ডা. দাউদ-এর ব্লগ
ছোট বেলায় কবিতা লিখতাম লুকিয়ে লুকিয়ে,পড়ার টেবিলে চুরি করে।তারপর একদিন যখন ধরা পড়লাম তখন থেকে আত্নীয় স্বজনরা ডাকতো মিনি কবি বলে- – - ।এরপর নিজের পড়ার চাপের কারনেই কবিতা থেকে হারিয়ে গেলাম,কিন্তু বুকের ইথারে সব সময় অনুভব করতাম এক্টি খোঁচা– —এখনো তা অনুভব করি
এখনো চলছে কবিতার সাথে জীবনের লুকচুরি
এমনি করে একদিন হয়তো কবি হয়ে জন্মাবো
একদিন এই ধরণীর ক্যানভাসে রচিত হবে কাব্যময় উচ্ছ্বাস
হে ফণীমনসা
ছোবল যদি দেবে তবে এই বুক টায় দাও
কষ্টের নিকষ বিষ গুলো পানি হোক তোমার বিষে
আর যদি কষ্টের বিষ গুলোকে ধ্বংস করার মতো বিষ তোমার ভাণ্ডারে না থাকে, তবে-
কসম স্রষ্টার!
আমার দিক থেকে ফিরিয়ে নাও
কবিতা
|
দাউদের কষ্টানুরণন
|
|
| ৮২ শব্দ ১টি ছবি
আমাকে ভাংতে চাও কেন?
কাঁদিয়ে ক্ষান্ত হওনি! তবে যাও
দূরে সরে যাও
আমি একা থাকবো
একাই দেখে নেবো নৃশংস সব হত্যাকাণ্ড
এক একটি স্বপ্ন লাশ
বুক ভরা লাশের স্তূপ
এক একটি আশ- দীর্ঘ শ্বাস!
তুমি আমার হার্ট ডিজিজ আমার মরণ ব্যাধি রোগ
হৃদযন্ত্রের মধ্যখানে ভালোবাসা নামক টক্সিন করছে গিজগিজ
ধমনীর শিরা উপশিরায় চলছে অসহযোগ
দম পেলতে পেলতে আমি নমনীয় অণুয় বিনয়, পাই যদি স্পর্শের তাবিজ।
জানি তুমি ভালো আছো
ভুলে থাকার মত নিদারুণ মহৌষধ যে তোমার আছে জানা
নানান ছলে
তুমি সহ্য করো
জীবনের খণ্ড খণ্ড কাহনে লণ্ড ভণ্ড ক্ষত চিহ্ন
দহনের আগুন থেকে উঠে আসা মৃত্তিকার গন্ধ
কিংবা গলিত লাভার বিদগ্ধ আর্তনাদ, নির্বাক অরণ্য
সহ্য করো-
সহ্য করো আমার এক একটি বিবর্ণ রাত।
সহ্য করো হে প্রিয়তমা
সহ্য করো আমার এই অনিবার্য প্রস্থান
চির তরে তোমার ঘরে
কবিতা
|
দাউদের কাব্য অনুরণন
|
|
| ১৭৩ শব্দ ২টি ছবি
তীব্র দাবদাহের বুক চিড়ে টেনে আনি সমস্ত ঐশ্বর্য
জানি প্রাপ্য আদায় হবেনা, অবিন্যস্ত চুলে তুর্যের উদাসীনতা
দেবতার বিষণ্ণতা ভাঙেনি ঠুমরী তবলার ধ্রুপদী গর্জনে
অথচ, ঘুঙুর পায়ে ঝংকার তুলে একাগ্র চিত্তে, ভরত নৃত্যে
যেন তীব্র খরস্রোতে ভাসিয়ে নিচ্ছো আমার অস্তিত্বের
কাঁদো,
ইচ্ছের গিট খুলে দিয়ে উগলে দাও সমস্ত পঙ্কজল
বেরিয়ে আসুক অন্তরতম পবিত্রতায় শুদ্ধতম আবেগ
নিষ্কণ্টক সুখের জন্য কান্নাই উৎকৃষ্ট
বিপন্ন জীবনের অবশিষ্ট দুঃখ নিংড়ে সৃষ্টি হোক নতুন উদ্যোগ
কাঁদো-হে প্রিয়তমা
কেঁদে উদ্ধার করো নিজেকে
শুদ্ধতা দান করো জীবনকে।
কাঁদো, যখন যেমন জমাট বাঁধে মনের মেঘ
বুকের উপত্যকায়
ক্রমশ ধাবিত হচ্ছি তোমার আনত চোখের নীলে
আশ্চর্যজনক ভাবে বিদ্ধ হচ্ছি মৃণ্ময়ী বুকের খোলে,
দূর্বীনিত ঘূর্ণিপাকে গুলিয়ে যাচ্ছি প্রবল বেগে- অনিরুদ্ধ
আগুনের লেলিহান শিখা, অলীক টানে ছুটে যাচ্ছি
কিন্নরী কণ্ঠে শুনি দৈববাণী-
বুঝিনি মৃদুস্বরে তুমি গেয়েছিলে জীবনের গান খানি।
কানে কানে শ্রুতির অনুরণনে গুঞ্জন করে একটি শব্দ
বাঁচতে
কবিতা
|
দাউদের কাব্য অনুরণন
|
|
| ৯১ শব্দ ২টি ছবি
ভালোবাসি বলেই কাছে আসি ,হাসি
ভালোবাসি বলেই আদিগন্ত সীমানায় ভাসি
