The Boy in the Striped Pyjamas উপন্যাসটির লেখক জন বয়নেল। আইরিশ এই লেখক উপন্যাসটি লিখেছেন 2006 সালে। লেখক বলেছিলেন উপন্যাসটি তিনি মাত্র আড়াই দিনে লিখে শেষ করেছিলেন। উপন্যাসটি প্রকাশের পর থেকে সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত 50 লক্ষেরও বেশী কপি বৈধভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এই উপন্যাস অবলম্বনেই একই নামে চলচিত্র “দ্যা বয় ইন দ্যা স্ট্রাইপড পাজামাস”। মুক্তি পাই 2008 সালে। পরিচালনায় মার্ক হার্মেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময়কালের ইহুদী কন্সান্ট্রেশন ক্যাম্পকে ঘিরে শিশু মনের ভাবনা নিয়ে ছবিটি।
ছবিটার শুরুতেই দেখানো হয় বার্লিনের রাস্তা। ব্রুনো রাস্তায় বন্ধুদের সাথে দৌড়াতে দৌড়াতে স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছে। ফিরেই দেখে বাসার সব জিনিষপত্র গোছানো হচ্ছে। জানতে পারে তার বাবা যে একজন এসএস অফিসার তার প্রমোশন হয়েছে। উনি এখন নাৎজি বাহীনির কমান্ডেন্ট। সেই উপলক্ষে ঘরে পার্টি হবে। আর শীঘ্রই তাদের বার্লিন ছাড়তে হবে। আট বছরের শিশু ব্রুনো এসব বোঝে না। তার বন্ধুদের ছেড়ে, স্কুল ছেড়ে, এই বাড়ী ছেড়ে যেতে মন চাই না। বাবা তাকে বোঝায় যেখানে পরিবার সেখানেই বাড়ী। আর তার পরিবারের সবাই মা, বাবা, বারো বছরের বড় বোন সবাই নতুন জায়গায় যাচ্ছে।
নতুন বাড়ীতে এসে ব্রুনোর মন টেকে না। এখানকার সব কিছু কেমন যেন অদ্ধুত। সবচেয়ে অদ্ভুত লাগে তার পাজামা পড়া কিছু মানুষ দেখে। বাবাকে জিজ্ঞাসা করলে বাবা বলেন এই মানুষগুলো মানুষ না। কিছুদিনের মধ্যে সে জানতে পারে এরা ইহুদী। কৌতুহলী শিশু বাড়ীর পিছনের বাগান দিয়ে সবার চোখ ফাকিঁ দিয়ে একটা কাটা তারের বেড়া আবিষ্কার করে। যার ওপাশে যাওয়ার উপায় নেই। তবে তারের ওপারের একটা শিশু স্যামিয়ুলের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। স্যামিয়ুলের কাছেই জানা যায় তারা ইহুদি। আর তাদের পাজামা পড়তে হয় কারন তাদের সব জামাকাপড় সৈন্যরা নিয়ে নিয়েছে। এটা একটা ড্রেস যা বন্দীরা পরে থাকে। সবচেয়ে অদ্ভুত স্যামুয়ুল প্রথমেই জানতে চাই ব্রুনোর কাছে কোন খাবার আছে কিনা। ব্রুনো পরদিন খাবার নিয়ে আসে। তার জানা ছিল না কেউ এতটা ক্ষুধার্ত হতে পারে। ব্রুনো আর স্যামিয়ুল এর বন্ধুত্ব হয়ে যায়। ব্রুনো যেন নতুন একজন বন্ধু পেয়ে তার একাকীত্ব জীবনে হাফ ছেড়ে বাচেঁ।
