ইমেল নাঈম-এর ব্লগ
আমি কবি নই
——-ইমেল নাঈম
না, আমি কবি নই
কবি হতে যে যে যোগ্যতা লাগে
তার কোনটাই আমার নেই।
আমি শব্দের পিঠে শব্দকে বসিয়ে
ঠিক মত লিখতে পারি না,
একজন কবি যেভাবে তার চিত্রকল্পকে
ফুটিয়ে তুলে রং তুলি দিয়ে-
আমি তেমনটা পারি না। আমার আঁকা
ছবি গুলো বড়ই এব্রো থেব্রো ভাবে পড়ে
থাকে, ডায়রির পাতায় অবহেলায়….
আমার না বলা কথামালাগুলো
অর্ধাহারে অনাহারে পড়ে থাকে
দুর্ভিক্ষে পতিত হয়ে; আর হাভাতে
কাতরাতে থাকে অসহায় যুবতীর মতন।
একজন নাবিক ঠিক যেভাবে
তার নৌকাকে পরিচালিত করে
আপন গন্তব্যে, ঠিক সেভাবে
একজন কবিও তার কালি আর
কলমের দ্বারা শানিত করে চলে
তার কবিতাকে নিপুণ হস্তে।
একজন শ্রম শিল্পি যেভাবে তার
হাতের হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে
গড়ে যায় সভ্যতা, তেমনি
একজন কবি তার শব্দকে পিটিয়ে
অবিরত খোদাই করে যায় কবিতা।
আমি তেমনটা পারি না,
আমার কবিতাগুলো বড়ই ছন্নছাড়া
ভাবে পড়ে থাকে ডায়রির ভাজে ভাজে।
আমি আজ এখানে কবি হতে আসি নি,
এসেছি তোমাদের আত্মার বন্ধনে বাঁধতে
আর কবিতায় তোমাদের আত্মস্থ করতে।
তাই, আমি হেঁটে চলেছি কবিতার নগরীতে
দিকভ্রান্ত পথিক হয়ে, যদি তুমি কখনও
নগরীর মাঝে একবার হেঁটে দেখো
তবে দেখবে,
একজন যুবক নীরবে পাথর ভেঙ্গে চলেছে।
আজ অনেক দিন পর তোমার সাথে দেখা , কেমন আছো ? আমার দেয়া বিড়াল ছানাটা কেমন আছে , অনেক বড় হয়ে গেছে বুঝি ? জানো এখনো প্রতি রাতে দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙ্গে যায় , আজগুবি চিন্তারা ঘিরে ধরে চারপাশ । আমি কি এমন ছিলাম আর
কবিতা
|
|
| ২১০ শব্দ
কতই বা হবে , এই ধর চার পাঁচ বছর । তুমি আমি একই ট্রেনের যাত্রী , বগির নাম অমুক আর সিট নাম্বার তমুক ! পাশাপাশি দুটো সিট ছিল বলেই হয়তো এক সাথেই পথচলা , কেউ কেউ বলেছিল অতিথি পাখির ভালবাসা ।
এরপর গ্রীষ্ম কাল ।
কবিতা
|
|
| ১৫৫ শব্দ
আমরা এখানে কজন দাঁড়িয়ে কাল কাপড়ে মোড়ানো কফিনের সামনে,
অনুসন্ধিৎসু মন বারবার জানতে চায় কে আছে শুয়ে ওখানে
প্রথমে আমি গেলাম এগিয়ে খুলে দেখি বীভৎস চেহারা,
পরের জন খুলে দেখে বলল রক্তাক্ত মানবতাহীন এক মুখচ্ছবি
তার পরের জন দেখে বলল এক কাম লোলুপের বিকৃত ছবি এটা।
সবার শেষে এগিয়ে
কবিতা
|
|
| ৯৪ শব্দ
