তখনও বিদেশের মাটিতে কাজ জুটে নি। কপাল চাপড়ানোর কাজ অব্যাহত আছে। তার আগে একটু স্মৃতিচারণ করা যাক –
প্লেনে উঠার ৩ দিন আগে প্রথম এবং শেষবারের মত দেশে হাই-ফাই মার্কা সেলুনে গিয়েছিলাম। রিং রোডের সুপার কাট সেলুন।
“কি মামা, চুল কাটাবেন?
হমম।
চুল কাটানো শেষ। বেশ লাগল। মূল্য আশি টাকা। এরপর শুনলাম, কি মামা শেভ দিব?
প্রথমে বললাম নাহ। এরপরেই মনে পড়ল বাসায় কারেন্ট নাই… তার চেয়ে একটু এসির বাতাসে বসে থাকলে মন্দ হয় না। পরে বললাম দাও। মূল্য ষাট টাকা।
মামা, মাথা ধুয়ে দিব?
মনে মনে বলি মাথা যেহেতু আছে- একটু নাহয় ধুয়েই দাও। যতই হোক দেশে শেষ বারের মত সেলুনে… একটু স্পেশাল নাহলে কি আর চলে। মূল্য পঞ্চাশ টাকা।
টিপস দিতে হয় কিনা জানা ছিল না তাই দেই নি… আঠার বছর ধরে বলতে গেলে এলাকার ২-৩ টা সেলুনেই পার করে দিয়েছি। খেয়াল আছে শুরুতে (পিচ্চিকালে) ১০ টাকায় চুল কাটাতাম কাঠের তক্তার ওপর বসে। এরপর ২০ তারপর ৩০ তারপর ৪০ হল সাধারণ সেলুনগুলোতে। খানদানি মার্কা সেলুনের কথা বাদ-ই দিলাম।
এবার মূল গল্পে (গল্প না ছোট কাহিনী হবে) আসি। কবে কাজ জুটবে এই চিন্তায় থাকতে থাকতে হঠাৎ একটা কাজ পেয়ে গেলাম… চুল কাটানো। ঐসময়ে এর চেয়ে মধুর কাজ আর যেন নেই। প্রতি কাজই একেকটা অভিজ্ঞতা। সেলুন (hair cuttery) প্রায় এক মাইল দূরে। দিলাম হাঁটা।
ওমা! কোন পুরুষ নাপিত নেই। কাচি হাতে সব মহিলা (যাদের মহিলা কথাতে চুলকানি আছে তারা বিনা শর্তে মেয়ে বসিয়ে নিতে পারেন, আপত্তি নেই) সিরিয়াল দিলাম… নাম বললাম… কম্পিউটারে নাম নিবন্ধন করার পর একটা কার্ড দিল। এরপরে আসলে সেটা স্ক্যান করলে অটোম্যাটিক আমার নাম আর সিরিয়াল চলে আসবে।
মেশিন নাকি কাচি? দুইটা অপশানই আছে। মেশিন সিলেক্ট করলাম… কাচি দিয়ে চুল কাটলে কি আর এমেরিকা এমেরিকা লাগবো :D
তখনও মাথা থেকে ডলার – টাকার কনভার্ট এর ভূত নামে নি। আমার চার্জ কত হচ্ছে সত্যি বলতে তখনও জানতাম না। সংখ্যার মত কিছু কানে আসলেই ৮০ দিয়ে গুণ মেরে দেই…
দেশে তো নাপিতকে মামা ডাকতাম… সে হিসাবে মহিলা নাপিতকে মামী ডাকা যেতে পারে… তাই বলে আন্টিতো আর ডাকা যায় না। নাপিত মামী (আপা) পরম যতনে চুল কর্তন করে দিল। শেষ হবার পর বলে- শ্যাম্পু? শ্যাম্পু?
- আরে রাখ তোর শ্যাম্পু। উঠতে পারলেই বাঁচি। হাসি নিয়ে বললাম – নো থ্যাঙ্কস।
(তখন কি আর জানতাম চুল কাটানো আর শ্যাম্পু একই প্যাকেজের মধ্যে- যাই করিনা কেন একই রেট)
বিল হল ষোল ডোলার। সাথে দুই ডলার টিপস… এমন সময় আমার এলাকার নাপিত মামাদের চেহারা ভেসে উঠল। জীবনে টিপস দেইনি… পুরান কাস্টমার ছিলাম বলে মাঝে মাঝে আরও কম নিত আমার কাছ থেকে।
তবে ফ্রি শ্যাম্পু করাতে পারলাম না বলে আফসোস করলাম খুব…
এই লেখাটা এখানেই শেষ করে দিব কিনা ভাবতে ভাবতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাথায় হাত চলে গেল। আরে! আবিষ্কার করলাম আমার আবার চুল কাটানোর সময় আবার চলে এসেছে…
নাপিত মামী … আমি আসছি…… এবার আর মিস নাই



