প্রায়ই নিজেকে একই প্রশ্ন করি, কেন লিখি? না লিখলে কী হবে? কী হয়? এই প্রশ্নের উত্তর লিখিয়ে মাত্রই জানেন। আমরা প্রতিনিয়ত যা দেখি, অনুভব করি, যেমন অনুভূতি বা অনুভবের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করি তা লিখিত রূপ না দেয়া পর্যন্ত শান্তি নেই, মুক্তি নেই। যদিও একান্ত নিজস্ব অনুভবের অনুবাদ কখনও বর্ণে, শব্দে, বাক্যে, ভাষায় কিংবা শৈলীতে সম্ভব নয়। তবু এই প্রাণান্ত প্রচেষ্টা প্রস্ফূটিত হতে চায় লেখায়। এ যেন, Samuel Taylor Coleridge-এর The Rime of the Ancient Mariner -কবিতার সেই গল্প বলিয়ে বৃদ্ধের মতো। নতুন নতুন শ্রোতার সামনে গল্প ব’লে যাওয়া, অপার তন্ময়তায়। শ্রোতাও ভুলে যায় কোথায় তার গন্তব্য, কী তার কর্তব্য, কী তার করণীয়! এই নিবিষ্ট ও মোহময় সৃষ্টির ইন্দ্রজাল বিছানো লেখকের কাজ বলে আমি মনে করি। এবং দায়ও।
এতে চিন্তার যেমন সঘন ও সযত্ন পরিপুষ্টি প্রয়োজন, তেমনি তার প্রকাশমানতাও হতে হবে সুললিত। অনেক সময় একটি অতি সাধারণ ভাবনা, বর্ণনা বা প্রকাশভঙ্গির গুণে হয়ে ওঠে চমকপ্রদ। ভোরবেলা আবছায়া নীলাকাশ দেখা, রোদের স্তিমিত অথচ মিহিন বিস্তার, পাখিদের ক্লান্তিহীন কূজন, রঙিন মেঘ— এইসব প্রতিদিনের দৃশ্য। সবাই দেখছি। এই নিত্যদিনের চারপাশ, যা নিতান্ত রৌপ্যময়, একে সোনালি আভায় ভরে তোলাই লেখকের দায়।
এই বিষয়টি খুবই বিস্তৃত। আজ শুধু স্পর্শ দিয়ে যাবার চেষ্টা করবো। হয়তো ভবিষ্যতে আরও কয়েক কদম এগোনো যাবে।
এমন উদারহরণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর নয়, কেউ কেউ নিতান্ত শখের বসে শুরুতে একটু-আধটু লিখতেন। আজ তা প্রতিদিনের নেশায় পরিণত হয়েছে। যদি লেখকসূলভ আকাঙ্ক্ষা থাকে তবে তো উত্তরণ সদ্য-সম্ভাবী। আর যদি তাঁর দ্বিতীয় লেখা, ভাবে ভাষায় বর্ণনায় উপস্থাপনায় প্রথম লেখাকে অতিক্রম করতে না পারে, যদি দুটো লেখা পাশাপাশি রেখে একই বানানভুল, একইরকম দুর্বল বাক্যবিন্যাস, ছন্দ বা প্যারা মেইনটেইন করা না করার স্থবিরতা দেখতে পাওয়া যায়, তাহলে বুঝতে হবে সেই লেখকের উৎকর্ষ অসম্ভব।
