এই খানে নেমে এসেছে, শশ্মানের শব পোড়ানো রাত্রির মতন-
অদ্ভুত ক্লান্ত নিস্তব্ধতা । মৃত্যু এখন তার শীতলতা নিয়ে;
হয়ত ঘুরছে আমাদের আশেপাশে । হয়তবা দেহান্তরের খেলায়,
লীন হবে পরম সত্ত্বা কোন । অন্ধকার আমাদের অবসন্ন করে,
নিযে যাবে বিনাশের কাছে । ভূসা কালি বা কয়লার মতন
অসভ্য এই রাত ; কিশোরীর ঢেউ খেলানো খোলাচুল কিংবা
উঠতি বুকপাহাড়ের খাজের মতন দৃষ্টি সুখের নয় । নক্ষত্র গুলো
ক্লান্ত হয়ে সব, শুয়ে পড়েছে নিজস্ব উঠোনে । অতিথি করে নিয়ে
গেছে ধার করা আলোয় স্নিগ্ধ চাদটাকে । সামনের রাস্তাটুকু
পান্ডব বিবর্জিত । বটের তলায় এখন ঝিমুচ্ছে না বসে বসে,
কাজে ফাকি দেয়া বুড়ো চৌকিদার টা । যে বিকট সিটি
রোজ রাতে মাথায় আনে দূষণের অদৃশ্য বিষ ; পরম প্রার্থিত
শব্দিত স্বর, কাঙ্ক্ষিত হলেও এখন অনুপস্থিত । নিরবতা তাই-
হিরণ্ময় হয়ে ছেয়ে রেখেছে সব, অস্বস্তির পূর্ণ অনুভবে ; আমার
সমস্ত সত্ত্বাকে, আমার সবটুকু আশার দেয়ালীকে ।
গরম জলে উষ্ণতার কিছুটা উপশম । মাদকতায়
যদি দূর হয় সব অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা গুলো !
ইদুর বিড়ালে খেলা রাত তাড়াবার । কবিতা আসুক সুন্দরের
আলো নিয়ে । সুন্দরের পূজায় কালরাতের হোক অবসান !
অবাক হঠাৎ , জল্লাদের কোপের মতন ঘাই মারে উলঙ্গ
দমকা বাতাস । কবিতারা থমকে দাড়ায় ; বিহ্বলতায় ।
;
দ্রিম দ্রিম শব্দ ; মৃত্যুদূতের রণ দামামা, এ ঘর থেকে
ও ঘরে ছুটে চলছে । শশব্যস্ত কবিতার বিদায় । বুকফাটা
আর্তনাদ তখনি ! পাশের ঘরটা থেকে আমার ঘরে ; শব্দ
তরঙ্গ উড়ে বেড়ায় নিজের মনে, দেয়ালের গম্ভীরতা
ঠেকাতে পারেনি মৃত্যুর বিজয় সংগীত ।
মৃত্যু ! অনন্য সাধারণ নিয়তির বিধান ! সবচেয়ে বড়
সত্য এ পৃথিবীর ! তবু সে চরম অনাকাঙ্ক্ষিত ।
কখনো আসে সে সংকেত দিয়ে কখনো বা অকষ্মাৎ ।
ওরা কি পেয়েছিল মৃত্যুর পূর্ব সঙ্কেত ? হতচ্ছাড়া কুক পাখি
অপয়ার মত কি ডেকেছিল কাল, ওদের ঝুল বারান্দায় বসে ?
এসেছিল কি শাশ্বত মৃত্যুর অগ্রিম বার্তা নিয়ে ?
পৃথিবীর মানব সত্ত্বা, সবসময় করেছে কোন এক
শক্তিমান সত্ত্বার সন্ধান ! তারাই আবিষ্কার করে দেবতাদের ;
যে দেবতারা খেলে তাদের নিয়ে, বুক পকেটে রাখা
পুতুলটির মত । একদিন বজ্রদেব, জলদেবী আর বন রানীর ;
অন্তিম আরাধনায় মত্ত ছিল তারা । এই সব প্যাগানেরা ধর্ম
এনেছিল পৃথিবীর বুকে । কত রং, কত বিচিত্র সব-
নাম তার । নানান তন্ত্র ; মূর্তিপূজা অথবা ভুডু , অন্ধ জগতের
প্র্রেতাত্মা, লর্ড লুসিফারের কুৎসিত সাধনায় লিপ্ত কেউ কেউ ।
এর পরে বিপ্লব আসে, শুরু হয় সর্বগামীর মোক্ষ লাভের সাধনা ।
আসে ত্রিত্ববাদ, ক্রমে ক্রমে স্থান নেয় একেশ্বর বাদ । আরাধ্যের
বদল ঘটেছে, ঘটমান আর দশটা ঘটনার মতই । কিন্তু অমোঘ
মৃত্যু রয়ে যায় একই রূপে, সমান ভীতিতে । এই অজ্ঞেয়বাদী
আমায় সমান ভীত করে, পাশের বাড়িটির বুড়ো ধার্মিকের
মতন, মৃত্যু আর হল আজ রাতে । অনেক লিখেছি মৃত্যু নিয়ে;
তবু মৃত্যুকে করিনি প্রকাশ, কোন কল্পনা জালে কিংবা প্রতিশব্দে ।
একমাত্র শাশ্বত শব্দ মৃত্যু , যা এর তীব্র ভয়াল সুন্দরের
প্রকাশ ঘটায় । জলহীন কাদাটে পুকুরে ঝাপি নিয়ে, জেলের আতিপাতি
