তোমার একজন মা আছে। এখনও জীবিত।
মানে?
হুমম। ইন্ডিয়া থাকে। বহরমপুর। মুর্শিদাবাদ জেলা। গ্রামের নামটা সম্ভব চেরাবাড়ী।
আমার মা!
ঠিক তোমার মা না। তোমার বাবার 2য় স্ত্রী। এবং তাদের মধ্যে বিচ্ছেদও হয় নি।
উনার সম্বন্ধে ভাসা ভাসা শুনেছিলাম ছোটবেলায়। আমি জানতাম বাবার সাথে ডির্ভোস হয়েছিল। উনি বেচেঁ আছেন।
হ্যা। আমার সাথে দেখা হয়েছিল কোলকাতায়। ডিভোর্স হয়নি তোমার বাবার সাথে। উনি আর বিয়েও করেন নি। বেশীদিন বোধহয় বাচঁবেন না।
কেন কি হয়েছে?
বার্ধক্য। আমারই তো 80 পেরিয়েছে। উনার বোধহয় 70 পেরিয়ে গেছে। আর কত?
আপনি কি চাচ্ছেন আমি তার সাথে দেখা করি।
সেটা তো আমি বলিনি ফিরোজ। আমার সাথে কোলকাতায় দেখা হয়েছিল। তোমার বাবার মৃত্যূ সংবাদ তাকে পৌছেছি। তুমি রেজার বড় ছেলে। তোমার ছোট ভাইগুলো তো একটাও মানুষ হল না। ছন্নছাড়া হয়েই কাটাচ্ছে। তুমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষিতও বটে। রেজার একজন স্ত্রী বেচেঁ আছেন। তোমাকে জানানো কর্তব্য মনে করলাম। এইত। আমার দায়িত্ব শেষ।
কথা এটুকুই বোরহান চাচার সাথে। বোরহান চাচা ফিরোজের বাবার মামাতো ভাই। ফিরোজদের স্বাধিনতার পরে হয়ত না খেয়ে মরবার উপক্রম হত এই বোরহান চাচা না থাকতেন। সহায় সম্পত্তি সবই বেদখলে ছিল। বোরহান চাচা কোথা কোথা থেকে কাগজ বের করে সেই যাত্রায় ফিরোজদের টিকিয়ে দিয়েছিল। শুধু তাই না অভাবের দিনে ফিরোজদের একেবারে নিজের ছেলেদের মত আগলে রেখেছে। নির্স্বার্থ। মানুষের উপকার তিনি যথেষ্ট করেছেন অবশ্যও আয়ও করেছেন যথেষ্ট। এক ডিগ্রির কল্যানে, দুই রাজনীতি করে, তিন ব্যাবসা করে, চার প্রতিমন্ত্রী হয়ে। এক নম্বর, দুই নম্বর, তিন নম্বর সব ধরনের আয়ই আছে। ছেলে মেয়েদেরও শিক্ষিত করেছেন। ছেলে মেয়েরা অবশ্য কেউ বাবার সাথে নেই। সবাই আমেরিকা, কানাডায় সংসার সাজিয়েছে। দুই বুড়োবুড়ি জীবনের শেষ বয়সে বিশাল অট্টালিকায় মৃত্যূর দিন গুনছে।
কিন্তু ফিরোজ এখন সে সব নিয়ে ভাবছে না। সে এখন ট্রেনে। কোলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদের পথে। মেজ মা’র সাথে দেখা করতে হবে রহমান চাচার সাথে কথা হবার পর থেকেই এই ব্যাপারটা মাথা থেকে সরাতে পারে নি। তার নিজের মা জন্মের সময় মারা গেছে। বাবা মারা গেছে তাও বছর দশেক হল। রোগে শোকে ভুগতে ভুগতে ছোট মা বেশ টিকেছিল। কিন্তু গতবছর সেও পৃথিবীর মায়া কাটিয়েছে। মাতা পিতা সমন্ধীয় বেচে আছে বলতে গেলে এক বোরহান চাচা, চাচী। আর এই চাচার মুখ থেকেই খোঁজ পাওয়া মেজ মা। ভদ্রমহিলা কেমন দেখতে? কেন বাবার মত নিপাট সাধাসিধে মানুষটার সাথে সংসার করলেন না। এরকমত শত কৌতুহল আর দমন করতে পারছিল না ফিরোজ।
