এক বিন্দু শিশির কনা এবং ...

উৎসর্গ:

সেই প্রিয় মানুষটিকে। যে অনেকদিন প্রাণখুলে হাসতে পারে না। কোন লেখা তাকে উৎসর্গ করি না বলে অনুযোগ করে। লাল শাড়ী পড়ে সেই মানুষটা, প্রস্তুতি নিচ্ছে নববর্ষ উদযাপনের । লাল শাড়ীর রঙিন সুতোর আড়ালে, তার বেদনা নীল ক্ষত, কারো চোখে পড়বে কি?

——————————–
রাত বাড়ছে ক্রমশঃ।

শীতের রাত।
আকাশে ঝুলে আছে হাজার বছরের পুরনো ভয়ানক একা একটি ক্ষয়াটে চাঁদ।
রাতজাগা কোন একটা পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ ভেসে আসছে। কি আশ্চর্য রকম নীরব হয়ে আছে চরাচর।
টুপটাপ ঝরে পড়ছে জমাট শিশির। হঠাৎ মনে হলো শিশিরের ঝরে পড়া আর চোখের জল ঝরে পড়ার মাঝে কোন একটা মিল হয়তো রয়েছে।
কখনো বুক ভার হয়ে এলে মানুষ কেঁদে নিজেকে হালকা করে নেয়। মাঘের এই শীত=কাতর রাতেরও কি কোনদুঃখ রয়েছে?
জানিনা।
আমরা কালের পরিক্রমা আর জীবনের জটিলতায় অঝোর ধারায় কাঁদতেও ভুলে গেছি।
আমার এই মুহুর্তে খুবই ভালো লাগছে। মন খারাপ করা ভালো লাগা। আমি বহুদিন পরে আজ নিজেকে উজাড় করে কাঁদতে পারছি। ফেলে আসা অনেক ধূসর অতীত,এখান ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সহমর্মী কিছু হাত,ঝাপসা হয়ে আসা অনেক প্রিয় মুখ আজ এসে ভিড় করছে।
ফোটায় ফোটায় ঝরে পড়ছে পাতার উপর জমে থাকা শিশির। চোখের কোল বেয়ে ঝরতে থাকে অঝোর শ্রাবন।

রাত বাড়তে থাকছে ক্রমশঃ……………।
===============
পাদটিকা: একজন অসম্ভব প্রিয় মানুষকে কথা দিয়েছিলাম, কবিতা লিখবো বলে। নাগরিক উষ্ণতায় চোখের কোণে জমাট অশ্রুরা এই রাতের কুয়াশার্ত নৈঃশব্দিক নীরবতায় অবিরল ঝরে পড়ছে। অবিরাম সে কান্না তৈরী করছে রেখাহীন এক জলচ্ছবি। যেখানের ক্যানভাসে আমার প্রিয় মানুষগুলোর যাপিত ও চলমান এবং অনাগত জীবন আঁকছে, এক জটিলতর জৈবনিক পোট্রেট। কম্পিউটারের স্ক্রীণ ঝাপসা আলোর জোনাকীর মতো উড়তে থাকে। আমি লিখতে চাচ্ছি। কিন্তু, শব্দেরা কেমন এলোমেলো এক মিছিলে চলেছে। আমি তাই অক্ষরের দেখা পাচ্ছি না। অভিধানে আজ ধর্মঘট ডেকেছে বুঝি কেউ! সেখানে শুধু দাগটানা কলাম! আচ্ছা, আমার এই অবিরাম অশ্রু-বর্ষণে ধুঁয়ে যাবে কি আমার প্রিয় মানুষগুলোর একান্তে জমিয়ে রাখা দুঃখগুলো?

VN:R_U [1.9.7_1111]
রেটিং করুন:
Rating: 5.0/5 (2 votes cast)
VN:R_U [1.9.7_1111]
Rating: 0 (from 0 votes)
এক বিন্দু শিশির কনা এবং .............., 5.0 out of 5 based on 2 ratings

এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

৮ টি মন্তব্য (লেখকের ৪টি) | ৪ জন মন্তব্যকারী

  1. খেয়ালী মন : ২৯-১২-২০১১ | ৬:৩১ |

    ফোটায় ফোটায় ঝরে পড়ছে পাতার উপর জমে থাকা শিশির। চোখের কোল বেয়ে ঝরতে থাকে অঝোর শ্রাবন। Yes