অনন্ত আক্ষেপে জ্বলন্ত নিন্দুকের রক্তচক্ষু
উপেক্ষা করে চিৎকার করে জানিয়ে দিই পৃথিবীকে
ভালোবাসি ভালোবাসি
ভালোবাসি বলেই শুদ্ধ করি আত্মার সব টুকু অস্তিত্ব
ভোরের মতো স্ফুটিত হই সূর্যোদয়ের চির সত্য আলোয়
বৃষ্টির মতো ঝরি তেপান্তরের মাঠে,নদীর স্রোতে,সবুজ অরণ্যে
ভালবাসি বলেই
তোমার ভাবনায় শুরু হয় দিন
তোমার ভাবনায় শেষ
তোমার স্বপ্ন আরাধনায় মগ্ন হৃদয়
আর ভালোবাসার ক্লেশ অক্লেশ।
তোমার তাতে কি আসে যায়
যদি দিন মান কেউ তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন সাজায়
গুন গুন গুঞ্জনে বুনে যায় কথোপকথন
রাগ অনুরাগে শুনে যায় তোমার মায়াবী কণ্ঠের সুরঞ্জন
তোমার তাতে ক্ষতি
এক একটি গোলাপ এক একটি আকাঙ্ক্ষা
এক একটি কাঁটা একটি পৃথিবীর ভালোবাসা,
কিন্তু! জানো-
অশ্রুর ফোঁটা অবাধে গড়িয়ে যায়, কিসের তাগিদে?
নির্নিমেষ জ্যোৎস্নার চলে যাওয়া পথে অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস!
কেনো? মধ্যরাতে নিদ্রা টুটে! কিসের সুবাদে ছেড়ে যায় মন আপন নিবাস।
নেরুদার তামাকের পাইপ থেকে উঠে আসে নীল ক্লেদ
আমি
কবিতা
|
দাউদের কাব্য অনুরণন
|
|
| ১০২ শব্দ ২টি ছবি
কবুল! কবুল! কবুল!
তুমি কবুল বলতেই আমি হয়ে গেলাম তোমার অধিকার
মুহূর্তেই পালটে গেলো দৃশ্যপট, দু’আত্মার একাকার
তুমি
তর্জনী তে তর্জনী ছুঁইয়ে দিলে, বাঁকা চোখে দেখে একবার
নিজের অজান্তেই আমি বিগলিত বরফ খণ্ড, হিমাগার।
আমি জানতে চাইনি অথচ আত্মায় স্পন্দিত তোমার
আলো জ্বালাতে সবাই পারে
ইলেক্ট্রিক বোর্ডের নির্দিষ্ট সুইচ অন করে দিলেই আলো জ্বলে উঠলো
কিংবা দিয়াশলাই মেরে বাতি জ্বালানো-
কিন্তু খুব কম সংখ্যক মানুষ আছেন যারা আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা করতে পারে,
তারা জানে আলো জ্বলানোর নেপথ্যের কাজ গুলো,
জানে
আমার বুকে কুঁকড়ে থাকা স্বপ্ন গুলোয় প্রাণ সঞ্চার করলে তুমি
দুঃখের অমানিশা কাটিয়ে
ঊষার লালিমায় প্রভাত পেয়ে আমি আঙ্গিনায় নামলাম-
শিশির ভেজা ঘাসে পা ডুবালাম
উস্কো খুস্ক চুলে আঙ্গুল চালালাম
পিঞ্জর ভরে দম নিলাম
আমি জাগলাম তোমার স্পর্ধার স্পর্শে
লোমহীন বুকে ওমে শূন্য বৃন্তে তোমার অনামিকা
বৈদ্যুতিক সুইচ অন
কখনো কখনো এমনটাই যেন নিয়ম
ছন্দের হাত ধরে হাটতে গিয়ে ঘটে ছন্দ পতন।
পতনের জের ধরে হাটা ছেড়ে দিয়েছি দৌড়
দৌড়তে গিয়ে হাস ফাঁস করেছি দ্রুততম নিঃশ্বাসে
আসলে-
বিশ্বাসের ছিঁড় ধরেই সেখানেই;
ছন্দের ধন্ধে নেমে আসে অদ্ভুত এক নীরবতা
নিঃশ্বাস পতনে চূর্ণ বিচূর্ণ মন, মনের গোপনীয়তা।
ক্ষুদ্র হয়ে
উত্তপ্ত অঙ্গারের সব টুকু দহন বুকে তুলে
আজ নিজেকে দিয়েছি তোমার হাতে তুলে।
অনন্ত বাসনায় পৌঁছে যাই সাবলীল
তোমার শীতার্ত রাতের বিষণ্ণ বিছানায়,
এবার তুমি উদ্ভাসি হও
প্রণয়ী হও
পুলকে তিলকে জাগুক প্রেয়সীর গুপ্তধন
নিবিড় সরোবরে হোক নিশ্চিন্ত সমর্পণ !
কবিতার উছিলায় শব্দের নামে-
আমি কুড়িয়ে এনেছি তোমার দীর্ঘশ্বাস!
নীল