নাম তাঁর মোঃ হাফিজউদ্দিন।পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের বাকপুর গ্রামের মৃত বরকত আলী মিয়ার ছেলে। ১৯৪৯ সালে তিনি বিয়ে করেন পাশের বাড়ির ৬ বছরের শুকুরী বিবিকে। বিয়ের পর ৬-৭ বছর শুকুরী বিবি হাফিজউদ্দিনের মা সূর্যবানু বিবির সঙ্গেই থাকতেন।। এর পর ১৯৫৬ সাল হতে তাঁরা একসঙ্গে ঘর করা শুরু করেন।
এর ঠিক ১৯ বছরের মাথায় হাফিজউদ্দিনের প্রিয়তমা তাঁকে ছেড়ে চলে যান পরপারে। কিন্তু স্ত্রীর অকাল চলে যাওয়া তিনি মেনে নিতে পারেন নাই। স্ত্রীর স্মৃতিচারণ করেন হাফিজ; বলেন, ‘মৃত্যুর আগের রাতে বিবি আমার কাছে মিষ্টি খেতে চেয়েছিল, মিষ্টি এনে দিয়েছিলাম। রাতে দু’জনে মিলে মিষ্টি খেয়েছি। রাতভর দু’জনের অনেক কথা হলো। ‘আমার জন্য কানবেন না, আমি থাকব না এমন কথা বলে পরদিন বিবি আমার হাঁটুতে মাথা রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।’
তাই স্ত্রীর এমন বিদায়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েন হাফিজ। দাফনের পর ছুটে যান স্ত্রীর কবরে। ডাকতে থাকেন তার প্রিয় সঙ্গিনী বিবিকে। কিন্তু সেই আকুলতায় সাড়া দেননি শুকুরী বেগম। হাফিজ ভাবেন, ‘আগের রাতে বিবি আমার সঙ্গে ছিল, কথা বলেছে, আজ কেন নেই। কোথায় গেল তার আত্মা।’
স্ত্রীর আত্মার খোঁজে গৃহত্যাগ করেন হাফিজ। হেটে রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন বন-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ান। আহার ও নিদ্রাহীন ঘুরতে ঘুরতে কুমিল্লার সোনাকান্দা এলাকায় এক পীরের সানি্নধ্যে আসেন হাফিজ। আবদুর রহমান নামের ওই পীরের দরগায় শুরু করেন সাধনা আর তপস্যা।
পীরের দরগায় ৪১ দিন কবরের ভেতর এবং ১ বছর ভাত না খেয়ে দুধ আর কলা খেয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে ১৯৭১ সালে শুরু হয় স্বাধীনতা যুদ্ধ। যুদ্ধের পর ১৯৭৮ সালের দিকে হাফিজউদ্দিন নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। ওই সময়ের অগ্রহায়ণ মাসের ২ তারিখ হাফিজউদ্দিন স্ত্রীর কবরের পাশে আশ্রয় নেন। ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা ২৭ বছর স্ত্রীর কবরের পাশে ঘর তুলে বসবাস করেন হাফিজউদ্দিন। এ দীর্ঘ সময়ে বনজঙ্গলে ঘেরা নির্জনস্থানে ভয়ভীতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ তার ভালোবাসার কাছে পরাজিত হয়েছে।
২০০৬ সালে আত্মীয়-স্বজনদের চাপে বিবির কবরস্থান ছেড়ে আসতে হয় হাফিজউদ্দিনকে, সবাই মিলে জোর করে বিয়ে করান আরেকটি। কিন্তু কবরস্থান ছাড়লেও বাড়িতে ফেরেননি তিনি। বাড়ির বাইরে নিজের কবর খুঁড়েছেন তিনি। সেখানেই ঘর তুলে বাস করছেন এখনও। তার বর্তমান স্ত্রীর সন্তানরাও বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বাকপুর গ্রামে গিয়ে হাফিজউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তার জীবনকাহিনী। পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে চোখ ভিজে আসে হাফিজউদ্দিনের। দুহাতে চোখ মুছতে মুছতে তিনি জানান, সংসার জীবনে আমরা একে অন্যকে ছেড়ে কখনও ছিলাম না। বিয়ের পর থেকে একাত্ম হয়ে দু’জন দু’জনকে অনুভব করতাম। কেউ কাউকে কষ্ট দিইনি।
হাফিজ জানান, স্ত্রীর কবরের পাশে ২ অগ্রহায়ণ বসবাস শুরু করার কারণে বর্তমানে প্রতি বছরের ওই তারিখে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন তিনি। মৃত্যুর পর পরকালে যেন বিবির সঙ্গে মিলিত হতে পারেন, বারবার এমন দোয়া কামনা করেন হাফিজউদ্দিন।
সূত্র: সমকাল




এই মাত্র সংবাদটি পড়লাম। আমিও ভাবছিলাম এই খবরকে ভিত্তি করে একটা লেখা লিখব। আপনি পোষ্ট দিয়ে শেয়ার করেছেন তার জন্য ধন্যবাদ আমিন ভাই।
আপনাকেও ধন্যবাদ।
গতকালকের প্রথম আলোত শোকসংবাদ নামে একটা সংবাদে চোখ আটকে গেলো, স্বামী যে দিন মারা যান স্ত্রী তার পরের দিনই মারা যান। ভদ্রলোক সিটিসেলে কর্মরত ছিলেন।
এটাও ভালবাসার জ্বলন্ত একটা উদাহরণ। হাফিজউদ্দিনের জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেনো মৃত্যুর পরে তার স্ত্রীর সাথে তাকে রাখেন।
সংবাদটা শেয়ারের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ আপনাকে
মনটা উদাস হয়ে এলো।
কেন মুরব্বী ? আমি কি আপনার এ উদাসীনার জন্য কোন রকম দায়ী ? তাহলে ক্ষমা করে দিবেন, আর ভাবীকে বলবেন না যেন!!

ঠিক আছে।
আহারে কেনো ভাইয়া?? ভাবীতো পাশেই আছে।
ভাবী আছে হয়ত………….তবে এ কাহীনিটি কিন্তু কয়দিন আগের মুরুব্বীর তাজমহল পোষ্টের চেয়েও অতি মাত্রার ভালোবাসার কাহীনি। এটা স্বীকার করবেন নিশ্চয়ই ?

আমি মন্তব্যটা মুরুব্বী ভাইকে করেছিলাম কিন্তু নেটের সমস্যার কারণে ভুলে এখানে মন্তব্য এসেছে।
উজ্জ্বল এক ভালবাসার দৃষ্টান্ত । এদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আল্লাহ যেনো জান্নাত দেন। শেয়ারের জন্য অবশ্যই ধন্যবাদ জানাই।
aito dehi kothin balobasa. ahon diner bitla polapan ato valo basena.
এটা আমি-ও মনে করি…
শ্রদ্ধা জানাই এ ভালবাসার প্রতি।
টাকা ছাড়া শুধু প্রেম ভালবাসা দিয়েও তাজমহল বানান যায়। জানাবার জন্য ধন্যবাদ।
সবাই কি আর সব কিছু করতে পারে!!!…
অ-সাধারণ এই ভালোবাসা-কে শ্রদ্ধা…