ইলিয়াস আলীর রহস্যজনক হারিয়ে যাওয়ার আজ ১৭ ই মে এক মাস হল কিন্তু তার প্রকৃত কারণ এখনও জানা গেল না।তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাসহ সাধারন ব্যবসায়ীরা সবাই আজ আতঙ্কগ্রস্ত। একজন ইলিয়াস আলীর জন্য ডাকা হরতালের সাফল্যের জন্য আগের দিন রাজনৈতিক উন্মাদনার শিকার হয়ে ড্রাইভার বদর আলী ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে ছাইয়ে পরিণত হন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য গুম-খুনের রাজনীতি আজ সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর বাংলাদেশ তথা বাংলাদেশের বাইরে বসবাসরত প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা রীতিমতো উদ্বিগ্ন। এ ঘটনার পর বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক নেতা নিজকে নিরাপদ ভাবছেন না। রাজনীতি কোন পথ এগোচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে কী হবে_ এমন চিন্তাও তাদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। এভাবে একজন মানুষ নিখোঁজ হয়ে যাবেন ভাবতেই অবাক লাগে। আমরা কোন দেশে বাস করছি ? বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রবাসীদের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে এমন কোন ঘটনা কারো কাম্য নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এ ধরনের ঘটনায় ইমেজ সংকটে পড়বে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার।
আমরা প্রবাসে থাকলেও সব সময় চিন্তিত থাকি দেশ নিয়ে। কারন দেশে আমাদের মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান থাকে। তাদের সুখ স্বাচ্ছন্দের জন্যই আজ আমরা প্রবাসী। আর প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় দেশের চাকা আজ সচল। ইলিয়াস আলী সন্ত্রাসী কায়দায় নেতা হলেও তার নিখোঁজের ঘটনায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে খাটো হইতেছে। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্ম নিচ্ছে। একজন নিখোঁজ রাজনৈতিক ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। নিজ বাসার শয়নকক্ষে খুন হন সাংবাদিক সাগর-রুনি। সরকার এ হত্যাকাণ্ডের কোনো সুরাহা আজও করতে পারেনি। সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তাকে রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়, সেই হত্যাকাণ্ডের দায়ে একজনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ হত্যাকাণ্ডের ফলে শুধু দেশের ভাবমূর্তি নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে এবং সে দেশে নতুন শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ ও অবস্থানরত শ্রমিকদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করা হচ্ছে কিছু কিছু পাঠিয়েওদেওয়া হচ্ছে। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড কোনোটিরই সমাধান করতে পারেনি।ঘটনার পর ঘটনা ঘটেই চলছে। এভাবে একটি দেশ কি চলতে পারে ?
গত ১৭ এপ্রিল বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী তার গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ রয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিগত তিন বছরের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত। দূষিত রাজনীতির ধারা অনুসারে যথারীতি সরকারি দল ও বিরোধী দল একে অপরের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ছে। এই তীর ছোড়াছুড়ির মধ্যে পড়ে জনগণ বিএনপি কর্তৃক আরোপিত সিরিজ হরতালে পাঁচজন পিষ্ট হয়েছে। এক ইলিয়াসের জন্য গাড়ী পোড়ানোসহ জনজীবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তারপরও ইলিয়াস নিখোঁজের রহস্য খোলেনি। গুম, নিখোঁজ ও অন্তর্ধানসহ বহুবিধ নামে ঘটনাটিকে নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা, সমালোচনা এবং বিচার-বিশ্লেষণ। ‘বাংলাদেশ হচ্ছে সব সম্ভাবনার দেশ এখানে যে কোনো কিছুই ঘটা সম্ভব’।
