
আমার কাছে প্রতিটি দিনই বাবা - মার জন্য, কিন্তু আজ আন্তর্জাতিক বাবা দিবস।আজ বিশ্ব বাবা দিবসে পৃথিবীর সকল বাবা কে বাবা দিবসের শুভেচ্ছা আর মহান আল্লাহ’র নিকট এ দোয়াই করি যেন আল্লাহ পৃথিবীর সকল বাবা কে স্বর্গীয় করেন। আসুন এই বিশেষ দিনটিতে আমরা প্রতীজ্ঞাবদ্ধ হই আমাদের যাদের বাবা মা জীবিত আছেন কখনো কষ্ট দিব না আর তাঁদের।
বাবা -কে নিয়ে আমার পৃথিবী।বাবার অনুভূতি, অস্তিত্ব সবসময় আমাকে আষ্টেপৃষ্টে ঘিরে থাকে, যদিও তাঁর কাছ থেকে অনেক দূরে থাকি।বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারছি না,আমি জানি আমার চিন্তায় বাবা দিন দিন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন।কিছু করতে পারি না,শুধু অসহায়ের মত বাবার কষ্ট অনুভব করি।বলতেও পারি না”বাবা আমি সব কষ্ট মুছে দিব।”
বাবাকে ঘিরে প্রত্যেকটি সন্তানেরই থাকে নানান স্মৃতি, থাকে অনেক সাফল্য গাঁথার গল্প,অতীতের রেখে আসা অনেক কথা,যা বলা হয় না পরিবেশ পরিস্থিতির অভাবে। আজ সেই দিনগুলোর কথা অসম্ভব মনে পড়ছে। মনে পড়ছে বাবার আদর ও শাসন, বাবার ভালোবাসা। সব সবকিছু আজ যেন জমা হচ্ছে আমার মনে কিন্তু সেগুলো প্রকাশ করার ভাষা তো আমার জানা নেই।প্রবাস জীবন খুব কষ্টের কিন্তু বাবাকে অনেক বেশি মনে পড়ে,যখন বাবাকে মনে পড়ে সব কষ্ট ভূলে যাই। কারন আমি জানি আমার বাবার কষ্টের কাছে আমার কষ্ট কিছু না।আমি জানি আমার এই লেখা আমার বাবা দেখবে না ,তবুও বাবাকেই আমি লিখছি।জানি জবাব দেবেনা বাবা!তবুও বাবাকেই লিখছি….
বাবা তুমি কত কষ্ট করেছ আমার জন্য,এখনো কর!সর্বশেষ তোমার মুখ দেখেছিলাম সেদিন যেদিন প্রবাস আসি।আবার কবে দেখা হবে বাবা আমি জানিনা।বাবা তোমার স্বপ্ন তোমার ছেলে অনেক বড় হবে।বাবা তোমার ছেলে আজ অনেক বড় কিন্তু অনেক দূরে।তুমি দেখবেনা বাবা?মা যেদিন আকাশের তারা হয়ে চলে গেলো না ফেরার দেশে। তারপর থেকেইতো শুরু তুমি আমার রাত দিন সব কিছু ,সেই ছোট্টবেলা থেকেই তোমাকে দেখা তুমি কত কষ্ট করেছ আমার জন্য !আমি যখন একা একা থাকি তখন শুদু তোমার কথা মলে পরে বাবা……. মা র মত তুমি একদিন চলে যাবে তখন?
জানি জবাব দেবেনা !আবার কবে দেখা হবে বাবা তোমার সাথে আর তুমি আমাকে জরিয়ে ধরবে আমাকে?বাবা তুমি সব সময় আমার মনের গহীনে থাক,থাকবে আমি যতদিন বেচে থাকবো…..

