সে ও সন্ধ্যা

হঠাৎ খুব খারাপ লাগতে থাকে তার। কেন সে বিষয়ে তেমন স্থির করে কিছু মনে করে উঠতে পারে না সে। হতে পারে আজকের দিনটা বেশ গরম সে কারনে। আবার এমন হতে পারে বছর তিনেক আগে এ্যাক্সিডেন্টে মারা যাওয়া তার প্রিয় কুকুরটার জন্য পুরনো শোক ফিরে এসেছে। অথবা যে পেটের ব্যথাটা প্রায়ই তাকে কাবু করে সেটা হওয়াটাও বিচিত্র নয়। কিন্তু এসবের বাইরে কিছু মনে করতে পারে না সে। সাধারনত সন্ধ্যার সময়টা এক কাপ চা খেয়ে বারান্দায় বসে থাকে সে। রাত নেমে গেলে পুরোপুরি তারপর একটা কিছু কাজ খুঁযে নেয় সময় কাটাবার জন্য। মা বলতেন সন্ধ্যের সময় কোন কাজ করা ঠিক না। এই সময় সূর্য চলে যায়, জীবনের গতি যে আলো সেটা শেষ হয়ে যায়, খুব সাবধানে রাতকে নামিয়ে আনতে না পারলে অমঙ্গল হয়। এসব তার ঠিক বিশ্বাস হয় না। কিন্তু ধীরে ধীরে রাত যে নামে সেটা দেখতে দেখতে এক ধরনের অভ্যাস হয়ে গেছে। যেখানেই থাকে সন্ধ্যের মুখে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে, দ্যাখে মঙ্গলমত সন্ধ্যা নামলো কিনা। মা অনেক ধরনের অদ্ভুত ধারনা থেকে কথা বলতেন। লেখাপড়া না জানা থাকলেও এই সব অদ্ভুত জ্ঞান ব্যাখ্যা সহ বলতে পারতেন। হয়তো প্রকৃতি তাদের কিছু শিখিয়ে থাকবে। প্রকৃতির রহস্যের কোন শেষ নেই। কিছু কিছু ব্যপার সে গভীর বিদ্যাবুদ্ধি ছাড়া বুঝতে দেয় না। আবার কিছু ব্যপার বিদ্যাবুদ্ধির কারনে আর বোঝা যায় না, সেগুলো বুঝতে জ্ঞানগুলোকে আগে বাক্সে বন্ধী করে রাখতে হয়। মা দেখতে কেমন ছিলেন সেটা তার মনে আসে না। শুধু মায়ের বিচ্ছিন্ন কিছু কথা মনে পড়ে। এমন নয় যে মা খুব অল্প বয়সে মারা গেছেন, কিন্তু তারপরও মায়ের কথা মনে আসলে মনে হয় বেশ টেনে ঘোমটা দেয়া মধ্যময়সী একজন মহিলাকে। মায়ের আঁচলে চাবির গোছা থাকতো সবসময়। না হেসে মা কখনো কথা বলতো না, পাড়ার মাসি দিদিরা মাকে হাসি বৌ বলতো। এত বড় ছেলেমেয়ে সহ মা কোন দিন কারো মা হয়ে উঠতে পারে নি, বৌ হয়েই থেকে গেছেন। আচ্ছা মা কি আসলেই সব সময় হাসতো? মায়ের হাসিমুখের খুশি দিনের অংশটাই শুধু তার মনে আছে। বাকিটা কি ইচ্ছে করে মুছে দিয়েছে সে। নাকি এটাও প্রকৃতির কোন চক্রান্ত। ভালো করে মনে করে দেখলে একটু আধটু মনে আসে, মা শেষদিকে শুকিয়ে দড়ির মত হয়ে গিয়েছিলেন। মধ্য চল্লিশের যে গোলগাল মাকে সে জানে তার সাথে এই চিমসে শরীর মায়ের কোন মিল নেই।

চা দিয়ে গেছে জমিলা। দিনে একবেলা তার রান্নার কাজ করে জমিলা। একা একা থাকা মাঝ বয়সী রহস্যময় লোকের বাড়ি কাজ করার মত মানুষ পাওয়া সহজ নয়। যদিও তার চাহিদা খুব বেশি নয়। সকালে আর দুপুরে বাইরে কিছু একটা খেয়ে নিলে চলে। বিকেলের দিকে তাই জমিলা আসে, চা করে। চারটে চাল ফুটিয়ে যা হোক একটা কিছু রেঁধে দিয়ে চলে যায় সন্ধ্যের একটু পরেই। সারাদিনের এই অংশটা ছাড়া এ বাড়িতে বাইরের কারো পা পড়ে না। তার অবশ্য এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই। বস্তুত কেউ না এলেই তার ভালো লাগে। অনেক বছরের অভ্যাস। তবু মানুষের জঙ্গলে থাকতে গেলে বিড়াল কুকুর ধীরে ধীরে চলে আসে সংসারে। জমিলা বলে গেছে দেশলাই নাই। খাওয়া ছাড়া একবেলা চলে, কিন্তু দেশলাই ছাড়া চলে না। সিগারেট খাওয়া লোক দেশলাই এর কথা ভুলে যায় না, আজ কোন একটা কারনে ভুল হয়ে গেছে। দেশলাই আনতে সে পা বাড়ায় ঘরের বাইরে।

