শুরুটা এই ছবি থেকেই তো মনে হয়। এরপর তো পত্রিকায় ভুল সংবাদ এই মর্মে- দ্বিতীয় শ্রেনী থেকে তৃতীয় শ্রেনীতে নেমে গিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মহোদয়গন।
এরপর ডাইরেক্ট একশান।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের হাতেম আলী কলেজ এলাকায় বরিশাল পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা গাড়ি ভাঙচুর করে।
এই তো কিছুক্ষন আগে দেখলাম ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি সময় টিভিতে সাক্ষাত্কার দিয়ে এ তথ্য সবাইকে অবগত করলেন যে- সংবাদটি ভুল ছিল!!!
কি তেলেসমাতি কান্ডটাই না দেখেন। মানূষ একে একে ধাপে ধাপে উপরে উঠায়, আর এই সরকার কিনা সেকেন্ড ক্লাস থেকে এক্কেবারে থার্ডক্লাস এ নামিয়ে দিয়েছে ইঞ্জিনিয়ার গুলোরে! তাও যদি খবরটা সত্যি হতো!
তবে ইঞ্জিনিয়ার দের প্র্যাকটিস হয়েছে বেশ!!!!! বিস্তারিত আরও খবর জানতে পারবেন দৈনিক কালের কন্ঠ লিংকটিতে।
আমি অরাজকতার ছবি এবং তথ্য নিয়েছি দৈনিক প্রথম আলো এবং দৈনিক কালের কণ্ঠ থেকে। ঘটনার সুত্রপাত ভুল সংবাদ পরিবেশনায়ও এই দুটি পত্রিকার নাম এসেছে সর্বাগ্রে!!!



“এই নিয়েছে ওই নিলো যা
কান নিয়েছে চিলে..”
গুজব নিয়ে একটা জানা কৌতুক একটু অন্যভাবে শেয়ার করি-
এবার কোন ভাবেই কোন কিছু করা যাবে না। দান দান তিন দান। পরিদর্শক সাহেব তৃতীয়বারের মত আসছেন। কোন গাফলতি দেখলেই কনর্ফাম স্কুলের বরাদ্দ বাতিল। স্কুলে তাই সাজ সাজ রব। হেড স্যারের মাথার যে তেরটি চুল অবশিষ্ট ছিল তার তিনটি ইতিমধ্যে গেছে। প্রথম বার যখন পরিদর্শক সাহেব আসলেন সেবার সব ভন্ডুল করে দিয়েছিল হুজুর স্যার। তার অভ্যাশ ছিল ক্লাশ ঘুমানো। পরিদর্শক সাহেব যেদিন আসবেন সেদিনও ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ছাত্রদের বলা ছিল পরিদর্শক সাহেব কে আসতে দেখলেই তাকে যেন তুলে দেই। কিন্তু পাজি’র পা ঝারা ছাত্ররা তুলল তাকে এমন সময় যখন অলরেডি উনি ক্লাশে ঢুকছেন। কোন মতে সামলে চোখ কচলে যখন বললেন – বুঝলে ছাত্ররা একেই বলে ঘুম। আজ আমরা কাগজে কলমে ঘুম কাকে বলে শিখলাম – ততক্ষনে পরিদর্শকের যা বোঝার তা বোঝা হয়ে গেছে।
২য় বার ভন্ডুল করল ক্লাশ ফাইভের ফাস্ট বয় দ্বিপ। তখন অংক ক্লাশ চলছিল। পরিদর্শক যখন জিজ্ঞাসা করল –
:এক হালি কলাম দাম ১টাকা হলে তিন হালি কলার দাম কত?
দ্বীপ জিজ্ঞাসা করে বসল
: কি কলা স্যার?
: এই ধর সাগর কলাই।
: ১ টাকায় এক হালি সাগর কলা আপনার …… মধ্যে দিয়ে দেবে।
তাই এবার আর কোন ভুল না। হুজুর স্যারকে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। ছাত্রদেরও শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে কোন প্রশ্ন নিয়ে যেন কথা বেশি না বলা হয়। পারলে স্পষ্ট বলতে হবে না পারলে শুধু বলবে আমি জানি না। যা হোক নির্ধারিত সময়েই পরিদর্শ সাহেব এসে হাজির। চা-নাস্তার আপ্যায়ন শেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হল ক্লাশ ফাইভের ঘরে। তখন সমাজের ক্লাশ চলছে। এই স্কুলের সবচেয়ে ভাল স্যার পরিমল বাবু। তাই বুদ্ধি করে তার ক্লাশেই নিয়ে যাওয়া।
যথারিতি পরির্দশক সাহেব ক্লাশে ঢুকেই ফাস্ট বয় কে জিজ্ঞাসা করলেন-
: কি পড়ানো হচ্ছে।
: জি ইতিহাস
: আচ্ছা বলত বাবরী মসজীদ কে ভেঙেছে
: আল্লাহ কসম স্যার আমি ভাঙিনি।
পরির্দশক সাহবে চোখ কটমট করে পরিমল স্যারের দিকে তাকাতেই উনি বলে উঠলেন-
: আপনার কি মনে হচ্ছে আমি ভাঙিছি
রাগে গজগজ করতে করতে পরির্দশক ছুটলেন হেড স্যারের রুমে। ঘটনার আদ্যপান্ত শুনে হেড স্যার বললেন-