রাস্তার ধারে ফুলের কাননে
প্রথম দর্শনে কোন এক
গোলাপের নাম দিয়েছিলাম জুই
ফুলকে কেন্দ্র করে দাঁড়িয়ে এক চিকন ঢাল ,
তাদের মধ্যে দূরত্ব সর্বোচ্চ এক হৃদয় পরিমাণ।
হঠাৎ লক্ষ্য করলাম ফুলের তৃতীয় চোখে
ভাসে আমার প্রতিমূর্তি ,
সাথে সাথে ফুলের চোখের
ভাব বিনিময় ঢালের সাথে
কেন্দ্রবিন্দুতে থাকি
কবিতা
|
|
| ৮৩ শব্দ
ক)
পুরুষ সেতো আকাশের মত
মেঘের মত আগলে রাখতে জানে ,
কাওকে জড়িয়ে ধরে
জীবন কাটাতে জানে না সে।
মেঘের দল বৃষ্টি হয়ে ঝরে
পরে চোখ থেকে বুকের উঠোনে।
খ)
বয়ে চলেছি একটি পাহাড়
যে পাহাড়ে নেই গাড় বর্ণের ধুলো মাটি
নেই মানুষের ঝুপড়ি ঘর
কবিতা
|
|
| ১০৩ শব্দ
এইযে জনাব ,
আয়নায় নিজেকে দেখেন না কতদিন ?
দেখলে বুঝতেন কতখানি চর্বি জমেছে দেহে ।
গেল মৌসুমে লোক দেখানো কথা বলে
ভিক্ষা নিয়ে চলে গেছেন শহরে ।
এরপর থেকে কোন খবর নেই ,
মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে ভালিয়ে
আর কতদিন লোক ঠকাবেন ?
প্রতিদিন বিকালে টেলিভিশনে দেখি আপনি
সুরম্য প্রাসাদে এসির বাতাসে
কবিতা
|
|
| ১০১ শব্দ
চৈত্রের সকালে আকাশে ঘন মেঘে
ভুলেছিলাম চোখের সাথে চোখের সম্পর্ক ,
এই বাম হাত ছেড়েছিল কোন এক ডান হাত ।
হৃদয় ভাঙ্গার কষ্টে কেঁদেছিল প্রাণ
পুরুষের চোখে জল আসে না বলে
কেউ দেখে নি সে ক্রন্দন ।
মনের সাথে চোখের সম্পর্কে পড়েছিল পর্দা
কবিতা
|
|
| ১২৯ শব্দ
বাউল আগ্রাবাদ এসো
তোমায় পোস্টমর্টেম করবো ,
তোমাতে নাকি পাওয়া গেছে
দূষিত রক্তের ভ্রূণ ।
তোমার বাউলিয়ানা শৈল্পিক বুকে
ছোবল মারার সুদৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ,
আশেপাশেই ঘুরে বেড়াচ্ছে
একদল অধরা নাগ কিংবা নাগিনী ।
হয়তো জানও না তোমার প্রিয়
রক্ত জবার তিনটি পাপড়ি
অনাদরে ঝরে পড়েছে সেই কবে,
ইদানীং কেউ কেউ লেখে কবিতা
তোমার রক্ত জবাকে
কবিতা
|
|
| ১০৪ শব্দ
একটা রাইফেল আর একটা বুলেট…
সামনে সারিবদ্ধ কাটাতারের বেড়া,
তাতে ঝুলায়মান একটা নোংরা ফ্রক,
কোন এক কিশোরীর নিথর দেহ
ছিল তাতে মোড়ানো।
ফ্রকের গা বেয়ে টুপটাপ ঝরছে রক্ত।
রক্তজল অঙ্গে মেখে কেঁদেছিলো এ’বিশ্ব
এ মাতমের শব্দ পৌছে নি হয়তো ও’পারে।
এই পৃথিবীর মানুষও দেখেনি
বিবিধ
|
|
| ৬২ শব্দ
অদ্ভুতভাবে সময়টা উল্টো পথে হাঁটছে
পিছনের পথে ছুটছে ঘড়ির কাটাও ,