লেখকের বিনয় অনিবার্য। সৃষ্টির সাথে অহমবোধের দারুণ সখ্য। তা যদি হয় বিনীত-অহম, নতুন নতুন সৃষ্টি-মৃত্তিকার মতো— শীতল, ঝুরঝুরে, আদ্র, বিনম্র, সদ্য প্রোথিত চারাবীজটাকে বৃক্ষ করে তোলার অভিপ্রায়ে, তবে সেই অহমিকা অত্যন্ত জরুরী। আর যদি একটুখানি সৃজনের আবেশে সাত আকাশ অহংকার এসে ভর করে, যে আকাশে স্বয়ংই স্বয়ম্ভূ মেঘমালা, আর কেউ বৃষ্টিদানক্ষম নয়— তখনই আসে পাঠকের বিস্ময়। পাঠক কখনই অবুঝ নন। লেখকের মর্ম প’ড়ে নিতে সক্ষম তাঁরা। কারণ, লেখক তাঁর অন্তর নিংড়ানো রক্তিমতায় লিখে লিখে যান, মেলে ধরেন সবটুকু-হৃদয়। তাই এই লেখার জগতে অত্যন্ত সন্তর্পণ-চলন প্রয়োজন। অন্তঃদহন একান্ত বনভূমির দাবানল হয়ে নিভে নিভে আসবে। সেই নিভৃত মিহিন আগুনের শিখায় শিখায় খোদাই করতে হবে প্রায়-নিবু ধোঁয়াশার কালি দিয়ে। তবেই লেখনী, অগ্নি-অক্ষরে প্রোজ্জ্বল হয়ে থাকবে চিরদিন পাঠকের হৃদয়ে। লেখক, কখনোই এই দায়ভার এড়িয়ে যান না।
*********





লেখকের বিনয় অনিবার্য। সৃষ্টির সাথে অহমবোধের দারুণ সখ্য। তা যদি হয় বিনীত-অহম, নতুন নতুন সৃষ্টি-মৃত্তিকার মতো— শীতল, ঝুরঝুরে, আদ্র, বিনম্র, সদ্য প্রোথিত চারাবীজটাকে বৃক্ষ করে তোলার অভিপ্রায়ে, তবে সেই অহমিকা অত্যন্ত জরুরী। আর যদি একটুখানি সৃজনের আবেশে সাত আকাশ অহংকার এসে ভর করে, যে আকাশে স্বয়ংই স্বয়ম্ভূ মেঘমালা। আর কেউ বৃষ্টিদানক্ষম নয়। তখনই আসে পাঠকের বিস্ময়। পাঠক কখনই অবুঝ নন।
আসসালামুয়ালিকুম শ্রদ্বেয় নূর ভাই
অসম্ভব রকমের কথা লিখেছেন

আসলে আমাদের প্রতিটি লিখকেরই এই কথা গুলো মনে রাখা দরকার
অনেক অনেক অভিনন্দন জানবেন
ভালো থাকুন।
ওয়ালাইকুম আসসালাম, ডা. দাউদ ।
কেমন আছেন?
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা ।

সেদিন চ্যানেল ঘুরাতে ঘুরাতে
হঠ্যাৎ একজন প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিককে দেখে
একটু থামতেই
উপস্থাপককে বলতে শুনলাম – “কেন লেখেন এখনো?”
স্ফিত হেসে উনি বললেন-
দেখ প্রথম প্রথম লিখতাম একসময় কোন অষ্টাদশী’র
হৃদয় হরন করতে!
তারপর একদা লিখা শুরু করলাম নিছক অভাবে
অর্থ উপাজর্নের পথ বলতে যে আর কিছুই শিখিনি আমি
তারপর একসময় লিখতাম সম্মানের জন্য
সমাজের একটি অবস্থানের বাসিন্দা হতে
যেখানে বিত্ত,বৈভব,সম্মান কোন অভাবই কড়া নাড়ে না।
আর এখন
এখন লিখি মনে হয় এখনো লেখার কিছু আছে বাকী
তাই লিখি নিছক অবসরে অবহেলায় নিঃস্বার্থ,
জীবনের শেষ দিনটা পর্যন্ত লিখে যাব এভাবেই।
রাতের অন্ধকারে নরম বিছানায় একরাশ নিরাবতায়
আমিও ভাবতে বসি – কেন লিখি? কেন লিখি ব্লগে?