বাটর্রান্ড রাসেল বলেছিলেন, ”The trouble with the world is that the stupids are cocksure and intelligents are full of doubts”। কোনো ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বা প্রত্যক্ষদর্শী ব্যতিরেকে সেই ঘটনার আদ্যোপান্ত ও পূর্বাপর এবং কারা তার সঙ্গে জড়িত বা কীভাবে তা ঘটেছে তা শতভাগ নিশ্চিত করে বলা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। ইলিয়াস আলীকে যারাই গুম বা অপহরণ করে থাকুক না কেন তারা অবশ্যই সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য তা করেছে। ইলিয়াসকে যারা অপহরণ করেছে তারা নিশ্চয়ই কোনো না কোনোভাবে সুবিধাপ্রাপ্তির লক্ষ্য নিয়েই তা করেছে। ইলিয়াস নিখোঁজ হওয়ার দিন থেকে আজ পর্যন্ত যত প্রকার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে তাতে বর্তমান সরকার বা সরকারি দলের কোনোভাবে কোনো লাভ হয়েছে বলে শুনিনি বা তার কোনো নিদর্শনও এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। তাছাড়া ইলিয়াস আলীর মতো একজন মধ্যম সারির বিরোধী দলের নেতাকে গুম করে সরকারি দল কি সুবিধা পেতে পারে তার কোনো মূল্যায়ন কোথাও দেখছি না। ইলিয়াস নিখোঁজ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহল বিভিন্ন বক্তব্য বিবৃতি দিতেছে তা দেখে মনে হয় তারা সুপ্ত কোনো লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষ বাড়িয়ে দিতে আগ্রহী। রাগ, বিরাগ বা ক্ষুব্ধতার বশে উস্কানিমূলক বক্তব্য দানে হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও বাড়বে, তার শিকার হবেন সাধারণ মানুষ এবং ব্যাহত হবে গণতন্ত্র। এসব ব্যক্তিদের বক্তব্য বিবৃতি দেখে শরৎচন্দ্রের ‘নিষ্কৃতি’ গল্প এর একটা উদ্ধৃতি মনে পড়ে গেল উদ্ধৃতিটি হলো- “স্বার্থের জন্য নিরীহ লোকের মনে সংশয়ের বীজ বপন করিলে যথাকালে তাহার খারাপ ফল ভোগ হইতে নিজেকেও দূরে রাখা যায় না। সে শত্রু পক্ষকে যেমন সন্দেহ করতে শিখে, মিত্র পক্ষের উপরও তেমনি বিশ্বাস হারায়।”
বিশিষ্ট কলাম লেখক সাবেক মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার লিখেছেন, ” ১৯৮৮ সালের ১৭ আগস্ট পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হক ভাওয়ালপুর মিলিটারি গ্যারিসন থেকে ফেরার পথে তাকে বহনকারী সি-১৩০ বিমানটি বিধ্বস্ত হলে সব আরোহীসহ তিনি নিহত হন। পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আরনল্ড লিউস রাফায়েল জিয়াউল হকের সফরসঙ্গী থাকায় তিনিও নিহত হন। ওই বিমান দুর্ঘটনার রহস্য আজও উদ্ঘাটিত হয়নি। কথিত আছে জিয়াউল হককে হত্যা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে এবং পরিকল্পনা যাতে ফাঁস হয়ে না যায় এবং সন্দেহের তীর যেন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে না আসে সে জন্য নিজেদের রাষ্ট্রদূতকেও উৎসর্গ করতে দ্বিধা করেনি মার্কিনিরা।