: দ্বীপ স্যার ক্লাশের ফাস্ট বয়। সৈয়দ বংশের ছেলে। একটু কথা বেশি বলে। কিন্তু খুব ভাল ছেলে। মসজীদ ভাঙার মত কাজ ওর দ্বারা সম্ভব না। পরিমল বাবু বছর দুয়েক হল এ স্কুলে এসেছে। আবার হিন্দু। তাকে সন্দেহ করা যেতে পারে। তবে কেন জানি মনে হচ্ছে স্যার আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে। মসজিদ ভাঙার মত সাহস তার হবে না। তবুও আমি এখনি তদন্ত করব।
এ সব শুনে আর এক মুর্হত ওই স্কুলে পা না রেখে সোজা পরির্দশক সাহেব চললেন স্থানীয় এম.পি’র কাছে। তাকে ওই স্কুলের কথা বলে বরাদ্দ বাতিলের সুপারিশ করতে। সব শুনে এম.পি সাহেব ফোন করলেন শিক্ষা মন্ত্রীকে।
: স্যার আমার এলাকায়তো আগামীবার জেতা কষ্ট হয়ে যাবে।
: কেন কি হয়েছে
: আমার এলাকার এক স্কুলের টিচারের মসজিদ ভাঙা নিয়ে হুলুস্থল কান্ড। এই যে একজন আসছে স্কুলের বরাদ্দ বাতিল করতে। স্কুল বন্ধ করলে তো আমার ভোট পাওয়া হবে না। স্যার আপনি একটু দেখেন। যাতে বরাদ্দ বাতিল না করে ঘটনার মিমাংসা করা যায়।
তাই শুনে শিক্ষা মন্ত্রী ফোন করলেন ধর্ম মন্ত্রীকে
: কি আপনারা শুধু চাদঁ দেখা নিয়ে থাকেন নাকি ঘটনার কিছু খোজঁ খবর রাখেন।
: কেন কি হয়েছে?
: রহমত গন্জে যে হিন্দুরা মসজীদ ভেঙে ফেলছে। তার খবর রাখেন। হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা বাধঁলে তো সরকার পড়ে যাবে।
: আমি এখনি দেখছি।
এই বলে ধর্ম মন্ত্রি ফোন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে।
: রহমত গন্জে বাবরী মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। যেকোন মূহর্তে দাঙ্গা বাধঁতে পারে। আপনি ইমিডিয়েটলি স্পেশাল ফোর্সের ব্যাবস্থা করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ততখনাত সব জায়গায় ইনফোরমেশন দিয়ে দেন। আর প্রধানমন্ত্রীকে জানানো কর্তব্য মনে করে ফোন দেন
: সর্বনাশ হয়ে গেছে
: কি হয়েছে
: দেশ জুড়ে দাঙ্গা বাধঁতে পারে। রহমত গন্জের বাবরী মসজীদ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
: এই খবর এত দেরীতে আমাকে দেয়া হচ্ছে কেন? আপনাদের মন্ত্রী করে তো ভারী বিপদে পড়লাম।
প্রধানমন্ত্রী ততখনাত অর্থ মন্ত্রীকে ফোন করেন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে অর্থ বরাদ্দ চাই। রহমত গন্জে বাবরী মসজীদের চেয়েও আরও সুন্দর মসজীদ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে করে দিতে হবে। আমি কোন কথায় শুনতে চাই না। এমনিতেই বহুত ঝামেলায় আছি।
আমরা কি শিখলাম!!!
গুজবে কান দিন আর মসজিদের জন্য বরাদ্ধ নিন!!!!
আমি বুঝলাম কম।
দুজনকেই মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ
মাইর হবে কিন্তু সাউন্ড হবে না
পত্রিকাওয়ালারা ভুল সংবাদ ছাপলো! আসলেই মাইর হবে কিন্তু সাউন্ড হবে না।
কত কী যে সয়ে যেতে হয়, না ঠিক হলো না, কত কী যে দেখে যেতে হয় এই বঙ্গদেশে!! সত্যিই সেলুকস, বড় বিচিত্র এই দেশ!!
একটু অবাকই লেগেছে, সংবাদপত্রে ভুল তথ্য এর বিনিময়ে ছবির মতন অরাজকতা!!
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা মনে হয় কিছুটা মাথা গরমও। কয়েক বছর আগে রাজউক-এ আর্কিটেক্টদের বিষয়ে আইন করলেও দিপ্লোমারা না বুঝে কাফন মিছিলও করে ফেলেছিলো।
এদের আরো সংযত হওয়া উচিত।
হ্যা এদের আরো সংযত হওয়া উচিত।
হয় হয় এমন হয়
জ্বি এমনই দেখতে হবে, তাই বলে মানতেও হবে?
ঘটনাটি কি তাহলে সত্যিই মিথ্যা ছিল।আর মিথ্যা ছিল ছবিগুলোও

যে বিষয় নিয়ে ওরা এমন অরাজকতা করছিল তা ভুল চিল। ছবিগুলো তো সত্যি ভুল আন্দোলনের খেসারত আমরা জনগন!!!!
পলিটেকনিকের থেকে পাশ করে ওইগুলা আবার ইঞ্জিনিয়ার হইল কবে থেইক্কা !!!! :P