বাবা দিবসের ইতিহাসঃ
সোনোরা লুইস ডডের মা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে যখন মারা যান, তখন ডডের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। আর ডডের বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন সবে যুদ্ধ থেকে ফিরেছেন। তারপর থেকেই সে দেখেছে তার বাবা তাদের ছয় ভাই-বোনকে মানুষ করার জন্য রাত-দিন কি কঠিন পরিশ্রমই না করছেন। তারা তাদের মায়ের অভাব বুঝতেই পারেনি বলতে গেলে। যেনো বাবাই তাদের মা। বাবাই ছিলো তাদের সব কিছু।
১৯০৯ সালে ডডের বয়স যখন ২৭ তখন সে অবাক হয়েই দেখলো মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য একটি দিন আছে যে দিনটি বিশ্বের প্রায় সবাই পালন করে। অথচ বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের কোনো দিন নেই, যেন বাবাকে কেউ ভালোই বাসে না।
ডড ভাবলো মা দিবসের মতো বাবা দিবস থাকলে কেমন হয়! কিন’ তার এ ভাবনা যখন অন্যরা শোনে তখন হেসেই বাঁচে না। এমনকি তাকে নিয়ে এজন্য রঙ্গ-রসিকতা করতেও কেউ বাদ রাখেনি। কিন্তু ডড এতে ভীষণ কষ্ট পেলেও দমলো না একদম, বরং তার মধ্যে জেদ আরো প্রবল হয়ে উঠলো। কারণ সে তার বাবাকে প্রচন্ড ভালোবাসে। তাই সে আন্তরিকভাবে বাবা দিবস পালনের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে লাগলো। আন-রিক প্রচেষ্টা আর কঠোর পরিশ্রম যে সফলতার মূল চাবিকাঠি সেটা আরেকবার প্রমাণিত হলো। কারণ তার পরের বছর মানে ১৯১০ সালে ওয়াশিংটনের স্পোকান নামে ছোট্ট শহরে (ডডের নিজ শহর) কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে পালিত হলো বাবা দিবস।
তারপর ১৯১৬ সালে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এ দিবসকে সমর্থন করেন। এক সময় এটা তাদের জাতীয় আইনসভাতেও স্বীকৃতি পায়। সেই থেকে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্ব বাবা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।
বাবা দিবস দেশে দেশেঃ
বাবা দিবসের পালনের ইতিহাস খুব বেশি দিনের না হলেও বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮৭টি দেশ দিবসটি পালন করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সব দেশ একই দিনে বাবা দিবস পালন করে না। বরং বেশির ভাগ দেশের ভিন্ন ভিন্ন দিন রয়েছে বাবাকে ভালোবাসা জানানোর জন্য। এমনকি দেশভেদে বাবা দিবসের রীতিতেও রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য।
প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস পালন করে বেশ কিছু দেশ। এগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, অ্যান্টিগুয়া, বাহামা, বুলগেরিয়া, কানাডা, চিলি, কলাম্বিয়া, কোস্টা রিকা, কিউবা, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ফ্রান্স, গ্রিস, গায়ানা, হংকং, ভারত, আয়ারল্যান্ড, জ্যামাইকা, জাপান, মালয়েশিয়া, মাল্টা, মরিশাস, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ড, পাকিস্তান, পানামা, প্যারাগুয়ে, পেরু, ফিলিপাইন, পুয়ের্টো রিকো, সিঙ্গাপুর, স্লোভাকিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, সুইজারল্যান্ড, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তুরস্ক, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ভেনিজুয়েলা ও জিম্বাবুয়ে।
এদিকে ইরান বাবা দিবস পালন করে ১৪ মার্চ। আবার মার্চ মাসের ১৯ তারিখে বাবা দিবস পালন করে বলিভিয়া, ইটালি, হন্ডুরাস, পর্তুগাল ও স্পেন।
প্রতিবছর মে মাসের ৮ তারিখে বাবা দিবস পালন করে দক্ষিণ কোরিয়া। অন্যদিকে জুন মাসের প্রথম রবিবার বাবা দিবস পালন করে লিথুনিয়া, ৫ জুনে ডেনমার্ক এবং জুনের দ্বিতীয় রবিবার বাবা দিবস পালন করে অস্ট্রিয়া, ইকুয়েডর ও বেলজিয়াম। এল সালভেদর ও গুয়েতেমালা বাবা দিবস পালন করে ১৭ জুন। নিকারাগুয়া, পোল্যান্ড ও উগান্ডা ২৩ জুন পালন করে বাবা দিবস।
