চিলেকোঠা (পর্ব-৩)

চিলেকোঠা (পর্ব-১)

চিলেকোঠা (পর্ব-২)

৫।
রাত পৌনে নয়টায় সফিক সাহেব বাসায় ফিরে আসেন। বাসায় ঢুকে একটু অবাকই হন, চারিদিকে তার পছন্দের ফুল দিয়ে সাজানো,ড্রয়িং রুম পেড়িয়ে ডাইনিং হয়ে সফিক সাহেবকে তার রুমে যেতে হয়, রুমে যাবার পথে ডাইনিং এ তাকিয়ে দেখেন নীরু আর রফি সুন্দর করে সেজেগুজে বসে আছে। কি ব্যাপার ওরা আমার অপেক্ষা কেনো করছে, চিন্তিত ভঙিতে মেয়ের দিকে তাকান সফিক সাহেব। নীরু বুঝে যায় বাবার মনের অবস্থা। হেসে বলে বাবা তুমি তোমার রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসো, তারপর সবাই একসাথে খাবো। সফিক সাহেব আরো অবাক হন, যে নীরুকে প্রতিদিন রাতে খাবারের সময় কয়েকবার ডাকতে হয় সে নীরু আজ নিজে বসে আছে টেবিলে আর তার জন্য অপেক্ষা করছে। চোখটা হালকা ভিজে উঠে সফিক সাহেবের। কতোদিন মেয়েকে এমন উচ্ছল হতে দেখেন না। তাড়াতাড়ি রুমে চলে যান সফিক সাহেব, মেয়েকে এই অশ্রু দেখাতে নেই, এ যে খুশীর অশ্রু। রুমে ঢুকে আবারো বিস্মিত হন সফিক সাহেব, সুন্দর একটি পাঞ্জাবী রাখা তার উপরে নীরুর গোটা গোটা হরফে লেখা চিঠি। চিঠিটা পড়ে আবারো ভাবনায় পড়ে যান সফিক সাহেব, আজ কিসের দিন যে নীরু আমাকে এই উপহার দিল। মনে করতে পারেন না সফিক সাহেব। এতো ভেবে কি লাভ তার চেয়ে পাঞ্জাবীটা পড়ে টেবিলে বসে মেয়েকে জিগ্গেস করলেই তো হবে ঘটনাটা কি?? কেনো এই উপহার। হাতমুখ ধুয়ে পাঞ্জাবী পড়ে হালকা সুগন্ধি শরীরে দিয়ে সফিক সাহেব আসেন খাবারের টেবিলে। নীরু মুগ্ধ চোখে বাবাকে দেখে, তার বাবা এই বয়সেও কতো সুন্দর। বাবা বসতেই নীরু আর রফি সফিক সাহেবকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে বলে উঠে”হ্যাপি বার্থ ডে বাবা” সফিক সাহেব চমকে উঠেন। আজ তার জন্মদিন। সারাটা দিনতো একবারো কেউ মনে করিয়ে দেয়নি, এমন কি তার স্ত্রীও তো একবারো উইশ করেনি। কিন্তু মেয়ে আর ভাই এতো সুন্দর করে তাতে উইশ করবে ভাবতেও পারেননি সফিক সাহেব। সফিক সাহেব এক হাতে মেয়েকে অন্য হাতে ভাইকে জড়িয়ে ধরে বলেন থ্যাংকস তোমাদের।