ব্রুনো আর তার বোনের জন্য ঘরে শিক্ষক রাখা হয়েছে। তিনি ইহুদীরা কত খারাপ তার দীর্ঘ বর্ণনা দেন। বোকা ব্রুনো জিজ্ঞাসা করে বসে পৃথিবীতে কি কোন ভাল ইহুদী নেই। শিক্ষক জবাব দেই যদি তা তুমি খুজেঁ পাও সেটা হবে সেরা আবিষ্কার। ব্রুনোর মাথায় এসব ধরে না। তার কিছুতেই বিশ্বাস হয় না তার বন্ধু স্যামুয়েল যে কিনা ঈহুদী সে মানুষ না বা সবচেয়ে খারাপ কেউ। ব্রুনো আরও আবিস্কার করে তাদের ঘরের কাজের লোক পাভেল যে কিনা ইহুদী সে পেশায় একজন ডাক্তার। একজন ডাক্তার হয়ে কেন কাজের লোকের কাজ করে আর তাদের সামান্য ত্রুটিতে সৈন্যরা মারধর করে স্যামূয়েলের মাথায় ঢোকে না। সে ইতিহাস পড়তে চাই না। এ্যাডভেন্চার গল্প পড়তে চাই। সে মাঠে বাগানে ঘুরে বেড়াতে চাই। সে জানতে চাই কাটাঁ তারের বেড়ার ওপাশে কি আছে। দূরের চিমনী থেকে যে ধোয়া বের হয় তা কিসের ধোয়া। ঘরে মা আর বাবার মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হয়। মা বাবাকে বলে তুমি মানুষ না, পিচাশ। মা বাবাকে মানুষ মনে করে না, বাবা ইহুদীদের মানুষ ভাবে না, সেনাবাহীনির লোকেরা নাকি এরকম হতে হয়। ইহুদীরা শত্রু। শত্রুদের মানুষ ভাবা যায় না বারো বছরের বোন ছোটভাইকে বুঝায়।
ব্রুনোর আর এসবে আগ্রহ নেই। সে স্যামুয়েলের সাথে চেকার খেলে সময় কাটায়। গল্প করে সময় কাটায়। একদিন স্যামুয়েল তাদের ঘরে আসে কাজ করার জন্য। ব্রুনো তাকে খাবার দিতে গেলে ধরা পড়ে যায় এক লেফটেনেন্ট এর কাছে। ভয় পেয়ে ব্রুনো অস্বীকার করে সে স্যামুয়েল কে খাবার দেই নি, তাকে সে চেনেও না। এরপর স্যামুয়েলের আর খোজঁ নেই। ব্রুনো হতাশ হয়। তবে কয়কেদিন পর স্যামুয়েল কে কাটাঁতারের বেড়ার ওপাশে আবার দেখা যায়। বোঝায় যাচ্ছে সে আঘাত প্রাপ্ত। ঠোট কেটেঁ গেছে। ব্রুনো আত্বঅনুশোচনায় ভোগে। স্যামুয়েলের কাছে মাফ চাই। আবার বন্ধুত্বের হাত বাড়ায়। স্যামুয়েল না করে না। আবার তাদের গল্প, খেলা চলতে থাকে।
বাসায় মা বাবা প্রায় কথা কাটাকাটি করে। কাটাতারেরে বেড়ার ওপাশে যে ইহুদী ক্যাম্প তা নাৎজী বাহীনির কমান্ডেট এর স্ত্রী টি জানে। কিন্তু সেখানে যে একটা গ্যাস চেম্বার আছে আর ইহুদীদের ধরে ধরে মারা হয় তা তার আগে জানা ছিল না। ঠান্ডা মাথার খুনী স্বামীর বিরুদ্ধে সে প্রতিবাদী হয়। স্বামী কমান্ডেট স্ত্রী বাচ্চাদের অন্য কোথাও রেখে আসার পরিকল্পনা নেই। এদিকে ব্রুনো জেনেছে কাটাতারের বেড়ার ওপাশে ক্যাম্প। সে একটা ছবি দেখেছে সেই ক্যাম্পে বাচ্চারা কত সুখি। তাদের কত ধরনের খেলনা, খাবারের অভাব নেই। এসব দেখে স্যামুয়েলের