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের উরুগুয়ে জুলাই মাসের দ্বিতীয় রবিবার পালন করে বাবা দিবস। ডমিনিকান রিপাবলিক জুলাই মাসের শেষ রবিবার দিবসটি পালন করে।
ফুটবলের জন্য জনপ্রিয় দেশ দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ব্রাজিল বাবা দিবস পালন করে আগস্ট মাসের দ্বিতীয় রবিবার। আগস্টের ৮ তারিখে বাবা দিবস পালন করে তাইওয়ান ও চিন। ফুলবল প্রিয় আরেক দেশ আর্জেটিনা বাবা দিবস পালন করে ২৪ আগস্ট।
সেপ্টেম্বরের প্রথম রবিবার বাবা দিবস পালন করে অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড। আবার একই মাসের পূর্ণিমায় বাবা দিবস পালন করে হিমালয় কন্যা নেপাল।
পশ্চিম ইউরোপের দেশ লুক্সেমবার্গ বাবা দিবস পালন করে ৫ অক্টোবর এবং একই মাসের দ্বিতীয় রবিবার বাবা দিবস পালন করে এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেন।
আর এশিয়ার আরেক দেশ থাইল্যান্ড ৫ ডিসেম্বর বাবা দিবস পালন করে।
বাবা দিবস : ভিন্ন দেশের ভিন্ন রীতি
বিশ্বের প্রায় ৮৭টি দেশে বাবা দিবস পালিত হয়। কিন্তু এসব দেশের বাবা দিবস পালনের তারিখ যেমন ভিন্ন তেমনি তাদের রীতিও আলাদা আলাদা। সেটাই জেনে নিই চলো।
অস্ট্রেলিয়াঃ
সেপ্টেম্বরের প্রথম রোববার অস্ট্রেলিয়ার বাবা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এদিন বাবাকে শুভেচ্ছা জানাতে সন্তানরা বেছে নেয় ফুল, নেকটাই, চকোলেট বা বাবার প্রিয় কোন কিছু। শুধু তাই নয়, এদিন বাবার সন্মানে পরিবারের সবাই একত্রে সকালের নাস্তা করে। এছাড়া সারাদিন বাবার সাথে কাটায় অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসীরা। তাদের বিশ্বাস এতে সন্তানদের সাথে বাবার ভালবাসার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।
ভারতঃ
ভারতে বাবা দিবস পালনের রীতি খুব বেশি দিনের নয়। মূলতঃ পশ্চিমা দেশগুলোর অনুকরণে ভারতে বাবা দিবস পালিত হয়। সামপ্রতিক কালের হলেও ভারতে ক্রমেই এই দিবসটি প্রসার পাচ্ছে। তবে তা এখনো শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ। ভারতে জুনের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস পালিত হয়। এই দিন বাবার সাথে কাটায় ভারতের পরিবারের সদস্যরা। বাবাকে শুভেচ্ছা জানাতে কার্ড, ফুল বা অন্যকিছু বেছে নেয়া হয়। তাছাড়া পরিবারের সবাই মিলে দূরে কোথাও পিকনিক বা সিনেমা দেখাটাও বেশ প্রচলিত।
এছাড়া ভারতের অনেক স্কুলে বাবা দিবসে সামনে রেখে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।
আমেরিকাঃ
১৯৭২ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন বাবা দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে প্রতিবছর জুনের তৃতীয় রবিবার আমেরিকায় বাবা দিবস পালিত হচ্ছে। এই দিনটি আমেরিকার পরিবারের সদস্যদের পূণর্মিলনীর মতো। তাই যারা বাড়ি থেকে দূরে থাকে তারা এদিন বাড়ি আসার চেষ্টা করে, যাতে সবাই মিলে একসাথে বাবা দিবস পালন করা যায়। বাবাকে শুভেচ্ছা জানাতে আমেরিকানদের পছন্দের তালিকায় আছে ফুল, কার্ড, চকোলেট, নেকটাই।
দক্ষিণ আফ্রিকাঃ
অন্যান্য দেশের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার অধিবাসীরা তাদের বাবাকে ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করে না। তাই তারা প্রতি বছর জুনের তৃতীয় রবিবার বেশ ঘটা করেই বাবা দিবস পালন করে। বাবাকে শুভেচ্ছা জানাতে তারা কার্ড, ফুল, নেকটাই বা হাতে বানানো কিছু উপহার দেয়। তাছাড়া এদিন পরিবারের সবাই একসাথে সময় কাটায়। অনেকেই এদিন বাবার সাথে পিকনিক, মাছ শিকারে বা রেস্টুরেন্টে খেতে যায়।

বাবা -কে নিয়ে কয়েকটি গান :

পরিশেষে আজকের এই দিনে আমার বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি …..
