Shobdoneer Blog
মেনু দেখতে ক্লিক করুন
কে বলে বদলে দেবে মানচিত্র !!
শামীম সুজায়েত

খুলনা ও সিলেটকে ভারতের করে নেয়ার এক ফমূর্লা বের করেছে মোদীর বিজেপি। ফর্মুলা আনুযায়ী দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল চলে যাবে পশ্চিমবঙ্গের ভেতর। আর সিলেট ঢুকে যাবে মেঘালয়ের সাথে।

বা: হা:
বাংলাদেশ যেন খেলার পুতুল!
যা খুশী ভাবতে পারো!

ভারতের শিলাচরের “সাময়িক প্রসঙ্গ” নামে একটি দৈনিকে প্রকাশিত বিজেপি নেতার বক্তব্যর খবরটি আজ বাংলাদেশের কোন কোন মিডিয়া প্রকাশ করেছে। কিন্তু যে আমার মানচিত্র বদলে দেবার কথা বলে, আমরা বদলে দেবো তাদের মানচিত্র। আমরা যুদ্ধ করতে জানি। শত্রু এলে অস্ত্রহাতে লড়তে জানি। আমরা বৃটিশদের সাথে চায়ের টেবিলে বসে ম্যাপ কাটাছেড়া করে স্বাধীনতা পাইনি। স্বাধীনতা পেয়েছি ৩০ লাখ শহীদের তাজা রক্ত আর মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে।

পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর মতে, ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা সুব্রাহ্মনিয়ম স্বামী বাংলাদেশের কাছে এক তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড দাবি করেছেন।
কেনো করলেন?
মি. স্বামী মনে করছেন, তাদরে অঞ্চলে বাংলাদেশ থেকে বহু অনুপ্রবেশকারী চলে গিয়ে বসবাস শুরু করছে। এতে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ভারত। তাই অনেকটা ভারসাম্য রক্ষায় খুলনা ও সিলেট অঞ্চল ভারতের করে নেয়া প্রয়োজন। বিষয়টি এখনও মোদীর কান পর্যন্ত পৌঁছেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে এনিয়ে ঢাকার ওপর চাপ দেয়া হবে।

বিজেপির শীর্ষনেতা স্বামীর দেয়া ফর্মুলা আনুযায়ী খুলনা ও সিলেট ভারত ভুক্ত হলে বাংলাদেশের মানচিত্রর রুপ কেমন রুগ্ণ দেখাবে তা আঁকিয়েও দেখলাম। মেজাজ চড়ে গেলো খুব। আপনারও মেজাজ খারাপ হবে, চিত্রে দেখুন:
বিজেপির শীর্ষ নেতা স্বামীর প্রস্তাবনা অনুযায়ী বাংলাদেশের ম্যাপ

কথা হচ্ছে, রাষ্ট্রের সীমারেখা নিয়ে কথা বলার অধিকার যদি হয় সবার, তবে আমরাও প্রশস্ত করতে পারি আমাদের মানচিত্র। মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসাম হতে পারে বাংলাদেশ ভুক্ত। রাজশাহীর ওপাশের অঞ্চল মুর্শিদাবাদও হতে পারে বাংলাদেশের একটি জেলা। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বেশ কিছু অংশ নিতে পারি আমরা।

সে হিসাবে বাংলাদেশের মানচিত্র কেমন হতে পারে তা তুলে ধরা হলো:
BJP BANGLADESH
ত্রিপুরার উত্তর ও দক্ষিণে বাংলাদেশ। এক কথায় সীমান্তের ৮৪ শতাংশ বাংলাদেশ। মানুষের মুখের ভাষা বাংলা। ৩৫ শতাংশ মুসলিম। এদের অনেকখানি ভরসা বাংলাদেশ। সুখে-দুঃখে কাছাকাছি, পাশাপাশি। আখাউড়া থেকে আগরতলা একটুখানি। কলকাতার রসগোল্লার চেয়ে কুমিল্লার রসমালাই এখানে সহজলভ্য। ট্রেনে আগরতলা থেকে কলকাতা যেতে তিন দিন। সে তুলনায় ঢাকা নাগালে।