কথার সাথে মেলাতে পারে না। এই জায়গা ছেড়ে যাওয়ার দিন সে জানতে পারে স্যামুয়েলের বাবাকে খুজেঁ পাওয়া যাচ্ছে না। বন্ধুর বাবাকে খুজঁতে সাহায্য করতে সে মাটি খুড়ে বন্ধুর কাছ থেকে পাজামা নিয়ে কাটাতারের বেড়ার ওপাশে চলে যায়। স্যামুয়ুলের বাবাকে খুজঁতে খুজঁতে হঠ্যাৎ একটা মার্চের মধ্যে পড়ে যায়্। এখান থেকে বের হতে পারে না। শত শত ইহুদীর সাথে ব্রুনো আর স্যামুয়েল গ্যাস চেম্বারে ঢুকে পড়ে। এভাবেই দুই অবুঝ শিশুর মৃত্যূ ঘটে। দর্শকের চোখ বেয়ে পানি নেমে আসে। অসম্ভব সুন্দর সাবলীলতায় ছবিটি এগিয়ে চলেছে একের পর এক কথোপকথনের মধ্য দিয়ে যা সকল ধরণের দর্শক হৃদয়কে আলোড়িত করতে বাধ্য।
ব্রুনো আর স্যামুয়েল চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছে আসা বাটারফিল্প আর জ্যাক স্ক্যালন। ছবির শেষ দৃশ্যে ব্রুনোর মা’র বিলাপ আর বাবা নাৎজি কমান্ডেন্ট এর ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা, যেন নিজের কবর নিজেই খুড়েছেন প্রবাদটি মনে করিয়ে দেই। এই ছবিটি যুদ্ধের ছবি কিন্তু যুদ্ধের দৃশ্য নেই। ঠান্ডা মাথায় নিরিহ গনহত্যার কথা স্মরন করিয়ে দেই। যে গনহত্যা এদেশেও চলেছে 71 এ । নাৎজীদের বিচার হয়েছে, হচ্ছে কিন্তু আমাদের 71 এ গনহত্যায় নিয়োজিত এবং সাহায্যকারী যুদ্ধাপরাধীদের আজও বিচার শেষ হয় নি। বিচারের নামে চলছে কালক্ষেপন। গোপনে হয়তবা রচিত হচ্ছে নির্বাচনে জেতার নীল নকশা।



সকালবেলা একটা ভালো লেখা পড়লাম, মন যেন এমন একটা লেখা পড়বে বলেই প্রস্তুত ছিল! সিনেমাটা দেখার ইচ্ছা জেগে উঠলো প্রাণে, হয়তো কোন এক দিন দেখে ফেলবো।
চমৎকার কাহিনী নিয়ে সুন্দর একটা পোস্ট দেবার জন্য অনেক ধন্যবাদ, ভাই কবিরনি।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। যুদ্ধের উপর আমার সব ছবিই ভাল লাগে। এই ছবিটি অবশ্যই দেখবেন। আর যদি না দেখে থাকেন তাহলে No Man’s Land ছবিটাও সাথে দেখে নিয়েন।
সময় আর সুযোগ মত দেখে নেবো অবশ্যই!
দারুন রিভ্যূ রনীদা,,,,,,,,,,,,,,,,সাথে আমাদের লজ্জার কথা,,,
ধন্যবাদ মান্নান দা
ভাল থাকুন সতত।
আপনিও..
ভাল লিখেছনে। ছবিটা দেখার আগ্রহ বেড়ে গেল।
যুদ্ব আসলে কোন সমাধান নয়।
তবে যুদ্ধ শান্তির চেয়ে আগে বিকাশ ঘটায়। শুভ কামনা।
শেষ পরিনতিটা বলে দেয় অন্যের জন্য গর্ত খুড়লে সে গর্ত নিজেকে পড়তে হয়। ব্রুনোর মৃত্যু তার প্রমাণ।
কাহিনিটি চমৎকার নি:সন্দেহে। কখনো দেখার সময় পেলে দেখে নিবো।
শুভ কামনা রইল।
শুভ কামনা সব সময়।