মোড়ের মাথায় একটা পানের দোকান, একটা চা ওয়ালা বসে থাকে সকাল থেকে গভীর রাত অব্দি। উলটো দিকে একটা মুদিখানা, তার সওদাপাতির যোগান আসে যেখান থেকে। মাস শেষে বাকি আদায় করে দেয় সে নিয়মিত। দোকানের পছনে একটা তেতলা বাড়ি। গফুর ম্যানসন। বাহারী নাম, বাড়ীর বাহার নেই অবশিষ্ট, তবে বাগান বিলাসের বাহার আছে। মাধবীলতার ঝাড় তিনতলার উপরে উঠে গেছে। কি জানি বাড়িটা আরো উঁচূ হলে গাছগুলো হয়তো আরো লম্বা হবার সুযোগ পেতো। এখন তেতলার ছাদের পরে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখে মাধবীলতা। আচ্ছা মাধবীলতা নামটা তো বেশ সুন্দর। এই বাড়ির নাম গফুর ম্যনসন না হয়ে মাধবী ভিলা ধরনের কিছু হলে ভালো মানাতো। কি জানি, হয়তো নাম রাখার সময় মাধবীর ঝাড় ছিলনা। থাকা না থাকার ব্যপারটা পানা পুকুরের মত। ঢিল ছোঁড়ার আগে অস্তিত্ত্বের শূণ্যতা কল্পনা করা যায়না। এখন এই তেতলার ছাদে একা মাধবীলতা নয় সাথে আরো কেউ আকাশ দ্যাখে নিয়ম করে। তবে তার মত সন্ধ্যার আকাশ নয়, বিকেলের আকাশ। আজো তাকে দেখা যাচ্ছে। সাদা একটা শাড়ী পরনে, সবুজ ধরনের একটা পাড়। হাতে একটা বই। তার বয়সটা কত ঠিক বোঝা যায় না। ছাব্বিশ অথবা ছত্রিশ যে কোনটা হতে পারে। মুখের রেখায় বয়স বোঝা না গেলেও চোখের তারায় সেটা লুকোনো যায় না। কিন্তু চশমার আড়ালে ঢাকা চোখ দুটো অনেক দূরে, সেখানকার দ্যূতি ঠিক এপর্যন্ত পৌঁছায় না। তার মুখে ষোড়শীর কমনীয়তা থাকলেও আচরন বয়সী ভারী। ছাদের আলসে হেলান দিয়ে বই পড়া তরুনী উৎসুক মুখ উপেক্ষা করে না। কিন্তু মেয়েটা কখনো ফিরে তাকায় না। তার দৃষ্টি তেতলা থেকে উপরে অসীম আকাশে উড়ে, কখনো মাটিতে নামে না। মূলত একারনেই সে মেয়েটার সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কি এমন ভাবনা যে রিক্সার টুংটাং, মোটর সাইকেলের ভটভট, ফেরিওয়ালার কাগজ কাগজ বলে একঘেয়ে চিৎকার এমনকি ছুটির সময় স্কুলের বাচ্চাদের হল্লা কোনটাই তরঙ্গ তোলে না কোথাও। না মুখের রেখায়, না চোখের তারায়। সে প্রতিদিন একবার করে বিকেলের দিকে চায়ের দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায়। “যদি আজ কিছু ঘটে”। কিন্তু ‘দৈবাৎ’ কখনো আসে না। তার অপেক্ষা দিন থেকে দিনে গড়ায়। আজকাল সন্ধ্যার আকাশে তাকাতে তার মনে থাকে না, কে জানে মঙ্গল না অমঙ্গল নিয়ে রাত নামে এখন।

মেয়েটাকে একটা নাম দেয়া দরকার। আচ্ছা ধরে নেয়া যাক তার নাম মাধবী। মাধবী আজ বই পড়ছে না। এমনি আপন মনে ঘুরছে। মাধবী আসলে কে? গফুর ম্যনসন বাড়ির মেয়ে নাকি বৌ, কার সাথে তার কি সম্বন্ধ? চেহারায় কোন ছাপ নেই। কপালে লাল টিপ বা আঁচলে চাবি কোনটাই নেই। কাউকে জিজ্ঞাসা করে দেখা যায়, কিন্তু যতটা কৌতুহল মনে জাগে মুখে তার প্রকাশ করতে ইচ্ছে হয় না। তাছাড়া পঞ্চাশোর্ধ মানুষের মেয়েদের সম্পর্কে কৌতুহল সাধারন্যে দেখা যায় না। যদিও মোড়ের এই গুটিকয়েক পরিচিত মুখের সাথে তার নিত্য দেখা হয় তবুও একটা প্রচ্ছন্ন আড়াল রয়ে যায়, কেউ খুব একটা আগ বাড়িয়ে তার সাথে গল্প করতে আসে না। তারও সে চেষ্টা নেই। মাধবীর সম্পর্কে তাই কিছু জানা হয় না।

