ঠিক রাত দশটা বাজে রিকশা দিয়ে আসছিলাম প্রেসক্লাব এর সামনে দিয়ে। একদল ছেলে আনুমানিক জনা পঞ্চাশেক হবে। কারও হাতে মোটা লাঠি, কারও হাতে লোহার রড, কারও হাতে চকচকে এস এস রড এ তৈরী বল্লম এর মতন রড, কারও হাতে লোহার লম্বা অংশ। আমি রিকশাওয়ালাকে ধিরে চালাতে বললাম। বীরদর্পে এবং ভয়ংকর ভঙ্গিতে তারা এগিয়ে আসলো প্রেস ক্লাব এর সামনে দিয়ে চার রাস্তার মোড়টায়। আশে পাশে তাকালাম কোণ নিরাপত্তা বাহীনির লোকজনকে দেখলাম না। কি করি এ অবস্থায় ভাবতে ভাবতে, সে ছেলেগুলোকে পেছনে রেখে হাইকোর্ট এর সামনেও কোন নিরাপত্তা বাহীনির লোকজন চোখে পড়লো না যে তাদের কে জানাবো। নিজের মনে শংকা যে কিছু একটা সমস্যা হবে হয়ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথাও। আমি আশে পাশে খুজছি নিরাপত্তা বাহীনির লোকজন। রিকশা যখন শহীদ মিনার এসে পৌছুলো। একটি পুলিশ বাহীনির বড় ভ্যান দেখে থামলাম। রিকশা থেকে নেমে ভ্যানে থাকা তিনজন তরুন পুলিশ ভাইদের বললাম ঘটনাটি। তৎক্ষনাত উনাদের দায়িত্বরত অফিসারকে ব্যাপারটি জানানোর জন্য বললাম অথবা আশে পাশে র্যাব এ খবর দিতে বললাম। একজন প্রায় দৌড়ে গিয়ে শহীদ মিনারে বসা তাদের অফিসারকে ডেকে নিয়ে আসলো। উনাকেও ব্যাপারটি বুঝিয়ে বললাম, যা আমি দেখে আসলাম। সে অফিসার আমার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে কাউকে মোবাইলে ফোন করতে দেখলাম। এরপর আমার কাছে এসে সহজ ভঙ্গিতে বললো- সমস্যা নেই ঐ জায়গাটি আমাদের টহল এর আওতায় পড়েনি! যাদের টহল এলাকা তাদেরকে আমি জানিয়েছি।
সে ছেলেগুলো আজকে কি করতো অথবা কি করতে যাচ্ছে অথবা কি করেছে তা এখন আমি জানি না। তার আনুমানিক ধারনা করতে গিয়ে বুক হিম হয়ে যাচ্ছে। আমাকে বহন করা রিকশাচালক আমাকে এ ঘটনাটি জানানোর জন্য দোয়া করলো। বললো স্যার আপনি নিজেও তো ঝামেলায় পড়তে পারতেন। আমি বললাম- ঘটনার মধ্যে তো আমি-আপনিও আহত অথবা নিহত হতে পারতাম। বলেন তো – আমি ঠিক করেছি কি না? আমি আপনি তো আর তাদের থামাতে পারতাম না। এতটুকুন যে করেছি নিজের অবস্থা বিবেচনা করেই করেছি। কেউ না কেউ হয়ত সে ভয়ংকর ছেলেগুলোর হাত থেকে রক্ষা পাবে হয়ত।



আসলে আ্রইন শৃংক্ষলার বিন্দু মাত্র নাই
আর পুলিশ গুলো কি উত্তর দিলো দেখলেন
মাঝে মাঝে খুব আসহায় মনে হয়
মনে হয় বড় সন্ত্রাসী হতে পারলে ভালো হতো
ঐ সময়টাতে আসলে ওদেরকে বলা ছাড়া আর কিছু উপায় ছিল না।
জাকির ভাই আপনি সরল মনের বোকা মানুষ তাই পুলিশ পর্যন্ত গিয়েছে ।
অন্য যারা দেখেছে না দেখার ভান করে জীবন নিয়ে পালিয়েছে । আমি হলেও তফাতে ভাগতাম।
বর্তমান দেশের পরিস্থিতিকে কঠিন করে ভাবুন ।
আজ খবরে পড়লাম ঢাবির চারু কলার একটা অনুষ্ঠানে ছাত্রী লীগ নেতা যা করেছে ।
কঠিন ভেবেছি দেখেই চেষ্টা করেছি। হ্যা আমার বিপদ হতে পারতো।