আয়েশা খাবার পরিবেশন করতে শুরু করে। আবার বিস্মিত হন সফিক সাহেব। কই মাছের ভুনা, বেগুনের ভর্তা, মরিচের ভর্তা, এটাতো তার খুব পছন্দের খাবার ছিল যখন মা বেচে ছিলেন, মা মারা যাবার পরে কেউ আর এই পছন্দের খাবারটি সে ভাবে রান্না করে খাওয়ায়নি। নীরুর মা খুব একটা রান্না করতে পারতো না, আর তার কই মাছ খুব অপছন্দের ছিল। তাই কই মাছ আর খাওয়া হয়ে উঠেনি। বেগুন ভর্তা আয়েশা বছরে কয়েকবার করে দেয় কিন্তু মরিচের ভর্তাতো কখনোই করেনা। সফিক সাহেব আয়েশাকে প্রশ্ন করেন, কি রে আজ এই মেন্যু, তু্ই জানলি কি করে এই সব আমার পছন্দের খাবার। আয়েশা হেসে উত্তর দেয় আজ তোমার মেয়ে সব রান্না করেছে আর সেই বলেছে কি কি রাধতে হবে।সফিক সাহেব বিস্মিত নয়নে মেয়ের দিকে তাকান। তার এই ছোট্ট মেয়েটি রান্না শিখলো কি করে?? মেয়ে এই সব গুণ পেলো কার কাছে। নীরু বাবার বিস্মিত মুখ দেখে খুব মজা পায়। হেসে বলে ” বাবা রান্নাটা আমি আর আয়েশা ফুপি মিলে করেছি ঠিক, কিন্তু এই আইটেম গুলোর কথা রফি চাচা বলেছে। আজ বোধ হয় বিস্মিত হওয়ার দিন সফিক সাহেবের, সেই কবেকার কথা রফির ঠিকই মনে আছে । ঝর ঝর করে কয়েক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে সফিক সাহেবের চোখ থেকে। এর পর বলতে শুরু করেন সফিক সাহেব; জানো নীরু মাকে এই কই মাছের জন্য খুব জ্বালাতাম, কই মাছ কাটা খুব কষ্ট তাই মা খুব একটা রান্না করতে চাইতেন না , বাবা প্রায় দিন বাজার থেকে কই মাছ নিয়ে আসতেন আর মা রেগে বাবাকে বকা দিতেন, কিন্তু ঠিকই আবার রান্নাও করতেন। আমাদের নিজেদের সবজির ক্ষেত ছিল, বেগুন হতো খুব, আর বেগুনের ভর্তা আমার তখন থেকেই প্রিয়। তোমার দাদী বেগুন মাটির চুলোর আগুনে পুড়িয়ে ভর্তা করতেন। খুব মজাদার হতো সেই ভর্তা।

আজ এতো দিন পরে তুমি আমার পছন্দের খাবার উপহার দিয়েছো এট আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার আমি আজ পেলাম। নীরু আর রফি খুব খুশী হয় কারণ বাবার মুখ থেকে বির্মষ ভাবটা কেটে যাচ্চে। খেতে শুরু করেন সফিক সাহেব। মুখে দিয়ে নীরুকে বলেন মামণী তুমিতো চমৎকার রেধেছো ঠিক আমার মায়ের হাতের রান্নার মতো লাগছে। নীরু লজ্জা পেয়ে যায়। নীরু কই মাছ খেতে পারছে না সফিক সাহেব তা খেয়াল করে দেখলেন, সফিক সাহেব মাছ ভাল করে বেছে নীরুকে দিয়ে বললেন এবার খাও। নীরু হঠাৎ করে বলে উঠলো বাবা খাবারের পরে তুমি কি আমার সাথে আমার চিলেকোঠায় যাবে, আমি কিছু জানতে চাই তোমার কাছে। সফিক সাহেব হেসে বললেন কেনো যাবো না অবশ্যই যাবো। আজ না হয় একটু দেরীতে ঘুমাবো। আমি তুমি রফি ওখানে বসে চা খাবো আর গল্প করবো। নীরু আর রফি খুব খুশী হয় সফিক সাহেবের এই কথা শুনে।