বিএনপি তাদের নিজেদের নেতাকে পরিকল্পিতভাবে লুকিয়ে রেখেছে বা নিখোঁজ করেছে তা চর্মচোখের দৃষ্টিতে বিশ্বাস হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিবেচ্য বিষয় হলো, গত তিন বছরে শত চেষ্টা করেও তারা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। যদিও দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই সরকারের যেমন বড় বড় সাফল্য আছে, তেমনি দুয়েকটি বড় ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কারণে মানুষের মনের মধ্যে ক্ষোভও আছে। কিন্তু ২০০১-২০০৬ সময়ে বিএনপির সব ক্ষেত্রে সীমাহীন ব্যর্থতাসহ গ্রেনেড-বোমা হামলা, জঙ্গিদের বেপরোয়া উত্থান, আদালত প্রাঙ্গণে বিচারক হত্যা এবং দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান প্রভৃতি ভয়ানক দুষ্কর্মের ফলে বিএনপির দিকে মানুষের ঝোঁকার কোনো কারণ নেই, যদিও কিছু কিছু কারণে মানুষ আওয়ামী লীগের ওপরও ক্ষুব্ধ। আর হরতালের বিরুদ্ধে দেশের মানুষসহ দাতা সংস্থা ও রাষ্ট্রের প্রবল আপত্তির কারণে আগের মতো বিএনপি হরতাল ডেকে মানুষের মধ্যে যে ভয়ভীতি ও ত্রাসের সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলবে তারও সুযোগ পাচ্ছিল না। অন্যদিকে বিএনপির ভোটযুদ্ধের দোসর জামায়াত-শিবিরের অস্তিত্ব প্রকাশ্যে এখন নেই বললেই চলে। সরকার যদি পুরো টার্ম শেষ করে নির্বাচনে যেতে পারে তাহলে তার আগেই জামায়াত-বিএনপির আটককৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হয়ে সাজা হয়ে যেতে পারে। একই সময়ে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, অন্যান্য হত্যাকাণ্ড, দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলা এবং তারেক-কোকোর বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণাদি সংবলিত দুর্নীতি মামলার বিচার সুষ্ঠুভাবে শেষ হলে বিএনপির পক্ষে মানুষের কাছে ভোট চাওয়াই কঠিন হয়ে যাবে। আর সরকার যদি পারফরম্যান্স রেকর্ডিংয়ে আগামী দেড়-দুই বছরের মধ্যে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বৃহদাংশ পূর্ণ করতে পারে তাহলে এখন যতটুকু জনক্ষুব্ধতা আওয়ামী লীগের ওপর রয়েছে তা কমে যেতেও সময় লাগবে না। এমতাবস্থায় ২০১৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে বিএনপি নির্বাচনে নামলে তার ফল বিএনপির পক্ষে আসবে তেমন কোনো সহজ হিসাব বোধহয় বিএনপির নীতি-নির্ধারকরাও এখন করতে পারছেন না। বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দল যাদের অস্তিত্ব নির্ভরশীল ক্ষমতায় থাকার ওপরে, তারা যদি পরপর দুই নির্বাচনে ক্ষমতায় না যাওয়ার আশঙ্কায় পড়েন তাহলে তাদের কিছু উগ্রপন্থি মাঝারি নেতা এবং চিকন বুদ্ধিতে পাকা দুয়েকজন সিনিয়র নেতা আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার পথকে নিষ্কণ্টক করার আশায় যে কোনো প্রকারের লঙ্কাকাণ্ড ঘটানোর পথে যে হাঁটবে না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তারা হয়তো উত্তেজনাবশত ভুলে যেতে পারেন যে, হনুমানের লেজে রাক্ষসরা আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পর সে আগুনে পুরো লঙ্কা ও রাক্ষসগোষ্ঠী সবাই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলেন। ২০০৩ সালে একজনের এমন চিকন বুদ্ধিতে শুধু বিচারপতিদের চাকরির বয়স বৃদ্ধির ফলে ২০০৬ সালের শেষের দিকে এসে যে লঙ্কাকাণ্ড ঘটলো তার আগুন থেকে বিএনপিও নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি। ইলিয়াস নিখোঁজ হওয়ার পর তার সব পূর্বকীর্তি ভুলে গিয়ে দলমত নির্বিশেষে সব মানুষ ইলিয়াসের পরিবারের প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়েছেন যাতে ইলিয়াস আলী সুস্থ শরীরে তার পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। সব সুস্থ মানুষের তাই-ই কাম্য হওয়া উচিত। ইলিয়াস নিখোঁজের তৃতীয় অনুমানটি হলো- তার নির্বাচনী এলাকা এবং সিলেট মহানগরে নিজ দলের ও প্রতিপক্ষ দলের নেতাদের সঙ্গে প্রবল দ্বন্দ্বের কারণে সেখানকার যে কেউ এমন কাজ করতে পারে। এ রকম উদাহরণ বাংলাদেশে অনেক আছে। এক্ষেত্রে তার নিজের দল ও নিজের গ্রুপের ভেতর সম্প্রতি যে চরম দ্বন্দ্ব ছিল তার বিবরণ পত্র-পত্রিকায় বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে। নিজ গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে নিকট অতীতে ইলিয়াস গ্রুপের দুই নেতা-কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। সিলেটে আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ইলিয়াসের চরম কোনো দ্বন্দ্বের খবর পত্র-পত্রিকায় এখনো দেখা যায়নি। সবচেয়ে বড় অনুমানটি হচ্ছে এটি জামায়াত-শিবিরের প্রশিক্ষিত ক্যাডারদের কাজ।