বাকী আছে গল্প আর কবিতা। ইয়াহু’র কল্যানে নামের আগে কবি থাকায় কবিতা দিয়েই শুরু করলাম।
কবিতা
কবিতাগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করে ফেললে কেমন হয়? প্রথম ভাগে ডাঃ দাউদ এর “নারী” আর সুনয়নের “আমার বাংলাদেশ”।
সত্যি কথা বলতে কি ডাঃ দাউদ তার “নারী” কবিতায় নামের প্রতি সুবিচার করতে পারে নি। ডাঃ দাউদের যে ধরনের কবিতা আমরা ব্লগে পড়ে অভ্যস্ত আমার কেন জানি পাঠ প্রতিক্রিয়া মনে হয়েছে কবিতাটি ব্যাপক অর্থে ম্লান হয়ে গেছে অতিরিক্ত একই ধরনের বা সমার্থক শব্দ,বাক্য প্রয়োগে। সুনয়নের “আমার বাংলাদেশ” পড়েও পাঠক হিসাবে তৃপ্তি পাই নি। সুর, তাল , লয়ে যেন একই ধরনের আবেগ মিশ্রিত কবিতা বহু পড়েছি। ব্লগে তো বটেই ছাপার অক্ষরেও।
দ্বিতীয় ভাগে হাজারির “বৈশাখের অভিষেক” আর নাদিয়া জামান এর ” কাহীনি নয় সত্যি”। হাজারি তার কবিতায় ছন্দ পুরোটা সময় ধরে রাখতে পারে নি। বিশেষ করে,
” চারুকলা আর ডিসিহিলে
যত মজা রমনার বটমূলে” – এই জায়গাটিতে কয়েকবার হোচঁট খেতে হয়। বক্তব্য পরিষ্কার বৈশাখের আগমনী বার্তা কিন্তু ছন্দের কাজ নিয়ে আরও অগ্রসর কিছু প্রত্যাশিত ছিল। নাদিয়া জামান এর একটি ছড়া শিশুতোষ বিভাগে ছাপা হয়েছে। আরেকটি কেন এই বিভাগে প্রশ্নের উদ্রেক করে বৈকি। আমার কাছে এও ছড়াটিও শিশুতোষ বিভাগের জন্যই উপযোগী মনে হয়েছে। কবিতা বিভাগে মানতে কেন জানি কষ্ট হল।
বাকী কবিতাগুলোর মধ্যেও দুটো শ্রেনী করে ফেললাম। প্রথম শ্রেনীতে ফরিদুল আলম সুমনের “পলাতক ভাড়াটিয়া”, ছায়াবাজির “নাট্যদৃশ্য”, মতিউর রহমান সাগরের “মৌরি গন্ধের দিকে”। মৌরি গন্ধের দিকে অবেচতন মনে প্রবাহিত আপাত বিচ্ছিন্ন একটা ভাবকে শেষ দৃশ্যকল্পে উম্মোচন করে। বিষয়ে অভিনবত্বের কিছু নেই যাকে আমরা সোজা বাংলায় বলি পিছুটান তাই কবিতার উপজীব্য। বক্তব্য হতাশা ছুয়ে গেলেও ইতিবাচক হয় যখন দেখি –
” কখন যে রণপায়ে শিখে গেছি হাটাঁ। আহ! কখন যে।”
পরিশেষে শ্বাশত দার্শনিক বক্তব্যর উদ্ধৃত চরণ তো আছেই ” এ নগরে আমার বসত নেই”
“নাট্যদৃশ্য” কবিতার উদ্দেশ্য কি? জীবনের বাস্তবতা ঢেকে রাখার অপচেষ্টাকারীদের মুখোশ উম্মোচন? কবিতার মধ্য পর্বে দৃশ্যায়নে পাঠক যখন এক ঘোরে আচ্ছন্ন তখনই কবি পাঠকের দিবা নিদ্রা ভাঙিয়ে জাগ্রত করেন। ডিজিটাল দর্পনে ফুটে ওঠে নিদারুন বাস্তবতা। অতীন্দ্রিয় জগৎ থেকে যেন মর্ত্যলোকে ফিরিয়ে আনেন। উম্মোচন করে দেন গণমানুষের সাংস্কৃতিক অধঃপতন। তবে কেন এই অধঃপতন কবি পরিষ্কার করেন না। পাঠকের হাতে ছেড়ে দিতে চান।
