৫মে ১৯৯৫, অনার্সের ছাত্রী, সাথে চলছে পার্টটাইম জব, অফিস থেকে বাসায় ফিরে শুনি পরশু আমার বিয়ে, হুট করে এমন কেনো স্বিদ্ধান্ত, মা আর বড়দার সোজা উত্তর বিয়ের সময় হলে বিয়ে দিতে হয়, আমিও রেগে উত্তর দিলাম আমার বয়স মাত্র সাড়ে উনিশ কেনো এতো জলদি বিয়ে করবো। মা বললেন পাত্রের মা চাইছে তাই, পাত্র তখন দেশের বাইরে থাকে, ফোনে বিয়ে পরে উঠিয়ে নিবে। আমি কেদে দিলাম বললাম মা আমি মাষ্টার্স শেষ করে বিয়ে করবো আরো কয়েকটা বছর যাক না। বড়দা বললেন বিয়ের পরেও পড়তে পারবে। দেখলাম কোন কথাই কেউ শুনছে না, উপায় না দেখে বললাম আমি একজনকে পছন্দ করি। তাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবো না। আর পাত্র আমার ছেলে বেলার বন্ধু ওর সাথে বিয়ের প্রশ্নই আসেনা। বড়দা কষে এক চড় দিলেন, বড়দার এই চড়টা আমার জীবনের প্রথম এবং শেষ চড় খাওয়া। বড়দাকে মা সামলে বললেন ছেলে কে, কি করে, খুলে বললাম সব কিছু। বড়দা বললেন কাল ওকে আমাদের সাথে দেখা করতে বল। আমার পছন্দের মানুষটি বাসায় আসলেন পূর্ব পরিচিত বলে মা ওতো কথা না বলে সরাসরি বললেন ৭তারিখে আমার মেয়ের বিয়ে পাকা করেছি তুমি যদি বিয়ে করো তবে ৭তারিখে করতে হবে। কোন কিছু না ভেবেই রাজি হয়ে গেলেন আমার পছন্দের মানুষটি। কথা হলো এখন বিয়ে পড়ানো হবে পড়ে অনুষ্ঠান যেহেতু হুট করে বিয়ে তাই এতো জলদি কোন আয়োজন করা যাবে না।
৭তারিখ কাজীর বাসায় আসার কথা, পাত্র হাজির তার সঙ্গী নিয়ে। সব প্রস্তুত। শুধু কাজীর খবর নেই। অনেক ক্ষন পরে সংবাদ এলো কাজীর কে জানি মারা গেছে উনি আসতে পারবেন না। কাল বিয়ে পড়াতে পারবেন। বিয়ে পিছিয়ে গেলো। ৮তারিখ দুপুরে কাজী আসলেন বিয়ে পড়ালেন। দুজনকে আর্শিবাদ করলেন।
যে মেয়েকে এতো জলদি বিয়ে দেয়ার জন্য মা উঠে পড়ে লেগেছিলেন সেই মায়ের সে কি কান্না। এখন আর মেয়ে বিদায় দিবেন না। জামাই বাসায় থাকতে হবে। কি যে মছিবত শুরু হল বিয়ের প্রথম দিনে। বিয়ে করে বর চলে গেলেন তার বাসায় আর আমি আমার বাসায়।
বিয়ের কয়েকদিন পরে আমার বাবা মারা গেলেন। আর কোন অনুষ্ঠান করার ইচ্ছা কোন পরিবারের ছিল না। কথা হলো আমাদের প্রথম বিবাহ বাষির্কিতে অনুষ্ঠান করা হবে। শুরু হলো আমাদের সংসার শুরু পালা। এটা ওটা সংসারের জিনিস পত্র কেনা। বর তার শাশুড়ীর কাছ থেকে কিছু নিবে না। তাই তার অল্প টাকায় প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কেনা হলো। যতো জিনিস কেনা হচ্ছে সংসারের মা এর গো ততো বাড়ছে । সে মেয়ে বিদায় দেবেই না। তার মেয়ে কোন কাজ পারে না , রান্না করতে পারে না। আরো বহু অজুহাত। আর জামাই তার বউকে শ্বাশুড়ীর কাছেও রাখবে না। অবশেষে বড়দা উপায় বের করলেন। মা চট্টগ্রাম গেলেন ছোট মামাকে দেখতে সেই ফাকে বড়দা আমাদের নতুন বাসায় উঠিয়ে দিলেন বলা যায় বিয়ের পরে আমরা পালিয়ে সংসার শুরু করলাম। মা ঢাকায় ফিরে তুলকালাম কান্ড বাধালেন। বড়দা মা কে নতুন বাসায় এনে আমাদের নতুন সংসার দেখালেন। মা কাদতে কাদতে আমাদের নতুন সংসারের শুভ সূচনা করতে দোয়া করলেন।
সেই থেকে শুরু আমাদের নতুন সংসার। ধীরে ধীরে কতো গুলো বছর গড়িয়ে গেলো। দুজন আমরা এক আর থাকিনি। দেবররা থাকতে শুরু করলো আমাদের সাথে। একটি পরিপূর্ণ সংসারের আশায় আমরা কাটাতে লাগলাম এতো গুলো বছর। দেবরা যার যার জায়গায় এখন প্রতিষ্ঠিত। বিয়ে করে বাবা ও হয়েছে। শুধু আমরা দুজন দুজনই থেকে গেলাম।
দির্ঘ্য ১৬টি বছর দুজনের অনেক মান অভিমান হয়েছে ঝগড়া হয়েছে, তবু দুজন দুজনকে আকড়ে ধরে আছি। আর এই আকড়ে ধরে আজ ১৬টি বৈশাখ শেষ করে ১৭তম বৈশাখে পর্দাপণ করলো আমাদের দুজনার সংসার।
আজ আমার আর জামান আরশাদের ১৭তম বিবাহ বার্ষিকি। আনন্দের দিন আমাদের জন্য কিন্তু ছোট দেবরের এক্সিডেন্ট করে হাসপাতালে থাকার কারণে আজকের দিনটা একটু হলেও ম্লান হয়ে আছে। হোক না একটু ম্লান তবু দুজন দুজনার হয়ে আছি এটাই বা কম কিসের।
ব্লগের সবার কাছে দোয়া চাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন আমরা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেনো এক হয়ে থাকতে পারি। আমাদের মাঝে যে অপূর্ণতা আছে জানি আর তা র্পূণ হবে না তবু চাই এই অপূর্ণতা দূর হয়ে যাক।
সবাই বসন্ত লেখে আমি বসন্ত না লিখে বৈশাখ লিখলাম এটার একটা কারণ আছে আর তা হলো আমাদের বিয়ে বৈশাখে হয়েছিল তাই বৈশাখটাই আমার কাছে বেশী প্রাধান্য পেয়েছে।
দেবরের অসুস্থতার জন্য অনেক দিন ব্লগ থেকে দূরে আছি আশা করি আগামী দুই একদিনে মধ্যৈ ব্লগে উপস্থিত হতে পারবো।
সবাই ভাল থাকুন।



