আফরোজা হক-এর ব্লগ
ছোটবেলায় কলাপাতার ছাউনি আর বেড়া দিয়ে খেলাঘর বানাতাম। সেই ঘরে পুতুল-কন্যা আর পুতুল-পুত্র থাকতো, আমি তাদের মা। পুতুলের বিয়েতে রান্না হতো পিঁপড়ের মাটির পোলাও , কচুরীপানার মাছ, কলাপাতার ডাটির গরুর মাংস, কাদা মাটির হরেক রকম পিঠা আর জামরুল ফুলের সেমাই। যা ইচ্ছে তাই দিয়ে সেখানে পৃথিবীর দুর্লভতম খাবারটিও রান্না করা যেতো। সেই খেলা ঘরে ছিলো না কোনো বেঁধে দেওয়া নিয়ম, ছিলো না বাধ্য-বাধকতা। ছিলো কেবল “যেমন ইচ্ছে সাজাবার” অপার স্বাধীনতা। যতই দিন গেলো, বড় হলাম, আমার খেলাঘর-আমার পুতুলেরা-পিঁপড়ের মাটির পোলাও চাল ক্রমশঃ দূরে সরে গলো। এক সময় খেলাঘর হারিয়েই গেলো। কিন্তু এই বড় আমি-র ভেতরে লুকিয়ে রয়ে গেলো সেই ছোট আমি। তার ছোট হৃদয় এখনও খুঁজে ফেরে খেলাঘরের প্রশান্তি।
সময় বদলের সাথে বদলেছে খেলাঘরের সকল উপকরণও। ব্লগ আমার খেলাঘর। এখানে আমি খুঁজতে আসি আমার বিবর্তিত ছেলেবেলা আর ইচ্ছের স্বাধীনতা।
অনেক দিন পর
আজ আবার ডাক পড়লো
ইন্দ্রের সভায়। দেবতার
ঈপ্সিত নাচ-মুদ্রা মুঠোয় পুরে
উদ্বাহু অপ্সরা আমি নেচে চলি,
ঊষার আলোর মতো নিজেকে ছড়িয়ে দেই।
ঋষি হয়ে থাকতে নেই এখানে;
এখানে এলেই ঘোর প্রেমী হতে হয়।
ঐ দেখো, ঐসব প্রণয়ীরা,
ওরাও
কবিতা
|
|
| ৬৫ শব্দ
আমার তো চাঁদের জন্যও মন উতলা হয়,
জোছনা,নদী, মেঘের জন্যও মন কেমন করে,
তাই বলে ওদেরকে কি আমি সেসব বলে বলে বিব্রত করি!
মাঝরাতে দূর-আকাশে ফুটে থাকা
একলা তারাটাকেও তো আমি ভালোবাসি,
এর মানে তো এই নয় যে সেও আমায় ভালোবাসবে,
তারও আমাকে ভালোবাসতেই হবে!
তোমার জন্য বুকের বনভূমিতে
কবিতা
|
|
| ৬৯ শব্দ
বুক পকেটে ডানা-ভাঙা স্বপ্ন নিয়ে
অমন ফেরিওলার মতো ঘুরছো কেন?
আমি তো বলেছি, তোমায়
একজোড়া মোম-শাদা ডানা দেবো।
শুধু মনে রেখো,
বারণ আছে সূর্যের কাছাকাছি যেতে।
নিঃশ্বাসের ওম গুঁজে দেবে বলে
কবে থেকে বুক পেতে রেখেছি,
অথচ তুমি রোজ দীর্ঘশ্বাসের ঝড় তোল
বালিশের বুকের ভেতর।
তোমার ওখানে নাকি
দাবানলে পুড়ে
কবিতা
|
|
| ৭৪ শব্দ
আজ আমার প্রিয় সখি ব্লগার সাজেদুন নাহার এর শুভ জন্মদিন।
সখি, তোমার জন্য আমার মনের সকল শুভ কামনা আর অনেক ভালোবাসা। যেখানেই থাকো, ভালো থেকো তুমি।
সখি, তোমায় ভালোবাসি।
কতটুকুন ? কতোখানি ?
কেমন করে বুঝাবো ভাই !
মাপটা কি তার নিজেও জানি
বিবিধ
|
|
| ১০৬ শব্দ ১টি ছবি
(১৬১১২০১২)
ঘুম পাড়ানো, ঘুম তাড়ানো
ঘুম পাড়িয়ে দেবে বলে,
তাড়িয়ে দিলে ঘুম,
রাত-দুপুরে খুব পড়েছে
ঘুম পাড়ানোর ধুম!
চোখে-মুখে চুম্লে অমন
টুকুস টুকুস করে,
এরপরে আর ঘুম থাকে কার!
কে রয় ঘুমের ঘোরে !
তারচে’ বরং এসো দু’জন
ঘুমের কথা ভুলি;
গল্প-কথায় রাতের চুলের
দীঘল বেণী খুলি।
**********
(২১১০২০১২)
কোনখানে কেন
কবিতা
|
|
| ১১৫ শব্দ
তোমার আঙুল বেয়ে
টুপ করে ঝরে পরে যে শিশিরটুকু
তার তলে মুখ পেতে দেই,
ভুল করে বুক পেতে দেই
ভুলে যাই
সব শিশিরের সুখ
পেতে নেই, পেতে নেই।
_________________
আফরোজা হক।
৭ নভেম্বর, ২০১১ ইং।
কবিতা
|
|
| ২৮ শব্দ
কঠিন দেশের কঠিন অধীশ্বর!