“পলাতক ভাড়াটিয়া” – ছোট্ট ঊনিশ লাইনের কবিতা। লাইনে শব্দ সংখ্যার ব্যপ্তিও বেশী নয়। কিন্তু কবিতাটির প্রতিটি স্তবক নিয়েই আলোচনা করে করে এক একটি পৃষ্ঠা ভরিয়ে ফেলা যায়। স্তবকগুলো যে আহামরি ব্যন্জনায় পরিপূর্ণ তা নয়, নেই চিত্রের আর্বতন আছে শুধু বক্তব্যর তীর্যক ঘূর্ণন, পুরোটায় জীবন যুদ্ধে পরাজীত ভাড়াটিয়ার প্রতিচ্ছবি। তবে অধিকার আদায়ে আক্রমনী হওয়ার দৃঢ়তামূলক বাগৈশ্বর্য নেই। শেষ মেষ সব রাস্তায় যেমন রোমে গিয়ে শেষ হয় কবিও চুপিসারে চলে যেতে চান ঈশ্বরের কাছে। এখানে পাঠক হিসাবে আমার ব্যক্তিগত কিছু হিসাব নিকাশ থেকে গেল কবির সাথে।
দ্বিতীয় শ্রেনীতে আরও চারটি কবিতা আছে। ফকির ইলিয়াসের “পাচঁ কবিতা”, মলয় দাসের “আমাদের সুখ সন্ধ্যারা”, শরৎ চৌধুরীর “শক্ত ধরে আছি তুমি ঘুমোও এবার” আর মেঘ অদিতির “শূণ্য অথবা বৃত্তে” । এগুলো নিয়ে আলোচনা করে পাঠককে আর বিরক্ত করতে চাই না। এমনিতেই আমার অত্যাচারে নিশ্চয় অনেকে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। তবে কবিতাগুলো পড়তে কিন্তু কেউ ভুলবেন না। আপনারা পড়তে থাকুন আমি এই ফাকেঁ বরং গল্পের দিকে এগোয়।
গল্প
ছয়টি গল্পকে দুই ভাগে ভাগ করলাম। প্রথম ভাগে “হারাম খোরের পেট”, “ক্ষুধা আশ্রয় আর মমতার কোলাজ”, “জাল” এবং “আতা মিয়া এবং এক হাজার টাকা” মাহবুব আলীর গল্প হারাম খোরের পেট। এটিই শব্দতরীর প্রথম লেখা। এমন একটা লেখার ভিতর দিয়ে শব্দতরীতে প্রবেশ করা পাঠকের জন্য নিঃসন্দেহে তৃপ্তির ব্যাপার। যেখানে জীবনের সব গল্পই উপস্থিত। আর জীবনে সব গল্পের চরম নিয়তি ক্ষুধা পুরো গল্প জুড়ে দ্বীপ্তময়। জুলিয়ান সিদ্দিকীও তার “ক্ষুধা আশ্রয় আর মমতার কোলাজ” গল্পে ক্ষুধারই প্রতিচ্ছবি আকেঁন। তবে দুই গল্পের মধ্যে ফারাক একটি আশাবাদী আরেকটি নিরাশাবাদীদের জন্য। তবে দু’টিতেই অন্ধকারচ্ছন্ন জীবনের চেপেঁ রাখা দৃশ্যকল্পের পরিষ্ফুটন। এদিক থেকে ফজিলাতুন্নেসা শাপলা ” জাল” গল্পটি একটু ব্যতিক্রম। এখানে অভাব আছে কিন্তু তার সাথে আছে সুখের চিত্র কল্প। আমরা অধিকাংশ লেখায় অভাবী মানুষকে অভাবী দেখিয়ে, দুঃখি দেখিয়ে নিজেরা সুখি আছি এই ধরনের একটা সুখজনিত সৌভাগ্যের দাবীদার হতে চাই। শাপলা”র জালের ব্যতিক্রমটা এখানেই। যেখানে অভাবী চরিত্রগুলোও গুরত্বপূর্ন এবং মর্যাদাপূর্ণ হয়ে ধরা দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত গল্পের প্রয়োজনে পাঠকের তৃপ্তি মেটাতে শুকতারাকে ধর্ষিত হতে হয়েছে। আমার কাছে কেন জানি মনে হল লেখক শুকতারার প্রতি অবিচারটা একটু বেশীই করে ফেলেছেন।