৬।
রাত প্রায় দশটা বাজে, বাবা মেয়ে আর চাচা মিলে গল্প করছে , সফিক সাহেব নিজেই কথা বলে যাচ্ছেন, শুনছে শুধু নীরু আর রফি। আজ প্রাণ ভরে কথা বলতে চাইছেন সফিক সাহেব হঠাৎ সফিক সাহেবের মনে হলো নীরু কি যেনো জানতে চায়। নীরুকে প্রশ্ন করলেন, তোমার কি কোন কথা আছে যা আমাকে বলতে চাও বা জানতে চাও। নীরু প্রস্তুত হয়ে বলল আমার কয়েকটা প্রশ্ন আছে তোমাকে করার। আমি কি তা জিগ্গেস করতে পারি?। সফিক সাহেব হেসে বললেন আজ তোমার সব প্রশ্নের উত্তর আমি দিবো, তুমি র্নিদিধায় প্রশ্ন করো। নীরু কিছুটা সময় নিয়ে জানতে চায় : বাবা নীল পরী মায়ের সাথে তোমার কি কোন সম্পর্ক নেই, কেনো উনি এতো বছর একা থাকেন, আমাদের কখনো কাছে টানেন না।” সফিক সাহেব চমকে উঠেন, এই ধরনের কোন প্রশ্ন নীরু করবে তা ভাবতে পারেননি। সফিক সাহেব কিছুক্ষন নীরব হয়ে থাকেন।নীরু আর রফি অপেক্ষা করতে থাকে উত্তর শোনার। সফিক সাহেব বলতে শুরু করেন, তোমার মায়ের মৃত্যু পরে আমি আবার বিয়ে করবো ভাবিনি, কিন্তু তোমার আর রফির কথা ভেবে আমাকে দ্বীতিয় বিয়ে করতে হয়। তোমার এই মায়ের পরিবার আমার পূর্ব পরিচিত, বলা যায় দু:সম্পর্কের আত্নীয়। আমি আবার বিয়ে করবো শুনে তমার বাবা নিজেই মেয়েকে বিয়ে দেয়ার কথা আমাকে বলেন। আমি তমার বাবাকে বলেছিলাম তমার মতামত নিয়ে তবেই যেনো বিয়েটা হয়। আমি তমাকে দেখতে গিয়েছিলাম তোমার আয়েশা ফুপিকে নিয়ে, আমার ভালও লেগেছিল তমাকে। তাই বিয়ের কথা পাকা করে আসি আর তার কয়েকদিন পরে বিয়েও হয় আমাদের। কিন্তু বিয়ের প্রথম রাতেই তমা আমাকে বলে দেয় সে আমাকে স্বামী হিসাবে মানতে রাজি নয়। আমি যদি বাড়াবাড়ি করি তবে সে সুসাইড করবে, আমি ভয় পেয়ে যাই, আমি জানতে চাই কেনো সে এমন করছে, তমা আমাকে সরাসরি বলে দেয় তার বাবা তার অমতে তাকে বিয়ে দিয়েছে, সে একজনকে ভালবাসে তার অপেক্ষায় আছে ছেলেটি দেশে আসলেই তারা বিয়ে করবে। আমি ভেবে পাইনা কি করবো, কয়েকদিন ভেবে আমি তমাকে বলি ঠিক আছে ছেলেটি দেশে আসলে আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে তার আগ পর্যন্ত সে যেনো তোমাদের দেখে শুনে রাখে, সে আমার শর্তটা মানলেও তোমাদের মানতে পারবেনা বলে জানিয়ে দেয়। তবু আমি তাকে সময় দেই ভেবে দেখার জন্য। আমি মাস খানেক অপেক্ষা করি, কিন্তু সে তার মত আর পরিবর্তন করেনি , তাই আমরা আলাদা রুমে থাকার সিদ্ধান্ত নেই। যা আজ দশ বছর ধরে চলছে। সেই ছেলেটি আর ফিরে আসেনি, কিন্তু তোমার নীল পরী মা আমাকে আর তোমাদের তবুও মেনে নিতে পারেনি, আমি তাকে মুক্ত করে দিতে চেয়েছি, সে সমাজ আর লোক লজ্জার কারণে তা মানতে রাজি হয়নি। আমি শুধু অপেক্ষা করছি যদি তার ভুল ভাঙে যদি সে ফিরে আসে। কিন্তু আমার এই অপেক্ষার কোন মূল্য তার কাছে নেই, সে উচ্ছৃঙখল জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, আর ফিরবে না। আমি হাল ছেড়ে দিয়েছি থাকুক না এই ভাবে তবু মানুষ আর সমাজ তো জানে সে আছে আমার স্ত্রী হয়ে আর তোমাদের নীল পরী মা হয়ে।

(চলবে)

VN:R_U [1.9.7_1111]
রেটিং করুন:
Rating: 0.0/5 (0 votes cast)
VN:R_U [1.9.7_1111]
Rating: 0 (from 0 votes)

এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

২৬ টি মন্তব্য (লেখকের ৮টি) | ১৬ জন মন্তব্যকারী

  1. ফিরোজ খান : ০৬-০৮-২০১২ | ১২:০৭ |

    সফিক সাহেব এক হাতে মেয়েকে অন্য হাতে ভাইকে জড়িয়ে ধরে বলেন থ্যাংকস তোমাদের (জায়গাটাকে একটু আরো গভীর করতে পারতেন, থ্যাংকস মনে হলো ছোট হয়ে গেছে……… এতো সুন্দর অনুভুতির একটু কমই হয়ে গেলো প্রকাশ টা) বিশ্বাস করেন সমালোচনার জন্য সমালোচনা না, কিংবা মাতবরী দেখাবার জন্য না, আমার নিজের ক্ষেত্রে হলেও আমার কাছে মনে হয়ছে অনুভুতি টা আরো কিছুক্ষন ধরে চলা উচিত ছিল, তার চোখ বেয়ে যেহেতু আগেও অশ্রু ঝরেছে এখানেও তার বিস্তার হলে ব্যাপারটার মধ্যে পাঠক মনে আদ্রতার উদ্ভব হতো।

    সুন্দর চলছে, চলুক।
    আমার জন্য দুআ করবেন।

    • বিষণ্ণময়ী : ০৬-০৮-২০১২ | ১৫:১২ |

      ফিরোজ এটা মাতব্বরী বা অন্য কিছু ভাবার আমার কোন ইচ্ছা নেই। আপনি যে বিষয়টা তুলে ধরেছেন তা অবশ্যই সুন্দর বিষয়।
      পুরো গল্পে সফিক সাহেব এবং তার পরিবার একটা কষ্টকর পরিবেশে থাকছেন, সফিক সাহেব এই রকম কোন সারপ্রাইজ পাবেন আশা করেননি, যারা হুট করে সারপ্রাইজ পান তারা এর চেয়ে বেশী কিছু প্রকাশ করেন না। মজার কথা বলি, আমি এই জায়গাটায় জামানকে চিন্তা করেছে, ও হলে কি করতো, চিন্তা করে বিশ্বাস করুন এর চেয়ে বেশী অনুভূতির প্রকাশ খুজে পাইনি। পৃথিবীর একেক মানুষ একেক রকম ভাবে তার অনুভূতির প্রকাশ করে কেউ খুব বেশী কেউ খুব অল্প আমার গল্পে সফিক সাহেব ও তাই।
      তার শুধু থ্যাংন্ক বলা টা নয়, লুকিয়ে চোখের জল মোছা, বা প্রকাশ্যে ঝর ঝর করে কয়েক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়া কিন্তু অনুভূতি প্রকাশের আরেক মাধ্যম।
      আমি ঠিক এই পয়েন্টগুলো ভেবেই উনার অনুভূতির প্রকাশ এমনটা দেখিয়েছি। আশা করি এখন কিছুটা হলেও ভাল লাগছে আপনার।

    • ফিরোজ খান : ০৭-০৮-২০১২ | ১১:৩২ |

      এটাই হয়তো লেখকের বিশেষত্ব

      পাঠক হৃদয় নিজের মতো করে চিন্তা করে, এখানেই পাঠকের সীমাবদ্ধতা।

  2. সুনয়ন : ০৬-০৮-২০১২ | ১২:৪৯ |

    গল্পে আপনার হাতটা কিন্তু বেশ

    • বিষণ্ণময়ী : ০৬-০৮-২০১২ | ১৫:১৩ |

      আরে না সুনয়ন ভাই, চেষ্টা করে একটা বড় গল্প লিখেছি আর এটাই আমার প্রথম বড় কোন গল্প।
      আপনার মন্তব্য আমাকে অনুপ্রাণিত করলো আরো।
      শুভ কামনা রইল