জানতাম না তো
ভেতরে ভেতরে তুমি এমন কোমল !
আমার প্রাগৈতিহাসিক পদ্মবীজেরা
বহুবার্ষিক অনাবৃষ্টির পরও
নান্দনিকভাবে বেঁচে র’বে তোমার গহীনে
জানতাম না, জলেরও আগুন থাকে,
সে আগুন পোড়ায় এমন !
এ পোড়ার আদি নেই, অন্ত নেই
তুমি আমার অনন্ত অসুখ ।
তোমাকে পাবার জন্য
কতোবার জন্মাবো আমেনার্তাস
কবিতা
|
|
| ৫৪ শব্দ ১টি ছবি
১।
ঠিকানা
১০ সেপ্টেম্বর, ২০১২ ইং। জাজিরা, শরীয়তপুর।
আমাদের দু’জনের দেখা হবে না’কো,
সমতল মাটি আর মাঠ হলো আমার ঠিকানা,
তুমি তো মেঘের দেশে থাকো,
মেঘের দেশের পথ আমার অজানা।
২।
প্রজাপতি সুখ
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২ ইং। জাজিরা, শরীয়তপুর।
আমার তো সংসার সূর্যের আলো দিয়ে ভরা;
মমতায়
ছড়া ও পদ্য
|
|
| ২৫৪ শব্দ
★ ° ☾ °☆ * ● ¸ ★ ° : • ○ ° ★ * ☾ ° ● °☆ ¸ ● ★ ★ ° ☾ ☆ ¸ ¸ ★ ° ☆
☼ MERRY CHRISTMAS AND A HAPPY NEW YEAR ☼
বিবিধ
|
|
| ১৪২ শব্দ ১টি ছবি
দ
দ দিয়ে চাই দোস্তি তোমার
দ দিয়ে চাই দান,
দ দিয়ে হোক দুঃখ ব্যাধি
সকল অবসান।
দ দিয়ে চাই দূর আকাশের
দ্যূত্যি দেওয়া তারা,
দ দিয়ে চাই দারুন জীবন
দুষ্ট মানব ছাড়া।
দ দিয়ে চাই দস্যি ছেলে
কাট্টি ঘুড়ির পিছু,
দ দিয়ে চাই দূর্বা ঘাসে
শিশির বিন্দু কিছু।
দ দিয়ে চাই দখিন হাওয়া
দুপুর বেলার ঘুম,
দ দিয়ে
বিবিধ
|
|
| ২০৯ শব্দ
এতো ছোট ছোট চিঠি লেখো কেন !
তোমাকে পড়ে পড়ে কাটিয়ে দিতে চাই
সকাল-দুপুর-সাঁঝ, রাতের প্রায় সমস্ত প্রহর।
লিখেতে গিয়ে যদি দেখো কথা ফুরিয়েছে,
কুয়াশার কাছ থেকে,
পরদেশী মেঘেদের কাছ থেকে,
শিশিরের কাছ থেকে কথা চেয়ে নিও।
চেয়ে নিও নাম-না-জানা বুনোফুলের কাছ থেকে,
কবিতা
|
|
| ১০৮ শব্দ
হে শিশির! আয়ুষ্মান হও।
মেলে দাও সূর্যদীঘল ডানা!
সোনালী আঁচল উড়ানো রোদ-মেয়েরা
তোমার প্রাগৈতিহাসিক আরশিতে
চকিতে দেখে নিক তাদের বৈকালিক সাজ।
হে শিশির!
সমুদ্রজলের মতো,
ভেজা জোছনার মতো হও আয়ুষ্মান।
সব আলো চলে যাক ঘুম-ঘরে,
তোমাতেই করি আজ নিমগ্ন সিনান।
______________________
আফরোজা হক,
০৭ ডিসেম্বর, ২০১২
কবিতা
|
|
| ৪৬ শব্দ
মুক্তিযুদ্ধ দেখেছে এ দেশ, দেখেছে তার বিজয়,
মুক্তিযুদ্ধ
|
|
| ৩৯৯ শব্দ
একটু নাহয় একতরফাই ভালোবাসো,
লেবেল-আঁটা প্রেমটা নাহয় তোমার সাথে নাই হলো।
ইস্ত্রি করা আমি’র যে রোজ ভাঁজ ভেঙে দাও!
যখন তখন লাজ ভেঙে দাও!
দিনের রাতের সকল প্রহর দখল করো সঙ্গোপনে!
আর কী তবে থাকে বাকী প্রেমে পড়ার, তাই
কবিতা
|
|
| ৯৮ শব্দ ১টি ছবি
নারী জন্মে কন্যা হয়ে, শৈশবে সে ভগিনী।
কিশোরীর প্রেমআহালাজুক লাজুকমধুময়!
কোন কোন মেয়ে বুঝি তরুণী হবার পর প্রিয়তমা হয়।
যৌবনে প্রেমময়ী ভার্যা,
হেমে-প্রেমে, হিম ও আগুনে সে সুকোমল আশ্রয়।
এরপর স্নেহময়ী মাতা সে, সে-ই হয়
গল্পে গল্পে ঘুম ফেরানো – ঘুম পাড়ানো পিতামহী।
আমি নারী, শাশ্বত
কবিতা
|
|
| ৬১ শব্দ