প্রেম-অর্থ-সম্মান আদতেই কি কোন উদ্দেশ্য আমার
নাকি নিছক লিখতে হবে উদ্দেশ্য বিহীন পথচলা
তাই লিখি অবসরে অবহেলায়।
আত্বগরিমায় ভুগি! সেই সু-প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক
সাঝ বেলায় যেখানে দাড়িয়ে আমিও তো সেখানেই
জীবনের প্রারম্ভে।
বিত্ত বৈভব সম্মান প্রাচুর্য নাই বা হল ক্ষতি কি?
নিজেকে আলাদা মনে হয় – গর্বে বুক টানটান
উদ্দেশ্য বিহীন পথে নিঃস্বার্থ পথ চলতে
ক’জন পারে জীবনের প্রথম থেকেই?
আমি মনের আনন্দে লিখি। তাই লেখকের দায়ভার নিতে রাজী না। তবে হ্যা কেউ সংশোধন করে দিলে শুধরাতে রাজি।
ভালো বলেছেন কবিরনি বেশ ভালো কথাগুলো
ধন্যবাদ, কবিরনি ।
লেখায় আনন্দ অনুভূত হয়।
লেখক জড়িযে যান সেই আনন্দময় ভূবনে।
এই অনুভব চিরজাগ্রত, চিরসবুজ, চির-বিস্তৃত ও বিচরণশীল
লেখকের মননে। অজান্তেই অ-মুক্তিময় বন্ধনে আবদ্ধ লেখক-প্রাণ
পরিত্রাণ পান না। এও একপ্রকার দায়ভার ।
ভালো থাকবেন ।
ধন্যবাদ, রাবেয়া রব্বানি ।
লেখক পাঠক চিরকালই একে অন্যের পরিপূরক। একজন লেখকের স্বার্থকতা একজন পাঠকের মনকে ছুতে পারা তেমনি একজন পাঠকের স্বার্থকতা একটি ভাল লেখা পড়া।
তাই লেখককে হতেই হবে উদার আর বিনয়ি।
সম্পূর্ণ লেখাটার সাথে আমি সহমত পোষন করে গেলাম।
ধন্যবাদ, বিষণ্নময়ী ।
লেখা ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগছে।
শুভেচ্ছা ।
লেখকের বিনয় অনিবার্য। সৃষ্টির সাথে অহমবোধের দারুণ সখ্য। তা যদি হয় বিনীত-অহম, নতুন নতুন সৃষ্টি-মৃত্তিকার মতো— শীতল, ঝুরঝুরে, আদ্র, বিনম্র, সদ্য প্রোথিত চারাবীজটাকে বৃক্ষ করে তোলার অভিপ্রায়ে, তবে সেই অহমিকা অত্যন্ত জরুরী।
এর পর আর কিছু বলার নাই
শুভ কামনা থাকলো
শুভকামনা আপনার জন্যও, খেয়ালী মন।
ভালো থাকবেন ।
ধন্যবাদ, ভালবাসার দেয়াল ।
কেমন আছেন?
যাঁরা শোরগোল করছেন ‘ইমো’ দিয়ে মন্তব্যের দায় সারা যাবে না, তাঁদের কথায় কোনো প্রতিবাদ এখন করবো না। আমার মতে এই লেখাটি তে ‘টুপি খুইল্য হাতে ধরা’ ইমোটিকন ব্যবহার সর্বোত্তম!
কারণ, কারণ, কারণ এখানে বাড়তি কিছু যোগ করতে চাওয়া হবে বাড়াবাড়ি রকমের বাড়াবাড়ি। সীমিত আঙিনায় পরিমিত চাষ!
