মহাকাশের অন্ধকূপ (প্রথম পর্ব)

মহাবিশ্বের একটি রহস্যময় স্হান হল ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ন বিবর।এটি আলোহীন, বাতাসহীন,সময় এবং স্হান হীন একটি গহ্ববর।আমাদের পার্থিব অভিজ্গতা দিয়ে এর বর্ননা দেয়া যাবে না।ঘনীভূত পর্দাথের পিন্ড,যার চারিদিকে রয়েছে প্রচন্ড জোরালো মাধ্যাকর্ষন শক্তি।শক্তিশালী দূরবীন দিয়েও সেখানকার কিছুই দেখা যায় না,শুধুই অনূভব করা যায়।মহাকাশের এই বিস্য়য় সর্ম্পকে বিন্গানীরা 1960 সালে তাত্ত্বিক ভাবে এই ব্যাপারে কাজ শুরু করে।

আসুন ব্ল্যাক হোল সর্ম্পকে জ্যোতিপদার্থবিদদের সংগ্রহ করা তথ্য থেকে কিছু জেনে নিই।

মহাবিশ্বের যে কোন জায়গা থেকে কোন বস্তুকে বাইরে ছুঁড়ে দেবার জন্য অতিরিক্ত বল প্রয়োগের দরকার একে বলে মুক্তিবেগ (Escpe Velocity)।এবং এর মাত্রা নির্ভর করবে স্হানীয় মাধ্যাকর্ষনের জোরের উপর,যেমন- পৃথিবীর বাধা কাটিয়ে কোন বস্তুকে মহাকাশে ছুটে যেতে হলে
গতি হতে হবে সেকেন্ডে 11.7 কিঃমিঃ,তেমনি চাঁদে এই গতি হবে 2.4,সূর্যে 61.7 শ্বেত বামন তারার ঘনত্ব বেশী হওয়ায় এই বেগ হতে হবে সেকেন্ডে 4300 মাইল বা 6800 কিঃমিঃ।
আরেকটি তারকার যদি যথেস্ট ভর ও ঘনত্ব থাকে তাহলে তার মহাকর্ষীয় ক্ষেএ হবে প্রচন্ড শক্তিশালী,এবং এর থেকে কোন কিছু বের হতে হলে তার গতি হতে হবে সেকেন্ডে 6000 কিঃমিঃ যা সম্ভব নয়।আর যে তারার ভর সূর্যের ভরের চাইতেও অনেক বেশী সেখানে আলোর বিকিরন বেগ ,তার মহাকর্ষ বলকে অতিক্রম করতে পারে না,সূতারং এই রকম বস্তুকে বাইরে থেকে দেখার কোন সম্ভবনা নাই,সংক্ষেপে একেই বলে ব্ল্যাক হোল।

আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে বিশ্বের কোন বস্তুরই বেগ আলোর বেগের বেশী হতে পারে না,আলোর বেগ বিশ্বের প্রাকৃতিক বেগ সীমা।আলো যে মহাকর্ষ বল কাটিয়ে উঠতে পারে না, বিশ্বের কোন বস্তুর পক্ষেই সে বেগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।যে কোন পদার্থ এইরুপ অতি সংকুচিত তারার উপর পতিত হতে পারে,কিন্ত কোন বস্তুই সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না।ব্ল্যাক হোলের সৃস্টি হয় কিভাবে তা বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে একটি তারার জীবনচক্র।
বৃহৎ পরিমান হাইড্রোজেন গ্যাস নিজস্ব মহাকর্ষীয় আর্কষনের চাপে নিজের উপরই চূপসে যেথে থাকে।এর ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরের তাপ বাড়তে থাকে এবং এই তাপ বাড়তে বাড়তে এমন একটা পর্যায়ে পৌছে তখন এর অভ্যন্তরে পারমানবিক ফিউশন প্রক্রিয়ায় তারাটি এক সময় জ্বলে উঠে, এবং তখন সৃস্টি হয় একটি তারার।