marriage day koba!!
date bolben, dawat diben’na
ta hobena…ta hobena…
উপরে কিন্তু লেখা আছে
। আজকের তারিখে আমাদের বিবাহ বার্ষিকী।
দাওয়াত দেয়ার ইচ্ছা ছিল কিন্তু দেবরটা অসুস্থ তাই কোন কিছুই করতে পারিনি এমনকি জামানকে একটা কিছু কিনেও দিতে পারিনি বেচারা জামানও আমায় কিছু দিতে পারেনি। প্রতিদিন রাত ১১টার পরে বাসায় ফিরি হাসপাতাল থেকে। আজ দেবরের রিলিজ হবার কথা। দেখি অন্য একদিন দাওয়াত দিবো ইনশাল্লাহ।
সারাটি জীবন অনাবিল আনন্দের ভরে থাকুক আপনাদের জীবন। দোয়া করি।
জাকির ভাই দোয়া করবেন বাকী দিনগুলো এই ভাবে দুজন এক হয়ে থাকতে পারি।
দু’জনকে!!!!!!আমার!!!!!!!
ধন্যবাদ ,মান্নান ভাই।
অনেক শুভেচ্ছা এবং শুভ কামনা। অনেক সুন্দর হোক আগামী……

ধন্যবাদ দীপক। প্রার্থনা করবেন আমাদের জন্য।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
শুভ কামনা আপনাদের দুজনের প্রতি।
ধন্যবাদ মালেক ভাই। ভাল থাকুন সব সময়।
জীবন আনন্দময় হোক

