যাযাবরের চিঠি-২[২] এই পোস্টে মুরুব্বী ভাইএর ১৪ নং মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এই পোস্ট।
ঘুম পাড়ানি গান-১
নামেই গান, কোন সুর নেই, বোবা গান। কেউ আছেন সুর দিয়ে জীবিত করে তুলবেন?
দিনের শেষে খুকুর চোখে আয়রে ঘুম আয়
ঘুম পরী তোর পায়ে পরি খুকুর চোখে আয়।
খুকু আমার সোনার পুতুল বায়না ধরেছে
চাদের দেশে যাবে বলে রকেট কিনেছে,
সেই রকেটের পাখায় চড়ে আয়রে ঘুম আয়।
চাদের দেশে ফুল বাগানে থাকবে খুকু একা
সন্ধ্যা হলেই জোনাক মালা জ্বলবে থোকা থোকা,
সেই আলোরই সোপান বেয়ে খুকুর চোখে আয়।
নিচের গানের লিঙ্কঃ
ঘুম পাড়ানি গান-২
সুর এবং কণ্ঠ- শতদল হালদার
চাদ হাসে তারা হাসে হাসে খুকু মনি
আমার ঘরে এলো বুঝি ছোট্ট হীরের খনি।
খুকুর চোখে আয়রে ঘুম সোনার পাল্কী চড়ে
শিউলী ফুলের মালা গেথে পরিয়ে দেব তোরে,
অথৈ সাগর খুজে দেব মনি-মুক্তা চুনি।
লক্ষ তারার প্রদীপ জ্বেলে রূপার নুপুর পায়ে
ঘুম পরিরা আয়রে উড়ে মেঘের দোলা নিয়ে
তোদের সাথে দোলায় শুয়ে ঘুমাক সোনামণি।
(আমার দস্যি ছোট মেয়েকে ঘুম পাড়ানোর জন্য তার মাকে লিখে দেয়া ঘুমের গান। ঘুম পাড়ানোর জন্য তাকে এক গান এক নাগারে বেশি দিন গাওয়া যেত না। নিত্য নতুন এতো গান তার মা কোথায় পাবে, তাই একটু চেষ্টা করেছিলাম। আর ওর মা তাই গেয়ে গেয়ে ঘুম পাড়াত)
নিচের গানের লিঙ্কঃ
এই গানটি এর আগে শুধু কথা প্রচার করেছিলাম, মনে ছিল না জে এটার সুর আছে।
দূর পাহাড়ের পাশে
আকাশ হলো মেঘলা
একটু পরে নামল ধীরে
তুহিন মাখা বাদলা।।
এমন দিনে পথের পরে
কে চলে গো একলা,
বৃষ্টি নামে রিম ঝিমিয়ে
পথ চলে সে গুন গুনিয়ে,
একা একা যায় সে কোথায়
খানিক আঁচল উড়িয়ে মাথায়।
ভিজল আঁচল পা যে পিছল
কলসী নিয়ে কাঁখে
যায় কি নদীর ঘাটে
আহা যায় কি নদীর ঘাটে।
বৃষ্টি ভেজা পথের ধারে এদিক ওদিক চায়
মন যে তার উড়িয়ে নিল পাগলা হাওয়ায়।
সবুজ মাঠে শাড়িতে মিশে
মনটা ভরেছে হিমেল বাতাসে।
কখনও ভাবেনি, পিছনে দেখেনি
আকাশ কাল মেঘে ছেয়ে গেছে ঢেকে।।
নিচের গানের লিঙ্কঃ
এই গানিটিও একই ভাবে শুধু কথা প্রচার করেছিলাম।
গানের কথা, সুর এবং কণ্ঠ আমার বড় মেয়ে।
মিষ্টি ছোট্ট কথা
শুনতে ভাল লাগে
সে যে আমার মা
সোনা মনি মা।।
ছোট্ট সবুজ ঘাসের ফুল
দুলছে হাওয়ায় দোদুল দুল
দেখতে সে যে মায়ের মত
লাগছে আহা মন্দ না।
স্নেহ মায়ায় সারাক্ষণ
ভরা থাকে মায়ের মন
ক্ষমা গুনে সেরা সে
মা যে আমার অনন্যা।
(কবিতাটি আমার মেয়ের লেখা, যখন সে সপ্তম শ্রেনীতে পড়ে)
নীচের গানের লিঙ্ক
কণ্ঠ- আমার বড় মেয়ে, সুর- শতদল হালদার
পুতির মালা মতি মালা
পুতির মালা মতির মালা
দোলে খুকুর গলে
তাইনা দেখে চাদ মামা
লুকায় মেঘের তলে।।
টুকটুকে লাল শাড়ি পরে
নাকে সোনার নোলক পরে
ঘোমটা দিয়ে মুখ ঢাকে
বউ সাজার ছলে।।
লাজে রাঙ্গা বধু সেজে
আলতা পায়ে বসে আছে
সইকে দেখে মিছে মিছি
ভাসে চোখের জলে।।
নিচের গানের লিঙ্কঃ
কণ্ঠঃ আমার মেঝ মেয়ে তানিয়া যখন স্কুলে যায় না তখন ওর কণ্ঠ। এবার ও অনার্স পাশ করল।
ঝরে ওই চঞ্চল ঝর্ণা
পাহাড়ী কণ্যা
যেন পাহাড়ী কণ্যা
ছুটে চলে সকাল দুপুর।।
রংধনু শাড়ি পরে
মাথায় মেঘের ঘোমটা
কাল কোকিলের
কন্ঠে তুলেছে নৃত্যের সুর।।
মহুয়ার আতর মেখে
ফাগুনের আবিরে সজে