তার সময় কাটাতে কখনো সমস্যা হয় না। সময় কাটাতে সমস্যা শুধু তাদের হয় যারা অনেক কিছুতে ডুবে থাকে, চারদিকে যাদের হাত পা ছড়ানো থাকে, সম্পর্ক যাদের হৃদয়ের কাছের। তার তো তেমন কিছু নেই, অত ব্যস্ততা নেই, তাই অবসরের ব্যপারটা এত আনন্দদায়ক কিংবা একাকীত্বের পীড়া তার হয় না। একা সময়ে সে বসে বসে ভাবে। সে ভাবনাও কোন নিদৃষ্ট বিন্দুতে স্থির থাকে না। তবু যোগসূত্র থাকে হয়তো। সে কারনেই কিনা কে জানে ইদানিং তার ভাবনাগুলো কি করে ঘুরে ফিরে মায়ের কাছে গিয়ে ঠেকে। ছেলেবেলায় চলে যায়। মা থাকলে কি তাকে মাধরীর কথা বলা যেতো? মা হয়তো ঠিকই বলে দিতে পারতেন কেন মাধবী কখনো কারো দিকে তাকায় না। মাধবীর কথা মনে হলে তার কিছুটা চঞ্চল লাগে। হঠাৎ নিজের এই পরিবর্তন অস্বস্তিকর লাগে। বিশেষ করে যেদিন ভোরে ঘুম ভেঙ্গে মনে হল মাধবীকে সে স্বপ্ন দেখেছে। এটা অসম্ভব একটা ঘটনা। মায়ের মৃত্যুর পর সে আর কখনো স্বপ্ন দেখে নি। মা আর মাধবী এই দুইয়ের মধ্যে ক্রমাগত ঘুরপাক খেয়ে আটকে যায় তার চিন্তা।

জীবনের এই অবেলায় মায়ের জন্য তেমন কোন অনুভূতি কাজ করেনা। মা মারা যাবার সময় তার বয়স ছিল পনেরো আর মেজপার আঠারো। বড়পার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। কালে ভদ্রে তাদের বাড়ী আসতো। বড়পা কেন আসতে চাইতো না সেটা সে কখনো বোঝেনি। অন্তত সে বাড়িতে তার শেষ দিনগুলো, মানে মায়ের মৃত্যুর আগে অব্দি। বড়পা দেখতে মায়ের মত ছিল। গোলগাল, বড় বড় চোখ। মায়ের মতই হাসিখুশি। তবু কেন যে এ বাড়িতে আসলে কেমন হয়ে যেতো। বড়পার এক বান্ধবী ছিল, আশাদি। আশাদি মজার আচার বানাতো আর সেই লোভে আশাদির অনেক কাজ করে দিত সে। লাইব্রেরী থেকে বই আনা, চিঠি পোস্ট করা, না হয় কারো গাছ থেকে চুরি করে আম পেড়ে দেয়া। বড়পা কেন যেন আশাদিকে সহ্য করতে পারতো না। আশাদি দেখতে বড়পার থেকেও সুন্দর ছিল। তার ধারনা ছিল বড়পা আশাদিকে হিংসে করে। মা মারা যাবার পরে অবশ্য সে ধারনা বদলেছিল। মায়ের মৃত্যু পৃথিবী সম্পর্কে সব ভাবনা বদলে দিয়েছিল। খুব অস্বস্ত্বি হয় যখন মনে হয় আশাদির সাথে মাধবীর কোথাও একটা মিল আছে।

মা যখন মারা যায় তখন তার বাবার বয়স ছিল এখনকার তার মতই, পঞ্চাশের কিছু বেশি। বাবার কিছু ব্যবসা ছিল। কিছু জানা কিছু অজানা। তারা কেন, মাও বোধ হয় সবটা জানতেন না। তাদের তিন ভাইবোনের ঘরে বাবাকে কেউ পছন্দ করতো কিনা সেটা একটা অজানা বিষয় ছিল। নাকি সে ছোট বলে সবাই তাকে কিছু বুঝতে দিতো না। বাবার সাথে সবার একটা দূরত্ব ছিল স্পষ্টতই। মাঝে মাঝে তিন চার দিনের জন্য ব্যবসার কাজে তিনি গঞ্জে যেতেন, এসময় বাড়িটা যেন অন্য রকম হয়ে উঠতো। তারপর বাবা ফিরলেই সকলে ত্রস্তে পথ ছেড়ে চলে যেতো। জেঠিমা, কাকিমাদের সে কখনো বাবার সামনে পড়তে দেখেছে মনে করতে পারেনা। বড়পা তো আগেই বাড়ি ছেড়েছিল। মেঝপা বাবাকে দেখলে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো। কোন প্রশ্ন করলে দ্রুত তার জবাব দিয়ে পালিয়ে যেতো। বাবার সাথে অন্যদের বিশেষ সংযোগ না থাকলেও তার সাথে কিছু বেশি ছিল। এই যেমন বাবা তার লেখাপড়ার খবর রাখতেন সবসময়। সবচাইতে বড় কথা বাবা তাকে মাঝে মাঝে শিকারে নিয়ে যেতেন, বাবার শিকারের নেশা ছিল। সেটা পাখি কিংবা বালিহাঁস যাই হোক। বাবার দুটো বন্দুক ছিল। একটা পাখি শিকারের আর একটা মানুষ শিকারের। কোন মানুষ শিকারের কথা শোনা যায়নি, তবে ব্যবসা করতেন বলে নিজের নিরাপত্তার জন্য ওটা রাখা ছিল। এই কারনে সবাই বাবাকে একটু বেশি সমীহ করতো। কিন্তু বাবাকে সে বলা যায় পছন্দই করতো। বাবার ইচ্ছে ছিল সে পৈত্রিক ব্যবসাটা বুঝে নেবে, সেও মনে মনে এমনটাই চাইতো। অন্তত মা মারা যাবার আগে পর্যন্ত।