    চমৎকার ডাইরী কবিতা
    ভালো লাগা রেখে গেলাম

    • রুপালি গিটার : ২৯-১২-২০১১ | ৮:৫৯ |

      প্রথম মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলে আমারো। তবে, আমার ধারণা, মোটেও ভালো হয়নি পোস্টটি। বিশেষ মানুষটির জন্যই লিখলাম। প্রার্থনা করবেন, সৃষ্টা যেনো তাকে খুব ভালো রাখেন। মানুষটি ভীষণ কষ্ট বুকে চেপে হেসে চলেছে আমাদের এই সমাজে..। শুভ কামনা আপনার জন্য। ভালো থাকুন প্রতিক্ষণ।

  2. ছায়েদা আলী : ২৯-১২-২০১১ | ৮:২৩ |

    নীরব , আমি তোমার ভাষার কাছে ও এর প্রকাশের কাছে মুগ্ধ ।
    অসম্ভব সুন্দর তোমার উপস্থাপন ।
    অনেক ভালো লাগা রেখে গেলাম ও নাহ্ নিয়ে গেলাম ।
    ভালো থেক ভাইয়া ।

    • রুপালি গিটার : ২৯-১২-২০১১ | ৮:৪০ |

      প্রিয় আপি,
      তোমার মুগ্ধতা আমার জন্য অনেক বড়ো পাওয়া। আমার ভাষা আর প্রকাশের কথা বলেছো তো! আমার ভাষার আর প্রকাশ হচ্ছে, আমার ভেতরের সীমাহীন নৈঃশব্দের আক্ষরিক অনুবাদ। আমি আমার একাকীত্বের বেদনানীল আঁখড়ে, প্রতিমুহুর্তে লিখে চলি আমার বিধিলিপি। আমার খুব ভয় হয়। আমার ভাগ্যের একটা মারাত্মক ভয়াবহ প্রবণতা রয়েছে। জন্ম থেকেই দেখছি, আমার খুব কাছের মানুষগুলো কেনো যেনো অনেক দূরের আকাশ হয়ে শূণ্যে ‍মিলিয়ে যায়। কাউকেই ধরে রাখতে পারি না আমি। তাই, আমার স্থির বিশ্বাস দাঁড়িয়ে গেছে, আমার জন্ম হয়েছে শুধুই প্রিয় মানুষদের জন্য অপেক্ষা করবো বলে। ভালোবাসা, আদর, স্নেহ এই সব শব্দগুলো আমায় খুব বেদনা দেয়। মনে হয়, পরজন্মে জন্মালে এমন ভাগ্য নিয়ে পৃথিবীতে আসার মতো ভুলটুকু আর করবো না। এ’জন্মের দায় আর কতোদিন টেনে চলতে হবে, জানিনা। আমার পৃথিবীজুড়ে শুধুই মৃত্যুর মতো সুমহান মৌনতার নীরব অপেক্ষা…..। ভালো থেকো আপি..। জীবন হয়ে উঠুক শতভাগ জৈবনিক..।

  3. মুরুব্বী : ২৯-১২-২০১১ | ১০:৩০ |

    নাগরিক উষ্ণতায় চোখের কোণে জমাট অশ্রু
    কুয়াশার্ত নৈঃশব্দের নীরবতায় অবিরল ঝরে পড়ে

    কতটা অসাধারন বোধ থেকে কথা গুলো উচ্চারিত হতে পারে, ভাবলে অবাক হতে হয়। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতে হয় পূর্ণ এক জীবনের দিকে। আপনাকে এবং আপনার অসম্ভব প্রিয় সেই মানুষের জন্য অনাবিল শুদ্ধ প্রীতি।

    • রুপালি গিটার : ২৯-১২-২০১১ | ২১:৩৫ |

      আপনার উপস্থিতি বরাবরের মতো আমার জন্য আনন্দদায়ক প্রমাণিত হলো। আসলে আমার বোধগুলো অসাধারণ মোটেও নয়। (অবশ্যই আমার বিবেচনায়)। কিন্তু, শতভাগ জৈবনিক। আমার জীবনের ক্ষণগুলো তীক্ষ্ণ বিশ্লেষন করেই আমার শব্দেরা গড়ে উঠে। শুভ কামনার জন্য ফিরতি শুভ কামনা রইলো। ভালো থাকা হোক অনিঃশেষ সুখে।

  4. বিষণ্ণময়ী : ২৯-১২-২০১১ | ১১:৩২ |

    পুরো লেখাটা সাথে পাদটিকা অসাধারন কথামালা দিয়ে সাজিয়েছেন, এইভাবে যদি কেউ কারো জন্য দুলাইনও লিখে তার কি কোন কষ্ট থাকে, এ যে অনেক পাওয়া যা সহজে পাওয়া যায় না।