পারমানবিক প্রক্রিয়া থেকে উদ্ভূত তাপ এবং মহাকর্ষীয় আকর্ষনের ভারসাম্যের ফলে,তারকা গুলি বহুকাল ধরে সুস্হিত থাকে।কিন্ত একসময় তার হাইড্রোজেন জ্বালানী ও অন্যান্য জ্বালানী ফুরিয়ে যাবে।এর কারন তারকাটির নিজ্বস ভর যত বেশী হবে,মহকর্ষীয় আকর্ষনের সন্গে ভারসাম্যে রক্ষায় তাকে তত বেশী উওপ্ত হতে হবে,এবং এতে তার জ্বালানীও তারাতারি ফুরিয়ে যাবে।জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে তখন সেই তারাটি শীতল ও সংকুচিত হতে থাকে এবং এই তারকার ভর আমাদের সূর্যের ভরের দেড়গুনের চেয়ে বেশী হলে সে তার নিজের মহাকর্ষ থেকে রক্ষা পাবে না।এই ভর “চন্দ্রশেখর সীমা” নামে খ্যাত।
আর এই ভর যদি চন্দ্রশেখর সীমার চেয়ে কম হয়,তাহলে তা “শ্বেত বামন” রুপে স্হিতি লাভ করবে।এর অভ্যন্তরে বস্তু থাকে সম্পূর্ন আয়নিত রুপে এবং একটি বিশেষ মাত্রায় পৌছানোর সাথে সাথে এর ভিতরে প্রচন্ড বিস্ফোরন ঘটবে,এবং বাইরের অংশ মহাশূন্যে নিক্ষিপ্ত হবে।এর কেন্দ্রে শক্ত ইলেকট্রনদের বিপরীতমূখী চাপ সত্ত্বেও তারকাটি ক্রমাগত চুপসে যেতে থাকবে।
এই চাপ একটি নির্দিস্ট মাত্রায় পৌছালে পরমানু কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন ইলেকট্রনরা প্রচন্ড চাপে প্রোটন কনাদের সাথে যুক্ত হয়ে চার্জবিহীন নিউট্রন কনাদের তৈরে করে,এবং সৃস্টি হয় নিউট্রন তারার।এই তারার ভরের ক্ষেত্রেও রয়েছে সব্বোর্চ মাত্রা,তাহল সূর্যের ভরের আড়াই গুন।এবার কিন্ত নিউট্রনেরা বিপরীতমুখী চাপ প্রয়োগ করেও অভিকর্ষজনিত সংকোচন ঠেকাতে পারবে না।এই অবস্হায় তারকাটির অভিকর্ষ বল প্রচন্ড আকার ধারন করে।যার কোন সঠিক ব্যাখ্যা নেই,এবং ঠিক তখনই সৃস্টি হয় “ব্ল্যাক হোল”।
বা কৃন্ষ গহ্ববর।এক বিরাট অন্ধকারের ভিতর তলিয়ে বসে আছে এই অতি ক্ষুদ্রকায় তারাটি। এখানে পদার্থের সঠিক অবস্হান জানা নেই।
সংন্গানুসারে এখান থেকে কিছুই বের হতে পারে না,এমনকি আলোও না।তাহলে একে খুজে বের করার উপায় কি?জ্যেতির্বিদ জন মিচেল এ বিষয়ে পথ দেখিয়েছেন।আকাশে যত তারা আছে তার মধ্যে বেশিরভাগই যূগল নক্ষএ ব্যবস্হা।
ব্যাপারটা এই রকম একটি তারকা অন্য একটি তারাকে প্রদক্ষিন করে,এর কারন পারস্পারিক মহাকর্ষীয় আকর্ষন।আবার এমন দেখা যায় যে,একটি তারা প্রদক্ষিন করছে একটি অদৃশ্য সন্গীকে।হতে পারে অদৃশ্য সন্গীটি একটি কৃন্ষ গহ্ববর।
এর ভাল ব্যাখ্যা হল কৃন্ষগহ্ববরের পাশে যদি কোন তারা থাকে তাহলে কৃন্ষগহ্বরের চারপাশে একটি অদৃশ্য বলয় আছে একে বলে আকর্ষন বলয় (Accretion Disc) এর প্রচন্ড টানে সেই তারাটি থেকে ছিটকে বেড়িয়ে এসে এই বলয়ের চারপাশে জমা হতে থাকে এবং এই পদার্থ কৃন্ষগহ্বরের ভিতরে প্রবেশ করার আগে বলয়ের চারিদিকে প্রচন্ড বেগে ঘুরতে থাকে এবং এর ফলে সেখানে এস্ক-রে রশ্নি উৎপন্ন হয়।সূতারং এই রশ্নির বিকিরনের উৎসই কালো গহ্ববর ও নিউট্রন তারার সন্ধানী নিদর্শন।

চলবে……………।।

ছবি গুগল।

VN:R_U [1.9.7_1111]
রেটিং করুন:
Rating: 0.0/5 (0 votes cast)
VN:R_U [1.9.7_1111]
Rating: 0 (from 0 votes)

এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

৬ টি মন্তব্য (লেখকের ৩টি) | ৩ জন মন্তব্যকারী

  1. নাজমুল হুদা : ১৬-০৯-২০১২ | ১৬:২১ |

    রহস্যময়! বুঝতে কষ্ট হয়।

    • নেবুলা মোর্শেদ : ১৭-০৯-২০১২ | ১৪:২১ |

      black hole এই পুরো ব্যাপারটাই অনেক জটিল এবং গানিতিক।এর মধ্যে
      থেকে যতটা সহজ করে লেখা যায় সেই চেস্টা করেছি।

  2. মোঃ খালিদ উমর : ১৬-০৯-২০১২ | ১৯:১৭ |

    black hole নাম শুনেছি অনেক কিন্তু এ যাবত কারো কাছে স্পষ্ট করে বুঝতে পারিনি আসলে এটা কি? Think
    আপনিই প্রথম হলেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ। Rose Rose Rose পোস্টটি প্রিয়তে রেখে দিলাম। সময় এবং সুযোগ মত কারো কাছে দিব এক লেকচার ঠুকে! Smile

  3. ডা. দাউদ : ১৬-০৯-২০১২ | ২০:১৯ |

    শুভেচ্ছা নিন প্রিয়।