তার চৌদ্দ বছর বয়সে প্রথম মায়ের খুব অসুখ করলো। কি যে অসুখ কেউ বলতে পারে না। এত ডাক্তার কবিরাজ সবাই দেখলো। কিন্তু তেমন কোন উন্নতি হল না। মা আবার সব সময় ঠিক অসুস্থ্য থাকতেন না। কিন্তু তাকে দেখলে সবসময়ই রোগা মনে হত। ফ্যাকাশে চেহারা কেমন মরা মানুষের মত। মা হাসতো কিন্তু তাতে প্রান থাকতো না, মা খেতো কিন্তু সেটা বাঁচার জন্য। একটু ভালো লাগলে বাহারী পদ রান্না করতো, কিন্তু সেগুলো খেতে আগের মত মজা লাগতো না। মোট কথা মা এবং তার চারপাশ থেকে প্রাণ উঠে গিয়েছিল সত্যিকারে ঘটনাটা ঘটবার আগেই। তারপর একদিন যেন বলে কয়ে আসার মত মৃত্যু এসেছিল তাদের ঘরে।

আজ মাধবীর ব্যপারে একটা নতুন জিনিস সে আবিষ্কার করেছে। সারা দিনে বেশ ক’বার করে তাকে ঘর থেকে বের হতে হয়। সকালে হাঁটতে যায়, ফিরে এসে অফিসে। বিকেলে অফিস থেকে ফেরে আর তারপর রাত নামা দেখতে যায়। কিন্তু অদ্ভুত ব্যপার হলো এই একটা বিকেলের সময় ছাড়া কখনো মাধবীকে দেখা যায় না। ওবাড়ির বারান্দ এমন কি আঙ্গিনায়ও না। সে কোন দিন মাধবীকে বাড়ির বাইরেও দেখেনি। প্রায় বছর খানেক ধরে মাধবীকে সে লক্ষ্য করছে কিন্তু এর পরও কখনো তার সাথে একবারও চোখাচোখি হয় না, দেখা হয় না। মাধবী কেন কখনো ছাদে ছাড়া আর কোথাও থাকে না এই চিন্তা তাকে তার স্বভাব বিরোধী ভাবে ব্যকুল করে দিতে লাগলো। আজ তার অফিসে বসেও এই কথা মনে হয়েছে। মাধবীর সাথে অবধারিত ভাবে মা চলে আসে। আজ খুব বড়পা মেঝপার কথাও মনে হয়েছে। বহুকাল তাদের কোন খবর জানে না সে। বড়পার দুটো ছেলে আছে জানতো। মেঝপার বিয়ে হয়েছে এই পর্যন্ত খবর জানে। ইচ্ছে করলেই হয়তো এখন তাদের খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু জীবনের সময় অতিক্রম করে পুরোনো পথে হাঁটতে গিয়ে হোঁচোট খাবার মানে হয় না। তবু বেশির ভাগ মানুষ তাই করে। শেকড়ের টান মানুষের আদিমতম বোধ, কেউই হয়তো এর বাইরে নয়। তারও হয়তো শেষ দিকে এসে শেকড়ে টান লাগছে। নতুবা কেন মা, মাধবী, বড়পা, বাবা, মেঝপা এমনকি আশাদিও এসে হাজির হয় খেয়ালে, অথচ আগের মত উন্মত্ত ক্রোধ জাগে না। সময় মানুষের সব অনুভবের ধারালো দাঁত উপড়ে নেয়। এমনকি মমতার নরম হাতেও শক্ত কড়া পড়ে যায়। তবু কিছু স্মৃতি ফিকে হয়ে আসে না। তার হঠাৎ খুব হচ্ছে করে স্মৃতিহীন হয়ে পড়তে। অন্তত এটা ভুলে যেতে পারলে কেমন হতো যে মা অকালে মরে গিয়েছিলো কারণ তার বাঁচার ইচ্ছেই চলে গিয়েছিল। একটা গাছের যেমন একটু একটু করে মরণ হয় মা সেভাবে মরেছিল, তিলে তিলে। যদি ভুলে যাওয়া যেত মেঝপার সেই ডায়েরীটার কথা, যেখানে লেখা ছিল মায়ের কষ্টের কথা, মৃত্যুর কথা, লেখা ছিল কোন একজন মানুষের জন্য মেঝপার গোপন ভালোবাসার কথা। আচ্ছা মেঝপার কি তার সাথেই বিয়ে হয়েছিল? মেঝপা কেন ডায়েরী লিখতো? সে ডায়েরী না লিখলে বোধ হয় তার কখনো জানা হতো না বড়পা কেন আশাদিকে এত অপছন্দ করতো।

মানুষের জীবন নিয়তির সূক্ষ্ম চাল। সে স্থির করে রাখে একজন “সে” এর জীবনের চৌদ্দ বছর বয়সে তার হাসিখুশি মায়ের একটা কোমল মৃত্যূ হয়। সেই মৃত্যু সর্বগ্রাসী হয়ে উঠে কারন মায়ের মৃত্যুর রাতে সবাই যখন গভীর শোকে ক্লান্ত তখন মেঝপার গোপন ডায়েরী তার হাতে পড়ে। আচ্ছা মা মারা যাবার আগে ডায়েরীটা পড়লে মা কি বাঁচতো? হয়তো না, কিন্তু সেদিন এই কথাটাই সবচেয়ে সত্যি হয়ে উঠেছিল। আসলে সত্য বলে বোধ হয় কিছু নেই। সেদিনের সত্যকে আজ কি সহজে ভ্রান্ত মনে হচ্ছে। কিন্তু সবটাই কি ভ্রান্তি ছিল? যদি ভ্রান্তই হবে তবে কেন আর তার ঘরে ফেরা হলো না, কেন আজও ফিরতে ইচ্ছে হয় না। ফেরারী না হয়েও ফেরারী জীবন ভালো লাগে।

