http://www.shobdoneer.com/shaheduzzaman-lingkon/14728
গত পর্বের পর
……………………………………………………………………………………………………………………..
সকালবেলা উঠেই গতরাতের কথা মনে পড়ে তার। স্যান্ডেলটা ঘরের ডানদিকের এককোণে পড়ে আছে। এখানে আর থাকা সম্ভব নয় ভাবে সে। বাসাওয়ালাকে জানানো দরকার ঘটনাটা। কিন্তু বাসাওয়ালার সাথে চুক্তি হয়েছে তিনমাসের মধ্যে সে বাসা ছাড়তে পারবে না। দুই মাসের টাকা অগ্রিম নিয়েছে। বাসাওয়ালাকে ঘটনাটা জানাতেই বলে- পাগল নাকি আপনি? কী বলেন এসব? কিছুতেই বিশ্বাস করতে চায় না বাসাওয়ালা শরফুদ্দিন। শফিকের অবস্থা কাঁদো কাঁদো। সে শরফুদ্দিনকে অনুরোধ করে কোনো রহস্য তার জানা আছে কিনা। শরফুদ্দিন অস্বীকার করলেও তার মুখ দেখে মনে হয় কিছু একটা লুকাচ্ছে। শফিককে জানিয়ে দেয় তিন মাসের আগে বাসা ছাড়া যাবে না। আর ছাড়লে বাকি একমাসের টাকা দিয়ে যেতে হবে। এটাই তার সাফ কথা। গত্যন্তর না দেখে শফিক শরণাপন্ন হয় বাড়ির দাড়োয়ানের। দাড়োয়ানকে একপাশে ডেকে নিয়ে ঘটনাটা বলে সে। শফিকের ধারণা বাড়ি নিয়ে কোনো রহস্য থাকলে তা দাড়োয়ানের অজানা থাকার কথা নয়। দাড়োয়ানের ভঙ্গি দেখে শফিকের মনে হয় শুকনো কথায় চিড়ে ভিজবে না। পকেট থেকে একটা পঞ্চাশ টাকার নোট বের করে হাতে গুঁজে দিতেই বলে- করেন কি শফিক ভাই করেন কি? এই বলে টাকাটা শার্টের পকেটে রেখে এদিক-ওদিক চেয়ে দেখে কেউ দেখে ফেললো কিনা। ঘুষ খাওয়া যেনো হালাল, যদি না পড়ে ধরা। তারপর গদগদ করে সব কথাই বলে শফিককে। আরো বিস্তারিত জানার জন্য পাশের কাবটা দেখিয়ে দেয়। কাবের ছেলেরা নাকি আরো ভালো জানে।
শফিক যা জানতে পারে তার সারাংশ হলো- ঐ রুমে মিলন নামের এক ছেলে থাকতো। একটা অফিসে কেরাণীর চাকরি করতো। ছেলেটার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ ছিলো। ছেলেটার ইনকামের টাকায় চলতো পুরো পরিবার। একদিন মধ্যরাতে দেশের একটি বিশেষ বাহিনী এলো। তারা নাকি খবর পেয়েছে এ বাসার চিলেকোঠায় একজন সন্ত্রাসী থাকে। রুমে ঢুকেই তারা ঘুমন্ত ছেলেটির ডানপায়ে গুলি করলো। কিন্তু ছেলেটি ছিলো সম্পূর্ণ নিরপরাধ। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলো। ডাক্তার জানালো তার ডান পা-টা কেটে ফেলতে হবে। তারপর কেটে ফেলা হলো তার পা। দেশের বিশেষ বাহিনীটি এরপর তৎপর হলো ছেলেটিকে কীভাবে সন্ত্রাসী বানানো যায়।