    এতো কষ্টমাখা কাব্য নাই বা লিখলেন কারো জন্য কারো ঝরে পড়া অশ্রুকে ঝরতে দিন তাতে যে সে শান্তি পাব. এই অশ্রুরা যদি নাই ঝরে তবে তার বুকে যে কষ্টের পাহাড় উচু হয়ে দাড়িয়ে রবে সেই পাহাড়কে ভাঙ্গার শক্তি কি কারো আছে। কষ্টে যে থাকে তাকে ভাল বা আনন্দে রাখতে হয় আনন্দমাখা কিছু দিয়ে। তাই না হয় করুন কষ্ট কমিয়ে তাকে আনন্দের নাগরদোলায় একটু দুলিয়ে দিন।

    শুভ কামনা রইল।

    • রুপালি গিটার : ২৯-১২-২০১১ | ২১:৪৮ |

      অনেক ভাবলাম। কিছুই হলো না। অক্ষরেরা শব্দ হতে চাইলো না। শব্দরা হতে চাইলো বাক্য। বাক্যরা প্রতিজ্ঞা করেছে বোধহয়, কোন অনুভূতি প্রকাশের দায়িত্ব আজ তারা নেবে না! তাই, কিছুই লিখছি না প্রত্যুত্তরে। প্রিয় এক কবির অতি প্রিয় একটি কবিতা রেখে যাচ্ছি। আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমার সব প্রিয় মানুষেরা একদিন সুখী হবে খুব। সেদিন হয়তো আমি থাকবো না। তবুও, তারা সুখী হোক। শুভ কামনা রইলো আপনার জন্যও। বিষন্নতা কেটে গিয়ে জীবন হয়ে উঠুক উচ্ছল আনন্দে টইটুম্বুর।
      ====================
      মানুষের বুকে এতো দীর্ঘশ্বাস
      মহাদেব সাহা
      ———–

      কেউ জানে না একেকটি মানুষ বুকের মধ্যে কী গভীর দীর্ঘশ্বাস
      নিয়ে বেড়ায়-
      কোনো বিষণ্ন ক্যাসেটেও এতো বেদনার সংগ্রহ নেই আর,
      এই বুকের মধ্যে দীর্ঘশ্বাসের পর দীর্ঘশ্বাস যেন একখানি
      অন্তহীন প্রগাঢ় এপিক!
      পাতায় পাতায় চোখের জল সেখানে লিপিবদ্ধ
      আর মনোবেদনা সেই এপিকের ট্রাজিক মলাট;
      মানুষের বুকে এতো দীর্ঘশ্বাস, এতো দীর্ঘশ্বাস, কে জানতো!

      দীর্ঘশ্বাসভরা এই বুকের চেয়ে শীতপ্রধান বিপন্ন অঞ্চল
      আর কোথাও নেই,
      এমন হলুদ, ধূসর ও তুষারাবৃত!
      একেকটি মানুষ বুকের মধ্যে কী গভীর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে
      বেড়ায়, কেউ জানে না
      হঠাৎ একসঙ্গে অসংখ্য দুঃখ যদি কখনো কেঁদে ওঠে
      কিংবা যদি
      প্রাচীন শিলালিপি থেকে সব শোকের গান সশব্দে বেজে যায়,
      তাহলে যেমন মধ্যাহ্নের আকাশ সহসা দুঃখে ম্লান হয়ে যাবে
      গোলাপ হবে কৃষ্ণবর্ণ, তার চেয়েও বিষণ্নতা নেমে আসবে
      মানুষের বুক থেকে এই দীর্ঘশ্বাস যদি বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ে।

      তেমন সম্ভাবনা আছে বলেই মানুষ বুকের মধ্যে দীর্ঘশ্বাস
      চেপে রাখে
      তার চোখে নিয়তই জল ঝরে তবু দেখা যায় না;

      মানুষের বুকের ভেতর কতো যে দীর্ঘশ্বাস, জমাট বেঁধে আছে
      কতো যে ক্রন্দন, পাতা ঝরার শব্দ, মৃত্যুসংবাদ
      মানুষের বুকের মধ্যে ব্যথিত ব্যাকুল ইতিহাস
      আর আহত সভ্যতা
      মেঘের মতো ঘনীভূত হতে হতে একেকটি মর্মানি-ক
      দীর্ঘশ্বাস হয়ে আছে
      মানুস তাকে বয়ে বয়ে দগ্ধ বেঁচে থাকে;
      একেকটি মানুষ বুকের মধ্যে কী গভীর দীর্ঘশ্বাস বয়ে
      বেড়ায়, কেউ জানে না
      একেকটি মানুষ বুকের মধ্যে কী গভীর দীর্ঘশ্বাস বয়ে
      বেড়ায়, কেউ জানে না
      একেকটি মানুষ নিজের মধ্যে কীভাবে নিজেই মরে যায়,
      হায়, কেউ জানে না!