সকালে চ্যানেল আই এর লাইভ প্রোগ্রামটা স্থির হয়ে গেলো। উপস্থাপিকা মেয়েটা কাঁদছে, কথা বলতে পারছে না। আর যিনি গাইছেন তিনিও। অনেক চেষ্টার পর হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় একটা গান গাইলেন, দূরে কোথাও…দূরে…
মেয়েটার চোখ ভেজা কিন্তু সে গাইছে, গভীর আবেগে। এমন দৃশ্য আমি কখনো দেখিনি, তাই মনে হলো এ গান এর আগে এত সুন্দর করে কেউ গায়নি।
কত বড় বড় মহা নায়কের প্রয়াণ ঘটলো, কিন্তু কারো জন্য এমন করে প্রতিটি মানুষকে আমি কাঁদতে দেখিনি।
এখানে একটা শোকবই রাখলাম।
ভালোবাসা জানিয়ে যাবেন।
এক গোছা ফুল কিংবা দুএকটি পংক্তি
আর তার আত্মার শান্তির জন্য দোয়া।
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।



1. He wrote book, then he died.
2. When Writers die they become books, Which is after all, not to bad an incarnation.
শুয়াচান পাখি আমার শূয়াচান পাখি
আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি।।
2. When Writers die they become books, Which is after all, not too bad an incarnation
ভালবাসার সংজ্ঞা আসলে কি তা জানতে ইচ্ছা হয়।
সব কিছুকে পিছনে ফেলে একরাশ কষ্টের বই উপহার দিয়ে চলে গেলেন অজানা দেশে।
রাতের আকাশ জ্যোৎস্না ভরা
তারাদের মাঝে স্বপ্ন
আঁধারের ডানায় চল
ভেসে যাই আজ
বন্ধুর হাত ধর,
ঘুম পরীদের সাথে আজ
তোমায় করাবো কথপকথোন,
চন্দ্রতরীতে ভেসে যাব আজ
গহীন অন্ধকারে-
ভালোবাসা যেথা অন্তহীন
দুরন্ত পারাবারে।
কি আর লিখবো!!!…
ঘড়ির কাঁটায় দশটা। কারওয়ান বাজারের মোড় পার হচ্ছিল হুমায়ুন আহমেদ এর লাশবাহী গাড়ি,যতদুর যায় দেখেছিলাম। আমি কখনো এমন করে লাশের গাড়ি দেখিনি। কেন দেখলাম?আমার ভেতর থেকে কেউকি আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছিল কত অর্জনে সমৃদ্ধ একজন মানুষকে তুমি পেছনে ফেলে চলে যাচ্ছ!!
আমার বেড়েওঠার পরতে হুমায়ুন আহমেদতো প্রায় কোনদিন না কোনদিন ছিল। কখনো নাটকে, কখনো ফিল্মে, কখনো হলুদ রঙে,কখনো রম্যে।
আদ্র হয়ে উঠছিল চোখ। হুমায়ুনের জন্য আমার না গড়িয়ে পড়া জলটুকু রেখে যেতে চাই এই ভার্চুয়াল শোক বইয়ে।
কতবড় একটা জীবন ছিল হুমায়ুন আহমেদ এর। সব দিকে একজন সফল মানুষের প্রতিচ্ছবি হয়েই থাকবেন। রয়াসয়নের রস,সাহিত্যের অমৃত,সেলুলয়েড়ে নিজের ভাবভাবনা বন্দীকরে রাখতে পারা, শিক্ষকের মর্যদা, প্রকৃতির নিবিড় সেবা সবইতো তিনি পেয়েছেন।
লেখক হুমায়ূন যদি একটিও ভালো বই না লিখে থাকেন, যদি তার লেখার কোথাও সাহিত্য মূল্য কোথাও খুঁজে না পাওয়া যায় আমার দুঃখ নেই।
যে মানুষের জন্য সমস্ত দেশ আর জনতা এমন আকুল হয়ে কাঁদে, যার জন্য শেষ শ্রাবনে একটা কদম ফুল খুঁজে আনে অচেনা কোন মানুষ তার মানব জীবন ধন্য। লেখক জীবন আগে না মানবজীবন আগে………
হুমায়ূন আহমেদ জ্যোৎস্না ভরা রাতে মৃত্যু চেয়েছেন। সেটা পাননি। কিন্তু যদি তিনি জানতেন মৃত্যু কাউকে এত মহিমা দিতে পারে তাহলে জীবনের চাইতে মৃত্যুকে বেশি ভালোবাসতেন।
জ্বলেছিলে তুমি সাহিত্যাকাশে এক জ্যোতির্ময় নক্ষত্র হয়ে
ঝরে পড়লে তুমি অমোঘ নিয়মের ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে
নেই তুমি নেই আমাদের মাঝে, মেনে নিতে চায় না এ-অবুঝমন
হৃদয়ের কোণে অশ্রু ঝরে শুধু তোমারই ভালোবাসার টানে সারাক্ষণ।
তাঁর আত্মার শান্তির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থানা করছি।
চন্দ্রের চিবুক বেয়ে নামছিলো শব্দের ধারা
ঘুমন্ত বৃক্ষের বুক ঘেঁষে জেগে আছে নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস
পৃথিবীর শরীরে আজ বড্ড অসুখ, জরা
কবিতার বিদীর্ণ খাতা বুকে চেপে স্বপ্নরা খুঁজে নেয় আপন নিবাস।
শব্দরা খানিক ক্ষুব্ধ বিক্ষুব্ধ
বৃক্ষের স্পন্দনে ফিরে আসে দূরে সরে যাওয়া নিগূঢ় কষ্ট
চন্দ্রহারে স্পষ্ট হয়ে উঠে বিলুপ্ত কাব্যের এক একটি ছন্দ
আমি হাত বাড়িয়ে আগলে নিতে যাই দু’হাতের করতলে
সুখ নয়
আনন্দ নয়; দু হাত পূর্ণ হয়ে যায় শীতল অশ্রু জলে-
কত কথা বলার ছিল,
কত কথা আছে বলার!
এখন বলি তা মনে মনে একান্তে,
শুনতে কী পাও?
পরে এসে আগে চলে গেলে,
গেলেই যদি চলে আগে
এই ভক্তের শ্রদ্ধাটুকু
সাথে নিয়ে যাও।
আনন্দ তোমাকে ছেড়ে যাবে না কখনও।
একটা বিষয়ে অবাক না হয়ে পারলাম না কতিপয় কবি ও হলুদ সাংবাদিক সেই সাথে কিছু মানুষ হুমায়ুন আহমেদ এর লেখার চেয়ে তার ব্যাক্তিজীবন নিয়ে মশগুল বেশি তিনি কেন শাওনকে বিয়ে করেছেন? কেন গুলতেকিন আহমেদ কে ছেড়ে দিয়েছেন খালি এইসব প্যচাল। আমরা লেখা দিয়ে লেখককে ভাবতে পারি তার ব্যাক্তিজীবন কে দিয়ে নয়!
হুমায়ুন আহমেদ একজনই ছিল
শ্রাবণ সকালের বর্ষণসিক্ত ভোর