  3. চারুমান্নান : ০৬-০৮-২০১২ | ১২:৫১ |

    উরেবাবা, ভিষন বড় হচ্ছে,,,, Yes ,,,,,,,

    • বিষণ্ণময়ী : ০৬-০৮-২০১২ | ১৫:২০ |

      একটু বড় হচ্ছে, আর দুটো পর্বে শেষ হয়ে যাবে।

  4. নীল নক্ষত্র : ০৬-০৮-২০১২ | ১৩:০০ |

    উপরে ফিরোজ ভাই এর মতামতের সাথে আমি সহ মত। সাহিত্যের এটা একটা বিশেষে প্রয়জনীয় অংগ। পারিপার্শিকতার বিবরন যত নিখুত ভাবে দেয়া যায় পাঠকের সেই আবহের গভীরে মিশে যাওয়া ততটাই সহজ হবে আর এখানেই লেখকের প্রাপ্তি বা সফলতা। অর্থাৎ লেখক যে আবহ তৈরী করেছে পাঠককে সেখানে নিয়ে আসতে পেরেছে।
    শুভ কামনা অনন্ত।

    • বিষণ্ণময়ী : ০৬-০৮-২০১২ | ১৫:২১ |

      নীল ভাই আমি খুব একটা গল্প লিখিনি তাই ত্রুটি থাকবে অনেক, শুধরে দিচ্ছেন আপনারা এতো পরে গল্প লিখলে উপকারে আসবে। আমি অনেক চেষ্টা করছি পুরো আবহ সুন্দর এবং সাবলিল রাখার। যেনো পাঠকের পড়ার আগ্রহ জন্ম নেয়।

      শুভ কামনা রইল।

  5. মুহাম্মদ সাঈদ আরমান : ০৬-০৮-২০১২ | ১৩:২৮ |

    ৫ পুরাটাই ভাল লাগল। জীবনে মাঝে-মধ্যে এই জাতীয় কিছু প্রাপ্তি মুছে দেয় সব গ্লানি । ফ্রেশ করে মনটা ।
    দারুণ এগুচ্ছে গল্প । সফল সমাপ্তির আশায় ……………..

    • বিষণ্ণময়ী : ০৬-০৮-২০১২ | ১৫:২২ |

      সফল হবে কি না জানিনা শেষ পর্ব পরে বুঝতে পারবো।দোয়া করবেন মরু ভাই।

  6. ভালবাসার দেয়াল : ০৬-০৮-২০১২ | ১৩:৫১ |

    সুনয়ন ভাই বলেছেন-

    গল্পে আপনার হাতটা কিন্তু বেশ

    আমিও তাই বলি

    • বিষণ্ণময়ী : ০৬-০৮-২০১২ | ১৫:২৩ |

      জাকির ভাই আমার প্রতি এই হলো আপনাদের ভালবাসা যা আমাকে অনুপ্রাণিত করছে।

      শুভ কামনা রইল।

  7. আর. এইচ. মামুন : ০৬-০৮-২০১২ | ১৪:০৩ |

    আরো অপেক্ষা?
    কতক্ষণ?
    তবু আছি—

    • বিষণ্ণময়ী : ০৬-০৮-২০১২ | ১৫:২৩ |

      আরো দুটো পর্ব আছে ভাই। দু:খিত অপেক্ষায় রাখার জন্য।

  8. আ,শ,ম,এরশাদ : ০৬-০৮-২০১২ | ১৪:৫৪ |

    “নীল পরী মা ” কথাটা প্রথম পর্বে মানিয়েছিল। এই পর্বে তার নাম দিলেই মনে হয় ভালো হতো। কারণ “নীল পরী” আবার সেই সাথে “মা” শব্দটা যোগ করাটা তার স্বভাবের সাথে মোটেই যায় না।

    হাতমুখ ধুয়ে পাঞ্জাবী পড়ে হালকা সুগন্ধি শরীরে দিয়ে সফিক সাহেব আসেন খাবারের টেবিলে।

