয়ার কামই হইলো
উক্ত ব্যবহারকারীকে ”-এই কারনে ব্যান করা হয়েছে।
এই মুখস্ত লিখাটা লিখার জন্য।
ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
আসুন, বিজয়ের মাসে আমাদের শপথ হোক, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় সকল বিভ্রান্তিকর প্রচারনার বিরুদ্ধে আমাদের সকল মেধা আর শক্তি দিয়ে সংগ্রামই হবে আমাদের প্রধান কাজ।
মগ বাজার হইতে টাহা পাইলেই ব্লগে আইসা কোরান হাদিস লইয়া ফালপারে।
আর রাইত হইলে কি ভাবে মানুষ হত্যা করতে পারবে সেই পরিকল্পনা করে।
আমি সব সময় জামাতি ব্লগারের পিছনে আছি
আজ দেখলাম আলোতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ করে পোস্ট দিতেছে জামাতি ব্লগার। আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মানিত শহীদদের সংখ্যা কত ?
আসুন, বিজয়ের মাসে আমাদের শপথ হোক, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় সকল বিভ্রান্তিকর প্রচারনার বিরুদ্ধে আমাদের সকল মেধা আর শক্তি দিয়ে সংগ্রামই হবে আমাদের প্রধান কাজ।
আসুন, বিজয়ের মাসে আমাদের শপথ হোক, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় সকল বিভ্রান্তিকর প্রচারনার বিরুদ্ধে আমাদের সকল মেধা আর শক্তি দিয়ে সংগ্রামই হবে আমাদের প্রধান কাজ।

ধন্যবাদ আপনাকে। শুভকামনা নিরন্তর।
ধন্যবাদ।
শ্রদ্ধা জানাই সকল শহীদদের প্রতি। আর আপনার প্রতি রইল শুভকামনা ও
ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
আপনার পোষ্ট মানেই বিপুল তথ্যের সংকলন ঘটে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক ।

আপনার জন্য শুভকামনা।
মুক্তিযুদ্ধের ৩৯বছর পর যারা শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের প্রতি করুণা আর ধিক্কার জানানো ছাড়া আর বলার কিছুই নাই।
তথ্যবহুল পোষ্ট। ধন্যবাদ।
৩০ লক্ষ সংখ্যাটা অনেক কম মনে হতে পারে
সংগ্রহে রাখার মতই পোষ্ট
ধন্যবাদ রুবেল ভাই

অপরিসীম শ্রদ্ধা জানাই সকল শহীদদের প্রতি।
জটিল