অনুগল্প-স্মৃতির ক্ষেপ!
অনেক দিন পর বাড়ী এলো শিলা। যাকে নাইওর বলে। এই ঈদে। বাপ মা, মারা গেছে তা প্রায় ১৫ বছর হবে।
বাড়িটা জুড়ে এখন ভাই,ভাতিজা,ভাতিজি। সারাক্ষণ গম গম করছে।
এক সময় বাবা মা, আমরা ভাইবোন ছিলাম। বাড়ীতে এসেই অন্যরকম। উঠানের সেই মায়া নাই।
বাড়ী উঠানে একটা ডালিম গাছ ছিল। তাতে একজোড়া টনা টুনি থাকতো।
উঠানের পশ্চিম গা ঘেঁসে,একটা কাঁচা মিটার আম গাছ ছিল। পুব দিকে সজনে গাছ,
আর ঐ কোণাটায় তালগাছ। তাল গাছে বাবুই পাখির বাসা বুনতো। আর পাখিদের কি কিচির মিচির।
এখন সেই ডালিম গাছ নেই। আম গাছটা কেটেছে নতুন ঘর করার জন্য। তাল গাছটা নেই।
সজনে গাছের পাশে নিম গাছটাও নাই। গাছ শূণ্য ভাইদের ভাগা-ভাগীর বাড়ী ঘর দেখে শিলা, বর করে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বড় ভাইকে বলল:
: ভাইজান গাছগুলো সব কেটে ফেললে।
: নতুন করে ঘর তুলতে হল যে।
: সবার ছেলে মেয়ে হয়েছে, সবার ঘর দরকার না বল?
: জানিস গাছগুলো কাটতে খুব মায়া হচ্ছিল,
: ছোডটা, পানু ওতো জেত করে সব গাছ কাটলো।
স্মৃতি জড়ানো, বাড়িঘর, কোন চিহ্ন নাই। বাবা মার ঘরটাও নাই। আতুর ঘরটাও নাই। যে ঘরে বাড়ীর
সব ছেলে মেয়ে জন্ম নিয়ে ছিল। ঢেঁকির পার। ধান বানা,চালের আটা। পিঠার জন্য, নাই।
উঠানের কোণে পাত’কুয়াটা, সেই দাদার আমলের,নাই সেটা।
শিলার কষ্ট হচ্ছে,বুঝতে পারে ভাইজান। বাড়ির বড় মেয়ে তো। শিলাকে ডাকে ভাইজান।
: আয় ভিতরে আয় কত দুর থেকে আসছিস।
বাড়ীর এখন বড় গেট, বড় ভাই ডাকে শিলাকে।
: আয় দ্বারিযে থাকলি যে? আয়,
: না ভাই জান, এখনে একটু দ্বারাই।
: খোলা বাতাস আসছে।
সেই সাথে আসছে কিশোর যৌবনের সব টুকরা টুকরা আবেগের কথন, মন আজ উদাস, আকশের মত।
বাতাসের মত চঞ্চল হতে চায়, পারে না। ঐ ডোবাটা আর নাই, যেখানে টলটলে জলে মাছের ঝাঁক দেখা যেত। কঞ্চির ডালে, মাছরাঙা বসত, ঢিল ছুড়ায় জলে, আর উড়ে যেতো মাছরাঙা।
১৪১৮@১৭ কার্তিক,হেমন্তকাল।



নিজের স্মৃতি বিজড়িত স্থান গুলোতে গেলে আমার ও এমন অনুভুতি হয়। আগের কিছু দেখতে পাই না।
অনুভুতির সরল প্রকাশ। ভাল লাগল
ধন্যবাদ ভাই, সশ্রদ্ধ ভালোবাসা
বাতাসের মত চঞ্চল হতে চায়, পারে না। ঐ ডোবাটা আর নাই, যেখানে টলটলে জলে মাছের ঝাঁক দেখা যেত। কঞ্চির ডালে, মাছরাঙা বসত, ঢিল ছুড়ায় জলে, আর উড়ে যেতো মাছরাঙা।
দেখা যাক মান্নান ভাই আপনার এই অনুগল্পটি আপনাকে আর কোন পুরস্কারে ধাবিত করে কিনা!!!
ধন্যবাদ মালেক ভাই, ভালোবাসায় জীবন সুন্দর হউক!!!!!
আপনি যে কবে বানান ঠিক করবেন কে জানে।
এমনিতে ভাল হয়েছে লেখাটা। কবিতা ছেড়ে গল্প ধরলেন ব্যাপার কি?
কেন, প্রাইজটি পাব না?

মান্নান ভাই, ভাল লাগল।
(একটা ছোট রিকোয়েষ্ট থাকবে। আপনি লিখার নীচে বাংলা সাল ও তারিখ বসিয়ে দেন তা অত্যান্ত ভাল লাগে। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে এই তারিখের নীচে ইংরেজী সাল ও তারিখও বসিয়ে দেবেন। আমরা আরো ভাল বুঝতে পারব। শুভেচ্ছা।)
ধন্যবাদ সাহাদাত ভাই, আমার ভালোবাসা রইল, সময় সুন্দর কাটুক!!!!!!!!!!!!!!!
সব কিছুই এভাবে হারিয়ে যায় এক-সময়… কালের স্রোতে…