সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে পদত্যাগ করানোর ঘটনাকে ঐতিহাসিক, নজিরবিহীন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির বহিঃপ্রকাশ বলা হয়েছিল! দুর্নীতি কবুল করে ৫৫ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারটি ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিল কলঙ্কের কফিনে! এখন সে কফিনটাকেই আবার সরকারের কাঁধে তুলে নেয়া, তাকেই আবার দফতরবিহীন মন্ত্রী করাকে কী বলা হবে? বেতন-ভাতা ঠিক রাখা? সাবেক একজন সংস্কারবাদীকে আরও চিহ্নিত করে দেয়া?? যে এ বেটার এখন আর কোন দফতর নেই, দফতর একটা দেয়া হয়েছিল, কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে তা নিয়ে নেয়া হয়েছে!! না দাদা এখন পাকিস্তানিদের ভাষায় শেখ হাসিনার ‘উজিরে খামোখা’? দফতর বিহীন মন্ত্রীর নাম পাকিস্তানে উজিরে খামোখা। তা এতক্ষন দুদক যে হেং করেঙ্গা তেং করেঙ্গা বলেছিল, তারাও এরমাঝে খামোশ বনে যেতে শুরু করেছে! বা যার কোন দফতর নেই তার এপিএস হতে আর কেউ রাজি হবে কী? হায় দাদা!!
অথচ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের দায়িত্ব নিতে সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজি ছিলেন না বলেই তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের কথা বলেছিলেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। সুরঞ্জিতের পদত্যাগ সমুদ্র বিজয়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, এতে সরকারের ইমেজ বেড়েছে, এমনও বলা হয়েছিল। কিন্তু এই পদত্যাগ নাটকের ৩০ ঘন্টা না যেতেই ঘুরে গেল সবকিছু! প্রধানমন্ত্রীর তরফে জানা গেল তিনি সুরঞ্জিতের দায়িত্বভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন! তাই তার পদত্যাগ তথা ‘অব্যাহতির অভিপ্রায়’ গ্রহণ না করে তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসাবে নতুন নিয়োগ দিয়েছেন! এর সঙ্গে সঙ্গে জানা গেল নতুন আরও কিছু বক্তব্য। সুরঞ্জিতের ব্যাপারে দুদকের বক্তব্যের ভাষাও এরমাঝে পাল্টে গেছে! দফতর বিহীন নতুন নিয়োগ প্রাপ্তির পরপর দুদকের তরফে বলা হয়েছে, তারা সাবেক রেল মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলেনি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ৭০ লাখ টাকার সঙ্গে তার কোন সংশ্রব পাওয়া যায়নি, ইত্যাদি। তার সাবেক এপিএসএ ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে তদন্ত ছাড়াই রিপোর্ট জমা দিয়ে দিয়েছে তদন্ত কমিটি! এর সবকিছু ভোটার জনগণকে কী বার্তা দিচ্ছে? দুর্নীতি চলছে-চলবে! সরকারের নীতি নির্ধারক অথবা শুভাকাংখীরা এসবের আগপিছ কী বোঝার চেষ্টা করেন? না প্রয়োজন মনে করেন?
পরিস্থিতি থেকে জনসাধারনের মধ্যে স্বাভাবিক যে প্রতিক্রিয়া-উপলদ্ধি হবে তাহলো রেলওয়ের নিয়োগ বানিজ্য, দুর্নীতি, ৭০ লাখ টাকার কেলেংকারি এসবের কোনটিরই আর কিন্তু প্রতিকার-বিচার হবেনা। দেশের প্রতিটি পরিবারের একজন করে সদস্যকে চাকরি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু বস্তা ভর্তি ৭০ লাখ টাকা ধরা পড়ার পর জনারণ্যে জানাজানি হলো চট্টগ্রামে যারা চাকরি পেয়েছেন তাদেরকে ৩ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে! এমন কিন্তু বরাবরই দেশে চলে আসছে। এবারের নিয়োগ বানিজ্যটি এতটা ফুলেফেঁপে গিয়েছিলে যে রেলের সচিব সহ অন্য কর্মকর্তাদের ডিঙ্গিয়ে সে কারনে মধ্যরাতে মন্ত্রীর বাসায় চলে যাচ্ছিলেন খুশি খুশি জিএম পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা! এদের সবাইকে প্রথমে বাঁচাতে হেন চেষ্টা নেই যা করেননি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এমন কী অবাক এও বলেছেন যে জিএম’এর বিরুদ্ধে তিনি নাকি ব্যবস্থা নিতে পারেন না! এরপর যখন দেখেন আমছালা সব যাচ্ছে, তখন জিএম, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত, এপিএসকে চাকুরিচ্যুত করারও ঘোষনা দেন। কিন্তু তখনও তিনি তার মন্ত্রিত্ব রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। আইন জানেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এদেশে মন্ত্রী থাকলে আইন কী করে হাঁটে-চলে, না থাকলে কী কী সমস্যা হয় তা তিনি ভালো করেই জানেন। তাই শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সুবিধা করতে না পেরে সারা রাত নির্ঘুম কাটিয়ে লিখে ফেলেন ‘এক খন্ড গেটিসবার্গ এ্যাড্রেস’! সেখানে তিনি গণতন্ত্রের মহান স্বার্থে পদ থেকে সরে দাঁড়ানো, নির্দোষ প্রমানের পর আবার রাজনীতিতে ফিরে আসার অভিপ্রায়ের কথা জানান। দেশের বেশিরভাগ মিডিয়া তখন এসব বাক্য চাতুর্য ধরেনি অথবা ধরতে চেষ্টা করেনি। বিশাল নিউজ পেয়ে গেছি মনে করে শিরোনাম করেছে, রেল মন্ত্রীর পদত্যাগ!