একজন সচেতন নাগরিকের কর্তব্য করেছেন। তবে বিপদ হতে পারত। পুলিশগুলোর হাতে নাজেহাল হতে পারতেন। সারা রাত পুলিশ ভ্যানে ঘুরতেও হতে পারত। পকেটের সিগারেট প্যাকেট এর সিগারেট এবং মানিব্যাগের টাকার ভাগ দেওয়া লাগলেও দিতে হতে পারত।
তবে সব সময় অশুভ চিন্তা করতে নেই। তাতে শুভ বেরিয়ে আসতে পারে না। আজকের রাতে ছেলেগুলোর অপারেশন সফল না হোক। বাচুঁক আপনার বদৌলতে তাজা প্রান। আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা।
ভাই আমার বেশভুষা সত্যি ফরমাল অফিসার এর মতন ছিল বলে হয়ত নাজেহাল হতে হয়নি।
রাতে ছেলেগুলোর অপারেশন সফল হয়নি।তাই তো মনে হচ্ছে।
এরপর আমার কাছে এসে সহজ ভঙ্গিতে বললো- সমস্যা নেই ঐ জায়গাটি আমাদের টহল এর আওতায় পড়েনি! যাদের টহল এলাকা তাদেরকে আমি জানিয়েছি

ভাই কোনটা যে ওনাদের টহলের আওতায় পড়ে সেটা মনে হয় ওনারা নিজেরাও জানেন না।
আর একজনের সচেতন মানুষ/ নাগরিক হিসেবে আপনার কাজকে সাধুবাদ দেই। তবে সাবধানে থাকবেন কারণ এমন কাজে বিপদের সম্ভাবনাই বেশি থাকে। সতত শুভকামনা রইলো।
জ্বি ধন্যবাদ
আপনি ঠিক কাজটিই করেছেন যদিও এমন কাজে এ দেশে বিপদের সম্ভাবনাই বেশি। আপনার মঙ্গল কামনা করছি। ভাল থাকুন সব সময়।
ধন্যবাদ। চেষ্টা করেছি মাত্র অল্প। খুব বেশি কিছুই করিনি আসলে।
বিপদের আশংকা ছিল।
তারপরও কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে যেতে হয়।
শুধু বলবো কান্ডারী হুশিয়ার।
হুশিয়ার ছিলাম বলেই ফটো তোলার সাহস দেখাইনি। হ্যা বিপদ হতে পারতো জামান ভাই। তারপরও…
চির উন্নত মম শির…
তবে পুলিশ গুলো মনে হয় ফুলিশ ছিল…!!! নয়তো নিজের ইচ্ছেতেই ধরা দেয়া শিকার কেউ এমনি এমনি ছেঁড়ে দেয়?
ভাল থাকুন, সুস্থ ও নিরাপদ থাকুন সবসময়।
জানিনা কি হয়েছিল পরে……। তবে ঘটনা ঘটেনি। নাহয় ওদের অবস্থা যে ভয়ংকর ছিল। আজকে হয়ত হেডলাইন টাইপের নিউজ হতো।
বাহ দারুন, সাহসী,,,,,,,,,,,,,,পদক্ষেপ ,,,,,,,,জয়তু জাকির ভাই
জয়তু আমার বাংলাদেশ
আপনি আপনার কর্তব্য ঠিকই পালন করেছেন তবে বাংলাদেশের যে অবস্থা তাতে আপনাকে পুলিশ অনেক নাজেহাল করতে পারতো যেমন করছে লিমনকে। সাবধানে চলবেন।
আপা আমি খুব ফরমাল ড্রেস এ ছিলাম বলে হয়ত…
আপনার এই ব্যাপারটি আমার দৃষ্টি এড়ায়নি। বেশ মনে আছে বই মেলায় বাংলা একাডেমিতে এক মহিলা গাছগুলো নষ্ট করে ষ্টজের দিকে যাচ্ছিলেন, আপনি এমন ভাবে তার সাথে কথা বলছিলেন যেন পারলে তাকে তখনই গ্রেফতার করে ফেলবেন।
সব ক্ষেত্রে পজেটিভ ভুমিকা কখনো হিতে বিপরীত হতে পারে।
শুভ কামনা।
আমি গ্রেফতার করতে চাইনি অবশ্যই। নিষেধ করছিলাম অবশ্যই। আমার একটি পোষ্ট এ ঘটনার অংশবিশেষ উল্লেখ করেছিলাম।
আমি পজিটিভ ভুমিকা রাখতে গিয়ে গত সপ্তাহেই দুটো ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলাম। কপালে যদি থাকে বিধাতার লিখা, খন্ডাতে পারে কে?
হ্যা সাবধান থাকার চেষ্টা করবো।
প্রতিটা মানুষ যদি এমন দায়িত্বশীল হতেন, তাহলে আমার মতো মানুষদের আর প্রবাসী শ্রমিক হতে হতো না।
সবার জন্যই ভালো কিছুর প্রত্যাশা সবসময়ই করি