    রাতে পারফিউমটার অপচয় না করলেই ভালো হতো।

    • বিষণ্ণময়ী : ০৬-০৮-২০১২ | ১৫:১৯ |

      এরশাদ ভাই, বাচ্চা যখন প্রথম কাউকে কিছু ডাকে যা তার পছন্দের সেই ডাকটাই রয়ে যায়। উদাহরণ দেই, আমার দেবরের মেয়ে আমাকে বড় মা ডাততে পারতো না, ব মা ডাকতো, ও এখন স্কুলে যায় কিন্তু এখনো আমাকে ব মা ডাকে। আমার রাকা রিয়া ওর ছোট বাবাকে শাহিন বলতে পারতো না তানিন বলতো রিয়া এবার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বের হয়েছে তবু শাহিনকে তানিন ই ডাকে, আবার যেমন ওদের ছোট নানু কে ভু নানু ডাকতো ছোট বেলায় এখনো ওরা এই নামে ডাকে। আমি পুরো গল্পে তমাকে ভিলেন বানানোর পরেও নীরুর নীল পরী মা ডাকটা একই রেখেছি কারণ বাচ্চারা যাদের ভালবাসে তাদের সব সময় তাদের প্রিয় নামে ডাকতে চায়। আর তমার ভিলেন হলেও নীরুর কাছে সে মা, নীল পরীর মতো একজন মা।

      রাতে সুগন্ধি দেয়া অপচয় নয়, স্বামী-স্ত্রীর জন্য রোমাঞ্চকর Shy Shy , আর অন্যদের জন্য আলাদা ফ্রেশনেস নিয়ে আসে। ট্রাই করে দেখতে পারেন। আর বিত্তবানদের রাতে সুগন্ধি শরীরে দেয়া আলাদা একটা ইমেজ বহন করে।
      আমি বাস্তবে অনেককে দেখে গল্পের কিছু চরিত্রকে সেইভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি।

      আর দুটো পর্বে শেষ হয়ে যাবে আমার গল্পটা। এর পরে চাইবো পুরোটা নিয়ে সমালোচনা। আপনারা কয়েকজন এতো সুন্দর সমালোচনা করেন যে লেখার সময় বার বার ভুল গুলো শুধরে নিতে পারি। এটা কিন্তু আমার জন্য অনেক উপকারী এবং আপনাদের শুভ কামনা।

    • সাহাদাত উদরাজী : ০৬-০৮-২০১২ | ১৬:৪৩ |

      এই ত আমাদের এরশাদ ভাই।

  9. ডা. দাউদ : ০৬-০৮-২০১২ | ১৬:৫২ |

    এই সমাজে হাজারো সফিক সাহেব আছেন যারা
    প্রতি নিয়ত জ্বলছে অদৃশ্য এক দহনে


    আপা আপনার এই গল্পটি পড়ছি যেন কিসের এক মায়া জালে জড়িয়ে
    জানিনা তা কি

    উপভোগ করছি বেশ
    সাথেই পাবেন, শুভ কামনা রইলো

  10. নাজিয়া আক্তার (মম) : ০৬-০৮-২০১২ | ১৭:১৮ |

    পরের পর্বের অপেক্ষায় আছি ,
    আপনি চমৎকার লিখেছেন গল্পটা ।
    শুভকামনা রইল ।

  11. সেতুবন্ধন : ০৬-০৮-২০১২ | ১৯:৪৪ |

    নীল পরী’কে এমন ভুল সিদ্ধান নিতে দিয়ে অনেক কষ্টে ফেলে দিয়েছেন বেচারীকে। খেয়ালি মন দিয়ে গড়া
    হয়েছে তার চরিত্র তাই এমনটা হলো।

    ভালো লেগেছে গল্প। চালিয়ে যান।

  12. সুমন আহমেদ : ০৬-০৮-২০১২ | ২০:১৫ |

    যে যাই বলুক আমার পড়তে ভাল লাগছে।

    বাবা বসতেই নীরু আর রফি সফিক সাহেবকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে বলে উঠে”হ্যাপি বার্থ ডে বাবা” সফিক সাহেব চমকে উঠেন।

    পরের পর্বের জন্য শুভ কামনা…

  13. ছায়েদা আলী : ০৭-০৮-২০১২ | ১০:৩১ |

    অবশ্যই আপনার গল্প লিখার হাত চমৎকার Smile
    অনেক সুন্দর চলছে …

  14. নাজমুল হুদা : ০৭-০৮-২০১২ | ১৫:১৫ |

    এত বড় একটা গল্পের জন্য ছোট্ট একটা ‘চমৎকার’ মানাবে কিনা বুঝতে পারছি না।
    পরের পর্বে যাই।

  15. এস. এম. কামরুল আহসান : ০৭-০৮-২০১২ | ১৬:০৭ |

    পড়লাম, খুব ভালো লাগল এবং জন্মদিনের সেই চমক ও পেলাম।