সে ঘুমিয়ে আছে। ক্লান্তি নয় প্রশান্তির রেখা আঁকা মুখে, ঈষত হাসি ঠোঁটের কোনে। সে মারা গেছে। ঠিক মত সন্ধ্যা নামিয়ে আনতে না পারার কারনেই হয়তো সন্ধ্যার কাছাকাছি কোন একটা সময়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এর নাম ইচ্ছা মৃত্যু কিনা কেউ জানে না। পঞ্চাশোর্ধ একা লোক মারা গেলে প্রতিবেশীদের আর কি-ই-বা করার থাকে। তার কাগজপত্র ঘেঁটে কোন নাম ঠিকানা পরিজনের সন্ধান পাওয়া যায়না। কিন্তু কেউ জানে না মেঝপার মত তারও একটা গোপন ডায়েরী ছিল। সেখানে অনেকগুলো পাতা খালি রেখে মাঝে কোথাও লেখা ছিল তার নিজস্ব কিছু কথা। সবচেয়ে বড় কথা সেখানে তার নাম লেখা ছিল। যদিও তার জীবনে নাম কোন মূখ্য বিষয় ছিল না। বাবার বন্দুক দিয়ে তাকে দুটো গুলি করেছিল সে। তখন তার নাম যাই থাকুক না কেন পরে সেটা বদলে গিয়েছিল। কারন ফেরারী জীবনে পুরনো জীবনের ছায়া আসতে নেই। মায়ের মৃত্যুর রাতে মেঝপার ডায়েরীতে পড়েছিল বাবার সাথে আশাদির সম্পর্কের কথা। মায়ের মৃত্যু যে তার অবধারিত পরিনতি সে কথা বুঝতে তার চৌদ্দ বছর বয়স যথেষ্ট ছিল। সেই যে পালিয়ে গিয়েছিল আর কখনো ফেরা হয়নি ঘরে। তবে সে ভালোই ছিল। নাম পরিচয় পাল্টে অনেক দূরে গিয়ে জীবন বদলে ফেলতে সে সফল হয়েছিল।

কিন্তু মাধবীকে দেখার পর থেকেই সব কিছু পাল্টে গেলো। মাধবীকে দেখলে মায়ের কথা মনে পড়তো। খুব ভালো লাগতো, ভালোবাসার মত অস্পৃশ্য অনুভূতি মাথা তুলে আকাশ দেখতে চাইতো, ঠিক যেভাবে আকাশ দেখতো মাধবী। কিন্তু মাধবীর সাথে আশাদির সাদৃশ্য কখনো তাকে স্বস্তি দিতো না। মাধবীর মুখের মগ্ন গাঢ়তায় তার ভুলে যাওয়া জীবনের নির্যাস যখন ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরতে থাকলো তখন; সেদিন, এইতো সন্ধ্যের কিছু আগে আগে সে নিজে থেকে ঘুমিয়ে গেলো। অচেনা এক শহরে আত্মীয় পরিজন বন্ধুহীন একলা নিঃসঙ্গ। অথচ মোড়ের পানওয়ালা অথবা মুদিখানার ছেলেটাকে নিদেনপক্ষে সিগারেট কিনতো যে ছেলেটার কাছ থেকে তাকে একবার জিজ্ঞাসা করলেই সে জানতে পারতো মাধবী বলে আসলে কেউ নেই, কখনো ছিলো না।

VN:R_U [1.9.7_1111]
রেটিং করুন:
Rating: 0.0/5 (0 votes cast)
VN:R_U [1.9.7_1111]
Rating: 0 (from 0 votes)

এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

২১ টি মন্তব্য (লেখকের ১টি) | ১৬ জন মন্তব্যকারী

    • বিষণ্ণময়ী : ১১-০৭-২০১২ | ১৫:৩৪ |

      কাপ নিয়ে গোয়িং টু গোয়িং এমন ভাবে গোয়িং আর নট কামব্যাক ।

    • কবিরনি : ১২-০৭-২০১২ | ২:৩৭ |

      কাপ নিয়ে ছবির পোজ দিতে দিতে দেরী হইয়া গেল। মাইনষে ছাড়েই না।
      যাক ছাড়া পেয়ে গল্প পড়লাম। গল্পটা মনে হইছে কারও কাছ থেকে শোনা একটা সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডালপালা মেলার প্রয়াস। তবে প্রয়াস চমৎকার, অনবদ্য সব বিশেষনেই বিশোষিত করা যায়। মাধবী নামক মেয়েটিকে সঙ্গী হিসাবে জীবনের খাতা মেলানোর দায়িত্ব দেবার কল্পনায় নিজেকে সংযুক্ত করতে ইচ্ছা জাগ্রত হইল।

    • আনন্দময়ী : ১২-০৭-২০১২ | ১১:০৫ |

      কবিরনি মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
      গল্পটা কারো কাছ থেকে শোনা নয়, খুবই কল্পনা প্রবন হয়ে লেখা। তবে আমি এই গল্পের প্লট নিয়ে যতটা আশাবাদী ছিলাম গল্প দিয়ে তা ঠিক মেটাতে পারিনি। তবুও পড়েছেন জেনে ভালো লাগলো।