শুভ কামনা দুজনার জন্যই।
ধন্যবাদ ছন্দ আপু। দোয়া করবেন আমাদের জন্য।
গত কাল দুলাভাইকে কল দিয়েছিলাম
২৭ তারিখের পর থেকে বোন দুলাভাই কাউকে খুজে পাচ্ছিনা
জানি দেবর কে নিয়ে ব্যাস্ত আছেন
খবর টা নেয়ার জন্যই কল করা
দোয়া করি আল্লাহ তাকে সুস্থ্যতা দান করুক।
দেবর এখন অনেক ভাল। গতকাল রাতে রিলিজ দিয়েছে আর ৫দিন পরে আবার দেখাতে বলেছে। এর পরে হয়ত দীর্ঘ্য মেয়াদি ট্রিটমেন্ট চলবে । হাড় জোড়া না লাগা পর্যন্ত।
ধন্যবাদ দাউদ ভাই।
সুইট সিক্সটিন হোক মধুময় আজীবন।সব টুকু পূর্ণতা পেয়েছে মানুষ, এমন ইতিহাস বিরল। তবু অনেক অপূর্ণতার মাঝে আপনার একটি চাওয়া পূরণ হোক এই দোয়া রইলো।
শুভেচ্ছা -শুভকামনা দু’জনের জন্যে।
সুইট সিক্সটিন মধুময় হয়ে আছে এর রেশ যেনো শেষ না হয় সেই দোয়া করবেন।
বিবাহ বার্ষিকীর অনেক অনেক শুভেচ্ছা … সুখে থাকুন
ধন্যবাদ আপনাকে।
ওরে মারে! কত কথা……
বিষয়টা কিন্তু ক্লিয়ার হল না, প্রেম করে বিয়ে না বিবাহের পর প্রেম!
শুভকামনা থাকল। সুখে থাকুন আজীবন…
(আশা করি সব সমস্যা কেটে যাবে।)
ওরে মারে! কত কথা……
বিষয়টা কিন্তু ক্লিয়ার হল না, প্রেম করে বিয়ে না বিবাহের পর প্রেম!
শুভকামনা থাকল। সুখে থাকুন আজীবন…

(আশা করি সব সমস্যা কেটে যাবে।)
প্রেম করে বিয়ে না বিয়ের পরে প্রেম।?? প্রশ্নটা আমারো আমরা কি কখনো প্রেম করেছি। বোধ হয় না। ভাললাগা ছিল দুজনের। তাই দুজনার ইচ্ছা ছিল আরো অনেক পরে বিয়ে করার। আসলে প্রেম করার সুযোগ পাইনি আমরা। তার আগেই আটগাট বেধে সংসারে নামিয়ে দিল।
হ্যা তবে দুজন এখন প্রেম করছি। প্রতিদিন। মান অভিমান, ঝগড়া, ভাললাগা, খভালবাসা, এক সাথে সময় কাটানো ইত্যাদি ইত্যাদি সবই তো প্রেম করার সময়কার ব্যাপার স্যাপার। যা এখন আমরা করছি। তাই এখন আমরা প্রতিদিনই দুজন দুজনার প্রেমে পড়ি। তবে সবচেয়ে বেশী বোধ হয় প্রেমে পড়ি যখন দুজন আলাদা থাকি বিভিন্ন কারণে। তখন অনুভব করি একা থাকা প্রতিটি ক্ষন কতোটা ব্যাকুল করে দুজনকে।
শুভ কামনা রইল আপনাদের প্রতিও।
আপনাদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি ।