ফিরোজের দুই মেয়েও সাথে আছে। তারা ব্যাপারটা বেশ ইনজয় করছে। গ্রান্ড পা তিনটা বিয়ে করেছিলেন। তাদের এক দাদী ইন্ডিয়ান। ব্যাপারটা ওদের কাছে অকল্পনীয়। ছোট মেয়ে সাইমা তো ঘোষনায় দিয়ে এসেছে গ্রান্ড মা কে সে বাংলাদেশ এ নিয়ে আসবে যেভাবেই হোক। সাইমা এবার ও লেভেল পাশ করেছে। ফিরোজের স্ত্রী অবশ্য আসতে পারে নি। তার খুব একটা কৌতুহলও নেই। তার এন.জি.ও নিয়ে বিশাল ব্যস্ত। বড় মেয়ে রাইসা আবার ছবি পরিচালনার জগতে জড়িয়ে আছে। একটা আর্ট ফিল্ম বানিয়ে মোটামুটি হই চই ফেলে দিয়েছে। দশ মিনিটের ছবি। নাম ফাস্ট টেন মিনিট। একটা শিশুর প্রথম 10 মিনিট পৃথিবীতে আগমনের ব্যাপারটা কেমন হয় শিশুর চোখে কল্পনা করে দেখিয়েছে। যদি শিশুটা কথা বলতে পারত তবে সে কি বলত? পৃথিবীতে এসে কতটা আশ্চর্য হয়েছে? সবার কথা শুনে কি ভাবছে। ব্যপারটা সিনেমায় উঠে এসেছে। ফিরোজের কাছে অবশ্য খুবই হাস্যকর লেগেছে। সেটা অবশ্য বলতে পারে নি। খুব মুখ গম্ভীর করে বলেছে অসাধারন। গল্পের ধারনাটাই তো একেবারে নতুন। তোর মাথায় এই প্লট এলো কি করে?
রাইসা তার পূর্ণ দৈঘ্য ছবির গল্প পেয়ে গেছে। দাদার জীবনী নিয়ে ছবি হবে। দাদাকে দেখে কোনদিনই তার মনে হয় নি এই মানুষটার এত ঘটনাবহুল জীবন। নামাজ, রোযা, তসবী এইত ছিল তার সারাদিনের রুটিন। সিনেমা’র নাম এখনো ঠিক করে নি। পুরো গল্প শুনে নাম ঠিক হবে। নায়ক নায়িকা অবশ্য মনে মনে ঠিক করে ফেলেছে। ইন্ডিয়ার বুড়ো দাদীর ভূমিকায় অভিনয় করবে জয়া বচ্চন। তাকে নিয়েই মূল কাহীনি এগোবে। খুবই আনকমন গল্প। দুই দেশের প্রযোজনায় ছবিটা রিলিজ হতে হবে। সাগর ভাই অবশ্য বলেছেন ম্যানেজ করবেন। আগে স্টোরীতো লেখা হোক।
2য় পর্ব
1ম পর্ব



বাহ দারুন ভাবে আগাচ্ছে,

সাথে থাকার জন্য আবারও ধন্যবাদ।
আগের পর্ব গুলো পড়া হয়নি
এই পর্ব টা পড়লাম আর স্থির করলাম সে প্রথম থেকেই পড়তে হবে
দারুন জমবে মনে হচ্ছে
শুভ কামনা
অপেক্ষায় আছি দাউদ ভাই।
দাদার জীবনী নিয়ে ছবি হবে !! তাও আবার ধার্মিক দাদা ।
এই গল্পটার আগের পর্ব গুলো কিভাবে আমাকে ফাঁকি দিল !!!
মুগ্ধ হয়ে পড়লাম। চলবে লেখা নাই তাই শঙ্কায় আছি ।
অভিনন্দন আপনাকে
চলবে…
3 পর্ব পড়লাম।
বাকী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
3য় পর্বটা পড়তে গিয়ে সবটুকুই পড়তে হল।
ভাল লাগছে….
শুভ কামনা ।
অপেক্ষার প্রহর শেষ হবে…