হৃদয়ের ভাষা নতজানু।
গাছের সরু ডাল-লতাপতার আড়ালে,
রাতজাগা পাখির কুজন।
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির ফোঁটা
নিচের জমে থাকা পানিতে পড়ে ফুটকি তুলছে।
প্রকৃতির চারিদিক শোকে কাতর।
সব স্থানে ভাবগম্ভীর পরিবেশ বিরাজমান।
শোককাতর সমস্ত হুমায়ন ভক্ত।
ব্যস্ত সবাই নিজ নিজ কর্ম ভুলে,
সাহিত্যের বরপুত্র অন্তিম পথের যাত্রী;
হুমায়ূন আহমদকে শ্রদ্ধা জানাতে।
সময় আর হাতে নেই, সময় শেষ হয়ে গেছে…
চলে গেছে সে অনন্ত সময়ের পথে।
চাঁদনি রাত পাইলেই,

এখন আমার পাশে বসবে হুমায়ন স্যার!!!!!!
যে আমার ঢলে জোছনা ঘোরে,,,,,,,,নিড়িবিলি ঘুমের স্বপ্ন।
দোয়া ও শুভকামনা রইল।
একদম সহজ- জীবন ছেড়ে চলে যাওয়া, কিন্তু অনেক কঠিন- জীবনকে রাঙিয়ে যাওয়া। হুমায়ূন আহমেদ কঠিন কাজটি সহজে করে গেছেন। শুধু লেখনীর মাধ্যমে এত মানুষের ভালোবাসা বোধহয় আর কোনো লেখক পান নি। বাঙালির আবেগ যথার্থই প্রতিফলিত হয়েছে এই বাঙালির মহাপ্রয়ানে।
অদেখা ভুবন নিয়ে আপনার কৌতুহল ওঁ বিশ্বাস সমান ছিল।দোয়া করি সেখানে আপনি ভাল থাকবেন,