এই ভাগে শেষ গল্প হাবীবুর রহমানের “আতা মিয়া এবং এক হাজার টাকা”। গল্পের লেখক হারিয়ে ফেলা আতা মিয়া খুজছেঁ। আসলে সে খুজঁছে হারিয়ে ফেলা আপামর জনতার সততা। শাষক, শোষকের ক্রমাগত দূর্ণিতীর মুখে আতা মিয়াদের এখন বড়ই প্রয়োজন। আতা মিয়ারা যুগে যুগে নিভৃতে কাজ করে বলেই বোধহয় জীবন এখনো টিকে আছে। এইখানে মাহবুব আলী আবার আসে। তার গল্পে আতা মিয়ার পরিনতি সে রহমানের চিত্রায়নে চিত্রায়িত করেছে। রহমানের কাছে লালিত মূল্যবোধ এক নিমেষেই কাচের মত ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ে। ভেঙে পড়তে বাধ্য হয়। এখন পাঠকের বিবেচনা। আমরা কি আতা মিয়াদের রহমান হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করব? রহমানের দৌড় ইচ্ছাকল্পে ঢ্যাঙ্গা লম্বুকে সুড়ঙ্গের ভিতর ঢুকিয়ে দেওয়া। বাস্তবে সে ঢুকানোর মত সাহসী না। কারন লেখক তাকে সাহসী করতে ভয় পান। হাবিবুর রহমানও তার আতা মিয়াকে খুজেঁ ফেরেন। তৈরী করতে পারেন না। সেই বাস্তবতা নেই। জরায়ু ছিড়তে হবে। কিন্তু ছেড়ার ধাত্রী নেই। শুধু প্রসব বেদনার চিৎকার। অনিশ্চয়তা তবে এটাই রিয়েলিটি।
দ্বিতীয় ভাগে মাহমুদের গল্প ” অপেক্ষা”। অপেক্ষা স্টেফানের জন্য ইভেতের। মাঝখানে স্বাক্ষী হিসাবে লেখক। যিনি আমাদের এই অপেক্ষার গল্পটা বলবেন। অনেক দূরের কোন এক দেশের দুই চরিত্রের গল্প কিন্তু অপেক্ষার কোন ভৌগলিক সীমা নেই। এ এমনই এক অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি যা সব কালে, সব স্থানে সমান ভাবে যন্ত্রনাদায়ক। লেখক পাঠককে সেই উপলদ্ধি লেখার মুন্সিয়ানায় দারুন ভাবে পৌছে দিয়েছেন। “চোখে সরষের ফুল”। লেখক মামুন ম.আজিজ। চোখে আমরা প্রতিনিয়ত সরষের ফুল দেখি। রাইসুও দেখে। নাগরিক জীবন ফেলে সবার ভিতরে যে শেকড়ে ফেরার তাড়ার একটা অস্পষ্ট লিপ্সা আছে সে তা কাউকে বোঝাতে পারে না। কিম্বা জাগ্রত করতে পারে না। গল্পের সারমর্মের মুল অনেক ভিতরে লুকায়িত গল্পকার সংক্ষেপে শুধু আংশিক দেখান সরষে ফুলের ভিতর দিয়ে। তবে গঠন প্রনালীতে অপেক্ষাকৃত দূর্বল।
পরিশিষ্ট
পরিশেষে শব্দতরী সম্পাদককে একটা ধন্যবাদ না দিলেই না। সম্পাদনার মত দুরহ একটি কাজ সু সম্পন্নভাবে করার জন্য। লেখার শুরুতে বলে ছিলাম সম্পাদকীয় পড়ে আহলাদিত হয় নি। মিথ্যা বলেছিলাম। নিজের লেখা প্রকাশ না পেলে এটুকু রাগ দেখানোর অধিকার সবার থাকা উচিৎ, ঠিক না???
কেন জানি মনে হচ্ছে সার্বিক বিবেচনায় এই সংখ্যা থেকেই শব্দতরী তার আসল লাইনে উঠে পড়ল। এখান থেকে পড়ে যাবার আর ভয় থাকবে না। এখন শুধু এগিয়ে চলা গন্তব্যর দিকে। শব্দতরীর জন্য শুভকামনা।



সুন্দর পর্যালোচনা।
ধন্যবাদ
এই সংখ্যা থেকে শব্দতরী তার আসল লাইনে উঠে পড়লো …
হুম এই লাইনের ট্রেন কয়টায় আসে গো ? হুইসেল শুনতে কান পেতে রই, হয় তো তার আগেই ঘুমিয়ে পড়ি খুব রাতে ডেকে যায় টের পাই নি …
শুধু অহিংস শুভ কামনাটুকু থাকলো ।
আন্তঃ নগর ট্রেন কারও জন্য অপেক্ষা করে না, চোখ কান খোলা রাখতে হয়..’