শফিকের মুখে স্যান্ডেলের কাহিনী শুনে দাড়োয়ান খুব ভীত হয়ে পড়লো। সিদ্ধান্ত নিলো এখানে আর চাকরি করবে না। এবাড়িতে ভূত আছে। শফিক তাকে আশ্বস্ত করলো মানুষটাতে মারা যায় নি। একটা পা তার কী ক্ষতি করবে? আর ছেলেটা তো নির্দোষ ছিলো। তার পাও তেমনি নির্দোষ। কারো ক্ষতি করবে না। দাড়োয়ান যেনো বুকে বল পেলো। অকথ্য ভাষায় গালিও ছুঁড়লো বিশেষ বাহিনীটিকে উদ্দেশ্য করে।
পেপারে নাকি এসব ঘটনা নিয়ে বেশ লেখালেখি হয়েছে। কিছুদিন থেকে বাসা খোঁজার ব্যস্ততায় পেপার পড়ার সময়ই পায় নি শফিক। আর এ কয়েকদিনে স্যান্ডেল রহস্য নিয়েই ছিলো তার যতো চিন্তা-ভাবনা। পাশের যুব সংগঠনে শফিক নিজের পরিচয় দিয়ে আরো বিস্তারিত শুনলো। শফিক বললো, আমি হাসপাতালে গিয়ে মিলনের সাথে দেখা করবো। একটা ছেলে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললো, সাংবাদিকদের যাইতে দিতেছে না আর আপনারে দেবে? শফিক এবার আরো আশ্চার্যান্বিত হয়। ছেলেটাকে দেখতেও যাওয়া যাবে না? শফিকের মনে হয় ছেলেটার কাছে মাফ চাইলে হয়তো ছেলেটার পায়ের আত্মা তাকে মুক্তি দেবে। কিন্তু সে পথটাও খোলা থাকলো না।
শফিক অফিসে ফোন করে জানালো সে একটা বিপদে পড়েছে তাই আজ যেতে পারবে না। একটা পেপার কিনে সে খুঁজতে থাকলো কাক্সিক্ষত খবরটি। প্রথম পৃষ্ঠায় এই ঘটনা সংক্রান্ত একটা খবর ছাপানো হয়েছে। পেপারে লিখেছে- মিলনের সাথে এ অঞ্চলের কুখ্যাত সন্ত্রাসী খোঁড়া হালিমের যোগসাজোশ আছে বলে জানিয়েছে বিশেষ বাহিনী। শফিকের বাম পা-টা শির শির করে ওঠে। ওর চোখের সামনে ভেসে ওঠে দু’টো স্যান্ডেলের হাওয়ায় হেঁটে বেড়ানোর দৃশ্য। (সমাপ্ত)
উৎসর্গঃ লিমনকে।



ধন্যবাদ মুরুব্বী।
ধন্যবাদ লিংকন ভাই সুন্দর এই গল্পটি লিমনকে উৎসর্গ করার জন্য । লিমনের কাটা পায়ের অভিশাপে হয়তো একদিন দেশের ঐ এলিট বাহিনী ধ্বংস হবে । সেই দিনের প্রত্যাশায়- ভালো থাকুন সবসময় ।
ধ্বংস নয়, তাদের হেদায়েত হোক। এজন্য সরকারের ভূমিকা অগ্রগণ্য। কিন্তু সরকারের যে ভূমিকা দেখা গেলো তাতে এ রকম অভিশাপ ছাড়া আমরা আর কী করতে পারি!
আমি ভাবলাম, ডা. মানুষ গল্পটাকে বাস্তব কোন যুক্তি দিয়ে শেষ
করবেন! না শেষে এভাবে!
কেনো ভাই গল্পের মোড়টা পছন্দ হয় নি?
এ ধরনের আরো কিছু গল্প আমার মাথায় আছে।
আস্তে আস্তে লিখে ফেলবো।
দুঃখজনক পরিসমাপ্তি!
শুভকামনা অবিরাম।
ধন্যবাদ কবির ভাই। ভালো থাকুন সতত।
বাসাওয়ালা বললে বাড়িঅলাকে ছোটখাট মুদি দোকানদারের শ্রেণীর বলে মনে হয়।
ঠিক বুঝতে পারলাম না।