অতৃপ্ত আত্নার আত্নকথন
আমার বাঁচার কথা ছিল না, তবু বেঁচে আছি অতৃপ্ত আত্নার মত। আত্নার কোন রক্ত-মাংশের শরীর থাকে না, কিন্তু জগতের সবার মত আমারও শরীর রয়েছে। তারপরও আমি অতৃপ্ত আত্না। নিজেকে এখন জীবন্ত মানুষ বলে ভাবতে পারি না। মৃতদেহের উপর আঘাত করলে সে দেহ কোন ব্যাথা পায় না; আমি আঘাত সইতে সইতে র্নিবাক হয়ে গেছি, এখন আর ব্যাথা পাইনা। ইরাকের যে উর্বর জমিন হাজারো মানুষের রক্ত শুষে নিতে পারে, সেখানে আমি কেন তার মত হতে পারবোনা!!
তিন বছরের ছোট খোকার রক্তস্নাত ছবিটা এখনো মানসপটে ভেসে উঠে। সেই যে স্কুলে যাওয়ার সময় বলে গেল- “বাবা, আমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবো”। আমার খোকা কথা রেখেছিল। সাদা কাফনের কাপড়ে নতুন সাজে খোকা আমার কাছে ফিরে এসেছিল। গাছের ডালে ভাইয়ের রক্তাক্ত ঝুলন্ত লাশের স্মৃতি এখন আমাকে আর কাঁদায় না। বিশ্বাস করো, ও আর কোনদিন স্বাধীনতা চাইবে না… কোন দিন না..। তোমরা ওর কণ্ঠ চিরতরে রুদ্ধ করে দিয়েছ, কিন্তু আত্নার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে পেরেছ?
দু’চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে একমাত্র মেয়েটি আমার সাজানো সংসার জীবন শুরু করেছিল। অতঃপর একদিন সন্ধার আলো-আঁধারীতে রাস্তার পাশের গমক্ষেতে তার শতছিন্ন দেহটি খুঁজে পাওয়া গেল। তোমাদের পশুত্বের ক্ষত চিহ্ন নিয়ে সেও পাড়ি জমালো অচেনার দেশে, না ফেরার দেশে। আমি কি সত্যিই পাগল হয়ে গেছি! হয়তো, হয়তোবা না। আমার অনেক আগেই পাগল হওয়ার কথা ছিল। বোমায় বিদ্ধস্ত বাবা-মা আর স্ত্রীর ক্ষত-বিক্ষত দেহ; শকুনের ভয়ার্ত চাহিনী দেখে আমি কেন পাগল হলাম না! কেন? বলতে পারো?
অতৃপ্ত আত্না কি কখনোই তৃপ্ত হবে না? এ অতৃপ্ত আত্নার হাহাকার ধ্বনি আমার মুসলিম ভাইদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করে না। প্রবাহমান এই রক্তের নদী ওরা দেখতে পায়না। ওরা এখনো ঘুমিয়ে বিলাসিতার চাদরে। ওদের কণ্ঠে আত্নকলহের ধ্বনি; সে ধ্বনির নিচে চাপা পড়ে যায় হাজারো মজলুমের শেষ আর্তচিৎকারটুকু। তবে ওরাও একদিন জাগবে…. ওরাও একদিন জাগবে…। যেদিন আমাদের দেহের শেষ রক্তবিন্দু চুষে নিবে গণতন্ত্রের মুখোশধারী সাম্রাজ্যবাদীরা, যেদিন হায়েনাদের কালোহাত ওদের শির পর্যন্ত পৌঁছবে, সেদিন ওরা ঠিকই জেগে উঠবে। হয়তো তাদের পরিণতি আমাদের চেয়ে ভিন্নতর হবে না।



অতৃপ্ত আত্না কি কখনোই তৃপ্ত হবে না?
না, অন্তত ইহ জগতে না। আপনার লেখাটা খুব ভাল লাগল। যেন আমার মনের কথা।
আত্না = আত্মা
শুভকামনা
ধন্যবাদ আপনাকে।
তবে ওরাও একদিন জাগবে…. ওরাও একদিন জাগবে…। যেদিন আমাদের দেহের শেষ রক্তবিন্দু চুষে নিবে গণতন্ত্রের মুখোশধারী সাম্রাজ্যবাদীরা, যেদিন হায়েনাদের কালোহাত ওদের শির পর্যন্ত পৌঁছবে, সেদিন ওরা ঠিকই জেগে উঠবে। হয়তো তাদের পরিণতি আমাদের চেয়ে ভিন্নতর হবে না। অসামান্য কথা মালা ভালো লাগলো, ধন্যবাদ।
ভাল লাগার জন্যে ধন্যবাদ।
সেই দিনের অপেক্ষায় চেয়ে থাকা যেদিন ওরা জেগে উঠবে!
অপেক্ষার প্রহরে না থেকে আসুন আমরা নিজেরাই জেগে উঠি। ধন্যবাদ।
একদিন জাগবে…. ওরাও একদিন জাগবে…। যেদিন আমাদের দেহের শেষ রক্তবিন্দু চুষে নিবে গণতন্ত্রের মুখোশধারী সাম্রাজ্যবাদীরা, যেদিন হায়েনাদের কালোহাত ওদের শির পর্যন্ত পৌঁছবে, সেদিন ওরা ঠিকই জেগে উঠবে।
শুভকামনা
আপনার প্রতিও শুভকামনা রইল।
পড়লাম। বেদনা ভরা অন্তর। চোখে ছল ছল জল নামে। সুন্দর উপস্থাপনা। প্রাঞ্জল ভাষা। অদ্ভুত-অভিনব প্রকাশ। শুধু সময়ের ব্যপার। দোয়া রইলো ভালো থাকবেন।
ভাল লাগলো আপনার সুন্দর মন্তব্যটি। অনেক ধন্যবাদ।
অতৃপ্ত আন্তার শান্তি তখনই আসবে যখন তথাকথিত বিলাসী আত্মার বিনাশ হবে।
ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া
ধন্যবাদ ভাইয়া
অতৃপ্তটা আমাদের সবারই মাঝে রয়েছে আর তা বোধ হয় থেকেই যাবে।
ভাল লাগল লেখাটা।
আপনাকে স্বাগতম আপু!