শুভ কামনা।
” আন্তঃ নগর ট্রেন কারও জন্য অপেক্ষা করে না ”
… হুম, তাতো ঠিকই ।
কেন জানি মনে হচ্ছে সার্বিক বিবেচনায় এই সংখ্যা থেকেই শব্দতরী তার আসল লাইনে উঠে পড়ল। এখান থেকে পড়ে যাবার আর ভয় থাকবে না। এখন শুধু এগিয়ে চলা গন্তব্যর দিকে। শব্দতরীর জন্য শুভকামনা।
ধন্যবাদ আপনাকে, চমৎকার রিভিউ এর জন্য
আপনাকেও ধন্যবাদ দিলাম। অন্তরের অন্তরস্থল থেকে।
পর্যালোচনা বেশ উৎসাহজনক। বিশেষ করে মাহবুব আলী’র গল্প ’হারামখোরের পেট’ অংশটি কয়েকবার পড়লাম। এই গল্পের সঙ্গে অন্যান্য দুটি গল্পের তুলনামূলক বিশ্লেষণ (comparative study) কারও ভালো লাগতে পারে। আমি চাইছিলাম, ছোটগল্পের নির্মাণশৈলী বিবেচনায় ঘটনার আরোহন চরিত্রায়ন, সংঘর্ষ, অবরোহন এবং মূল বক্তব্য নিয়ে সাফল্য ব্যর্থতার হিসাব নিকাশ…এমন একটি মুল্যায়ন। তারপরও আপনার আলোচনা চমৎকার। এভাবে আপনার উৎসাহমূলক প্রদায়ন অব্যাহত থাকুক প্রত্যাশা করি। শুভকামনা।
পড়তে সাবলীল, শুনতে শ্রুতিমধুর, দেখতে দৃষ্টিকটু নয় এবং পাঠক হিসাবে তৃপ্তি মোটামুটি আলোচনার বেসিক এটাই। চারটে গল্প একসাথে আলোচনার করা সুবিধা হল কালি কম খরচ হল। আর অসুবিধা হল আপনাকে তৃপ্ত করতে পারলাম না। তবে আলোচনা চলুক, আলোচনা হোক, কারও না কারও কাছ থেকে আপনার প্রত্যাশিত ব্যাপারগুলো উঠে আসবে।
শুভ কামনা।
খুব খুব দারুন,,,,,,,,,,,, আলোচনা,,,,,,, দারুন
এক লাইনের মন্তব্য যে কবে দুই লাইন হবে
বেশ ভাল লাগলো পর্যালোচনা পাঠ করে।
সুখি হলাম।
ইহা সত্য এই পর্বে আমার লেখা আসেনি ।
ইহাও সত্য এতে আমার বিন্দুমাত্র আফসোস ও নাই ।
সম্পাদকের বিচক্ষণতায় মুগ্ধ ।যদিও সংখ্যাটি হাতে আসেনি এবং হাতে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ তবে না পড়েই গল্পকারদের নাম দেখেই বোঝা যায় গল্পগুলো ভালো হবে । কবিতার ব্যাপারে কিছু বলার নেই । শুভ হোক ।
আপনার রিভিউ স্টাঈলটা বেশ লাগল ।
আমারও আফসোস নাই, তবে আমি লেখা ছাপা না হওয়া দলের নিজের ইচ্ছায় প্রতিনিধিত্ব করছি, ছাপা না হলে কেমন লাগে সেটা বোঝার চেষ্টা করছি।
রিভিও কিনা জানি না, কারন রিভিও হিসাবে যা পড়ি তার ক্যাটাগরিতে এটা পড়ে না, আমি আমার ব্যক্তিগত স্টাইল ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আপনাকে ধন্যবাদ। শুভ কামনা।
হারামখোরের পেট- গল্পটা আমার খুবই ভালো লেগেছে। বাকি সবগুলো পড়া হয়নি।
আর কবিতার রিভিউ করতে গিয়ে আমার কবিতার যে মূল্যায়ন করেছেন, তাতে তো আমি খুশিতে আটখানা, নাহ্, আটখানা নয়, ষোলখানা হয়ে গেছি।
আমি দুই দিনে পুরা শব্দতরী শেষ করছি। আপনি এখনো পড়েন নাই।

বত্রিশখানা বানাইতে পারলাম না বইলা কষ্ট পাইছি।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, রিভিউ পড়ে শব্দতরী পড়ার আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যাচ্ছে। আমার একটি গল্প শব্দতরীতে প্রকাশ হয়েছে (যদিও আপনার এই রিভিউ না পড়লে আমি সেটা জানতেও পারতাম না)। অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও একটি বিষয় জানার ছিল, শব্দতরীর কি ডিজিটাল ভার্সন আছে? দেশের বাইরে থেকে কি শব্দতরী সংগ্রহ করা সম্ভব? আমি প্রবাসী তাই জানতে চাচ্ছি।
ভাল থাকবেন নিরন্তর, আপনার জন্য শুভকামনা রইল
অনেক অনেক ধন্যবাদ। তবে আপনার কৌতুহলের জবাব আপাতত আমার কাছে নেই। আমি জেনে আপনাকে জানাতে চেষ্টা করব।