আর সামান্য পথ পাড়ি দিলেই
পৌঁছে যাব গুহাবাসীর যুগে ।
পত্রিকা পাতা উল্টাতে সাহস লাগে এখন ,
ঠাসা মলিন খবরে ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবিতে
লাল রঙের অসহ্য কালির শিরোনাম :
দুই গ্রুপ পিপড়ার মারামারির ফলে
চামচিকাদের সীমাহীন কষ্ট।
কিংবা পেছনের পাতায় থাকে, নেংটি ইঁদুর
গিলে
কবিতা
|
|
| ১০৮ শব্দ
হিমঘরে পড়ে আছি , যত তাড়াতাড়ি সম্ভব
শেষকৃত্য আয়োজন করা হোক ,
আমার থাকা আর না থাকায়
তোমাদের আর কিছু যায় আসে না।
এইতো সেদিন ,
বিশ্বজিৎকে পুরোন ঢাকায় রাস্তায় কুপিয়ে
যেভাবে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হল
সেখানে আমি ছিলাম,
চোখের সামনে ঘটতে দেখলাম প্রাণপাখির বিসর্জন ।
তাজরিন গার্মেন্টসের পুড়নে
কবিতা
|
|
| ১১৮ শব্দ
কিছু কথা ধার হবে ,
কবিতার মালা বুনবো । লেখা শেষ হওয়া
মাত্রই পাইপাই করে হিসেব
বুঝিয়ে দেবো ধারকৃত প্রতিটি বর্ণমালার ।
এক ছটাক আবেগও চাই তার সাথে ,
কবিতা না লিখতে লিখতে
এ হাতে মরচে ধরে গেছে
কলমের ভাষাও হয়ে গেছে নিস্তব্ধ।
কবিতা লিখার জন্যে
আজ এইটুকুন আবেগের বড্ড প্রয়োজন ।
অক্ষরগুলো নাইবা
কবিতা
|
|
| ১১২ শব্দ
অজানা অভিমানে লিখবো না বলে
হয়েছিল কলমের মুখ বন্ধ
সেই থেকে হয় না মুখদর্শন
কবিতার চা কিংবা ছন্দের বিস্কিটের ।
দুপুরের খাদ্য তালিকায়
রূপকের চর্চরীটা বড্ড মিস করি
ফিরে এসো অভিমানী ,
হোক তোমার পুনরাগমন চীরচেনা
এই বন্দরে ।
বিশ্বাস করো কতদিন যাই না খালপাড়ে ,
দেখি না দুষ্টামিরত সেই নাম না
কবিতা
|
|
| ১১৭ শব্দ
অপরূপা- আগ্নেয়গিরির প্রেম ও লাভা
————–ইমেল নাঈম
এখন আমার অনেক ক্লান্ত লাগে
বুঝি না প্রেমের রসায়ন এতোটা
রসকষহীন হয় কেন ?
ভালোবাসার মানে কি কষ্টের পথে
একাকী হেঁটে চলা ,
জমতে থাকা অভিমানে ?
আচ্ছা, ভালোবেসে ক’জন প্রেমিক
ছুঁয়েছে সুখের বলয়, বলো ?
সর্বোচ্চ তারা কবি হতে পেরেছে , প্রেমিক নয় !
কবিতার আগুনে
কবিতা
|
|
| ১৯৫ শব্দ
অবন্তিকার সাথে কথোপকথন
———–ইমেল নাঈম
শেষ বিকালের গোধূলিটা ডুবে গেছে
দশমিক বাঁকা চাঁদ উকি দিয়ে যায়
নির্লজ্জ ভাবে, এমন সময় দু’কাপ চা
হলে ক্যামন হয় বলতো অবন্তিকা ।
- অবন্তিকা চুপ কেন, কিছুই বলছ না,
নীরবে কি যেন ভেবেই চলেছ ?
- আচ্ছা, কবি
কবিতা
|
|
| ২৯৩ শব্দ