কিন্তু পরে এবং এখন সবার ভুল ধরতে পারছে। আসলেইতো রেলমন্ত্রী পদত্যাগ করেননি, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তির অভিপ্রায় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীকে পত্র লিখেছিলেন। পত্রটি পাঠিয়ে আবার শুরু করেন দফতর বিহীন মন্ত্রী হবার তদবির। কারন আইনজ্ঞ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জানেন মন্ত্রিত্ব থাকলে চাইলে দুদক সহ অনেকে তার অনেককিছু ছ্যাড়াব্যাড়া করে দিতে পারে! টিউশনি করে ঢাকা শহরে টিকে থাকা তার এপিএস এখন ফ্লাট-গাড়ির মালিক হয়েছে। ৫ কোটি টাকা দিয়ে টেলিকম ব্যবসার লাইসেন্স নিয়েছে ছেলে সৌমেন সেনগুপ্ত! ৭০ লাখ টাকার কেলেংকারি ধরা না পড়লে এসব হয়তো মানুষ জানতোও না। এমন কী এর সূত্র ধরে দুষ্ট লোকেরা পুরনো হাওড়-বাওড়ের বিষয়গুলোও সামনে নিয়ে এসেছে! সুরঞ্জিত এক এপিএস কাহিনী বেরুবার পর নানান এপিএস কাহিনী বেরুতে শুরু করেছে! নিজের ছেলেকে এপিএস নিয়োগ দিয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা! মন্ত্রী বাবার দাপটে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী পূর্বানী হোটেল দখলেরও ধৃষ্ট চেষ্টা চালিয়েছে এই পুত্র এপিএস! এমন নৈরাজ্যে আর কেউ কখনও শুনেছে কী? প্রধানমন্ত্রী কী তার ছেলেকে তার এপিএস নিয়োগ করতে পারবেন? না এটা শোভন অথবা রূচিকর? তিনি যা পারবেন না বা করবেন না, তা তার কেবিনেট কলিগদের করতে দেবেন কেন? প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এক এপিএস’এর মাগুরা কেলেংকারি, এমনকি শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস’এরও যে সব কীর্তি কাহিনী বেরিয়েছে, এসবের এখন আর কোন প্রতিকার হবে কী? সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের পর দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত ছিন্নবিচ্ছন্ন জনজীবনে প্রতিকারের যে আশার আলো দেখা দিয়েছিল, ৩০ ঘন্টার ব্যবধানে আলোটি যেন আবার দপ করে নিভে গেল! মঙ্গলবার সারাদিন নিজের মোবাইল ফোন তিনি বন্ধ রেখেছিলেন। দফতর বিহীন মন্ত্রীর প্রজ্ঞাপন জারীর পর ফোন খুললে এক সাংবাদিককে বলেন, আমার অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। আমাকে সাহায্য করুন। ৫৫ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের একজনের কী করুণ অবস্থার আকুতি!! হায় দাদা!!



এই টপিকস ফ্রিজে ঢুকল বলে…
সুরঞ্জিতের ব্যাপারে দুদকের বক্তব্যের ভাষাও এরমাঝে পাল্টে গেছে! দফতর বিহীন নতুন নিয়োগ প্রাপ্তির পরপর দুদকের তরফে বলা হয়েছে, তারা সাবেক রেল মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলেনি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ৭০ লাখ টাকার সঙ্গে তার কোন সংশ্রব পাওয়া যায়নি, ইত্যাদি।
সত্যি সেলুকাস ………।।
কাগজ নাই কলম নাই

ধন মিঞা মাষ্টার
ঢাল নাই তলোয়ার নাই
নিধিরাম সর্দার
suronjeet baubu ke fashano hoyese. tar proman omar faruque & anamul haque er boyan. gotonar sathe sathe TV camera kivabe jay r eto rate kivabe BGB gate khula thake tao rohossojonok.
Yellow Journalism er kobole desh pore gese. ATN TV channel & few print medias journalists were involved such crime as guessed.