লেখককে বাড়াবাড়ি রকমের ধন্যবাদ সহ
“সীমিত আঙিনায় পরিমিত চাষ!”—-
চমৎকার বলেছেন।
ধন্যবাদ অশেষ, জুলিয়ান সিদ্দিকী ।
আপনার ‘টুপি খুইল্যা হাতে ধরা’-র ইমো
কল্পনা ক’রে নিলাম।
জানিয়ে রাখি, আমার কিন্তু ‘ইমো’ দারুণ লাগে।
কী সুন্দর! অভিব্যক্তির রঙধনু যেন ছড়ানো
জবাবের সারা আকাশ জুড়ে !!!
আমি কেন লিখি?- ১। অতীত লেখকদের রচনায় মুগ্ধ হয়ে
২। নিজেকে মুক্ত করতে সকল রকমের যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে
৩। না লিখলে ভেতরে ভেতরে নিজে ধ্বংস হবার ভয় পাই।
পূর্ব কবিরা কেন লিখেছে? সেটা ভাবি মাঝে মাঝে মনে হয় তাদের গল্পগুলো নিজের মনের মতো করে সাজালে কেমন হবে। তাদের যে চিন্তা চেতনা ছিল সেটা বর্তমানে হলে কেমন হতো? সর্বপরি কৌতুহল দেখাই যাক না তাদের মতো করে তো হবেনা; আমার মতো করে লিখলে অন্তত সহ ব্লগার (সাধারন পাঠক যারা অফলাইনে থাকেন কিংবা খালি পড়েন পোষ্ট দেননা) তাদের কাছে কেমন লাগে।
আমার সহ ব্লগার (পরবর্তি সময়ের লেখক) তারা কেন লিখে? আমার মনে হয় তাদের লেখাটা কর্তব্য কেননা আমরা(সাধারণ পাঠক) যারা আছি তারা সমসাময়িক ব্লগার (পরবর্তি সময়ের লেখক) দের লেখা পড়তে চাই। কারন তাদের লেখার সাথে যে যুক্ত থাকতে পারছি সেটাই হয়তো একসময় ইতিহাস হয়ে থাকবে। একসময় তাদের মাঝ থেকেই তো বেড়িয়ে আসবে, রবী,নজরুল,জীবন,বুদ্ধ প্রমুখ ব্যাক্তিগন। তখন নিজেকে খুব গর্বিত মনে হবে এই ভেবে যে এই বিখ্যাত লোকটির সাথে আমি এক সময় ব্লগিঙ করেছি আরো আনন্দ হবে যে সেই ব্যাক্তি আমার ছাইপাশ লেখায় কমেন্টও করেছিলেন।
ধন্যবাদ, সকাল রয় ।
সৃষ্টিশীলতায় ভরে উঠুক আপনার জীবন।
ভাল থাকুন ।
লেখকের দায় অনেক।
নিজের প্রতি, সমাজ এর প্রতি, সাহিত্যের প্রতি।
কিন্তু এই দায় প্রত্যক্ষ ভাবে মেটাতে তো আর লেখক সচেষ্ট হন না। আমার কেন যেন মনে হয় যিনি লেখক তার অন্তঃকরণ এমন ভাবে প্রস্তুতি নিয়ে নেয় অজান্তেই। তখন তিনি যাই লিখেন সৃষ্টি করেন তা এই তিন দায় মিটিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে যায়। আর যিনি লেখক নন মনে-প্রানে-বিশ্বাসে-কর্মে তিনি চেষ্টা করলেও সব দায় মেটাতে পারবেন না।
“…. মনে হয় যিনি লেখক তার অন্তঃকরণ…. প্রস্তুতি নিয়ে নেয় অজান্তেই
অলক্ষ্যেই যেন আত্ম-আবিষ্কার করে চলেন লেখক
সৃজন-মুখর প্রতিটি মুহূর্তে ।
ধন্যবাদ, আনন্দময়ী ।
সংক্ষিপ্ত অথচ চমৎকার বলেছেন, ভাইয়া!
অমূল্য কথা। মাথায় তুলে রাখবার মতো।
বিনম্র শ্রদ্ধা, রেজা নুর ভাইয়া।