[সুহের হামাদ (Suheir Hammad) এর জন্ম জর্ডানে ১৯৭৩ সালে, ফিলিস্তিনী রিফিউজী মা-বাবার ঘরে। ছোট বয়সে পরিবারের সাথে চলে আসেন বৈরুতে, তারপর এই যুদ্ধ-বিদীর্ণ অঞ্চল ছেড়ে আমেরিকার নিউইয়র্কের ব্রুকলীনে।
হামাদের কবিতা নির্বাসন, আমেরিকার নগর জীবন এবং বর্ণ-বিদ্বেষী সমাজে অ-গৌরবর্ণ রমণী’র কথা বলে। কেন লেখেন, এর উত্তরে তিনি বলেন,“ কারণ না লিখে পারিনা। কারণ আঞ্চলিকতা-সমৃদ্ধ আমার এই কন্ঠ নীরব ছিলো বহুদিন। কারণ নারীরা এখনও লাঞ্ছিত হয় স্বাভাবিক নি:শ্বাসের মতোই। পায়ের নীচে এখনও মাটি নেই মানুষের। দাসপ্রথা এখনও আছে, বাড়ছে ক্ষুধা, মায়েরা এখনও কাঁদেন। আমার মা কাঁদেন। এগুলোই যথেষ্ট, তবে আরও অনেক কারণে লিখতে হয়”।
কবিতার প্রথম বই Born Palestine Born Black(1996)। প্রকাশ করে হারলেম রিভার প্রেস, নিউইয়র্ক। এই বইয়ের কবিতা মনে করিয়ে দেয় তার ছোটবেলার সেই জগত ও জীবনের কথা। কথ্য ভাষায় এবং কখনও রহস্যময় কষ্ট-কল্পনায় ভরা সুহের হামাদের কবিতা মানুষের মনের কথা বলে যারা হারানোর বেদনা বোঝে আর খুঁজে বেড়ায় একটুকু শান্তি। তিনি নিয়মিত কবিতা পড়েন New York reading venues এবং রেডিওতে।
কবিতার বই ছাড়াও স্মৃতিকথা লিখেছেন, Drops Of This Story । প্রযোজনা করেছেন ডকুমেন্টারী ফিল্ম Half A Lifetime । স্মৃতিকথা অবলম্বনে সিনেমার কাহিনী লিখেছেন, From Beirut To Brooklyn । সাহিত্য পত্রিকা Butter Phoenix এর সম্পাদিকা তিনি। বেশ কয়েকটি পুরস্কার লাভ করেছেন, Audre Loudre Writing Award(Hunter College, New York); Morris Center for Healing Poetry Award । ]
নীরবতা
জানতে ইচ্ছে করে সে কী
শুনেছিলো যখন সে দৌঁড়াচ্ছিলো
জানতে ইচ্ছে করে কী
ভেবেছিলো সে, যখন
আমেরিকার বুলেট
উড়ে এলো
ইজরাইলের হাত থেকে
প্রভুর বাতাস
ফুঁড়ে
হত্যা করতে আরেক জন
স্বাধীনতার সন্তান
পেছনে তাকায়নি সে
সে কি শুনেছিলো সুউচ্চ
স্বর আমাদের নারীদের
পরিষ্কার আওয়াজ
খুব দু:খের গান খুব সুন্দর
মলিন, নি:শেষ প্রায়
বহু বছরের কান্নায়
(গাইছে) ইশাদ ইয়া আলাম আলিনা ওয়া আ বাযরুত
ইশাদ ইল হার ইল শারিয়্যাহ
(সাক্ষী থাকো বিশ্ব আমাদের ও বৈরুতের
স্বাধীনতা যুদ্ধের সাক্ষী থাকো তোমরা)
সে কি শুনেছিলো
সেই ফেরেশতার স্বর যারা
ঘোষণা করেছিলো যীশুর জন্মের বার্তা
সেই একই ভূমিতে
ফেরেশতারা বেহেশতের
গান গায় ফেরেশতারা যারা
তুলে নেয় তাদের
ফিলিস্তিনের নামে খুব অল্প বয়সে
মারা যাবার পর
দৌঁড়েছিলো দ্রুত
আর তার বাদামী পা
ছুঁয়েছিলো ভালোবেসেছিলো ছুঁয়েছিলো ভালোবেসেছিলো
বাদামী মৃত্তিকা
সে কি শুনেছিলো
তার মায়ের
ঘুম পাড়ানী গান
বেঁচে ছিলো সে সেই চোখে
যা দেখেছে অনেক
অধীকৃত ফিলিস্তিন অস্বীকৃত স্বাধীনতা আমার জনগণের মৃত্যু
দেখেছিলো নিজের চোখে
অনুভব করেছিলো হৃদয়ে
জীবনের সংগ্রাম
সৈনিকের বুটের নীচে
বেঁচে আছে ফিলিস্তিন
(গাইছে) ওয়া মেন মা শাফ বিল গোরবান ইয়া বায়রুত
আমান আয়ূন আমরীকিয়া
(যারা দ্যাখেনি কখনও নি:স্ব-জন বৈরুতের
অন্ধ করেছে আমেরিকা তাদের)
অন্ধ করেনি তাদের
আমেরিকা,
দেখেছিলো সব এবং সে
শুনতে পেয়েছিলো দৌঁড়ানোর সময়
দৌঁড়ানো অভ্যাস
আমাদের মনে হয়