কঙ্কর নুপুর
বেধে নাচে
ঝুমুর ঝুমুর।।
মেঝমনি (আমার মেঝ মেয়ের উদ্দেশ্যে লেখা)
লক্ষ্মি আমার পাগলি মা থাকিস হৃদয় জুড়ে
কোথায় গেলি সোনা মনি আয় না কাছে ওরে।
আড়াআড়ি করে শুধু কাটাস সারা বেলা
যখন ডাকি তখনই তুই করিস শুধু খেলা,
অফিস থেকে এসে আমি পাইনা খুজে তোরে।
ঘুমের ঘোড়ে দেখিস ফুল কুড়ানোর স্বপ্ন
মন নেই তোর পড়াতে ভাবিস মায়ের জন্য,
ইস্কুলেতে ব্যাস্ত থাকিস ফিরবি কখন ঘরে।
ধ্রুব তারাঃ (আমার বড় মেয়ের উদ্দেশ্যে লেখা)
মাগো আমার সোনামনি আমার চোখের আলো
জানিস না তুই তোকে আমি কতই বাসি ভালো।
তুই যে আমার জীয়ন কাঠি আমার পথের দিশা
দেখলে তোকে মন জুড়ায় আর কাটে অমানিশা,
তোরই ছায়া যেন আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিলো।
তোকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি অনেক বড় হবি
সবার চোখে একে দিবি মন জুড়ানো ছবি,
তোরই সাথে যেন ঘরে চাদের কণা এলো।
মুখ বন্ধঃ সুপ্রিয় পাঠক পাঠিকার কাছে একটাই বিনীত অনুরোধ আপনারা কেউ দয়া করে এই গানের সাথে উপযুক্ত যন্ত্রের সাথে স্টুডিওতে রেকর্ড করা বাজারের CD এর সাথে তুলনা করবেন না। এগুলি প্রায় ২০ বছর আগে নিতান্ত ঘরে গাইবার সময় রেকর্ড প্লেয়ার দিয়ে রেকর্ড করা যা এই আজকালের ডিজিটাল ফরমেটে আনতে বেশ কষ্ট হয়েছে। এবং যারা গেয়েছে তাদের অনেকেই তখন হাত ধরে হাটলেও আজ অনার্স পাশ করে ফেলেছে এবং কারো কারো পড়াশুনার পাট শেষে সংসারের হাল ধরে ফেলেছে।।



আপনিতো দেখছি দারুন কাজ করেছেন।
দারুন দারুন।
সতত শুভ কামনা আপনার ও আপনার পরিবারের প্রতি।
আপনার প্রতিও শুভ কামনা অবিরত।
আহা, বেশ! বেশ! বেশ!
শুননাম আপনার কন্যাদের গান
এত পুরাতন ..তবু কত উজ্জ্বল ….
দারুণ একটি পোস্ট ।
শুভকামনা ।
শুভ কামনা আপনার জন্যেও।
প্রিয়তে রাখলাম এতগুলো গান।
বেশ, ভাল কথা!
গানগুলো পরে শুনব, ধন্যবাদ আমাদের সাথে শেয়ারের জন্য।
শুনে জানালে ভাল লাগবে। ধন্যবাদ।
ব্লগারস ফোরাম আয়োজিত সেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে আপনার আমন্ত্রণ রইলো ।
আমি নিজে যদিও এক সময় সন্ধানীর স্বেচ্ছায় রক্তদাতা ছিলাম কিন্তু দুঃখের বিষয় আমার যে আর সে ক্ষমতা নেই! আমি যে কঠিন ডায়াবেটিক রুগী দাদা! রীতিমত ইনসুলিন নির্ভর। এই রাগীদের যে কাউকে রক্ত দিতে নেই!
আপনার প্রয়াশ সুন্দর। গীতিকার হিসেবে আশা করি মর্যাদা পেয়ে গেছেন। পান্ডুলিপি থেকে বাছাই করে এখন যে কোন রেকর্ডিং স্টুডিও অথবা প্রফেশনাল সুরকারের কাছে পৌঁছালে একটা ভালো ব্যবস্থা হবে আশা করি। যাদের কন্ঠে গানগুলোন সুর লয়ে গাঁটছড়া বাঁধন এঁটেছে তারা যত বড়ই হয়ে যাক না কেন, তা তাঁদের জীবনের আনন্দময় স্মৃতি বটে। শুভকামনা এবং স্নেহ রইলো সবার প্রতি।
জানি না গীতিকার হতে পারব কি না! তবে রেডিওতে কিছু গান জমা দিয়েছি।
কামনাগুলো ওদের সবার কাছে পৌছে দিলাম। আপনিও ওদের সালাম ও শ্রদ্ধা জানবেন।

। এমন কাউকে খুজে পাচ্ছি না যিনি পেশাদার সুরকার। আবার অন্যদিকে আপনারা নিতান্ত চুপিসারে একান্ত মনের অজান্তে অনেক ভালবেসে ফেলেছেন বলে এই গান গুলি আপনাদের কাছে ভাল লাগছে কিন্তু সাধারন জনগনের কাছি কি তাই হবে?
আমার বড় মেয়ে কিন্তু এখন রেডিও ঢাকার নিয়মিত শিল্পী। আপনার শুভ