আয়েশা মূরগী তাড়াতে এত ব্যস্ত ছিল কখন যে রেজা পিছনে এসে দাড়িয়েছে খেয়াল করে নি। হঠ্যাৎ চমকে গেছে। কাল রাতে রেজার সাথে আর কোন কথা হয় নি। নিজেকে সামলে জিজ্ঞাসা করল – নাস্তা করেছেন।
হুমম। তুমি ভাল আছ আয়েশা।
এই মানুষটার মুখ থেকে এরকম কথায় বেশ অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। তার কেমন যেন একটা লজ্জা লজ্জা লাগছে। মানুষটা তাকে শেষ দিকে এসে আশা আশা বলতো রাগ ভাঙানোর জন্য। তাতে আয়েশার রাগতো ভাঙতোই না বরং দিগুন হত। ন্যাকামি সহ্য হত না। আয়েশা কিছু না বলে হাসল। যে হাসির কোন র্থ নেই। সে ভালও থাকতে পারে, খারাপও থাকতে পারে। আবার ভাল খারাপের মাঝামাঝিও। আসলে আয়েশা নিজেও জানে না সে কেমন আছে? সাগরের উপর দিক হারা ভেলার মত ভেসে যাচ্ছে দিনের পর দিন স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে কিন্তু কোন কূলের দেখা নেই। কিম্বা যে কূল আয়েশার প্রার্থিত সেখান ছাড়া সে নামবে না।
আমি একটু বেড়োবো।
কোথায় যাবেন?
চুল দাড়ি কাটা দরকার। তোমার কাছে কিছু টাকা হবে।
আপনার স্ত্রী, ছেলে মেয়ের কি হল?
ওরা ভারত অব্দি পৌছানোর কথা।
আপনি তাদের হারালেন কিভাবে?
আমরা ন’দশা টা পরিবার তখন দর্শনা। বহু কষ্টে পৌছেছি পরিবার নিয়ে। একটাই নৌকা ছিল। তাতে নারী আর শিশুদের উঠানো হল। জায়গা ছিল না। পুরুষরা পরে যেভাবে হোক আসবে। নৌকার মাঝির উপর দায়িত্ব ছিল সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌছানোর। আমরা পুরুষেরা বহু চেষ্টা করেও আর নৌকা পেলাম না। সেখানে আবার দেখা দিল মত পার্থক্য। দুটো দল হয়ে গেল। আমারা চারজন মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে ঢুকব বলে মনোস্থির করলাম। বাকীরা রাজী হলো না। দর্শনাতেই ওয়েট করবে। নৌকা আজ হোক কাল হোক আসবে। না আসলেও কিছু না কিছু ব্যবস্থাতো হবে। এত কাছে এসে তারা আর রুট চেন্জ করবে না। আমার মন সায় দিচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল এখানে থাকলে সব মারা পড়ব। জায়গাটা কয়েববারই পুড়িয়েছে আর্মিরা। মেহেরপুর দিয়ে তোমাদের এখানে বহুবার আসা যাওয়া করেছি। পথটা আমার চেনা। বাকীরা রাজী হলো না। অস্থায়ী সরকার গঠিত হবার পর থেকে মেহেরপুর টার্গেট হয়ে আছে। সেখানে আর্মি গিজগিজ করছে। তারপরও রিস্কটা আমি নিলাম। দর্শনা থেকে চুয়াডাঙা হয়ে মেহেরপুর। ধর প্রায় 60/70 মাইল তো হবেই। একটানা হেটেছি। ওখান থেকে আবার আশ্রয় শিবির। সব কটা ঢু মারলাম। কোথাও পেলাম না। তারপর তোমার এখানে চলে এসেছি। একটু রেষ্ট নিয়ে আবার খুজব। কিছু টাকা পয়সারও দরকার।
আপনি তাহলে টাকা পয়সার জন্য এসেছেন।
হুমম।
কত টাকা?
ধর হাজার দুয়েক। যুদ্ধ কত দিনে শেষ হয় তার তো কোন ঠিক ঠিকানা নেই। এখানেই কিছু একটা করতে হবে। ওদের খুজে বের করে এখানেই থাকবো।
তাহলে টাকা পেলেই আপনি চলে যাবেন।
তুমি কি রাগ করছো।
না রাগ করবো কেন? রাগ করার মত সম্পর্ক তো আর আমার আপনার মধ্যে নেই। আমি ম্যানেজার কাকুকে বলে দিচ্ছি। আপনাকে দু হাজার টাকা দেবে। দু হাজার টাকা অনেক টাকা। টাকাটা সাবধানে রাখবেন। আর হ্যা। আপনি বেশ অসুস্থ। স্ত্রী-পুত্রের খোজেঁ আপনাকে যেতে হবে না। নাম ধাম ছবি টবি থাকলে ম্যানেজার কাকুকে দিন। সেই ব্যবস্থা করবে। উনি এসব ব্যাপারে কাজ করছেন।
আচ্ছা। তাহলে তাই করি। এখনি দিই।
এখনি যাবেন। যান।
আয়েশা এই কথা বলে আর সামলাতে পারে না। দৌড় দেই ঘরের দিকে। দরজা আটকে লাফিয়ে পড়ে বিছানায়। এই মেয়েটা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদঁতে পারে এটা বোধহয় এই ঘরটির জড় আসবাবরা ছাড়া আর কেউ জানে না।
সন্ধা নাগাদ রেজা বেড়িয়ে পরে। তাকে ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে খুব একটা চিন্তিত মনে হলো না। ম্যানেজার সাহেব কে যতটুকু সম্ভব বর্ণনা দিয়েছে। যা হবার হবে। সে টাকাগুলো নিয়ে চলল কোলকাতার পথে। স্বাধিন বাংলা বেতার কেন্দ্র তার গন্তব্য। যুদ্ধের ভাবটা বোঝা দরকার।
1ম পর্ব
2য় পর্ব
3য় পর্ব



রাতের খাবারের পর গল্পটা বেশ উপভোগ্য হল

জমছে ভালোই
শুকরিয়া
যুদ্ধের সময় রেজার মতো অনেকেই তাদের সাজানো গোছানো পরিবার হারিয়েছে।
অনেকেই হারিয়েছেন। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
এই পর্বটা বেশ রোমান্টিক, কবি দা, ভাল থাকুন
আপনার উৎসাহ লেখার স্পৃহা বাড়িয়ে দিচ্ছে। শুভ কামনা।
আগেরগুলাও দেখে এলাম। যে কাজ শুরু করেছেন তার সমালোচনা চলে না। খুঁত ধরতে ইচ্ছে করে না। তবু কিছু টাইপো তো থেকেই যায়। কী আর করা। সেগুলোর প্রতিও দৃষ্টি আটকে যায়।
তবে অভিনন্দন জানাই। গল্পের আবহ, গল্প বলার ভঙ্গী আমার কাছে ভালোই লাগলো। আগে লেখাটা শেষ করেন। হয়তো শেষ পর্বে বিশাল একটা মন্তব্যের মতো আলোচনা করবো। ততদিন ভালো থাকেন, এইই চাই।
বহুদিন পড় কিছু লিখছি। গল্পটা মাথার মধ্যে অনেকদিন ধরে ঘুরতেছে। লেখা হচ্ছিল না। এই বার চেষ্টা করছি। ভুল ত্রুটি আপাতত না ধরলেই খুশি হব। কারন ফিনিশিং ভার্সন আবার লেখা হবে। আপাতত একটা গল্প বাইর হইতেছে এতেই আমি খুশি।
চমৎকার। রেজা আয়শার শেষ দেখার ইচ্ছা আছে।