assam-map

এদিকে সিলেটের শেষ সীমান্তে অর্থাৎ তামাবিল থেকে দূরে যে পাহাড়গুলো দেখা যায়, সেগুলো কেবলই ভারতের হলো কেনো? ভাষা ও ধর্ম বিবেচনায় বাংলাদেশের সীমানা ভুক্ত হওয়ার কথা নয় কি! কিন্তু বেছে বেছে পাহাড়গুলো বাদ দিয়ে শ্রেফ সমতল অঞ্চল টুকু পেলো বাংলাদেশ।

অপরদিকে মুর্শিদাবাদের ক্ষেত্রেও তাই। ওই অঞ্চলের মানুষের কাছে বাংলাদেশ অনেক আপন, অনেক কাছের, যতটা না কাছে কলকাতা। এ অঞ্চলের ২৬টি থানার মানুষের মুখের ভাষা বাংলা। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান।

meghalaya

বিশ্ববাসীর কাছে “আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মুর্শিদাবাদ” বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি তুলে আমরা সামিল হতে পারি এক কাতারে। যুক্তিতর্কে, জনমত জরিপে কিংবা বসবাসরত মানুষের মতামতের প্রেক্ষিতে ভারতের ওই রাজ্যগুলোর মালিক দাবি করতেই পারে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ত্রিপুরাকে বাংলাদেশের অর্ন্তভুক্ত করা আমাদের খুব স্বাভাবিক দাবিগুলোর অন্যতম। এটি নিয়ে বিশ্বের দরবারে আমরা আলোচনা তুলতে পারি। কেননা ত্রিপুরা সম্পূর্ণরূপে আমাদের পেটের ভেতরে রয়েছে। ত্রিপুরাকে আমরা নিয়ে নিলে মানচিত্র কেমন হতে পারে, সেটির একটি খসড়া দেয়া হয়েছে।

TRIPURA IN BANGLADESH

কিন্তু আমরা কখনও এমন প্রস্তাবনার পথে হাঁটিনি। বরং সবসময়ই সীমান্ত নিয়ে ভারতের সাথে থাকা অমিমাংসিত ইস্যুগুলোর যৌক্তিক সমাধান চেয়ে এসেছি।

এত সব কথার প্রয়োজনীয়তা ছিলনা। কিন্তু বাস্তবতা হলো ৪৭ এ দেশ ভাগের সময় আমাদের রাজনীতিকরা ছিলেন না বলিষ্ট কোন ভূমিকায়। তৎকালীন মুসলিম নেতা মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট এলাকাগুলো বেছে নেয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন বেশি। মজার ব্যাপার হচ্ছে যেসব অঞ্চল নিয়ে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার ছিল রাজত্ব, সেইসব অঞ্চলগুলো আমরা পাইনি।

অথচ এগুলো কি বাংলাদেশের প্রাপ্য না?

ইতিহাস ঘাটলেও দেখা যায়, ৪৭ এ দেশ ভাগের আরও দুবছর সময় পর্যন্ত আসাম ও বাংলা ভারত ভুক্ত ছিলনা। কাগজ কলমে ৪৯ সালে ভারতের রাজ্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ইতিহাসে আছে, আসাম ও বাংলা মিলে “বেনসাম” নামে স্বতন্ত্র একটি রাষ্ট্র করার প্রস্তাবনা উঠেছিল তৎকালীন সময়ে। কিন্তু এটি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা সেভাবে এগোয়নি।

এখন যে প্রস্তাব উঠতে পারেনা, তা নয়। আমাদের মানচিত্র নিয়ে কেউ যদি কাটাছেড়া করার স্বপ্ন দেখে, তবে আমরাও গুড়িয়ে দেবো তাদের স্বপ্ন। বদলে দেবো তাদের মানচিত্র।

  মন্তব্যসমূহ (১৮)