খোজ করে মাছ ধরার মতন, একদিন মৃত্যু খুঁজে নেবে ;
ঈশ্বরাদেশ অমান্যকারী,অবাধ্য ঠুনকো আমাকে । বিধাতার
দর্শন পাইনি কোনদিন । পাবার চেষ্টা করেও লাভ নেই জানি ;
কিন্তু মৃত্যু, আততায়ীর রূপে, দেইর
বদল ঘটেছে, ঘটমান আর দশটা ঘটনার মতই । কিন্তু অমোঘ
মৃত্যু রয়ে যায় একই রূপে, সমান ভীতিতে । এই অজ্ঞেয়বাদী
আমায় সমান ভীত করে, পাশের বাড়িটির বুড়ো ধার্মিকের
মতন, মৃত্যু আর হল আজ রাতে । অনেক লিখেছি মৃত্যু নিয়ে;
তবু মৃত্যুকে করিনি প্রকাশ, কোন কল্পনা জালে কিংবা প্রতিশব্দে ।
একমাত্র শাশ্বত শব্দ মৃত্যু ,যা এর তীব্র ভয়াল সুন্দরের
প্রকাশ ঘটায় । জলহীন কাদাটে পুকুরে ঝাপি নিয়ে, জেলের আতিপাতি
খোজ করে মাছ ধরার মতন, একদিন মৃত্যু খুঁজে নেবে ;
ঈশ্বরাদেশ অমান্যকারী,অবাধ্য ঠুনকো আমাকে । বিধাতার
দর্শন পাইনি কোনদিন । পাবার চেষ্টা করেও লাভ নেই জানি ;
কিন্তু মৃত্যু, আততায়ীর রূপে, দেখা দেবে সুনিশ্চিত !
রচনা : ০৩/১০/১১
উৎসর্গ : কবিতায় বৈচিত্র্যময় শব্দের ব্যবহারে ত্রাতুল ভাইয়ার পারদর্শিতা অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে । তার কবিতা গুলো পড়লে শব্দের মসৃনতার ছাপ লক্ষ্য করা যায় । তাই এই কবিতাটি আমি ত্রাতুল ভাইয়াকে উৎসর্গ করলাম ।



ঘুমিয়ে ছিলাম । ফালতু ভাই ফোনে জানালেন, কবিতায় নাকি কমেন্ট করা যাচ্ছে না ।
আকালের এই দিনে কে চায় কবিতায় কমেন্ট বন্ধ রাখতে বলুন ?
তাই উঠে এসে খুলে দিলাম ।
কেন কমেন্ট বন্ধু ছিল আমি কিন্তু ভাই কিছু জানি না
আপনি পোস্ট প্রকাশের সময় হয়ত ভূল বশত মন্তব্য করবে না কেউ এই ঘরে টিক দিয়েছিলেন।
মৃত্যু নিয়ে চিন্তা ভাবনা যে এত শৈল্পিক হতে পারে,তা এই কবিতা না পড়লে অজানাই থেকে যেত। অসাধারন লেখনি
ধন্যবাদ ভাই ।
মৃত্যুই জীবনের পরম সত্য
পৃথিবীর মানব সত্ত্বা, সবসময় করেছে কোন এক
শক্তিমান সত্ত্বার সন্ধান !”
আমাকে খুবই ভালো লাগলো।
ধন্যবাদ আপনাকে ।
বিধাতার দর্শন পাইনি কোনদিন । পাবার চেষ্টা করেও লাভ নেই জানি ;
কিন্তু মৃত্যু, আততায়ীর রূপে, দেখা দেবে সুনিশ্চিত !
চমৎকার কবিতা
প্রথম কিছু অংশ লিং হয়ে আছে মনে হচ্ছে
হুমম একটা ছবি দিতে চেয়েছিলাম । কেন যে লিঙ্ক হয়ে আছে সেটাই বুঝতে পারছি না
অসম্ভব সুন্দর আপনার প্রকাশ ।
মুগ্ধ হয়েছি
ধন্যবাদ আপনাকে
কবির, মৃত্যু সরব!!!!!!!!!!!!!!!!! এক্ষুনি, কেন?

কবির বলতে ঠিক কি বুঝালেন বুঝলাম না মান্নান ভাই ।
মৃত্যু নিয়ে লেখার কথা এসে গেল তাই লিখলাম ।
এই আর কি ?
তানিম ভাই আপনার প্রকাশ সব সময় সাবলীল
ধন্যবাদ
মন্তব্য বন্ধ রেখেছিলেন প্রথমে,
না না দাউদ ভাই । আমি বন্ধ রাখি নাই ।
কি করে যে বন্ধ হল সেটা সম্পর্কে শিউর ছিলাম না ।
যাক বাদ দিন ।
মৃত্যু মানেই হল সমাপ্তি তাই এখনই চাই না সমাপ্তি নয়ে এত মাতামাতি করি কারণ এখনো অনেক দূর যেতে হবে।
সুন্দর করে ভাবের প্রকাশ করেছেন ভাল লাগল।ভাল থাকুন।
ভাল বলেছেন ।
শুভকামনা আপনার জন্য
ভয়ঙ্কর কবিতা। পরম মুগ্ধতা এবং শুভাশীষ রইলো আপনার জন্য। ধন্যবাদ।
হা হা হা ভয়ংকর কবিতা ?
তা কিছুটা বটে, মৃত্যু যে কঠিন ।
ভাল থাকা হোক
বিশাল ভাবনা!!!…
পুরা-ই জবর-দস্ত…
ধন্যবাদ