  1. মাহমুদ : ১১-০৭-২০১২ | ১২:১০ |

    আজ আপনার লেখার আলোচনা সমালোচনা দুটোই করবো।

    থার্ড পার্সন হয়ে জীবন থেকে পালিয়ে থাকা একজনের গল্প এত সাবলিলভাবে বলা একজন শক্তিশালী কথাশিল্পীর পক্ষেই সম্বভ। আপনি সেটা পেরেছেন খুব ভালো করে। সত্যি বলতে কি গল্পটিতে কোন “গল্প” নই তবু কি এক অজানা আকর্ষনে পাঠক হিসেবে পড়ে গেছি পুরো গল্প এক নি:শ্বাসে।

    আমাদের দেশে বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে অনেক বৌ এরই ‘মা’ হওয়া হয়ে ওঠেনা এ জীবনে। তারা সব করে- ঘর গোছায়, রাধে, স্বামীর মন জুগিয়ে চলে এবং শ্বশুর শ্বাশুরীর কঠোর বিধি নিষেধে চলে। এসব করে করে একমন “মা” তার হওয়া হয়ে ওঠেনা কোনদিন। ভালো লাগলো আপনার এ অবজারভেশন।

    এবার সমালোচনা। বছর তিনেক আগে মারা যাওয়া এক কুকুরের শোকে মন খারাপ হয়ে যাওয়া- আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কেমন যেন লাগলো। গল্পের নায়ককে এক জায়গা বলা হলো মধ্য বয়সী আরেক জায়গায় পঞ্চাশোর্ধ। এদেশে পঞ্চাশোর্ধ একজন মানুষকে ঠিক মধ্যবয়সী বলা যায়না। বড়জোর বলা যেতে পারে- পৌরত্বের দ্বোরগোড়ায় দাড়ানো একজন মানুষ।

    ভালো থাকবেন।

  2. ডা. দাউদ : ১১-০৭-২০১২ | ১২:২৮ |

    আপা আসসালামুয়ালিকুম
    অনেক ক্ষন যাবত কম্পিউটার স্ক্রিনে ভাসছে গল্পটা
    রুগী দেখা শেষ করেই
    এক দমে পড়ে নিলাম,বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে
    উইন্ডো টা খুলে দিলাম
    সাথে মাধবীকে নিয়ে থেমে থেমে চুমুক দিচ্ছিলাম চায়ে…।
    অপূর্ব এক আমেজের সাথে গল্প পড়া শেষ করে মন্তব্য লিখতে যাবো, তখনি অনুভব করলাম আমার কেন জানি মন্তব্য লিখতে মন চাইছেনা
    যেন অব্যক্ত অনুভুতি টুকু ব্যক্ত না করলেই ভালো লাগবে আরো বেশী…।

    আশা করি ভালো আছেন
    অনেক দিন পর অনন্য এই আমেজ সৃষ্টির জন্য আপনাকে অভিনন্দন

  3. চারুমান্নান : ১১-০৭-২০১২ | ১৩:৩৩ |

    বেশ লাগলো গল্পোটা,,,,,,,,,বেশ

  4. সাইক্লোন : ১১-০৭-২০১২ | ১৪:২২ |

    অর্ধেক পড়লাম ……… Smile

  5. আ,শ,ম,এরশাদ : ১১-০৭-২০১২ | ১৪:২৭ |

    দুপুরের খাবার খেতে খেতে গল্পটা পড়লাম থেমে থেমে। এক চামচ ভাত মুখে দিয়ে একবার করে স্ক্রল করি।খাওয়াও শেষ গল্পটাও শেষ।পানি খাবার আগে এতটুকু লিখলাম –এখন পানি খবার বিরতী—(বোতল থেকে পানি খাওয়ার শব্দ হবে-গড়– গড়– একটু পানি চোয়াল বেয়ে জামায় ভিজে যাবার চিত্রকল্প হবে)
    গল্প পড়ার পর যথারীতি মন্তব্য গুলা পড়া হলো। মাহমুদ ভাইয়ের মন্তব্য এবং চারুমান্নান ভাইয়ে মন্তব্য দুইটাই নজর কাটলো। মাহমুদ ভাই আসলে বলেই ফেলেছেন এটা গল্প নয় গল্পের হালকা শরীরে কথার বুনন যেটা কথাশিল্পীর বুনে থাকেন।বাবুই পাখিকে শিল্পী পাখি বলা হয় বাসা বুনন ভালো জানে বলে।তো যিনি কথা বুনন ভালো জানেন তাকে নিশ্চয় কথাশিল্পী বলাই যায় মানুষ্য সমাজে!!
    1,মাহমুদ ভাইয়ে পোষা কুকুরের বিষয়টা নিয়ে একটু বলতে ইচ্ছে হলো -যারা খুব একা থাকেন তাদের কাছে পোষা জিনিস গুলা সন্তানতুল্য হয়। কিছু দিন আগে “টিয়ে পাখি” নিয়ে মামলাটা স্মরণযোগ্য।

    2,গল্পকার মাঝ বয়সী কেন্দ্রীয় লোকটির সাথে এত বেশী মিশে গিয়েছে যে তার নামটাও দেয়া হয়ে উঠেনি। লিখক মনে হয় গল্পের শিরোণামটা আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন এবং সন্ধ্যায় একজন একাকী লোককেই ভাবনায় রাখলে বেশী মানাবে সে জন্য খুব একা একজন লোক বানিয়ে ফেলেছেন। তাকে একা বানানোর সব আয়োজন নিষ্টুরের মতো লিখক করে গেছেন। একা লোকটিকে প্রথমদিকে মনে হয়েছিল বেকার এবং অসুস্থ, পরে অফিসে যাওয়ার কথায় বিশ্বাসে ছেদ ঘটাল।
    একজন অফিসগামী লোক এতটা একা হবেন সেটাও মনে ধরলো না।

