তারপর; হারানোর পালা,
যে যার পথ ধরে হেঁটে ফেরে
পরগাছা পথে; দু’ধারে স্বপ্নেরা
ডেকে ফিরে শ্রাবণদিনের মেঘ।
তারপর; নিকাশের খাতাধরে
নামডাক পালা, যে যার
স্মৃতির ফলক খুলে দেখে ফিরে
অগত্যায় আত্মার কান্নারা
জড়ো করে অতীতের কথা।
তারপর; নিশুতিরাতের ঘুম
অন্ধকারঘর, নেই-ডাক প্রহর
আঁকড়ে গেঁথে রাখে বৃক্ষবাঁকল।
কবিতা
|
|
| ৪৪ শব্দ
সারাবেলা পড়েছি তোমার মৌনমনের কবিতা;
জ্যামিতিবৃত্তে জিজ্ঞাসুভেলায় উড়েছি
স্বপ্নসৌরপথে; রেলকামরায় মুখোমুখি দু’জনে।
তোমার চোখে দ্বিধার চশমা, পাশ ফিরতেই
শূন্যতার হাহাকার, আকাশ পুঁড়ছে রৌদ্দুরে;
রেলগাড়ী আপনগতি পথে, জনপথ ছেড়েছে আগেই।
নির্জনতায় বিকেলবেলা বাঁকা মিঠারোদে;
খোঁপাভরে সোনালী চুলেরা নাচে রংধেনুবনে,
কাব্যশ্লেজে চড়ে হারাচ্ছো তুমি
পুরানো রাজকণ্যারদেশে।
একটুপরেই গন্তব্য, তড়িঘড়ি
কবিতা
|
|
| ৫০ শব্দ
আমরা কী উড়াবো আজ
জোছনা বিহার
পাপের পদাবলী ভুলে
শ্লথের শ্লোগানে মুখরপৃথিবী।
আমরা কী উড়াবো আজ
সন্ধ্যার কুঁচিকুঁচি চাঁদ
আর তারার হাসি
মিতালী গানের পদ্য
পাঠকের মনগাঁথা বিহরের ছুটি।
আমরা কী উড়াবো আজ
নদীর স্রোতে জেগে ওঠা
সাদাফেনায় ভাসা
জীবনের জয়গান।
আমরা কী উড়াবো আজ
হলুদ সরিষার
কবিতা
|
|
| ৭১ শব্দ
অস্থিরতা চেপে ধরে বসে আছি
সংসারে; দু’বেলা অন্নযুদ্ধে
আরো পাঁচজনের মতো আমিও মেতে আছি।
যাইযাইমন স্বল্প বাতাসেও ওড়ে
হাওয়ায়ওড়া কিশোরীর ওড়নায় ভাসে তার
প্রিয় স্বাদ; কী দংশনে ছিঁড়ে খায় তুমুল যাপনের শ্লথ।
আংশিক মৃত তার ক্ষণকাল, ঝরাপাতা
নিঃশব্দে পতনের বেদনা পারাপার।
বৃক্ষবাঁকলে ভাসে অতীতের পথ-ঘাট।
কোথাও
কবিতা
|
|
| ৭৬ শব্দ
আমার গ্রীবার কাছে মিশে আছে তোমাদের নাম
সময়ের মতো জীবন্ত রোদ্দুরে কেবলই ডেকে নেয়
স্মৃতির অজুহাত। মুছে ফেলতে চাইলেই তুমুল বৃষ্টি
কেঁদে ওঠে মন ও আঙ্গিনা। বৃদ্ধ বৃক্ষের মতো
আমিও জুড়ে রাখি সবুজ কিশলয়।
আমাদের যাওয়ার পথগুলো বদ্ধ হয়ে গেছে কবেই,
ফেরার পথে আর হাঁটা
কবিতা
|
|
| ৬২ শব্দ