মামা ঝামেলা খাল্লাস
কয়টা চুল? গুণে বলেন
মাইয়া মাইনসের হাত চুল কাটছেন, মাইয়া মানুষ! আপনের তো জিন্দেগী পুরাই শেষ। আফসোস। বড়ই আফসোস। কি ভাল একটা পোলা দেশ থেকে গেছিল আহারে!!
রনি ভাই এই সহ্য করা যায়না
রাজিনের স্বদেশ ফেরত আবশ্যক!!
আজ মাইয়া মানুষে চুল কাটছে
কাল শুনবেন ………………।
বুঝলেন দাউইদ ভাই… রনি ভাই এর জ্বলতেছে
চুল কাটাতে দেড় হাজার টাকা! আমার মাথায় এখন চুলের সংখ্যা হাজার দেড়েক হবে কিনা সন্দেহ!! তা’হলে আমার বেলায় চুল প্রতি পড়বে একেক টাকা। ভয়াবহ অবস্থা!!! দেশে ৫০ টাকা বাঁচাতে কোন রকমে নিজে নিজে আশপাশ দিয়ে ছেটে রাখি – আর বিদেশে গেলে তো কথাই ছিল না!!
রম্য হিসেবে রাজিনের এই পোস্ট সার্থক! সাত সকালে আজ শুধু ভালো ভালো লেখা পড়তে পেরে মন ক্রমেই ফুরফুরে হয়ে উঠছে।
ধন্যবাদ ভাই রাজিন।
টাকার হিসাব নিয়ে সামনে একদিন লিখব… সে আরেক অভিজ্ঞতা
খুব ভাল লাগলো রাজিন,,,,,,,,,, দারুন!!!!!! ভাল থাক এমন বাংলার উচাটনে,,,,,
ধন্যবাদ ভাইয়া
একদিন সব সয়ে যাবে…। মামীদের পিছনে দৌড়াতেই হবে!
ইনকামের সাথে ব্যয়ের মিল থাকলেই হল। খরচ কোন ব্যাপার না! ইনকাম না করতে পারলে খরচ করবেন কি!
একদম ঠিক কথা
আহা! ফেলে আসা দিনগুলো না জানি কতই…………

সোনার দিনগুলো সোনার খাঁচায় আর নেই
বেশ মজা পেলাম লিখাটিতে। বিশেষ করে ‘নাপিত মামি’ বিশেষনটি জটিল……………………সুন্দর হইছে

মামীর লগে তামাশা করো জানলে কইলাম তোমার খবর কইরা দিবো।
ভাগ্য ভাল কাটিং এর সাথে শ্যাম্পু ফ্রি। শরীর ম্যাসাজ ফ্রি না
। তাহলে যে কি হইতো আল্লাহ মালুম।

নিশ্চয় কোন না কোন সেলুনে ফ্রি বা কম মূল্যে পাব সেটা…
বলব “একটু বানিয়ে দিন তো”

রবীন্দ্র ষ্টাইল নিয়ে ফেলেছি আর ভয় নেই চুলে