    3,যেটা সবচেয়ে বেশী মনে ধরেনি সেটা হলো পনের বছর বয়সে বাবাকে গুলি করে পালিয়ে যাওয়াটা।মায়ের মৃত্যুর দিন কারো ডায়েরী কেন, কোন কিছুই চোখে না পড়ার কথা, সেখানে ডায়েরীটা পড়ে ফেলা এবং অভিমানে বাবাকে গুলি করে ঘর পালানোটা আমার কাছে বেমানান লেগেছে যদিও কথার চমৎকার বুননে মেনে নিতে পেরেছি কিছুটা। আমি সেই পনের বছর বয়সে নিজেকে বসিয়েও আপনার ঘর পালিয়ে ফেরারী জীবনেরে অনুমোদন দিতে পারিনি।22 বছরে বসিয়ে দেখলাম আমি কেঁপে কেঁপে ট্রিগারে হাত রাখতে পারি অন্তত।

    শেকড়ের টান মানুষের আদিমতম বোধ, কেউই হয়তো এর বাইরে নয়।

    এই কথা বলার পরও লোকটিকে কেন একটুও বাস্তবে শেকড়ে নেয়া হলো না? মেঝ আপার সাথে কার বিয়ে হয়েছে সেটা অন্তত জানানো যেত।

    4। গল্পে কখনো মেজআপা,মেজদি আবার কখনো আশাদি, কখনো জেঠিমা কাকীমা এরকম সম্বোধন দিয়ে কখনো মনে হয়েছে সনাতন ধর্মের লোক আবার মায়ের ঘোমটা টানার বিষয়টাতে মনে হয়েছে মুসলীম পরিবার।সম্বোধনের সমন্বয় আবশ্যক।
    আর লিখুম না।

    দুপুরের খাবার হজম হয়ে গেল। এবার চা খেতে হবে। কলিং বেল টেপার দৃশ্য হবে । এবার -চা পানের বিরতী–ও হ্যাঁ চা টা র- টি, আদা কুচি দিয়ে।

    • বিষণ্ণময়ী : ১১-০৭-২০১২ | ১৫:২১ |

      এরশাদ ভাই সনাতন ধর্মের মায়েরা মুসলিম মায়েদের মতো পর্দাশীল ছিলেন আগের সময়ে, শুধু আগের সময়ে নয় এখনো এই চিত্রটা দেখা যায়। সেখানে মায়ের এই ঘোমটা টানার সাথে কোন ধর্মের মিল টা না খুজাই শ্রেয়।

  6. বিষণ্ণময়ী : ১১-০৭-২০১২ | ১৫:৩৩ |

    নি:সঙ্গ মানুষেরা এমনই বোধ হয় ভাবে, আর যারা মা কে বা অন্য কে সব চেয়ে বেশী ভালবাসে তারা সেই প্রিয় মানুষটিকে খুজে ফেরে কখনো সন্তানের চেহারায় আবার কখনো অন্য কোন মানুষের মাঝে এই একা মানুষটিও তাই করেছে।

    গল্পে আশাদির সাথে সম্পর্কের কারণে বাবাকে গুলি করে পালিয়ে আসা একজন কিশোরের একাকি বেড়ে উঠা কিছু অংশ থাকলে আরো ভাল হতো, যে পালিয়ে এসে একা থেকে এতো দূর যায় সে কি করে বড় হলো তার জীবনে কি আর ঘটেছিল আরো কিছু যোগ করা যেতো।

    একা মানুষটির হঠাৎ করে দূর থেকে দেখা কোন অজানা রমনীর মাঝে মায়ের আদল খুজে পাওয়াটা বেশ সুন্দর ফুটিয়েছেন।

    উপরে মাহমুদ ভাই আর এরশাদ ভাই কিছু পয়েন্ট তুলেছেন ভেবে দেখতে পারেন।

    শুভ কামনা রইল।

  7. অরুদ্ধ সকাল : ১১-০৭-২০১২ | ১৫:৫২ |

    কোথায় যেন পড়েছি পড়েছি ,মনে হচ্ছে

  8. রাফিউল রাজী রিটন : ১১-০৭-২০১২ | ১৬:১৭ |

    অদ্ভুত, সুন্দর, গভীর, শক্তিশালী । অনেক মুন্সিয়ানা লুকিয়ে আছে গল্পের পরতে পরতে। জীবন অভিজ্ঞতার আলোকে ঋদ্ধ নানান অনুভব যেভাবে ব্যক্ত হয়েছে, আমার খুব ভাল লেগেছে, যেমন, ‘সময় মানুষের সব অনুভবের ধারালো দাঁত উপড়ে নেয়। এমনকি মমতার নরম হাতেও শক্ত কড়া পড়ে যায়।’ তেমনি শেষের লাইনটি চায়ের কাপে শেষ চুমুক দেওয়ার মতো তৃপ্তিদায়ক। এক কথায় অনবদ্য। শুভেচ্ছা।

  9. মুহাম্মদ সাঈদ আরমান : ১১-০৭-২০১২ | ১৬:২৮ |

    সাবলিল। ভাল লেগেছে । শেষটায় দ্রুত শেষ করার তাড়া লক্ষ্য করেছি ।
    বাড়ীর বাহার নেই অবশিষ্ট, তবে বাগান বিলাসের বাহার আছে। দুই বাক্যে ভিন্ন গঠন রূপ ।
    সবেচেয়ে বড় কথা গল্পের মূল চরিত্রের নাম না জেনে অতৃপ্ত থাকতে হয়েছে।
    ভাল লিখেন বলেই মন্তব্যে অনেক সমালোচনা পেয়েছেন। এখানেই একজন লেখকের আসল সফলতা।
    শুভকামনা আপু ।