অনেকের ধারণা সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি দিয়ে বিএনপিকে মাঠে নামতে বাধ্য করার জন্য জামায়াত-শিবির অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই জঘন্য কাজটি করেছে”।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি দিনের পর দিন হরতালের ডাক দিচ্ছে কেন? ইলিয়াস আলী যাতে জীবন্ত উদ্ধার হয় তার পক্ষে তো দলমত নির্বিশেষে সব মানুষেরই সমর্থন রয়েছে। দল হিসেবে রাজনৈতিক প্রতিবাদ করতে হলে তো হরতাল ব্যতিরেকে বহুমুখী কর্মসূচি দেওয়ার সুযোগ আছে। হরতাল করা যেমন রাজনৈতিক অধিকার। তেমনি হরতাল না করাও রাজনৈতিক অধিকার। গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ হরতালের কথা বলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কিভাবে বাস-গাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং ইটপাটকেল মেরে অন্যের গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ এবং অশান্তি সৃষ্টি করেছে তার চিত্র টেলিভিশনের ক্যামেরায় মানুষ দেখেছে। জোরপূর্বক মানুষকে হরতাল পালনে বাধ্য করার অপচেষ্টায় প্রাণ হারাচ্ছে পথচারী, নিরীহ এবং দৈনন্দিন খেটে খাওয়া গরিব মানুষ। বিএনপি কঠোর আন্দোলনের নামে যদি ঘন ঘন হরতালের ডাক দিতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে ইলিয়াস আলীকে উদ্ধার করা তাদের প্রধান লক্ষ্য নয়। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করাই বি.এন,পি’র আসল উদ্দেশ্য।
***********************
লেখক: সৌদি প্রবাসী।



সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক ঘটনাবলী নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখাটা ভালো লাগলো।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
ইলিয়াস আলী বি এন পির মূল উদ্দেশ্য নয়
উদ্দেশ্য হলো দেশের ১২টা বাজানো। সরকারকে খাঁদে ফেলতেই তাদের এই
কার্যক্রম
তাছাড়া জিয়ার দুই দূর্নিতিবাজ ছেলে আর রাজাকার দের বাঁচাতে তাদের হাতে তো আর কোন অস্র নাই।
অনেক গভীরে আপনার বিশ্লেষন। ধন্যবাদ দাদা কেমন আছেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে ?
হরতাল করা যেমন রাজনৈতিক অধিকার। তেমনি হরতাল না করাও রাজনৈতিক অধিকার। এই অধিকারের প্রতি তো কোন কালে কোন বিরোধী দলই সম্মান প্রদর্শন করেননি। হরতাল মানবেন না বলে নয়…সরকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারী যারা কোন দলের সমর্থক নয় কিন্তু হরতালের দিনে তারা নিজ দপ্তরে হাজিরা না দিলে (যে কোন কালের) সরকারী দলের সমর্থকদের কল্যাণে চাকুরীক্ষেত্রে তারা সমস্যায় পড়বেন। আবার তারাই পথে পায়ে হেঁটে…জান হাতে নিয়ে যখন অফিসে আসতে চেষ্টা করেন তখন তাদের সাথে জান-মানহানীকর আচরণ করতে (যে কোন কালের) বিরোধীদল সমর্থকদের এতটুকু দ্বিধা হয়নি। কাকে যে প্রিয় দল করলে জনগনের অধিকার দেশে প্রতিষ্ঠা পাবে সেটাই জিজ্ঞাস্য!!!??
এটাই এখন রাজনৈতিক কালচার।
সে যেই হোক এই ভাবে কারো গুম করাকে অমানবিক মনে হয়। এতো উৎকন্ঠা নিয়ে একটা পরিবার কি করে বেচে থাকে।
যেই কাজটি করুক খুব অন্যায় এবং মানবতাবিরোধী কাজ।