ধন্যবাদ মরু ভাই। দোয়া করবেন।
আপা ও দুলাভাই এর দীর্ঘায়ু কামনা করছি

ধন্যবাদ শিবলী। শুধু দোয়া করবেন এইভাবে যেনো দুজন থাকতে পারি সব সময়।
পুরো লেখাটা পড়তে পড়তে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। সব প্রাপ্তির মাঝেও কিছু একটার শূণ্যতা আমাকে কাঁদিয়ে গেল। বিধাতার কেন এই নিষ্ঠুরতা?
ভাল থাকুক বড়’দি ও শ্রদ্ধেয় দুলাভাই।
আমরা সব সময় বেশ উৎফুল্ল থাকি তবু মাঝে মাঝে নিজেরাই নিজেদের অজান্ত একটা দির্ঘ্যশ্বাস ফেলি দুজনেই অনুভব করি একটা ঘরে সব আছে তবু কি যেনো নেই।
জানিনা বিধাতার এই আচরন কেনো। যে চায়না তাকে বহু দেয় আর যে চায় তাকে একটাও দেয় না।
সবকিছুকে ম্লান করে দেয় এই শূণ্যতা।
দোয়া করবেন আমাদের জন্য।
শু
ভ
বি
বা
হ
বা
র্ষি
কী
ধন্যবাদ আফরোজা। অনেক ভাল থাকুন।
এই তাহলে কাহিনী!!
শুভ বিবাহবার্ষিকী।
ধন্যবাদ এরশাদ ভাই।
শুভ
বিবাহ
বার্ষিকী।
সেরা মন্তব্যের লিষ্টে নাম উঠে না কেন?
বাইছা বাইছা দুই একজনরে মন্তব্য দিলে নাম উঠবো ক্যামনে। সবার ঘরে যান মন্তব্য দিন দেখেন নাম না উইঠ্যা থাকে কেমনে।

না এই পোস্টেই দিমু
আরো দিমু
তাইলে এক কাম করেন ইচ্ছামতো ইমো মারেন। নাম না উইঠ্ঠ্যা যাইবো কই।
বুজি, আমিও গেছিলাম মটুরে দেখতে এই মাসের শেষে। কিন্তু মাইয়া পক্ষ মটুরে আমার সঙ্গে বিয়া না দিয়া বাইর হইতে দিলো না।
অনেক শুভ কামনা দুজনের জন্য। জোড়াটার ‘আঠা’ যেন দিন দিন গাঢ় থেকে গাঢ়তর হইতেই থাকে।
এই মটুটা কে তাতো বুঝলাম না। তার মানে এই মাসে আপনার বিবাহবার্ষিকী?? ভভাবীরে মটু কইলেন না তো??
এই আঠা এমন এক আঠা সহজে আঠা ছুটে না। আরো মজবুত করে ধরে রাখে। এই আঠা সবার জীবনেরই থাকুক এই দোয়া করি।
ভাল থাকবেন সব সময়।
শুভ বিবাহ বার্ষিকী!
ভালোবাসায় ভরে উঠুক ভুবন। রঙে রঙিন হোক আগামীর দিন গুলি।
বন্ধন হোক আরও দৃঢ়, আরও মজবুত! সতত শুভ কামনা।
চমৎকার থাকুন প্রতি নিয়ত। শুভেচ্ছা-
দারুন শুভাশিষ জানিয়েছো। খুবই ভাল লাগল।
দোয়া করো যেনো আমরা এইভাবেই থাকতে পারি।
বারে বারে ফিরে আসুক সুন্দর এই দিনটি,
শুভ হোক আমাদের ১৭ তম বিবাহ বার্ষিকী।
আমার ১১ তম বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সালমা কে শুভেচ্ছা পাঠিয়েছিলাম সেটা আপনাদের বিবাহ বার্ষিকীতে আপা আর দুলাভাই …………।
তুমি আমার জীবনের প্রথমো সুখসিড়ি
জানিনা কবে হবে শেষ অপেক্ষার ঘড়ি ।
তুমি যদি থাকো চুপ ওগো সুন্দরী ,
কি করে চলবে বলো আমার জীবনো তরী ।
তুমি যদি থাক তীরে পাড় হবোই আমি ,
সমুদ্র ঢেউ করুকনা যতই পাগলামী ।
সিংহভাগ সময় কাটে আমার একই প্রার্থনায় ,
তোমার আমার বাসর হোক কোন এক মধু চদ্রীমায় ।
১৭তম বিবাহ বার্ষিকীর খুশীতে ভরে উঠুক আপনাদের জীবন আঙ্গিনা ,
এতটুকু চাওয়া শুধু রবের কাছে, রব নিশ্চয়ই করবেন করুনা ।
প্রতিদিন সুর্য্য উঠে তার নিজের জন্য
আজকের সুর্য্যটা যেন উঠে
লুবনা আর জামান আরশাদের জন্য।
কামনা করি আপনাদের আনন্দময় জীবন
আনন্দ সুখ শান্তিতে কাটুক জীবন,
আলোয় আলোয় ভরে উঠুক গৃহের প্রতি কোন,
সকল অতৃপ্তি দূর হয়ে শান্ত হোক মন
মানবের কল্যাণে চির অকৃপণ!!
আপনে তো বড়াপা তাই না?