  10. মাহবুব আলী : ১১-০৭-২০১২ | ১৮:১৭ |

    কথাশিল্প।
    তবে সত্যি বলতে আমি প্রচণ্ডরকম ফাকিবাজ পাঠক…পড়তে পড়তে ধৈর্য হারিয়ে ফেলছি; যেমনভাবে আমার গল্প পড়ে কেউ কেউ বলেন, আপনার গল্প তো উপন্যাস। কী এত কথা লেখেন? শর্ট কাট ঢিসুম ঢুসুম লেখেন।
    আপনার এ লেখা পড়তে পড়তে নীহার রঞ্জন গুপ্তের ‌‘মাধবী ভিলা’ নামটি মনে পড়ল যেমনভাবে সমরেশ বশুর ‘বিবর’। এ লেখাটি পড়ার জন্য যা একান্ত দরকার…একটু নীরব সময় আর একাগ্রতা। শুভেচ্ছা।

  11. মুক্তিযোদ্ধা : ১১-০৭-২০১২ | ১৯:২৪ |

    সহজ ও সরল ভাষায় মনোরম প্রকাশ। তবে এতো দীর্ঘ। তাও পড়লাম মজাও পেলাম।

  12. জুলিয়ান সিদ্দিকী : ১১-০৭-২০১২ | ২০:৩৯ |

    গল্পের গঠন, নির্মাণ নিয়া কিছু বলার নাই। গল্পকার কোনো চরিত্রের নাম উল্লেখ না করেও গল্প নির্মাণে দক্ষতা দেখাতে পারেন। আর এই ব্যাপারটা বুঝতে আমাকে দুবার পড়তে হয়েছে গল্পটি(অফ লাইনে)। অন্যদের বক্তব্যকেও খানিকটা সমর্থন করার লোভ সামলাতে পারছি না। তবে, আমার কাছে ভালো লেগেছে এই কারণে যে, সংলাপ প্রধান গল্পে একটি নাটকীয় বা মঞ্চের আবহ থাকে বলে সেখানে পাঠকের সুযোগ থাকে নিজেকে সম্পৃক্ত করার। আর এই গল্পটির মতো গল্পে সেই সুযোগটা না থাকলে গল্পে গভীরতা সৃষ্টির সুযোগ থাকে ব্যাপক (যদিও আমার অজানা এই গভীরতা নির্মাণের কৌশল), পাঠক নিমগ্ন হতে পারেন গল্পের আবহের সঙ্গে। সেই সঙ্গে পাঠকের প্রয়োজন হতে পারে কিছুটা ব্যাক্তিগত বিষন্নতার।

    গল্পের শুরুতে বাক্য-বিন্যাসের দুর্বলতা হেতু পাঠককে কিছুটা হলেও হোঁচট খেতে হবে। এ ছাড়াও গল্পকারের দক্ষতাকে অবশ্যই সাধুবাদ দিতে হয় এই কারণে যে, বক্তব্য প্রধান (বর্ণনামূলক) গল্পে পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখার দক্ষতা সব গল্পে থাকে না হয়তো। কিন্তু আমার তেমন কোনো একঘেয়েমী বলে মনে হয়নি। সেই সঙ্গে এও বলি, গল্পের পরিমার্জনা যতোটুকু তার চাকচক্যও তেমন। গল্পকারের জন্য এক চিমটি শুভেচ্ছা।

  13. সুমন আহমেদ : ১১-০৭-২০১২ | ২১:১৭ |

    অফলাইনেই পড়লাম। পড়ে গল্প ভাল লাগলেও কেন যেন “সে” এর ব্যবহার বারবার কানে বাজছিল। হয়তো আমার ধারণা ভুল হতে পারে কিন্তু আমার কাছে তেমনটাই মনে হলো।

    শুভ কামনা রইল।

  14. ফকির আবদুল মালেক : ১১-০৭-২০১২ | ২১:৫০ |

    গল্পটি পড়লাম।

    মন্তব্য পরে আর একবার পড়ে করব আশা করছি।

    • ফকির আবদুল মালেক : ১২-০৭-২০১২ | ১২:১৭ |

      গল্পের প্লটটা দারুন ছিল।
      চরিত্রগুলি বিকশিত হয়নি। গল্প বর্ণনায় যে চমক থাকে তা দক্ষতার সাথে রূপায়িত হয়নি। কেন্দ্রীয় চরিত্রকে সে সে বারবার বলা যাওয়া অনেক সময় বিরক্ত লেগেছে তার চেয়ে তার একটি নাম দিয়ে তার চরিত্রটি বিকশিত করার চেষ্টা করলে আরো বেশি চমৎকার হতো বলে মনে হয়।

      একজন দক্ষ লেখকের হাতে গল্পটি যে রমক দারুন লাগবে বলে মনে হয়েছিল তা হয় নি যদিও তবু সাধারন বিবেচনায় গল্পটি দারুন লেগেছে।

  15. খেয়ালী মন : ১৩-০৭-২০১২ | ১৩:৩৭ |

    সাবলিল ভাবে লেখায় আপনার জুরি নেই
    এক কথায় চমৎকার মনে হয়েছে আমার কাছে
    শুভকামনা থাকলো