বাবা ..তোমাকে অনেক ভালোবাসি
ভালোবাসি কোন নির্দিষ্ট দিনে নয়
প্রতিদিন-প্রতিক্ষণ !!!




সব বাবাকে শ্রদ্ধা জানাই।
পৃথিবীর সব বাবা’র প্রতি রইলো শ্রদ্ধা।
বাবা দিবসে বাবার জন্য সালাম
পৃথিবীর সব বাবা’র প্রতি রইলো শ্রদ্ধা।
বাবা -কে নিয়ে আমার পৃথিবী।বাবার অনুভূতি, অস্তিত্ব সবসময় আমাকে আষ্টেপৃষ্টে ঘিরে থাকে, যদিও তাঁর কাছ থেকে অনেক দূরে থাকি।বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারছি না,আমি জানি আমার চিন্তায় বাবা দিন দিন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন।কিছু করতে পারি না,শুধু অসহায়ের মত বাবার কষ্ট অনুভব করি।বলতেও পারি না”বাবা আমি সব কষ্ট মুছে দিব।”
প্রিয় ব্লগার ও বন্ধু রুবেল ভাই কি কমেন্ট করব ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা। খুবই অবিভূত ও বাকরুদ্ধ আমি। খুব সুন্দর একটা পোষ্ট করে আমার মাথা তাক লাগিয়ে দিলেন। অত্যন্ত ভাল লাগছে বাবাকে নিয়ে লেখাটা পড়ে।
বাবার জন্য হোক প্রতিদিন,
কিসের করো একদিন,
মানিনা মানবো না এই স্লোগান মানব না,
বাবার জন্য প্রতিদিন,
ভালবাসা থাকবে শুধু অহর্ণিশ।
বাবা দিবসের ন্যয় প্রতিদিন বাবাকে ভালো বাসতে হবে। নিজের বাবার ন্যয় অন্য বাবাকেও ভালো চোখে দেখার চেষ্টা করতে হবে।জগতের সকল বাবার চরণে সশ্রদ্ধ সালাম।আপনার জন্য শুভ কামনা রইল ।
পোষ্ট টা প্রিয় তে রাখলাম রুবেল ভাই
আর পোষ্টের প্রথম লাইনটাই এই পোষ্টের মাথার তাজ “আমার কাছে প্রতিটি দিনই বাবা — মার জন্য”
আপনার বাবা মার জন্য রইলো আমার শ্রদ্ধা সহ সালাম ।
বিশ্বের সব বাবা মাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সালাম রইল।আপনার জন্য শুভ কামনা রইল ।
রুবেল ভাইর লেখা মানেই তথ্য উপাত্য আর আদী অন্ত সম্বলিত। প্রিয়তে রাখলাম।
শুভ কামনা রইলো।
পৃথিবীর সকল বাবার জন্য ভালবাসা ও দোয়া করি।আপনার জন্য শুভ কামনা রইল।
মহান আল্লাহ সব বাবাদের ভালো রাখুন -
প্রতিটি দিনই বাবা — মার জন্য
পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি শ্রদ্ধা।
সুন্দর তথ্যবহুল পোস্টের জন্য রুবেল ভাইকে ধন্যবাদ।
অনেক সুন্দর একটি পোষ্ট ।
প্রিয়তে রাখলাম
চমৎকার পোষ্ট এবং প্রিয়তে ।