আমরা ফিলিস্তিনীরা দৌঁড়ে চলেছি সব সময়
যাই কোথায় আমরা
কখনও না তাকিয়ে পেছনে
ইশাদ ইয়া আলাম ওয়া আ বায়রুত
(সাক্ষী থাকো বিশ্ব আমাদের আর বৈরুতের)
তারা তাকে থামতে বলেছিলো
ডেকেছিলো
গণতন্ত্র আর সন্ত্রাসের নামে
ডেকেছিলো
পুরনো দিনের ভাষায়
তার দৌঁড় থামাতে
তারা ছুঁড়েছিলো
আমেরিকার বানানো বুলেট
সেকি শুনতে পেয়েছিলো
ইজরাইলের হাত থেকে আসা
প্রভুর বাতাস ফুঁড়ে যা বিঁধেছিলো
ফিলিস্তিনের সন্তানের বুকের ভেতর
(গাইছে)
তারা প্রচার করেছিলো একে
এক দুর্ঘটনা
তবে প্রয়োজনীয় মৃত্যু ব’লে
যখন জানা গেলো এই
ফিলিস্তিনের সন্তান
জন্ম থেকে ছিলো
বধির
(গাইছে)
ওয়া মেন মা শাফ বিল গোরবান ইয়া বায়রুত
আমান আইয়ূন আমরীকিয়া।
ধৈর্য
অপেক্ষা করছি আজ রাতে
ব্লেডের মতো ধারালো ক’রে আমার সত্তা,
প্রস্তুত কেটে ফেলার জন্যে।
অপেক্ষা করছি নীরবে
মানুষের ভয়ার্ত চিৎকার আর কান্না
মিশে আছে ঝিঁঝি পোকার শব্দে
অপেক্ষা করছি দিনের আলোয়
হাতের ব্লেডের মতোই চকচকে উষ্ণতা
অনুভব করে আমার আত্মা
অপেক্ষা করি আমি নীরবে
প্রজাপতির সাথে খেলা করি
ব্লেড মোছার সময়,
নির্মল করি নদী
ভালো লাগে মাছগুলো
যখন থাকি তোমাদের অপেক্ষায়
অপেক্ষা করি অন্ধকারে,
চাঁদ ছায়ার
খেলা করে আমার সাথে
ফুটে যায় রাতের ফুল
যখন আমরা অপেক্ষায় থাকি
সেইসব ফুল আর প্রজাপতির জন্যে
নদী আর এই হৃদয়
এদেশের শুধু,
নেবার সাধ্য কারও নেই
অপেক্ষায় থাকি চিরদিন
উপহাস করি তোমাদের
দাপ্তরিক কাগজ আর আইনের চুক্তি নিয়ে
মাছ, প্রজাপতি আর ফুলেরা হেসে ওঠে
আমরা হাসি তোমাদের ট্যাঙ্ক আর বোমা দেখে
শানিত করি মনোবল
তরবারীর ধারের মতো,
অপেক্ষায় থাকি
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে
আমাদের সৈন্যরা আছে যুদ্ধের ময়দানে
পূর্বপুরুষ রয়েছেন কবরে
ভবিষ্যত তাদের জঠরে
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলি আমরা
প্রলম্ব ঘাসের মতো তীক্ষ্ণ
ভোরের জোয়ারের মতো প্রবল
আমাদের নর্তকীর ঘাম… পাতায় ঝরা শিশির
আমাদের মায়ের কান্না… অনেক উঁচু’র পাখি
অপেক্ষায় আছি
জানি আসবে তোমরা,
তোমাদের স্বভাবই হয়ত এমন
তোমাদের লোভ টের পাই
পয়সার স্বাদ জানি
ময়দানে যখন গুড়ি মেরে চলি,
অপেক্ষায় থাকি তোমাদের
এই ছায়া বিছানো মাঠ
এই উদ্যমতা আর জীবন
এদেশের জন্যেই,
পারবে না দাবিয়ে রাখতে,
তাই অপেক্ষায় রয়েছি তোমাদের।
*****************




ফিলিস্তিনি কোন নারী যে এতো ভাল লিখেন জানা ছিল না।
আপনি অনেক অজানা কবিকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। তার জন্য আমাদের সবার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা নিবেন।
অনেক ধন্যবাদ রেজা ভাই।
শুভ কামনা রইল। আর অগ্রীম নবর্বষের শুভেচ্ছা রইল পুরো পরিবারের প্রতি।
ধন্যবাদ অশেষ, বিষণ্নময়ী ।
নববর্ষের শুভেচ্ছা আপনাকেও ।
ভালো থাকবেন ।
যুদ্ধ করতে করতে ওরা এত্ত ভালো লিখে কেম্নে?

আসসালামুয়ালিকুম
বেশ প্রাঞ্জল কথায় অনেক সুন্দর কাব্য অনুবাদ উপহার দিয়েছেন
অনেক অনেক ধন্যবাদ ।
কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি চমৎকার এই কবির সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য।
শুভ নববর্ষ নুর ভাই
